পবিত্র রমজান মাস বছরের ১২ মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে রাখা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে রাখা হয়। শয়তানকে শিকল পরিয়ে রাখা হয়। মুমিন-মুসলমানদের ইবাদতের মর্যাদা ৭০ থেকে ৭০০ গুণ, আবার হিসাব ছাড়া আমলের মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ মানবজাতিকে তার আমলের মর্যাদা এজন্যই বাড়িয়ে দেবেন যে, শুধু আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে একাকী হলেও কোনো কিছু খাওয়া বা পান করা থেকে বিরত থাকল। দুনিয়ায় সবকিছুই প্রকাশ্যে কাজের অবস্থা দেখা যায়। একমাত্র রোজাদারের রোজার খবর আল্লাহ ছাড়া আর কারও নজরে আসে না। গোপনেও কোনো বান্দা কোনো কিছু খায় না বা পান করে না। শুধু আল্লাহকেই মেনে তার স্মরণে তার নির্দেশে সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত না যাওয়া পর্যন্ত খানাপিনা থেকে বিরত থাকেÑ আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য এবং আল্লাহর নির্দেশ-আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য। তাই তো মহান আল্লাহ খুশি হয়ে বান্দার চাওয়া-পাওয়া সব পূরণ করে দেন বান্দার সারা দিন রোজা থাকার জন্য।
পবিত্র রোজার দিনে মানুষ একে অপরের জন্য দোয়া করে। আমরাও দোয়া করব, দোয়ায় মৃত আত্মীয়স্বজনকে স্মরণে রাখব। রোজাদারদের ইফতারের সময় ইফতার করায় তা একটু পানি দিয়ে হোক, একটি খেজুর দিয়ে হোক বা পেট ভরে খাওয়ানো হোক, সব ইফতারের সওয়াবের আওতায় পড়বে। রোজাদারদের একে অপরের সওয়াব কম হবে না। রজব-শাবান মাস থেকেই পবিত্র রোজার মাসের প্রস্তুতি চলতে থাকে। তাই তো নবী করিম (সা.) রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আমরা রজব ও শাবান কাটিয়ে রমজান পালন করছি। আমাদের রোজা যেন ত্রুটিমুক্ত হয় সেভাবে রোজা আদায় করব। সেই সঙ্গে নিজে, স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবসহ সবাইকেই রোজার হক আদায় করার ব্যাপারে সজাগ করব। তাদের যথাযথভাবে রমজান মাস কাটানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করব। একে অপরকে সঙ্গে নিয়ে রোজার মাসালা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা করব, একে অপরকে নিয়ে সবাই মিলে উৎসবের সঙ্গে ইফতার আয়োজন করব।
এভাবে রোজার হক আদায়ে সবাই মিলে সচেতন হলে রোজার প্রভাব আমাদের জীবনে প্রতিফলিত হবে। আমাদের আচার-ব্যবহার দিয়ে সাধারণ মানুষকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করতে পারলে সবাই লাভবান হবো, তেমনি ব্যক্তিগতভাবেও ভালো ফল পাব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহতায়ালা সবাইকে হক আদায় করে রোজা পালনের তওফিক দান করুন।

