আল জান্নাত বিডি.কম
Image default
Uncategorized

রমজানের ৩০ দিনের জরুরি আমল ও দোয়া

রমজান হলো দোয়া কবুলের বিশেষ মাস । হাদিসে এসেছে, তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না; তাদের একজন হলেন রোজাদার—যখন তিনি ইফতার করেন (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৫২)। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাসে প্রতিদিনের আমলে কিছু বিশেষ দোয়া যুক্ত করলে ইবাদতের পরিপূর্ণতা বৃদ্ধি পায়। নিচে দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড তুলে ধরা হলো।

রমজানের তিন দশকের বিশেষ দোয়ার তালিকা

দশক (Phase) দোয়া ও আমল (Dua and Amals)
১ম দশক: রহমত (Rahmah) رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

(হে প্রভু! আমাকে ক্ষমা করুন ও রহম করুন; আপনিই শ্রেষ্ঠ দাতা।)

২য় দশক: মাগফেরাত (Magfirah) أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

(আমি আল্লাহর কাছে সব গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইছি এবং তার দিকেই ফিরছি।)

৩য় দশক: নাজাত (Najāt) اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

(হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।)

১. প্রতিদিনের আমল: সাহরি ও ইফতার (Daily Amals: Sehri and Iftar)

রমজানের প্রতিটি দিন শুরু হয় সাহরি দিয়ে। সাহরি শুরু করার সময় পড়ার মাসনুন দোয়া  হলো

  • আরবি: بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ
  • উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ।
  • অর্থ: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের সঙ্গে (খাবার শুরু করছি)। (আল-হিসনুল হাসিন)

অন্যদিকে, সারাদিন সিয়াম সাধনার পর ইফতারের মুহূর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইফতার করার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন—

  • আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
  • নজাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
  • অর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাইলে পুরস্কার নির্ধারিত হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৭)

এছাড়া ইফতারের সময় বহুল প্রচলিত এই দোয়াটিও পড়া যায়—

  • আরবি: اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
  • উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
  • অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই রিজিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ: ২৩৫০)

রমজান মাসকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি দশকের জন্য বিশেষ প্রার্থনার তাগিদ রয়েছে:

প্রথম দশক (রহমত):

রমজানের প্রথমাংশে আল্লাহর রহমত (Rahmah) লাভের জন্য কোরআনের এই দোয়াটি বেশি করা উচিত-

  • আরবি: رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
  • উচ্চারণ: রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন।
  • অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে ক্ষমা করুন ও রহম করুন; রহমকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। (সুরা মুমিনুন: ১১৮)

দ্বিতীয় দশক (মাগফিরাত):

রমজানের মধ্যভাগে বেশি বেশি ইস্তেগফার (Istighfar) করা সুন্নাহ। সংক্ষিপ্ত একটি দোয়া—

  • আরবি: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
  • ন আসতাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিন ওয়া আতুবু ইলাইহি।
  • অর্থ: আমি আমার পালনকর্তা আল্লাহর কাছে সব গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি। এ সময় ‘সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার’ পাঠ করাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

শেষ দশক (নাজাত ও কদর):

শেষ দশক হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময় (Freedom from Hellfire)। লাইলাতুল কদরে হজরত আয়েশা (রা.)-কে রাসুল (সা.) এই দোয়াটি শিখিয়েছিলেন—

  • আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
  • উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।
  • অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। (জামে তিরমিজি: ৩৫১৩)

Leave a Comment