রমজান হলো দোয়া কবুলের বিশেষ মাস । হাদিসে এসেছে, তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না; তাদের একজন হলেন রোজাদার—যখন তিনি ইফতার করেন (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৫২)। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাসে প্রতিদিনের আমলে কিছু বিশেষ দোয়া যুক্ত করলে ইবাদতের পরিপূর্ণতা বৃদ্ধি পায়। নিচে দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড তুলে ধরা হলো।
রমজানের তিন দশকের বিশেষ দোয়ার তালিকা
| দশক (Phase) | দোয়া ও আমল (Dua and Amals) |
|---|---|
| ১ম দশক: রহমত (Rahmah) | رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
(হে প্রভু! আমাকে ক্ষমা করুন ও রহম করুন; আপনিই শ্রেষ্ঠ দাতা।) |
| ২য় দশক: মাগফেরাত (Magfirah) | أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
(আমি আল্লাহর কাছে সব গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইছি এবং তার দিকেই ফিরছি।) |
| ৩য় দশক: নাজাত (Najāt) | اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
(হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।) |
১. প্রতিদিনের আমল: সাহরি ও ইফতার (Daily Amals: Sehri and Iftar)
রমজানের প্রতিটি দিন শুরু হয় সাহরি দিয়ে। সাহরি শুরু করার সময় পড়ার মাসনুন দোয়া হলো
- আরবি: بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ
- উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ।
- অর্থ: আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের সঙ্গে (খাবার শুরু করছি)। (আল-হিসনুল হাসিন)
অন্যদিকে, সারাদিন সিয়াম সাধনার পর ইফতারের মুহূর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইফতার করার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন—
- আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
- নজাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
- অর্থ: তৃষ্ণা দূর হয়েছে, শিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাইলে পুরস্কার নির্ধারিত হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৭)
এছাড়া ইফতারের সময় বহুল প্রচলিত এই দোয়াটিও পড়া যায়—
- আরবি: اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
- উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
- অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই রিজিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ: ২৩৫০)
রমজান মাসকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি দশকের জন্য বিশেষ প্রার্থনার তাগিদ রয়েছে:
প্রথম দশক (রহমত):
রমজানের প্রথমাংশে আল্লাহর রহমত (Rahmah) লাভের জন্য কোরআনের এই দোয়াটি বেশি করা উচিত-
- আরবি: رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
- উচ্চারণ: রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর রাহিমীন।
- অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমাকে ক্ষমা করুন ও রহম করুন; রহমকারীদের মধ্যে আপনিই শ্রেষ্ঠ। (সুরা মুমিনুন: ১১৮)
দ্বিতীয় দশক (মাগফিরাত):
রমজানের মধ্যভাগে বেশি বেশি ইস্তেগফার (Istighfar) করা সুন্নাহ। সংক্ষিপ্ত একটি দোয়া—
- আরবি: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
- ন আসতাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিন ওয়া আতুবু ইলাইহি।
- অর্থ: আমি আমার পালনকর্তা আল্লাহর কাছে সব গুনাহ থেকে ক্ষমা চাইছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি। এ সময় ‘সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার’ পাঠ করাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
শেষ দশক (নাজাত ও কদর):
শেষ দশক হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির সময় (Freedom from Hellfire)। লাইলাতুল কদরে হজরত আয়েশা (রা.)-কে রাসুল (সা.) এই দোয়াটি শিখিয়েছিলেন—
- আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
- উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।
- অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। (জামে তিরমিজি: ৩৫১৩)

