বিভাগ : বিশেষ প্রবন্ধ

চুল-দাঁড়িতে খেযাবের বিধান : মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ

প্রসঙ্গ : যুগ-যমানা, চাল-চলন, আহার-বিহার ও স্থান-পাত্রের পরিবর্তন-বিবর্তনে চারিদিকে পরিবেশে সবকিছুতেই কেমন যেন পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। গত দু’দশক পূর্বেও সার্বিক অবস্থা-পরিস্থিতি যেমনটি দেখা যায়নি, বর্তমানে তা-ই যেন অধিকহারে ঘটছে। উদাহরণত ফল-ফসল, খাদ্যÑখাবারে ফরমালিন ইত্যাদি ব্যবহার এবং তার একটা কু-প্রভাব মানবদেহে , শরীর-স্বাস্থ্যে বিস্তৃতি। একইভাবে অল্প বয়সে চুল পড়তে শুরু করা বা সাদা হয়ে যাওয়ার

জুমআতুল বিদা ও আখেরী দশক : আল্লামা তাকী উসমানী

আল্লাহ তাআলার মহাঅনুগ্রহ, তিনি রমযানুল মোবারকের পবিত্র সময় দান করেছেন। আজকের জুমআ রমযানের শেষ জুমআ হতে পারে। আগামী জুমআতে ঈদুল ফিতর হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য ঊনত্রিশ তারিখে চাঁদ না উঠলে আগমী জুমআও রমযানের অন্তর্ভুক্ত হবে। মানুষ এটাকে সাধারণত জুমআতুল বিদা বলে থাকে, আখেরী জুমআও বলে। এর কিছু বিশেষ বিধি-বিধানও লোকদের মাঝে প্রসিদ্ধ হয়ে গেছে। তবে

সুন্নতে নববীর আলোয় আলোকিত হোক আমাদের ঈদ : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর সার্বজনীন এক ধর্মীয় উৎসব এবং ইবাদত। মূলত পৃথিবীর প্রত্যেক জাতিরই কিছু জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবের দিন রয়েছে। যাতে তারা সে দিনগুলোতে স্ব স্ব রীতি অনুযায়ী আনন্দ-ফুর্তি করে। ভাল ভাল খাবার পাক করে এবং উন্নত মানের লেবাস-পোশাক পরিধান করে। এটি মানুষের ফিতরতী চাহিদা। এর বাইরে কোন কওম বা জাতিকে

কেন আসে রমযান মাস? আল্লামা তাকী উসমানী

ইসলামের বাইরে দৃষ্টি দিলে দেখবেন, পৃথিবীর সকল মতবাদ আগাগোড়া মানুষের মস্তিষ্ককে সম্বোধন করে। আর ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা সম্বোধন করে শুধু তার হৃদয়কে। হৃদয় ও মস্তিষ্ক প্রত্যেকটির আছে আলাদা রাজত্ব। প্রত্যেকেই তার রাজত্বের একক অধিপতি। আর এই দুই রাজা (মস্তিষ্ক ও হৃদয়) শুধু এক নয়, তারা এক রাজ্যে অবস্থান করতে পারে না; বরং অনেক সময় পরস্পর

রমজানের রোজা : ফজীলত ও বিধান, মাওলানা আহমদ মায়মূন

আল্লাহ তা‘আলা মুসলিম জাতির জন্য রমজানের রোজা ফরজ করেছেন। এ জন্য মুসলিম সমাজের ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠী পূর্ণ রমজান মাস ব্যাপী আল্লাহ তা‘আলার হুকুম পালনার্থে রোজা রেখে থাকে। রোজা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার দ্বারা মানুষের দৈহিক, আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উপকার ও উন্নতি সাধিত হয়। এ জন্য পূর্ববর্তী ধর্মালম্বী অন্যান্য জানি-সম্প্রদায়ের জন্যও আল্লাহ তা‘আলা রোজার বিধান দান

আপন ভুবনে আল্লাহ্কে পাওয়ার সাধনা এ’তেকাফ : ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

এ’তেকাফ আরবী শব্দ, পবিত্র কুরআনের পরিভাষা। আভিধানিক অর্থ, কোন স্থানে অবস্থান করা। শরীয়তের পরিভাষায় এর অর্থ, রোযা ও এ’তেকাফের নিয়তসহ মসজিদে অবস্থান করা। মহিলারা মসজিদের পরিবর্তে ঘরে একটি জায়গা ঘেরাও দিয়ে আলাদা করে এ’তেকাফ করবেন। মাহে রমযান মানব জাতির জন্য আল্লাহ্র অগণিত অফুরন্ত রহমত ও নেয়ামত বয়ে এনেছে। তন্মধ্যে এ’তেকাফ অন্যতম। সাধারণত আমরা নেয়ামত বলতে

জীবন হোক আল্লাহতে সমর্পিত : ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

এক দরবেশ আশ্রয় নিয়েছিলেন গহীন বনে। লোকালয় ছেড়ে নির্জন সাধনায় তার একমাত্র সাথী ছিল নিদ্রা। তার সব প্রয়োজন-চাহিদা মিটে যেত আল্লাহর পক্ষ হতে। তাই মানুষের সংশ্রবে তিনি অস্বস্তিবোধ করতেন। লোকালয়ের স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে নির্জন সাধনা কীভাবে কারো ভাল লাগে, এ প্রশ্ন কারো মনে জাগতে পারে। মওলানা রূমী র. জবাবে বলেন, যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি

হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ রা. এর ইসলাম গ্রহণ, সংকলন : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ রা. বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন আমার মঙ্গলের ইচ্ছা করলেন তখন আমার অন্তরে ইসলামের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করলেন এবং আমার সামনে হেদায়েতের পথ উন্মুক্ত করে দিলেন। আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম যে, আমি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি, কিন্তু যুদ্ধ হতে ফেরার পর প্রত্যেক বারই মনে হয়েছে

ইলমে দীনের গুরুত্ব : মাওলানা আহমদ মায়মূন

আল্লাহ তাআলার আদেশ- নিষেধ ও বিধি- বিধান, যা পবিত্র কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে বা ইমাম- মুজতাহিদগণ তা যে ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ করেছেন তার অবগতিকে ইলম বলা হয়। কুরআন ও হাদীসে ইলমে দীনের অপরিসীম গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং যাদেরকে ইলম দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাদের মর্যাদা অনেক

পবিত্র কুরআন-হাদীসে কেয়ামত প্রসঙ্গ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কেয়ামত নিকৃষ্ট মানুষের উপর সংঘটিত হবে। তিনি আরো ইরশাদ করেন, কেয়ামত এমন কারো উপর সংঘটিত হবে না, যারা আল্লাহ আল্লাহ বলতে থাকবে। তিনি আরো ইরশাদ করেন, আল্লাহ আল্লাহ বলছে, এমন কারো উপর কেয়ামত সংঘটিত হবে না। [মুসলিম] একটি দীর্ঘ হাদিসে রয়েছে, যেহেতু

উম্মাহর ঐক্য ও মৈত্রী পথ ও পদ্ধতি : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

উম্মাহ আজ নানা দল, উপদল ও ফেরকায় বিভক্ত। নানা মত ও মতাদর্শের শিকার হয়ে বহুধা বিভক্ত ঐক্যর ও মৈত্রীর প্রতীক ইসলামের অনুসারীগণ। এরপর আরও কতশত মত ও পথের উদ্ভব হবে আল্লাহই মালুম। এই বিভক্তি ও মতাদর্শের বিভিন্নতার সুযোগ নিয়ে তাগুতী শক্তি সর্ব শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে। সা¤্রাজ্যবাদী

বিশ্ব ইস্তেমা : দা‘ওয়াত ও তাবলীগ : মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

আরবী ‘ইস্তেমা‘ শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে, শ্রবণ-শোনা, মনোযোগসহ শ্রবণ। আর ‘ইজতেমা’ মানে হচ্ছে, সম্মিলন, সাক্ষাৎ, বৈঠক, সভা, সমাবেশ, সম্মেলন, সমাজ, সমাজবদ্ধতা, সামাজিকতা, সমাজজীবন। শব্দ দু’টির অর্থের প্রতি মনোযোগ দিলে ‘বিশ্ব ইস্তেমা’ ও ‘বিশ্ব  ইজতেমা’-বাক্যদ্বয়ের মর্মার্থ বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ বিশ্ব মুসলিমের মনোযোগসহ শোনার বিষয় বা অনুষ্ঠান; বিশ্বর মুসলমানদের সম্মিলন বা সম্মেলন বা সভা-সমাবেশ-বৈঠক।

ভোটের গুরুত্ব : মাওলানা জিয়াউল হকইসলামে

ভোট কি ও কেন? ভোট মূলত ইংরেজি শব্দ। সাধারণ ভাষায় এর মানে হলো; সর্মথন দান করা, মতামত প্রকাশ করা। কোন বিষয়, বস্তু, ব্যক্তি, কোন মত পথ বা পদ্ধতি, সম্মতি বা অসম্মতি জানানো। ভোট এমন একটি পদ্ধতি বা ব্যবস্থা যার দ্বারা বা যার মাধ্যমে এক বা একাধিক ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠীর মতামত যাচাই করা হয়, তাদের সম্মতি

দেশ সাধীনতায় আলেম মুক্তি যুদ্ধা : তুহফা বিনতে আব্দুল কাইয়ুম

স্ব-অধীনতা থেকে স্বাধীনতা শব্দের উৎস যার অর্থ নিজের অধীনে হওয়া। অন্য কথায় নিজের ইচ্ছা অভিপ্রায় অনুযায়ী চলা। কিন্তু প্রকৃতার্থে কোন মানুষই স্বাধীন নয়। তাকে স্রষ্টার অধীনে থাকতে হয়। আবার নিজের স্বাধীনতা ভোগ করতে গিয়ে অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করাও স্বধীনতা বিরোধী কাজ। তাই মানুষ ইচ্ছে করলেই তার সকল কাংখিত জিনিস অর্জন করতে পারে না। পারে না

মোহর : নারীর অপরিহার্য অধিকার : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

ইসলামের যে বিধানগুলো আল কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে তার অন্যতম হলো স্ত্রীর মোহর। বিয়ের কারণে নারীর সতীত্ব রক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের খাতিরে ইসলাম স্বামীর উপর যে অর্থনৈতিক যিম্মাদারী আরোপ করেছে। তারই নাম মোহর। কুরাআন হাদীসে কোথাও একে “সিদাক” শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে কোথাও বা আবার অন্য শব্দে। কত প্রসঙ্গে কত ভাবে যে মহাপ্রজ্ঞাময়

খতমে নবুওয়াত ও শেষ নবী : যোবায়ের বিন জাহিদ

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী। তার পরে পৃথিবীতে আর কোন নবীর আগমন ঘটবে না। হযরত আদম আ. থেকে নিয়ে মানব জাতির হেদায়েতের  উদ্দেশ্যে যত নবী আল্লহ তায়ালা প্রেরণ করেছেন, তাদের সমাপ্তি হয়েছে বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। নবীদের ধারাবাহিকতার এ পরিসমাপ্তিকে বলা হয় ‘খতমে নবুওয়াত’। আর আমাদের

ধর্ষণ কেন ? নেপথ্যে কী ? : মুফতী মুহাম্মদ শোয়াইব

ভয়ানকরূপে বৃদ্ধি পাচ্ছে ধর্ষণ। কোমলমতি শিশু থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ পর্যন্ত কেউই রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণের হাত থেকে। মানব সমাজের মরণব্যাধিরূপে আবির্ভূত ধর্ষণের স্টাইল ও কৌশলেও দিন দিন নতুন নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে তার ভয়াবহতাও। ধর্ষণের পর গলা টিপে বা স্বাস রুদ্ধ করে হত্যা করা এখন অতি মামুলি ব্যাপার। চার থেকে পাঁচ বছরের যে

একটি তাওবা ও আমাদের শিক্ষা : মাওলানা আমীরুল ইসলাম

১৯৬৫ সনের কথা। হজ্জের সফরে এক বৃদ্ধের সাথে আমার পরিচয়। খুবই সাদা মনের মানুষ। কথাবার্তায় অসাধারণ মাধুর্যতা। মদীনা মুনাওরায় তার একটি ছোট্ট রেস্তোরাঁ। জীবিকা হিসেবে এটাই তার একমাত্র সম্বল। খুব একটা জাঁকজমক না হলেও অনেক সাজানো গুছানো। খাবারের মানও খুব একটা খারাপ না। প্রথম পরিচয়েই তার সাথে আমার সখ্যতা গড়ে উঠলো। কথায় কথায় অনেক বন্ধুত্ব

ইসলামী ব্যাংকিং : সমস্যা ও প্রস্তাবনা : মুফতী মুআজ আহমদ

সুদভিত্তিক আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার সুচনা হয় ষোড়শ শতকে। এরপর চলে যায় কয়েক শতাব্দি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৯৬৩ সালে ড. আহমদ নজ্জারের উদ্যোগে মিসরের মিটগামারে সর্ব প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী ব্যাংক। বাংলাদেশে এর সুচনা হয় ১৯৮৩ সালে। এরপর শুরু হয় ক্রমবিকাশ। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অদ্যাবধি এ স¦ল্প সময়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর সাফল্য ঈর্ষণীয়। ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ের ভাবধারা

আধুনিক শিক্ষিত দীনদার ত্যাগ সারল্য ও বিড়ম্বনা: শরীফ মুহাম্মদ

দ্বীনদার বলতে সাধারণভাবে এখন আমরা বুঝি ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দ্বীনের ওপর অনুশীলনে অভ্যস্ত মানুষ। ইবাদত-আমল, বেশভূষা ও চালচলনে যারা ফরয ওয়াজিব ও সুন্নতের ওপর আমল করতে সচেষ্ট থাকেন, তারাই দ্বীনদার হিসেবে পরিচিত। এ সমাজে এ রকম দ্বীনদার মহলের মাঝে দুটি শ্রেণীর অস্তিত্বই বড় রকমভাবে দৃশ্যমান। একটি শ্রেণী হচ্ছেন দেশের আলেমসমাজ, যারা নিয়মতান্ত্রিক

রোহিঙ্গ মুসলিম হত্য : বিশ্ববিবেকের নিরবতা : আতিকুর রহমান নগরী

প্রান্তেই নজর দেবেন মুসলিম নির্যাতন কোথাও খুব বিরল নয়। বর্তমান দুনিয়ার সবচে স্বল্পমূল্য জিনিসগুলোর তালিকায় চলে এসেছে মুসলিমদের রক্ত। ধরাপৃষ্ঠের অন্য কোনো জাতি বা ধর্ম ইসলাম বা মুসলিমের মতো নির্যাতিত নয়। জগতের সবচে বড় নিগৃহিত জাতির নাম মুসলিম। আধুনিক দুনিয়ায় বসনিয়া-চেচনিয়া-জিংজিয়াং ও মিন্দানাওয়ের পর কাশ্মির-গুজরাট-আসাম, ফিলিস্তিন-আফগান-ইরাক ও মায়ানমারে চলছে মুসলিম নিধনযজ্ঞ। জাতিসঙ্ঘের ঘোষণা অনুযায়ী পৃথিবীতে


Hit Counter provided by Skylight