বিভাগ : প্রবন্ধ

কেন আসে রমযান মাস? আল্লামা তাকী উসমানী

ইসলামের বাইরে দৃষ্টি দিলে দেখবেন, পৃথিবীর সকল মতবাদ আগাগোড়া মানুষের মস্তিষ্ককে সম্বোধন করে। আর ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা সম্বোধন করে শুধু তার হৃদয়কে। হৃদয় ও মস্তিষ্ক প্রত্যেকটির আছে আলাদা রাজত্ব। প্রত্যেকেই তার রাজত্বের একক অধিপতি। আর এই দুই রাজা (মস্তিষ্ক ও হৃদয়) শুধু এক নয়, তারা এক রাজ্যে অবস্থান করতে পারে না; বরং অনেক সময় পরস্পর

রমজানের রোজা : ফজীলত ও বিধান, মাওলানা আহমদ মায়মূন

আল্লাহ তা‘আলা মুসলিম জাতির জন্য রমজানের রোজা ফরজ করেছেন। এ জন্য মুসলিম সমাজের ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠী পূর্ণ রমজান মাস ব্যাপী আল্লাহ তা‘আলার হুকুম পালনার্থে রোজা রেখে থাকে। রোজা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার দ্বারা মানুষের দৈহিক, আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উপকার ও উন্নতি সাধিত হয়। এ জন্য পূর্ববর্তী ধর্মালম্বী অন্যান্য জানি-সম্প্রদায়ের জন্যও আল্লাহ তা‘আলা রোজার বিধান দান

আপন ভুবনে আল্লাহ্কে পাওয়ার সাধনা এ’তেকাফ : ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

এ’তেকাফ আরবী শব্দ, পবিত্র কুরআনের পরিভাষা। আভিধানিক অর্থ, কোন স্থানে অবস্থান করা। শরীয়তের পরিভাষায় এর অর্থ, রোযা ও এ’তেকাফের নিয়তসহ মসজিদে অবস্থান করা। মহিলারা মসজিদের পরিবর্তে ঘরে একটি জায়গা ঘেরাও দিয়ে আলাদা করে এ’তেকাফ করবেন। মাহে রমযান মানব জাতির জন্য আল্লাহ্র অগণিত অফুরন্ত রহমত ও নেয়ামত বয়ে এনেছে। তন্মধ্যে এ’তেকাফ অন্যতম। সাধারণত আমরা নেয়ামত বলতে

হযরত নূহ আ. এর কাহিনী পর্ব (১) : সংকলন : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

তিনি হলেন নূহ ইবন লামাক ইবন মুতাওশশালিখ ইবন খানুখ। আর খানুখ হলেন ইদরীস ইবন য়ারদ ইবন মাহলাইল ইবন কীনন ইবন আনূশ ইবন শীছ ইবন আবুল বাশার আদম আ.। ইবন জারীর প্রমুখের বর্ণনা মতে, আদম আ. এর ওফাতের একশ ছাব্বিশ বছর পর তাঁর জন্ম। আহলি কিতাবদের প্রাচীন ইতিহাস মতে নূহ আ. এর জন্ম ও আদম আ.

মানব জীবনে রোযার গুরুত্ব ও উপকারীতা : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

রমযানের রোযা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম। রোযা শব্দটি ফারসী। যার আরবী হলো, সওম। সওমের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। শরীআতের পরিভাষায় সওম বলা হয়, প্রত্যেক সজ্ঞান, প্রাপ্ত বয়ষ্ক মুসলিম নর-নারীর সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযার নিয়তে স্ত্রী সহবাস, পানাহার ও রোযা ভঙ্গকারী যাবতীয় কাজ-কর্ম থেকে বিরত থাকা। [বিনায়া :৪/৩; বাদায়েউস সানায়ে :২/৭৫] রমযানের চাঁদ দেখা

সমাজ সংস্কারে ইমামগণের দায়িত্ব ও কর্তব্য : মাওলানা জামালুদ্দীন

বড়দের কথা দিয়েই শুরু করি। সম্ভবত আবু তাহের মিসবাহ সাহেব দা.বা. এর একটি লেখায় পড়েছিলাম। হুবহু মনে নেই। তবে তার সারাংশ এমন, তিনি লিখেছেন, “আমরা বলি আমাদের মিডিয়া নেই, আমাদের প্রচার মাধ্যম নেই, আমাদের গণমাধ্যম নেই। সারা বিশ্বের মানুষ আজ মিডিয়ামুখী। তাই আমরাও যদি মিডিয়া তৈরী করে তার মাধ্যমে দ্বীন প্রচার করি; তাহলে তা হবে

সাংবাদিকতা : ইসলামি দৃষ্টিকোণ : আতিকুর রহমান নগরী

সংবাদপত্রকে একটি জাতির দর্পণ বলা হয়। দর্পণ অর্থ আয়না। আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। সংবাদপত্রের মাধ্যমে দেশ জাতি ও সামজের চিত্র তুলা ধরা হয় বলে তাকে দর্পণ নাম দেয়া হয়েছে। এছাড়া মুদ্রণজগৎ, প্রচারমাধ্যম, সম্প্রচারকেন্দ্র, ইন্টারনেট কিংবা গণমাধ্যমের উপস্থাপিত বর্তমান ঘটনা প্রবাহের একগুচ্ছ নির্বাচিত তথ্যের সমষ্টি, যা যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাকে সংবাদ বলে।

জীবন হোক আল্লাহতে সমর্পিত : ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

এক দরবেশ আশ্রয় নিয়েছিলেন গহীন বনে। লোকালয় ছেড়ে নির্জন সাধনায় তার একমাত্র সাথী ছিল নিদ্রা। তার সব প্রয়োজন-চাহিদা মিটে যেত আল্লাহর পক্ষ হতে। তাই মানুষের সংশ্রবে তিনি অস্বস্তিবোধ করতেন। লোকালয়ের স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে নির্জন সাধনা কীভাবে কারো ভাল লাগে, এ প্রশ্ন কারো মনে জাগতে পারে। মওলানা রূমী র. জবাবে বলেন, যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি

হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ রা. এর ইসলাম গ্রহণ, সংকলন : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

হযরত খালেদ ইবনে ওলীদ রা. বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন আমার মঙ্গলের ইচ্ছা করলেন তখন আমার অন্তরে ইসলামের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করলেন এবং আমার সামনে হেদায়েতের পথ উন্মুক্ত করে দিলেন। আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম যে, আমি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি, কিন্তু যুদ্ধ হতে ফেরার পর প্রত্যেক বারই মনে হয়েছে

ইলমে দীনের গুরুত্ব : মাওলানা আহমদ মায়মূন

আল্লাহ তাআলার আদেশ- নিষেধ ও বিধি- বিধান, যা পবিত্র কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে বা ইমাম- মুজতাহিদগণ তা যে ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ করেছেন তার অবগতিকে ইলম বলা হয়। কুরআন ও হাদীসে ইলমে দীনের অপরিসীম গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং যাদেরকে ইলম দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাদের মর্যাদা অনেক

প্রেমের গল্প বলা রহস্যজ্ঞানী কবি নিযামী : ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

শেখ সাদী, হাফেয শিরাযী, মওলানা রূমী, মওলানা আব্দুর রহমান জামী, হাকিম আবুল কাসেম ফেরদৌসী প্রমুখের সাথে অপর যে ফারসি কবি বিশ^জয় করেছেন, তিনি হলেন অনর্গল প্রেমের গল্প বলা রহস্যজ্ঞানী কবি নিযামী। হিজরী ষষ্ঠ শতকে ফারসি ভাষার অসাধারণ কবি হিসেবে তিনি গণমানুষের বুলি, কথ্যভাষা ও গল্পধারাকে কবিতায় রূপায়িত করে প্রেমের সৌধমালা রচনা করেন। ফারসি ভাষা ও

পবিত্র কুরআন-হাদীসে কেয়ামত প্রসঙ্গ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কেয়ামত নিকৃষ্ট মানুষের উপর সংঘটিত হবে। তিনি আরো ইরশাদ করেন, কেয়ামত এমন কারো উপর সংঘটিত হবে না, যারা আল্লাহ আল্লাহ বলতে থাকবে। তিনি আরো ইরশাদ করেন, আল্লাহ আল্লাহ বলছে, এমন কারো উপর কেয়ামত সংঘটিত হবে না। [মুসলিম] একটি দীর্ঘ হাদিসে রয়েছে, যেহেতু

উম্মাহর ঐক্য ও মৈত্রী পথ ও পদ্ধতি : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

উম্মাহ আজ নানা দল, উপদল ও ফেরকায় বিভক্ত। নানা মত ও মতাদর্শের শিকার হয়ে বহুধা বিভক্ত ঐক্যর ও মৈত্রীর প্রতীক ইসলামের অনুসারীগণ। এরপর আরও কতশত মত ও পথের উদ্ভব হবে আল্লাহই মালুম। এই বিভক্তি ও মতাদর্শের বিভিন্নতার সুযোগ নিয়ে তাগুতী শক্তি সর্ব শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে। সা¤্রাজ্যবাদী

ভাষার সৌন্দর্য ও আমাদের বাংলা ভাষা : শামসুদ্দীন সাদী

আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন তামাম বিশ্বজাহান। চাঁদ সূর্য গ্রহ নক্ষত্র। গাছপালা তরুলতা। পশুপাখি। সুদূর আকাশ। বিস্তৃত জমিন। এসব কিছুই মহান আল্লাহর সৃষ্টি। বায়ু ও বায়ুম-ল, জল ও জলবায়ু সবই তাঁর অনুপম সৃষ্টিকুশলতার অপার নিদর্শন। পাখির কণ্ঠে, পাতার মর্মর শব্দে তাঁরই গুণ প্রতিধ্বনিত হয়। সাগর মহাসাগরের অতল দরিয়ায় বিশাল জলরাশি মহান আল্লাহর নিপুণ

বিশ্ব ইস্তেমা : দা‘ওয়াত ও তাবলীগ : মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

আরবী ‘ইস্তেমা‘ শব্দটির বাংলা অর্থ হচ্ছে, শ্রবণ-শোনা, মনোযোগসহ শ্রবণ। আর ‘ইজতেমা’ মানে হচ্ছে, সম্মিলন, সাক্ষাৎ, বৈঠক, সভা, সমাবেশ, সম্মেলন, সমাজ, সমাজবদ্ধতা, সামাজিকতা, সমাজজীবন। শব্দ দু’টির অর্থের প্রতি মনোযোগ দিলে ‘বিশ্ব ইস্তেমা’ ও ‘বিশ্ব  ইজতেমা’-বাক্যদ্বয়ের মর্মার্থ বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ বিশ্ব মুসলিমের মনোযোগসহ শোনার বিষয় বা অনুষ্ঠান; বিশ্বর মুসলমানদের সম্মিলন বা সম্মেলন বা সভা-সমাবেশ-বৈঠক।

ঈদুল ফিতর উদযাপন : তাৎপর্য ও শিক্ষা / মাওলানা আহমদ মায়মূন

দুনিয়ার সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাচীনকাল থেকে উৎসব দিবস পালনের রেওয়াজ চলে আসছে। লোকেরা উৎসবের দিন সাজগোজ করে বের হয় এবং আনন্দ-ফুর্তি করে। জীবনের কান্তি-অবসাদ দূর করে মন-মেজাজকে প্রফুল্ল করে তোলার জন্য আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা মানুষের জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। ইরানের অগ্নিপূজকেরা বছরে দুটি উৎসব পালন করত। একটি নওরোজ (২১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ এর মধ্যবর্তী

সুখি দাম্পত্য জীবন গড়তে রাসূল সা. এর আদর্শ / ড. মুফতী আবদুল মুকীত আযহারী

বিবাহে সচ্ছলতা বিবাহ করা ও করানো মুসলমানের জন্য একটি কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত (পুরুষ হোক বা নারী) তাদেরকে বিবাহ করিয়ে দাও এবং তোমাদের মধ্যে দাসদাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও (বিবাহ করিয়ে দাও)। যদি তারা অভাবী হয় আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী বানিয়ে দেবেন।  অন্য এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল বলেন, যে

আল-কুরআনে সাহাবীদের যত জিজ্ঞাসা : হালাল বস্তুনিচয়-সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা / মাওলানা মুজিবুর রহমান

[জুন সংখ্যার পর] পালক পুত্র বধু নিজ পুত্রবধূ হারাম। এ ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত নাই। তদ্রƒপ পালকপুত্রবধূ হালাল এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নাই। কারণ, আল্লাহ তাআলা পালকপুত্রকে নিজ পুত্রের মতো মর্যাদা প্রদান করেননি। এরশাদ হচ্ছে, আল্লাহ তোমাদের মুখে-ডাকা পুত্রকে ঔরসজাত পুত্র বানিয়ে দেননি। [সূরা আহযাব : আয়াত ৪] বিভিন্ন সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে যে,

আপ কী আমানত আপ কী সিওয়া মেঁ / মাওলানা কলিম সিদ্দিকি : এই নিন আপনার আমানত / অনুবাদ : আবদুস সাত্তার আইনী

কিছু কথা একটি ছোটো শিশু খালি পায়ে হেঁটে আসছে। সে আগুনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার কচি দুটি পা আগুনে পড়তে যাচ্ছে। আপনি সব দেখছেন। এখন আপনি কী করবেন? আপনি তৎণাৎ ছুটে গিয়ে শিশুটিকে কোলে তুলে নেবেন এবং তাকে আগুন থেকে বাঁচাতে পেরে বিপুল আনন্দ অনুভব করবেন। তেমনি কোনো মানুষ যদি আগুনে ঝলসে যায় বা আগুনে

বিয়েতে অবহেলিত কিছু আমল / মুফতী পিয়ার মাহমুদ

বিয়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান ও চিকিৎসা যেভাবে মানব জীবনের অপরিহার্য প্রয়োজন, শিা-দীার প্রয়োজনীয়তা যেভাবে যুক্তিতর্কের ঊর্ধ্বে, একজন যৌবনদীপ্ত মানুষের সুস্থ জীবন যাপনের জন্য বিয়ের অপরিহার্যতা তেমনই। তাই ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ফযীলত ও মর্যাদা তুলনাহীন। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে যে পুরুষের স্ত্রী নেই আর যে নারীর স্বামী নেই তাদের এবং তোমাদের দাস-দাসীর

সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব কুরআন মাজীদ / এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান

যাবতীয় কল্যাণ, সর্বপ্রকার জ্ঞান-গরিমা, প্রজ্ঞা ও রহস্যের আধার হল আলকুরআন। একে অনুসরণ করেই দুনিয়া ও আখিরাতে পাওয়া যায় সুখের সন্ধান, মেলে সঠিক পথের দিশা। আলকুরআন মহান আল্লাহর বাণীর অপূর্ব সমাহার বিস্ময়কর এক গ্রন্থের নাম। আলকুরআন আল্লাহর প থেকে অবতীর্ণ সংরতি এক সংবিধান। আল্লাহ তাআলা জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে মানব জাতির হিদায়াত হিসেবে


Hit Counter provided by Skylight