বিভাগ : হাদিস

হাদীসে বর্ণিত মুমিনের গুণাবলি

১. হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যার মধ্যে তিনটি বৈশিষ্ট্য আছে, সে ঈমানের স্বাদ পেয়েছে। ১. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অন্য সব কিছুর চেয়ে তার নিকট অধিক প্রিয়। ২. সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যেই কোন ব্যক্তিকে ভালবাসে। ৩. আল্লাহ তাকে কুফরী থেকে মুক্তি দানের পর পুনর্বার কুফরীর মধ্যে ফিরে

হজ ও কুরবানি সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদিস

হজ ও কুরবানি সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস ১। জুনদুব ইবন আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি কুরবানির দিন রাসুল সা.-এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। রাসূল সা. নামায আদায় করলেন। এরপর খুৎবা দিলেন এবং বললেন, নামায আদায় করার পূর্বে যে ব্যক্তি কুরবানির পশু জবাই করেছে, সে যেন এর স্থলে আরেকটি কুরবানি করে। আর যে  ব্যক্তি নামাযের পূর্বে জবাই করেনি

জান্নাত-সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস

১। হযরত আবু হোরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি আমার পুণ্যবান বান্দাদের জন্য এমন সব জিনিস প্রস্তুত রেখেছি, যা কখনো কোনো চক্ষু দেখেনি, কোনো কান কখনো শুনেনি এবং কোনো অন্তঃকরণ যা কখনো কল্পনাও করেনি। [তিনি বলেন] এর সত্যতা প্রমাণে তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াতটি তেলাওয়াত করতে পার। [অর্থাৎ]

যাকাত ও সদকা-সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস

১। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মুয়ায ইবনে জাবালকে ইয়ামানের শাসনকর্তা করে পাঠালেন এবং বললেন, মুয়ায! তুমি আহলে কিতাবদের কাছে যাচ্ছ। প্রথমে তাদেরকে এ ঘোষণা করতে আহ্বান করবে- ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং  মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসূল। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে লয়, তাহলে তাদেরকে

রোযা ও রমযান-সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস

১। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, (রমজান মাসের) চাঁদ না দেখা পর্যন্ত তোমরা রোযা রেখো না। আর (শাওয়াল মাসের) চাঁদ না দেখা পর্যন্ত তোমরা ইফতার করো না। আকাশ মেঘলা থাকার দরুন যদি চাঁদ তোমাদের থেকে গোপন থাকে তবে (শা‘বান) মাসের দিনগুলো পূর্ণ করবে। অপর বর্ণনায়

তাকওয়া-সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস

১। হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, সবচেয়ে সম্মানার্হ ব্যক্তিকে কে? তিনি বললেন, সকলের চেয়ে যে বেশি আল্লাহ্ভীরু। সাহাবীগণ বললেন, আমরা এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছি না। তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহর নবী ইউসুফ আ. যাঁর পিতা আল্লার নবী, তাঁর পিতা আল্লাহর নবী এবং তাঁর পিতা ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আ.। সাহাবীগণ

ভ্রাতৃত্ব-সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদিস

১। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, কোন মুসলমান ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তিন দিনের বেশি সময় অপর কোনো মুসলমান ভাইকে ত্যাগ করে। অর্থাৎ তারা কোথাও একে অপরের সম¥ুখীন হলে একজন এদিকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং অপরজন ওদিকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাদের দুজনের মধ্যে উত্তম সেই

জ্ঞান-সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস

১। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, দুই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে ঈর্ষা করা যায় না। প্রথমত, এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা অর্থ সম্পদ দান করেছেন এবং তা সৎকার্যে ব্যয় করার জন্য তাকে [মনোবল] ক্ষমতা দান করেছেন। দ্বিতীয়ত, এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা প্রচুর জ্ঞান দান করেছেন। সে তার

জান্নাতে নারীদের অবস্থা : আলী হাসান তৈয়ব

Porda

জান্নাতে নারীদের অবস্থা কী হবে, জান্নাতে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে- এ ব্যাপারে এমন কয়েকটি পয়েন্ট এই লেখায় একত্রিত করা হয়েছে, যা থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণায় উপনীত হওয়া যাবে। আমাদের উচিত হবে নারীরা জান্নাতে তাদের জন্য অপেক্ষমান নেকি ও নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তাদেরকে হতোদ্যম না করা। কারণ, মানব প্রকৃতি তার আগামী ও ভবিষ্যত

খতমে নবুওয়াত ও শেষ নবী : যোবায়ের বিন জাহিদ

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী। তার পরে পৃথিবীতে আর কোন নবীর আগমন ঘটবে না। হযরত আদম আ. থেকে নিয়ে মানব জাতির হেদায়েতের  উদ্দেশ্যে যত নবী আল্লহ তায়ালা প্রেরণ করেছেন, তাদের সমাপ্তি হয়েছে বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। নবীদের ধারাবাহিকতার এ পরিসমাপ্তিকে বলা হয় ‘খতমে নবুওয়াত’। আর আমাদের

ইলম অর্জনের শিশুর অধিকার : মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক

jar

ইলম অর্জন, জীবন ও জগৎ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ, ইহপরকালীন কল্যাণের পথ পথান্তর বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা অর্জন শিশুর একটি মৌলিক অধিকার। এ অধিকার প্রদানে, এ বিষয়ে শিশুর যথাযথ পরিচর্যায় মহানবী সা. স্থাপন করেছেন সর্বোচ্চ আদর্শ। আমাদের সালাফে সালেহীনগণও এক্ষেত্রে রেখেছেন উজ্জ্বল উদাহরণ। মহানবী সা. জ্ঞান অন্বেষণ প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ বলে ঘোষণা করেছেন। [আল মাকাসিদুল

শাওয়ালের ছয় রোজার ফযীলত : মাওলানা আব্দুস সাত্তার

Helth copy

পবিত্র রমজানের পরবর্তী মাস এবং চন্দ্র মাসের দশম মাস হচ্ছে শাওয়াল। শাওয়াল মাসে অনেক আমল রয়েছে এসব আমলের ফজিলতও অনেক বেশী। রমজান মাসের রোযার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখার গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। রাসূল সা. তাঁর সাহাবিদের শাওয়াল মাসের ছয় রোযা রাখার প্রতি উৎসাহ দিতেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোযা রাখল তারপর শাওয়াল

জান্নাতের নেয়ামতের পূর্ণতা প্রাপ্তির কারণ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

Neyamot

জান্নাতি লোকদের মধ্যে অধিক নিয়ামতের অধিকারী তারাই হবে, যারা নিজেদেরকে দুনিয়াতে হারাম কাজ থেকে বাঁচাবে। পৃথিবীতে যে লোক শরাব পান করবে সে জান্নাতের পবিত্র শরাব থেকে বঞ্চিত থাকবে। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি রেশমের পোশাক পরিধান করবে সে জান্নাতে রেশমী পোষাক পড়া থেকে বঞ্চিত থাকবে। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি স্বর্ণ রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করেছে জান্নাতে সে এগুলোতে পানাহার

উলামায়ে দেওবন্দের অবদান ও আমাদের প্রত্যাশা : আতিকুর রহমান নগরী

University

আমি বকলমের পক্ষে উলামায়ে দেওবন্দের অবদান উল্লেখ করা, মহাপন্ডিতের পরিচয় দেয়ার সমান। তাছাড়া ইলমি মাহারাত তো নেই বললেই চলে। জানি আমার সমবয়সী আর কওমী পড়–য়ারা লেখার মুকাদ্দিমা দেখে বাঁকা চোখে তাকাবেন। আর কেউবা হাসবেন। উলামায়ে দেওবন্দের অবদান লিখতে গেলে কলমের কালি আর জ্ঞানশূন্যতার সম্মুখিন হবো আমি। যারপর নাই ইলমে তারিখ মুতাআলা করতে হবে। কিতাবের ইবারাত

ধন সম্পদের বিনিময়ে জান্নাতের মহল ক্রয় : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

sign4

জাফর ইবন সুলায়মান রহ. বলেন যে, একদা আমি এবং মালেক ইবন দিনার একসঙ্গে বসরা শহরে গেলাম। ঘুরতে ঘুরতে আমরা একটি আলিশান মহলের কাছে গিয়ে এর ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম যে, মিস্ত্রী ও অন্যান্য শ্রমিকরা কাজ করতেছে। মহলটির একপাশে বসে আছে অত্যন্ত সুন্দর সুদর্শন  এক যুবক। এরকম সুন্দর পুরুষ আমরা আগে কখনও দেখিনি। যুবকটি মহল নির্মাণ

জান্নাত কোথায় অবস্থিত ? : সংকলনে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

26807.imgcache

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ ফরমান, হুজুর সা. হযরত জিবরাইল আ. কে আরেকবার তার আসল ছুরতে দেখেছিলেন, সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। [নাজম ১৩-১৫] বিশেষ আলোচনা : বড়ই বৃক্ষকে বলা হয় সিদরুন, মুনতাহা বলা হয় চুড়ান্ত গন্তব্য স্থানকে। সুতরাং হাদীস শরীফে এসেছে যে, সপ্তম আকাশে ইহা একটি বড়ই বৃক্ষ। উর্ধ্ব জগৎ থেকে যে সমস্ত

ইসলামের এক তৃতীয়াংশ জ্ঞান সমৃদ্ধ একটি হাদীস :মাওলানা আব্দুস সাত্তার

Islamic_Books

আমীরুল মুমিনীন আবু হাফস্ উমার ইবনুল খাত্তাব রা. হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সা. কে বলতে শোনেছি, “সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তের উপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে, তাই পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়েছে, আর যার হিজরত

যে সমস্ত আমল জান্নাত ও জাহান্নামে নিয়ে যাবে : সংকলনে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

Islamic_Books

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সা. বলেন, সবচেয়ে বেশি যে বস্তু মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে তা দুটি ফাকা জায়গা আর তা হলো ১. লজ্জা স্থান ২. মুখ, অপরদিকে যে দুটি বস্তু অধিকপরিমাণে মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে সেগুলো হলো- ১. আল্লাহভীতি ২. সচ্চরিত্র। [ইবনে কাসীর] জান্নাতিদের অভ্যাস আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তোমরা

সংকলনে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

324366886_59d464eef3

জান্নাতের আখাঙ্খী যেন পরিশ্রম করে হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন : নবী করীম সা. ইরশাদ ফরমান Ñ আমি জান্নাতের এমন কোন দৃষ্টান্ত দেখি নাই যার আকাঙ্খী শুয়ে থাকে। আর না আমি জাহান্নামের এমন দৃষ্টান্ত দেখেছি যে উহা থেকে আত্মরক্ষাকারী শুয়ে আছে। হযরত উমর রা. বলেন, জনাব নবী করীম সা. এরশাদ ফরমানÑজান্নাতে সে ব্যক্তিই প্রবেশ করবে

হাদীসে আদম আ. এর সৃষ্টি : সংকলন : আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

bd014

পূর্ব প্রকাশিতের পর… হযরত জাফর রাযী রহ. বর্ণনা করেন যে, উবাই ইবনে কা’ব রা. وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنكَ وَمِن نُّوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ۖ وَأَخَذْنَا مِنْهُم مِّيثَاقًا غَلِيظًا উল্লেখিত আয়াত তেলাওয়াত করে বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষ সৃষ্টি করে আল্লাহ তা’লা তাদের এক স্থান সমবেত করেন। এবং তাদের নিজেদের সাথে

হাদীসের আলো : আল্লাহর রাস্তায় ধনসম্পদ ব্যয় করার ফযীলত, আল্লাহর রাস্তায় হাটাচলার ফযীলত

quran

আল্লাহর রাস্তায় ধনসম্পদ ব্যয় করার  ফযীলত আবু কাবশাহ আমর ইবনে সাদ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, আমি তিনটি জিনিসের ব্যাপারে শপথ করছি এবং  তোমাদেরকে একটি হাদীস বলছি তা স্মরণ রেখো- (১) কোন বান্দার মাল সাদকাহ করলে কমে যায় না। (২) কোন বান্দার উপর কোন প্রকার অত্যাচার করা হলে


Hit Counter provided by Skylight