বিভাগ : সেপ্টেম্বর -16

পবিত্র হজ : তাৎপর্য ও ফযীলত

হজ ইসলামের মৌলিক পাঁচটি স্তম্ভের একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সময় পরিক্রমায় প্রতি বছর ফিরে আসে এ পূন্যময় ইবাদত পালনের মৌসুম। আর তখন প্রিয় মনিবের নৈকট্য লাভের আশায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন অসংখ্য আনুগত্যশীল বান্দা। নশ্বর এ পৃথিবীর মোহমায়া ভুলে মহান সৃষ্টিকর্তা রাব্বুল আলামিনের প্রেমে পাগলপারা হয়ে যান তাঁরা। একজন সত্যনিষ্ঠ প্রকৃত মুমিন ব্যক্তির জন্য এ এক

হজ ও কুরবানি সম্পর্কিত নির্বাচিত আয়াত

১. তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরা পূর্ণ কর, কিন্তু তোমরা যদি বাঁধাপ্রাপ্ত হও তবে সহজলভ্য কুরবানী কর। যে পর্যন্ত কুরবানীর পশু উহার স্থানে না পৌঁছে  তোমরা মস্তক মু-ন করো না। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা মাথায় ক্লেশ থাকে তবে সিয়াম কিংবা সদকা কিংবা কুরবানীর দ্বারা তার ফিদয়া দিবে। যখন তোমরা নিরাপদ হবে

হজ ও কুরবানি সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদিস

হজ ও কুরবানি সম্পর্কিত নির্বাচিত হাদীস ১। জুনদুব ইবন আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি কুরবানির দিন রাসুল সা.-এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। রাসূল সা. নামায আদায় করলেন। এরপর খুৎবা দিলেন এবং বললেন, নামায আদায় করার পূর্বে যে ব্যক্তি কুরবানির পশু জবাই করেছে, সে যেন এর স্থলে আরেকটি কুরবানি করে। আর যে  ব্যক্তি নামাযের পূর্বে জবাই করেনি

কুরবানীর তাৎপর্য / মাওলানা আহমদ মায়মূন

হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এসকল কুরবানী কেন? আল্লাহর রাসূল উত্তরে বললেন, এটা তোমাদের পিতা ইবরাহীমের সুন্নত। তাঁরা আবার জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এতে আমাদের কী প্রাপ্য হবে? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, (কুরবানীকৃত পশুর) প্রতিটি চুলের বদলে একটি করে নেকী পাবে।

হজ্জ : আল্লাহ-প্রেম ও আত্মোৎসর্গের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হাফেজ / মাওলানা আবূ সালেহ

প্রেমের শাশ্বত আবেদন ও শিক্ষা পবিত্র জিলহজ্জ মাস প্রতিবছর আমাদেরকে আল্লাহর রাহে আত্মত্যাগের কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রায় সকল আম্বিয়ায়ে কেরামের প্রতি এমন কিছু কঠোর দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিয়েছিলেন, এমন কঠিন পরীক্ষায় তাঁদের ফেলেছিলেন, যা অন্য কারো প্রতি অপরিহার্য ছিল না, অন্য কারো পক্ষে সে দায়িত্ব পালন করা, কিংবা সে

বর্তমান যুগে মা-বাবার দায়িত্ব / ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

সাইফুল ইসলাম। ফোনে পরিচয় দিল, এলাকার ছেলে। তার বাবা নূরুল আলম মাস্টার আমার বাল্যবন্ধু। বলল, সে আইটি ইঞ্জিনিয়ার। চাকরির পাশাপাশি ঢাকায় নিজে একটি ফার্ম খুলেছে। এলাকার ছেলেদের ফোন পেলে মনে করি, হয়ত কারো মৃত্যু সংবাদ বা পারিবারিক সামাজিক অনুষ্ঠানের দাওয়াত পাব। কোথাও সুপারিশ বা তদবিরের জন্য কেউ বলে না। কারণ, আমার আওতা সম্বন্ধে প্রায় সবাই

রাসূল সা. উত্তম আদর্শ ও আমাদের অবস্থা রাসূল সা.-এর ক্ষমা ও ইসলাম বিরোধীদের অপপ্রচার /

রাসূল সা. সর্বদা ক্ষমা করে দিতেন। কারো কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। এক গ্রাম্য  লোক রাসূল সা.-কে হত্যা করতে উদ্যত হয়। সে রাসূল সা.-এর কাছে খোলা তরবারি নিয়ে এসে বলে, তোমাকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে? রাসূল সা. বললেন, আল্লাহ। সে গ্রাম্য ব্যক্তির হাত থেকে তরবারি পড়ে গেলে রাসূল সা. তা তুলে নিয়ে বললেন,

হজ আদায়ে আমরা যে সকল ভুল-ভ্রান্তি করে থাকি / মুফতী পিয়ার মাহমুদ

আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে মুমিন বান্দাকে এমন কিছু ইবাদত দান করেছেন যার দ্বারা সে আত্মার প্রশান্তি এবং দুনিায়া ও আখেরাতের সীমাহীন বরকত ও কল্যাণ লাভ করে থাকে। এ জাতীয় ইবাদতেরই একটি হলো হজ। হজের ফযীলত বর্ণনায় আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি অশ্লীলতা ও কটূক্তি থেকে

নতুন চাঁদ ও তৎসংশ্লিষ্ঠ বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা / মাওলানা মুজিবুর রহমান

সাহাবায়ে কেরামগণের অপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা ছিল আহিল্লা বা নতুন চাঁদ সংক্রান্ত। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘তাঁরা আপনার নিকট নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলে দিন ইহা মানুষ এবং হজের জন্য সময় নির্দেশক।’ [সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৮৯] এতদ সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনায় যাবার পূর্বে চাঁদ সম্পর্কে কিছু তথ্য পাঠকদের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করতে চাই। রাতের আকাশে

সোনালি বিচার / সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

ইমাম যুহরী আম্মার বিন খুযাইমা আনসারী রা. এর বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুঈন থেকে পথের মধ্যে একটি ঘোড়া ক্রয় করেন এবং তাকে দ্রুত চলতে বললেন যাতে করে তিনি বাড়ি পৌঁছে ঘোড়ার দাম পরিশোধ করে দেন। এরপর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেকটা দূরে এগিয়ে গেলেন আর সে পিছনে

কুরবানীর ফাযায়েল ও মাসায়েল / এইচ. এম. আবূ সালেহ

‘কুরবানী’ : শব্দ পরিচিতি ‘কুরবান’ বা ‘কুরবানী’ শব্দের প্রচলিত আভিধানিক অর্থ হলো উৎস্বর্গ করা। এ শব্দটি আরবী ‘কুরবুন’ বা ‘কুরবাতুন’ থেকে উৎসারিত। যার অর্থ নিকটবর্তী হওয়া নৈকট্য অর্জন করা ইত্যাদি; কিন্তু উপমহাদেশের মুসলিম দেশগুলোতে কুরবানী শব্দটি আত্মত্যাগ তথা অর্থ, স্বার্থ, জান-মাল ইত্যাদি উৎস্বর্গ করা বিশেষত জিলহজ মাসের ১০/১১/১২ তারিখে ধর্মীয় বিধান হিসাবে নির্ধারিত পশু জবেহ

রিয়া ও সুম‘আ : অর্থাৎ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ইবাদত করা / মাওলানা কামরুল হাসান

রিয়া ও সুম‘আ শব্দ দুটি পৃথক পৃথক হলেও একটি অপরটির স্থলে ব্যবহৃত হয়। রিয়া অর্থ লৌকিকতা বা লোক দেখানো কাজ। যারা রিয়ার পর্যায়ের কোনো প্রকার ইবাদত করে, তাদের কৃতকর্মের পরিণাম খুবই ভয়ানক। আল্লাহর কালামে রিয়াকারদের সম্পর্কে বহু আয়াত উল্লেখ রয়েছে। এটা মুনাফেকদের চরিত্র ও স্বভাবও বটে। আর সুম‘আ অর্থ মানুষকে শুনানোর উদ্দেশ্যে কোন কাজ করা

কুরবানিতে প্রচলিত ভুল / আবদুস সাত্তার আইনী

কুরবানিকে আরবি ভাষায় ‘উযহিয়্যা’ বলা হয়। ‘উযহিয়্যা’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ঐ পশু যা কুরবানির দিন জবাই করা হয়। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পশু জবাই করাকে কুরবানি বলে। বস্তুত হযরত ইবরাহিম আ. আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালন করতে একমাত্র প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল আ.-কে কুরবানি করার মতো নজির স্থাপন করে

দৈনন্দিন মাসআলা-মাসায়েল : ওজুর মাসায়েল / মাওলানা শিব্বীর আহমদ

ওজুর ফজিলত নামাজকে বলা হয় দীনের স্তম্ভ, আর নামাজের চাবি হলো ওজু। নামাজ পড়তে হলে প্রথমেই ওজু করে পবিত্রতা হাসিল করতে হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কারও ওজু ভেঙ্গে গেলে পুনরায় ওজু করা পর্যন্ত তার কোনো নামাজই কবুল করা হয় না।’ [সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৩৫] ওজুর ফরজ ওজুর ফরজ চারটিÑ ১. সমস্ত মুখম-ল

সুপারস্টার / নাঈমা তামান্না

আল্লাহ তাআলা নারীকে যেসব অনন্য বৈশিষ্ট্যে শোভিত করেছেন, তার অন্যতম হলো আচার-আচরণে আহাদের প্রাচুর্য ও আবেগের বাহুল্য। তেমনি গঠন-প্রকৃতিতে ও স্বভাব-চরিত্রে নারী কোমলতা ও এমন ন¤্রতায় সমুজ্জ্বল,  যাতে সে শুষে নিতে পারে পুরুষের যাবতীয় রুতা। কেড়ে নিতে পারে মনের সুউচ্চ প্রাসাদটি। নারীর সান্নিধ্য পুরুষকে দেয় মানসিক আশ্রয়। যেখানে এলে তার টেনশন-অস্থিরতা লঘু হয়। কেটে যায়

জীবনজিজ্ঞাসা

কুরবানীর পশুর সাথে কিংবা সতন্ত্রভাবে আকীকা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মারুফ হাসান, রানাভোলা, তোরাগ, ঢাকা। প্রশ্ন: কুরবানীর গরুর সাথে অথবা পৃথক ভাবে কুরবানীর দিনে ছাগল দিয়ে আকীকা দেওয়া জায়েয আছে কি? কুরবানীর সাথে আকীকা দিলে ছেলেদের জন্য দুই ভাগ এবং মেয়েদের জন্য এক ভাগ। আর আকীকা ছাগল দিয়ে দিলে ছেলেদের জন্য দুইটি এবং মেয়েদের জন্য একটি ছাগল

কবিতাগুচ্ছ

হৃদয়ে মদীনা মোনাওয়ারা সৈয়দা সুফিয়া খাতুন মক্কা থেকে মদীনাতে এলেন নবীজী কতো যে কষ্ট করে, রহমতেরই বার্তা নিয়ে। পিছন ফিরে চোখের জলে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন নবীজী, হে! আমার প্রিয় জন্মভূমি মক্কাবাসী আমি তোমাদের ভালবাসি। এসি গাড়িতে এসে আমার পথ ফোরায় না সহজে, আমার দয়াল নবী পায়ে হেঁটে উটে চড়ে পথবিহীন রৌদ্রের তাপে, অন্ধকারে শক্ত মাটির

সবুজাভ প্রকৃতির আতিথেয়তায় / ইবরাহীম ইবনে আবদুল বারেক

এক কুঁড়ি দুই পাতা ও ৩৬০ আওলিয়ার দেশ পুণ্যভূমি সিলেট। ¯্রষ্টার নিপুণ হাতে গড়া, সবুজের চাদরে ঢাকা এই সিলেট। জেলাটিতে সবুজের সমারোহ এত বেশি মনে হয় যেন সবুজের মেলা বসেছে। এই পুণ্যভূমির দর্শন লাভের জন্য খুব বেশি উৎসুক ছিলাম। আমরা জানি এই ভূমিতেই শুয়ে আছেন হযরত শাহজালাল, শাহপরাণ (রাহিমাহুমাল্লাহ) এরম ত হাজারো আওলিয়া, যাঁদের সুভাগমণে

আলোর দিগন্তে /রাহাত ইবনে মাহবুব

মক্কার বালুকাময় মরুভূমি ছাড়িয়ে নির্ভিকপানে সামনে এগিয়ে চলেছেন জাহেলীয়াতের কষ্টিপাথরে মোড়ানো ওমর রা.।মরুভূমির উত্তপ্ত বালুকণা অসহ্য গরম, প্রচ- বাতাস কোন কিছুই তার গতিরোধ করতে পারছে না সামান্যতম। হাতে তার ধারালো এক তলোয়ার। চেহারায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞার সুস্পষ্ট ছাপ ভেসে উঠেছে। চোখ দিয়ে যেন অনন ঠিকরে বেরুচ্ছে। কিন্তু তিনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি কি কাউকে কতলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন?

ঈদে স্বাস্থসচেতনতা

কোরবানির ঈদের অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মূল আয়োজন হলো বিভিন্ন রকমের মাংস। সবারই প্রবল ইচ্ছা বেশি বেশি মাংস খাওয়া। খাবেন, কিন্তু চাই পরিমিতি জ্ঞান ও সংযম। চাই স্বাস্থ্যসচেতনতা। কোরবানি ঈদের সচেতনতা নিয়ে পাঠকদের জন্য কিছু তথ্য দেয়া হলো: ১. লাল মাংস শরীরের জন্য ক্ষতিকারক এ কথা সবারই জানা। লাল মাংস বা রেড মিট, অর্থাৎ গরু বা


Hit Counter provided by Skylight