বিভাগ : সীরাতে রাসূল

নির্যাতনের খড়গ ও নবীজির অবিচলতা : শামসুদ্দীন সাদী

হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মরু আরবে বিবি হাজেরা ও পুত্রসন্তান ইসমাঈলকে নিয়ে কাবাঘর নির্মাণের পরে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন, হে আমার রব! তাদের মধ্যে তাদের থেকে একজন রাসূল পাঠাও, যিনি তাদেরকে তোমার আয়াত তেলাওয়াত করে শোনাবেন, এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন, এবং তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের এই দোয়া আল্লাহ তাআলা

রাসূল সা. উত্তম আদর্শ ও আমাদের অবস্থা : রাসূল সা.-এর মানবতাবাদ ও কল্যাণ কামনা এবং আমরা / ড. মুফতী আবদুল মুকীত আযহারী

রাসূল সা. মানবতাবাদী ছিলেন ও সর্বদা মানুষের কল্যাণ কামনা করতেন। কাদিসিয়ায় একবার হযরত সাহল বিন হানীফ ও কাইস বিন সা’দ রা. বসা ছিলেন। তাঁদের সামনে থেকে একটা লাশ নিয়ে যাওয়া হলে তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তাঁদেরকে বলা হল যে, এটা একজন কর প্রদানকারী বিধর্মীর লাশ। তাঁরা বললেন, রাসূল সা. একবার সাহাবাগণের সাথে বসা ছিলেন। তখন একটা

রাসূল সা. -এর অনুপম আদর্শ ও আমাদের অবস্থা : মুফতি আব্দুল মুকিত

আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহর রাসূলের মধ্যে আছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ, যারা আাল্লাহকে চায়, আখেরাত দিবসের কামনা করে ও আল্লাহকে বেশী স্মরণ করে। [সূরা আহযাব : ২১] অন্য স্থানে আল্লাহ বলেন, কলম ও যে জ্ঞান তারা লেখেন তার শপথ, আপনি আপনার প্রভুর অনুগ্রহে পাগল নন। নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী। [সূরা নূন : ১-৪] জ্ঞানের

বিশ্ব নবীর স্বর্ণালি শৈশব : মুফতি আবু সালেহ আহমদ

হযরত মুহাম্মদ সা. একটি নাম, একটি জীবন, একটি বিপ্লব, একটি আদর্শ। পৃথিবী আজ অবদি কতো মহামানব, মহামণীষী, যুবক, শিশুর-কিশোরের মুখ দেখেছে; কিন্তু নবী মুহাম্মদ সা. শুধু একজনই দেখেছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যার জীবন ছিল পাপ-পঙ্কীলতা মুক্ত। যেমন আকর্ষণীয় ছিল তার যৌবনকাল, তেমনি চমকপ্রদ ছিল তার শৈশবকাল। বরকতময় জন্মগ্রহণ রাসূলের জন্মের আগে সাঙ্গ হয় আবরাহার

মহানবী সা. এর বিনম্র জীবনাচরণ : মুহাম্মদ আব্দুল মুনিম খান

বিনয়ের মূর্তপ্রতীক ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা.। পৃথিবীবাসীর একটা স্বাভাবিক পদ্ধতি হলো উঁচুশ্রেণীর লোকেরা নিচু শ্রেণীর লোকদের সাথে উঠাবসা করতে চায় না। অভিজাত শ্রেণীর লোকেরা সাধারণ মানুষের সাথে উঠাবসা করাকে অপমান মনে করে থাকে। কিন্তু রাসূল সা. এর কাছে এসব কিছুই ছিল না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. ছিলেন মানবজাতির অনুকরণীয় ও অনুস্মরণীয় মহান উদার,

মহানবী সা. এর মহানুভবতা : উবায়দুল হক খান

মক্কা বিজয়ের দিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করছেন তাঁর প্রিয় জন্মভূমিতে। সাথে হাজার হাজার সাহাবী, সবাই আনন্দিত। ছেড়ে যাওয়া মক্কা নগরীতে ফিরে আসতে পেরে আনন্দে আত্মহারা মুহাজিরগণ। খুশিতে মন দুলছে আনসার সাহাবীদেরও। বিজয়ের ধ্বনি সবার কন্ঠে। মক্কার কাফিররা কত কষ্ট দিয়েছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর প্রিয় সাহাবীদেরকে। তাদেরকে নিজ দেশ

পারিবারিক জীবনে রাসূল সা. -এর আদর্শ : মাওলানা আব্দুর রব

রাসূলের পারিবারিক জীবন প্রতিটি মানুষ আল্লাহর গোলাম বা দাস। জীবনের সকল স্তরে এই দাসত্ব বজায় রাখাটাই মানব জীবনের সার্থকতা। মানব জীবনে অনেকগুলো স্তর পার হতে হয়। যেমন, শৈশবকাল, কৈশোরকাল, যৌবনকাল ও পারিবারিক জীবন ইত্যাদি। পারিবারিক জীবনে প্রবেশ করার মাধ্যমেই মানুষের পূর্ণতা ঘটে। মানব জীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিল পারিবারিক সূত্রের পথ ধরেই। যে পরিবারের প্রথম বিন্যাস

হযরত ইউসুফ আ. এর স্বপ্ন :মাওলানা ইয়াসিন হোসাইন

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ইউসুফ তার পিতাকে বলেছিল, হে আমার পিতা! আমি এগারটি নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রকে দেখেছি। দেখেছি তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়। সে বলল, আমার পুত্র! তোমার স্বপ্ন বৃত্তান্ত তোমার ভাইদের নিকট বর্ণনা করো না; করলে তারা তোমার বিরুদ্ধে ষড়ষন্ত্র করবে। শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। এ ভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন

হযরত ইবরাহীম আ. এর ঘটনাসংকলন : আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

হযরত ইবরাহীম আ. এর বংশ তালিকা- ইবরাহীম ইবন তারাখ ইবন লাহুর ইবন সারুগ ইবন রাউ ইবন ফালিগ ইবন আবির ইবন শালিহ ইবন আরফাখশায ইবন সাম ইবন নূহ আ.। আহলে কিতাবদের গ্রন্থে এভাবেই হযরত ইবরাহীম আ. এর বংশ তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। হাফিজ ইবন আসাকির রহ. তার ইতিহাস গ্রন্থে, ইসহাক ইবন বিশর কাহিলীর ‘আল মাবদা’ গ্রন্থের

নবীজির ১১ বিবাহ যুক্তিসঙ্গত কেন ? সয়ৈদা সুফয়িা খাতুন

আজকাল কিছু কিছু ধর্মদ্রোহী নারী পুরুষ যুক্তি ও অনুসন্ধানের আশ্রয় না নিয়েই ধর্মকে বিশেষ করে ইসলামকে টার্গেট করে এর ত্র“টি বিচ্যুতি আবিষ্কারে লিপ্ত রয়েছে। ইসলামের বিধি বিধান সম্বন্ধে মন্তব্য করার জন্য যে পরিমাণ তথ্য জ্ঞানের প্রয়োজন তা ঐ সব সমালোচকদের মধ্যে নেই। অবশ্য নাটক উপন্যাস লিখতে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু কোন নীতি বা

সীরাতুন্নবীর আলোয় আলোকিত হোক আমাদের জীবন : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

মহানবীর সা. ব্যক্তিত্ব কোন সাধারণ ব্যক্তিত্ব নয়; বরং তা এক অনুপম আদর্শ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। যে অনুপম আদর্শ ব্যক্তি জীবন, সামাজিক জীবন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলসহ সকল ক্ষেত্রেই পরিব্যপ্ত। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক বিষ্ময়কর মহা-মানবের সন্ধান পাওয়া যায় যাদের চিন্তা-চেতনা ও দর্শন সারা বিশ্বে বিষ্ময়করভাবে বিস্তার লাভ করেছে এবং তাদের সুমহান আদর্শ ও কৃতিত্বের কারণে মানুষ আজও

সামাজিক অবক্ষয় নবী আর্দশই একমাত্র উত্তরণের পথ : মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন, জলে ও স্থলে যে সমস্ত অন্যায় সংগঠিত হয় সবি বান্দার নিজ হাতের অর্জন [ সূরা রোম-৪১] অর্থাৎ আমারা মন্দের উপযুুক্ত কাজ করলে মন্দ তো আমাদের পিছনে এসে হানা দিবেই, আবার যদি কোন ভাল কাজ করি তাহলে তার সুফল একা নয় দলে দলে ভোগ করার মত ঘটনাও অহরহ।

তিনি ছিলেন একজন সফল রাষ্ট্র নায়ক : মাওলানা আলী উসমান

পৃথিবীতে যত মহামানব অতিবাহিত হয়েছেন তাদের কৃতিত্ব, কর্মদক্ষতা, জ্ঞান গরিমা, শিষ্টাচার, শিক্ষা দিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুনা কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যে সব গুণাবলির ভিত্তিতে  কোনো মানবকে আদর্শ, সফল মানব হিসেবে পরিগণিত করা হয়, সেই সব গুণের নিরিখে বিশ্বের কোনো কোনো মানব কোনো কোনো দেশে কিঞ্চিৎ কিংবা আংশিকভাবে সফল হলেও তাদের কেউ-ই আদর্শ মানব হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে

সমাজ সংস্কারক মহানবী সা. : উবায়দুল হক খান

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আবির্ভাবের পূর্বে আরব সমাজের ধর্মীয়, সমাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। তখন মানবতা ছিল ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত। সেই অজ্ঞতার যুগে মানুষের ছিলনা কোন সামাজিক অধিকার। মানুষ ভুলে গিয়েছিল তাদের সৃষ্টির মহান উদ্দেশ্য। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর লেগে থাকতো যুদ্ধবিগ্রহে। তখন নারীজাতির ছিলনা কোন সামান্যতমও

যেমন ছিলেন আমাদের নবী : মাওলানা আবু হানিফা

জন্মপূর্ব ও মহানবীর শুভাগমন সায়্যিদুল মুরসালীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন, হযরত মুহাম্মদ সা. এর জীবনী মূলত ঐ বার্তাগুলোর নাম যেগুলো তিনি মানবজাতির হেদায়েতের জন্য নিয়ে এসেছিলেন এবং মানুষকে তিনি হাতে কলমে সেগুলো বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তার প্রতিটি কথা ও কাজ ইশারা ও সমর্থন এর অন্তর্ভূক্ত। যার দ্বারা তিনি মানব জীবনের চলার গতিপথকে পাল্টে দিয়েছিলেন, পুরোনা দাড়িপাল্লার জায়গায় নতুন

যেভাবে কোরাইশ বংশে বিশ্ব নবী সা. এর ঐতিহাসিক আবির্ভাব! : মোঃ আবুল খায়ের (স্বপন)

বিশ্ব জগতের একক স্রষ্টা মহান আল্লাহ তাআলার নিগুঢ় মহৎ এবং মহান ইচ্ছার বহমানতায় গোটা সৃষ্টি জগতের সর্বোত্তম, সর্ব শ্রেষ্ট এবং বিশ্ব পরিমণ্ডলের রহমতের কাণ্ডারী, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানব জাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ট উপহার হিসেবে প্রেরিত হন হযরত মোহাম্মদ সা.। হযরত মহাম্মদ সা. এমন একটি অনন্য নাম যে নাম প্রতিদিন পৃথিবীর দিগ

নবুওয়াতের শেষ সূর্যটি যেভাবে অস্তমিত হল! : মো: আবুল খায়ের (স্বপন)

পবিত্র কালামে পাকে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। যুগে যুগে পথহারা মানব জাতিকে সৎ পথে পরিচালিত করার শুভ উদ্দেশ্যে পরম করুণাময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সকল মহামানব এ ধরার বুকে তাশরীফ এনে জগতের পথভোলা, দিশেহারা মানুষজাতিকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে ইতিহাসে অমর, অক্ষয় এবং অম্লান হয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে


Hit Counter provided by Skylight