বিভাগ : সীরাতে রাসূল সা.

যিনি ছিলেন এ ধরার রহমত : মাওলানা আমীরুল ইসলাম

আমাদের প্রিয় নবী রাহমাতুল্লিল আলামীন। তিনি যে রহমত ও দয়ার মূর্ত প্রতীক ছিলেন, তা আর কোন নূতন বিষয় নয়। মহান আল্লাহ তাআলা এ মর্মে সোয়া চৌদ্দশত বৎসর পূর্বেই ঘোষণা করেছেন- আমি আপনাকে এ পৃথিবীর জন্য কেবল রহমত করে পাঠিয়েছি। [সূরা আম্বিয়া : ১০৭] দয়া ও করুনা বিনয় ও নম্রতা; আদর্শ ও আত্মত্যাগ; ভালোবাসা ও উদারতা

উত্তম চরিত্র জান্নাত প্রাপ্তির উপায় : মাওলানা আলী উসমান

মানুষ দু’টি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত। একটি দেহ, যা চোখে দেখা যায় এবং অপরটি আত্মা বা নফস, যা অন্তর্দৃষ্টি ও বিবেক দ্বারা জানা যায়। এদুয়ের প্রত্যেকটির একটি আকৃতি আছে – ভাল হোক বা মন্দ হোক। যে আত্মা বিবেকের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে, তার মর্যাদা দেহের তুলনায় বেশি। এ কারণেই আল্লাহ তাআলাও একে নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, যাতে

অনুপম চরিত্রমাধুরী : মুফতি পিয়ার মাহমুদ

সৃষ্টির উষালগ্ন থেকেই এই ধুলির ধরায় আগমন ঘটেছে অসংখ্য মহামানবের। কিন্তু পৃথিবী স্বীকার করে নিয়েছে যে সর্বকালের  সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হলেন রাসূলে আরাবি মুহাম্মাদ সা.। আর এ কথা পৃথিবীর স্বীকার না করে কোন উপায়ও ছিলনা। কারণ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা হয়েছে, ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি। [আম্বিয়া : ২১] মহামহিম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সর্বশ্রেষ্ঠ

আমিনা মায়ের কোলে

আমিনা মায়ের কোলে নিকষ কালো অন্ধকার, আঁধারে ঘিরে আছে চারদিক, কোথাও আলো নেই, নেই কোন দীপশিখা। অন্যায়, অবিচার, অনৈতিক, অসামাজিক কর্মকান্ড আর পাপাচারে ডুবে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছিল গোটা দেশ, জাতি, গোত্র, সমাজ গোষ্ঠী। গহীন অন্ধকারে ডুবেছিল মানুষ, অশান্তির সাগরে ভাসছিল জাতি। গোত্রে চলছিল মারামারি হানাহানি। হিংসা-প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছিল পুরো আরবভূমি। নিঃশেষ হয়েছিল মানবতা, বেড়েই চলছিল

রাসূল সা. এর শিশুপ্রীতি : শাকির আহমেদ শোয়েব

কবি গোলাম মোস্তফার ভাষায়- ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা, সব শিশুদের  অন্তরে। শিশু-কিশোররাই হচ্ছে জাতির আগামী দিনের কর্ণধার। একটি জাতির ভবিষ্যত নির্ধারিত হয় নেতৃত্বের ওপর ভর করে আর শিশু-কিশোররাই হচ্ছে একটি জাতির ভবিষ্যত নেতৃত্ব। তাই একটি আদর্শ জাতি বিনির্মাণে শিশু-কিশোরদেরকে আদর্শ ও নৈতিক চেতনার অধিকারীরূপে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। বিশ্বসভ্যতার অগ্রনায়ক রাসূল সা. এর জ্বলন্ত নজির

রাসুল সা. এর সিরাত মানব জাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ : মাওলানা আলী উসমান

আম্বিয়ায়ে কেরাম এবং আওলিয়ায়ে কেরামের সীরাতের পাশাপাশি সূরত নিয়ে আলোচনা করার মাঝেও রয়েছে মানব জাতির জন্য কল্যাণ এবং রহমত। স্বয়ং রাসুল সা. নিজেই মেরাজের রাতে নবীদের, কাকে কেমন দেখেছেন তার বর্ণনা সাহাবায়ে কেরামের নিকট করেছেন। উক্ত কথার প্রেক্ষাপটে মেশকাতের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার মোল্লা আলী কারী রহ. বলেন, এতে প্রতীয়মান হয় যে, পূর্ববর্তী মনীষীর গঠন প্রকৃতির বিবরণ

মোহাম্মাদ সা.-এর নবুওয়াত লাভ ও পরবর্তী আরবের অবস্থা : মাওলানা আব্দুস সাত্তার

হযরত মোহাম্মদ সা. চল্লিশ বছর যাবৎ এমন এক অভিভাবকহীন ও লাগামহীন জনসমাজে বসবাস করেছিলেন যেখানে সভ্যতা-সংস্কৃতির লেশ-মাত্র ছিল না। আর সমাজের এহেন অবস্থা হযরতের সা. কোমল হৃদয়কে ব্যথাতুর করে তুলতো। মোহাম্মদ সা. সমাজে অজ্ঞতার তিমির ব্যতীত কিছুই দেখতে পাননি। কাবায় যেতেন, দেখতেন, আল্লাহর পরিবর্তে তারা মূর্তি পূজা করছে; কাবা ত্যাগ করে সমাজে আসতেন, সেখানের অবস্থা

রাসুল সা. এর জীবনের ঘটনা প্রবাহ : হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল বাসিত

১. নবীজির জন্ম : বসন্ত কালের সোমবার তাঁর জন্ম, এ ব্যাপারে সাবাই একমত। প্রসিদ্ধমতে ১২ই রবিউল আউয়াল সুবহে সাদিকের সময় নবীজি সা.-এর জন্ম হয়েছে। কাবা শরিফের উপর আবরাহার হস্তীবাহীনির হামলার ৫০দিন পর মুতাবেক ২২এপ্রিল ৫৭১খৃষ্টাব্দ। ঐতিহাসিক তাবারী এবং ইবনে খালদুনও ১২ই রবিউল আউয়াল জন্ম বলে উল্লেখ করেছেন। সোমবার তার জন্ম এই ব্যাপারে সবাই একমত। কিন্তু

মহানবী সা. এর পবিত্র আখলাক্ব : নাজমা সুলতানা

মানবজাতির ইতিহাসে মাঝে মাঝে এমন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের আবির্ভাব ঘটে যারা ইতিহাসের গতিধারাকে পাল্টে দেন। তাঁদের মহোত্তম জীবন, চরিত্র, আদর্শ ও কর্মতৎপরতায় নতুন সভ্যতার পতন ঘটে, জ্ঞান বিজ্ঞানের নতুন অধ্যায় রচিত হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. ছিলেন এমনি একজন মহামানব। তাঁকে শুধু অন্যসব মহামানবের মত একজন মহামানব বললে যথেষ্ট হবে না। তিনি ছিলেন সর্বদিক দিয়ে দুনিয়ার

না’তে রাসুল সা. : খাদিজা আক্তার শান।

যাঁকে সৃষ্টি করা না হলে বিশ্বের কিছুই সৃষ্টি করা হতো না সেই শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি, বিশ্বের গৌরব, মানবের জন্য কল্যাণ স্বরূপ শেষ যুগের আদর্শ মহা পুরুষ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সা. তাঁর সুপারিশ ও সমর্থন পেয়েছেন। তিনি মহা সম্মানিত, বিদ্যা বন্টনকারী, সুন্দর দেহবিশিষ্ট উত্তম চরিত্রের নবী। কবি বলেন- “বালাগাল উলা বি-কামালিহী কাশাফাদদোজা বি-জামালিহী। হাসুনাত জামিউ

উন্নত চরিত্র গঠনে রাসুল সা. এর আদর্শ : মাওলানা আবদুল্লাহ ফাহাদ

 রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ থেকে আমরা বহু দূরে। অথচ সিরাতুন্নবীই হলো এই উম্মতের একমাত্র আদর্শ। যে আদর্শ হলো পরশপাথর, যার পরশে মাটি হয় সোনা। যে আদর্শ ধারণ করে সাধারণ মানুষ হয় সর্বোৎকৃষ্ট মানব। যে আদর্শ চর্চার যুগ হয় ইতিহাসের সোনালি যুগ। আর সত্যিকারের মানুষ হওয়ার জন্য এই আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। অতএব নির্দিষ্ট দিন,

মহানবী সা.-এর জীবনের শেষ দিনগুলো : মুফতি পিয়ার মাহমুদ

  একাদশ হিজরী ২৮ সফর বুধবার দিবাগত রাত। কি হয়েছিল সে রাতে? রাসুলুল্লাহ সা. এর আযাদকৃত গোলাম আবু মুসাইহাবা রা. বলেন, সে রাতে রাসুলুল্লাহ সা. আমাকে জাগ্রত করলেন এবং বললেন, বাকীয়ে গারকাদ কবরবাসীর জন্য মাগফিরাতের দুআ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি। তুমি চল আমার সাথে। আমরা গোরস্থানে গেলাম। তিনি কবরবাসীদের সালাম দিয়ে বললেন, হে কবরবাসী!

সভ্যতার বিনির্মাণে মোহাম্মদ সা. : আব্দুল্লাহ্ আল মেহেদী

     মোহাম্মদ সা. কে যে মক্কাবাসীরা প্রথমে নবী হিসেবে মেনে নিতে পারেনি তার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল, মোহাম্মদ সা.-এর মানুষি-অবয়ব ও নবুয়াত, একাধারে এ দু’টি বিষয় তাদের কাছে মনে হয়েছিল পরস্পরবিরোধী। তারা ধারণা করত, আল্লাহ যদি সর্বমানবের কল্যাণার্থে সত্যের বার্তাবহ কোনো নবীই পাঠাবেন, সেই নবী হবেন কোনো ফেরেশতা। আর যদি আল্লাহ কোনো মানুষকেই নবী হিসেবে

মানবাধিকার ও হযরত মুহাম্মদ সা. : আবদুল খালেক

    ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সা. হলেন কালজয়ী জীবন ব্যবস্থা ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক। যেহেতু ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান তাই স্বাভাবিক ভাবে মানবাধিকারের বিষয়টি ইসলামের অন্তর্ভূক্ত। জনগুরুত্বপূর্ণ  মানবাধিকারের মত সংবেদনশীল একটি বিষয় সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী, আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর ভূমিকা ও অবদান

কীভাবে আমরা রাসুলুল্লাহ সা.কে ভালোবাসব? : মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী

 মুমিন মাত্রই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বত পোষণ করে। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বত রাখা ঈমানের এক অপরিহার্য অংশ। পরম শ্রদ্ধা, গভীর ভালোবাসা আর বিপুল মমতার এক চমৎকার সংমিশ্রণের সমন্বিত রূপ হচ্ছে ‘মহব্বত’ নামের এ আরবী অভিব্যক্তিটি। ঈমানের আলোকে আলোকিত প্রত্যেক মুমিনের হৃদয় আলোড়িত হয়, শিহরিত হয়, মনে আনন্দের বীনা বাজতে থাকে

বিদায় হজ্জের ভাষণ : সাম্য মৈত্রি ও ভ্রাতিৃত্বের আহ্বান : মাওলানা গোলাম মোস্তফা

বিদায় হজ্জের ভাষণের পূর্ণরূপ সংরক্ষিত নেই। বুখারি শরিফে কিছু অংশ পাওয়া যায় যা নির্ভরযোগ্য সূত্র বিবেচনায় উদ্ধৃত হয়ে থাকে। আর কিছু অংশ মুসনাদে আহমাদ গ্রন্থে পাওয়া যায়। ভাষণের সারমর্ম তেরটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর উদ্ধৃত হয়েছে। যার আলোচনা নিম্নে করা হলো। জীবন সায়াহ্নের ইঙ্গিত “হে লোকেরা! আমার কথাগুলো মনোযোগসহ শ্রবণ করো। আমার মনে হয়, এরপর আর

রাসুল সা. এর বিস্ময়কর মুজিজাসমূহ

জাকির হোসাইন আজাদি : রাসুল সা. ছিলেন সর্বকালের সকল মানবতার জন্য শ্রেষ্ঠ পয়গম্বর। তাঁর ওপর যে ধর্ম আল ইসলাম দান করা হয়েছে তা কেয়ামত পর্যন্ত অনুকরণীয়, অনুসরণীয় হিসেবে টিকে থাকবে। কেয়ামত অবধি যত মানুষ পৃথিবীতে আসবেন সবাই রাসুল সা. এর আদর্শ মোতাবেক জীবন যাপন করবেন। এটাই নির্ধারিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা’আলা মুহাম্মদকে সা. দান করেছেন বিশ্বের

সমাজের মানুষের সাথে প্রিয় নবীজি সা.

মাওলানা শিব্বীর আহমদ : সমাজের মানুষ ছিলেন প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সামাজিকতার সবগুণই বিদ্যমান ছিল তাঁর চরিত্রে। তিনি আল্লাহর নবী, এবং সর্বশেষ নবী। এদিক থেকে তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই। কিন্তু তাই বলে তিনি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে কিংবা সাধারণ মানুষ থেকে কোনো দুরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করেননি কখনো। ছোট-বড় ধনী-গরিব কেউ তাঁকে পর মনে করার সুযোগ

মানবতার গৌরবমহানবী সা.

খন্দকার মনসুর আহমদ : মহান আল্লাহ তা‘আলা চন্দ্র, সূর্য, জমিন আসমান যেমন পৃথিবীতে মানব সৃষ্টির পূর্বেই নির্মাণ করে রেখেছেন, তেমনিভাবে মানবতার মুক্তি ও হেদায়াতের প্রতীক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও সকল মানব সৃষ্টির পূর্বেই সৃষ্টি করে রেখেছিলেন। একটি হাদীসে তার প্রমাণ মেলে। হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত : ‘লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রসূলাল্লাহ

ইসলামের সোনালী যুগ আদর্শ রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র প্রধানের নমুনা

আবদুল্লাহ মুকাররম : সৃষ্টিগতভাবেই মানুষ সামাজিক জীব। মানব জীবনে একাকিত্ব অকল্পনীয়। ইসলাম স্বভাবজাত সার্বজনীন ধর্ম হিসেবে তাতে সবার জন্য সর্বাবস্থার সর্বোত্তম সমাধান বিদ্যমান। ব্যক্তি জীবন থেকে নিয়ে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনের সব সমস্যার সমাধান তাতে রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, “তোমাদের জন্য রসূল সা.-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (আহযাব-২১)। মানুষের জান, মাল ও মান-মর্যাদার নিরাপত্তা

সাহাবায়ে কিরামের রাসূল-প্রেম হৃদয়ছোঁয়া কয়েকটি দৃষ্টান্ত

  যোবায়ের বিন জাহিদ : মানুষের প্রতি রয়েছে মানুষের ভালোবাসা। এটাই প্রকৃতির নিয়ম, মনুষ্যত্বের দাবি। কিন্তু প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর সাহাবীগণের যে ভালোবাসা ছিলো, সত্যিই তা পবিত্র ও অতুলনীয়। পৃথিবীর ইতিহাসে তার কোন নজীর খোঁজে পাওয়া যায় না। অতুলনীয় সেই ভালোবাসার হৃদয়ছোঁয়া কয়েকটি দৃষ্টান্ত নিয়েই আমার আজকের আলোচনা। এক. ইসলামের সূচনালগ্নের কথা। তখন


Hit Counter provided by Skylight