বিভাগ : সীরাতে রাসূল সা.

সুখি দাম্পত্য জীবন গড়তে রাসূল সা. এর আদর্শ / ড. মুফতী আবদুল মুকীত আযহারী

বিবাহে সচ্ছলতা বিবাহ করা ও করানো মুসলমানের জন্য একটি কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত (পুরুষ হোক বা নারী) তাদেরকে বিবাহ করিয়ে দাও এবং তোমাদের মধ্যে দাসদাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও (বিবাহ করিয়ে দাও)। যদি তারা অভাবী হয় আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী বানিয়ে দেবেন।  অন্য এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল বলেন, যে

বিবাহের ক্ষেত্রে রাসূল সা.-এর উত্তম আদর্শ / ড. মুফতী আবদুল মুকীত আযহারী

বিবাহ নবীগণের সুন্নাত শিশু অধিকারের সপ্তম অধিকার হলো : শিশু বড় হলে তাকে বিয়ে দেয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত (পুরুষ হোক না নারী) তাদেরকে বিবাহ করিয়ে দাও এবং তোমারেদ মধ্যে দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও (বিবাহ করিয়ে দাও)। যদি তারা অভাবী হয় আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী বানিয়ে দেবেন।১

রাসূল সা. উত্তম আদর্শ ও আমাদের অবস্থা : জাতিসংঘের যুদ্ধনীতি জেনেভা কনভেনশন ও রাসূল সা. এর যুদ্ধনীতি / ড. মুফতী আবদুল মুকীত আযহারী

  ১৯০৮ সালে হেগ কনভেশনে সমঝোতাচুক্তির খসড়ার আলোকে ১২ আগস্ট ১৯৪৯ সালে জেনেভা কনভেনশনে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সম্পদিত চুক্তি মূলত জাতিসংঘের যুদ্ধনীতি। এর পূর্বে মানুষের যুদ্ধনীতি সম্পর্কে কোন ধারণা ছিল না। মূলত যুদ্ধ সম্পর্কে কোন নীতিই ছিল না। সেই জেনেভা কনভেনশনের সম্পাদিত যুদ্ধনীতিতে সূত্র অর্থাৎ কোথা থেকে এ নীতিগুলো গ্রহণ করা হয়েছে তার বিবরণ থেকে দেখা

রাসূল সা. উত্তম আদর্শ ও আমাদের অবস্থা : রাসূল সা.-এর মানবতাবাদ ও কল্যাণ কামনা এবং আমরা / ড. মুফতী আবদুল মুকীত আযহারী

রাসূল সা. মানবতাবাদী ছিলেন ও সর্বদা মানুষের কল্যাণ কামনা করতেন। কাদিসিয়ায় একবার হযরত সাহল বিন হানীফ ও কাইস বিন সা’দ রা. বসা ছিলেন। তাঁদের সামনে থেকে একটা লাশ নিয়ে যাওয়া হলে তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তাঁদেরকে বলা হল যে, এটা একজন কর প্রদানকারী বিধর্মীর লাশ। তাঁরা বললেন, রাসূল সা. একবার সাহাবাগণের সাথে বসা ছিলেন। তখন একটা

রাসূল সা. উত্তম আদর্শ ও আমাদের অবস্থা রাসূল সা.-এর ক্ষমা ও ইসলাম বিরোধীদের অপপ্রচার /

রাসূল সা. সর্বদা ক্ষমা করে দিতেন। কারো কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না। এক গ্রাম্য  লোক রাসূল সা.-কে হত্যা করতে উদ্যত হয়। সে রাসূল সা.-এর কাছে খোলা তরবারি নিয়ে এসে বলে, তোমাকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে? রাসূল সা. বললেন, আল্লাহ। সে গ্রাম্য ব্যক্তির হাত থেকে তরবারি পড়ে গেলে রাসূল সা. তা তুলে নিয়ে বললেন,

রাসূল সা.-এর উত্তম আদর্শ ও আমাদের অবস্থা : অন্যায় প্রতিরোধে রাসূল সা. / ড. আবদুল মুকীত আযহারী

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি আল্লাহর দয়ায় তাদের জন্য নরম হয়েছেন। যদি আপনি কর্কশ ও কঠিন মনের হতেন তবে তারা আপনার পাশ থেকে সরে যেত। অতএব আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন ও তাদের সাথে বিষয় নিয়ে পরামর্শ করুন। যখন আপনি সিদ্ধান্ত নেন তখন আল্লাহর উপর ভরসা করুন।’ [সূরা আলে ইমরান : আয়াত

ব্যক্তি জীবনে রাসূল সা. ও আমরা : ড. মুফতি আব্দুল মুকিত

jashn_e_eid_milad_un_nabi_01_by_sheikhnaveed-d38ebik

তাওরাত ও কুরআনের মধ্যে উল্লেখ আছে যে, রাসূল সা. এর অন্যতম একটি গুণ ছিল, তিনি মন্দকে মন্দ উপায়ে দমন করতেন না। [বোখারি: ২১২৫] আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনি ক্ষমা আকড়ে ধরুন, ভাল কাজের আদেশ করুন এবং মূর্খদের কাছ থেকে বিরত থাকুন (তারা কি বলে বা কি তিরস্কার করে তার প্রতি কর্ণপাত করবেন না)।[সূরা আরাফ : ১৯৯]

ক্ষমা ও উদারতা এনে দিতে পারে বিজয় ও সফলতা : আলী হাসান উসামা

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

প্রতিনিয়ত ডুবে আছি আমরা গুনাহের অথৈ সাগরে। নিজের ওপরে করেছি শত অবিচার। হৃদয়াকাশ হয়ে গেছে ঘন কালো। তবুও মহামহিম আল্লাহ ধ্বসিয়ে দেননি আমাদেরকে ভূমিতলে। কিংবা করেননি আকাশ থেকে পাথরবর্ষণ। উল্টো সাহস যুগিয়েছেন। নিরাশ হতে বারণ করেছেন। নির্দেশ দিয়েছেন গুনাহ পরিত্যাগের, হেদায়াতের দীপ্ত পথ অবলম্বনের। বলেছেন, “হে আমার বান্দারা, যারা অবিচার করেছো নিজের ওপরে, নিরাশ হয়ো

বিশ্বনবীর আদর্শ ও আমাদের প্রাত্যহিক জীবন : মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম

jashn_e_eid_milad_un_nabi_01_by_sheikhnaveed-d38ebik

উভয় জাহানের সর্দার, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বৃদ্ধকাল এবং তার কথা কাজ ও ইবাদত বন্দেগি এবং আকীদা বিশ্বাস মোটকথা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের নাম সিরাত বা চরিত্র। ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞান রাখেন এমন কোন মুসলমানের এ কথা অজানা নয় যে, মানুষের জন্য নবী কারীম সা. এর জীবনীতে

হাদীসের গল্প : নবীর আদর্শ -মুনতাসির বিল্লাহ যশোরী

selectepost

মক্কা বিজয় হয়েছে, এখন মক্কার আকাশে ইসলামের পতাকা পত পত করে উড়ছে। সবাই মনের আনন্দে মূর্তিগুলো কাবা ঘর থেকে বাইরে নিক্ষেপ করছে আর ঘোড়ার পায়ের তলে পিষ্ট হচ্ছে মূর্তিগুলো; কিন্তু তখনো নবী কারীম সা. এর রাগ কমেনি। তিনি মক্কার চিহ্নিত কয়েকজনের প্রতি হত্যার ঘোষণা দিলেন যে, যেখানেই পাও সেখানেই হত্যা করবে তাদেরকে। তার মধ্যে একজন

আ. মুত্তালিবের স্বপ্ন যমযমের আত্মপ্রকাশ : তাবাস্সুম বিনতে মুজিবুর রহমান

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

সবে মাত্র মক্কার শাসনভার ও নেতৃত্ব আব্দুল মুত্তালিবের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রকার্য নিয়ে আব্দুল মুত্তালিব পুরোদমে ব্যস্ত। কারণ মক্কার মত একটা জায়গার সব কাজ আনজাম দিতে হচ্ছে তার।  আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তখন ইচ্ছা করলেন, আমার হাবীব মুহাম্মদ সা. এর দাদার মাধ্যমে আমি ঐতিহাসিক একটি কাজ আনজাম দিব।  দীর্ঘ সময় ধরে নিশানা বিলুপ্ত অনাবাদী যমযম কূপের

নবীজির শিক্ষা : নবীজির যৌবন যুবকদের প্রেসক্রিপশন -মো. জসীমুদ্দীন

selectepost

মানুষের জীবন স্রোতবাহী নদীর মত। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অনবরত বইতে থাকে। তার বয়ে যাওয়া শেষ হয় যখন তার জীবনে সন্ধ্যা নেমে আসে। জীবন প্রবাহ জীবনের বিভিন্ন ভাগে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রবাহিত হয়। মানুষের শৈশব থাকে, থাকে যৌবন ও বার্ধক্য। এই সময়গুলোর আবেগ ও অনুভূতি এক নয়, ভিন্ন ভিন্ন। শৈশব ও কৈশরে হৃদয়ে যে স্বচ্ছ

নবীজির ১১ বিবাহ যুক্তিসঙ্গত কেন ? সয়ৈদা সুফয়িা খাতুন

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

আজকাল কিছু কিছু ধর্মদ্রোহী নারী পুরুষ যুক্তি ও অনুসন্ধানের আশ্রয় না নিয়েই ধর্মকে বিশেষ করে ইসলামকে টার্গেট করে এর ত্র“টি বিচ্যুতি আবিষ্কারে লিপ্ত রয়েছে। ইসলামের বিধি বিধান সম্বন্ধে মন্তব্য করার জন্য যে পরিমাণ তথ্য জ্ঞানের প্রয়োজন তা ঐ সব সমালোচকদের মধ্যে নেই। অবশ্য নাটক উপন্যাস লিখতে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু কোন নীতি বা

সীরাতুন্নবীর আলোয় আলোকিত হোক আমাদের জীবন : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

মহানবীর সা. ব্যক্তিত্ব কোন সাধারণ ব্যক্তিত্ব নয়; বরং তা এক অনুপম আদর্শ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। যে অনুপম আদর্শ ব্যক্তি জীবন, সামাজিক জীবন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলসহ সকল ক্ষেত্রেই পরিব্যপ্ত। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক বিষ্ময়কর মহা-মানবের সন্ধান পাওয়া যায় যাদের চিন্তা-চেতনা ও দর্শন সারা বিশ্বে বিষ্ময়করভাবে বিস্তার লাভ করেছে এবং তাদের সুমহান আদর্শ ও কৃতিত্বের কারণে মানুষ আজও

যেভাবে কোরাইশ বংশে বিশ্ব নবী সা. এর ঐতিহাসিক আবির্ভাব! : মোঃ আবুল খায়ের (স্বপন)

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

বিশ্ব জগতের একক স্রষ্টা মহান আল্লাহ তাআলার নিগুঢ় মহৎ এবং মহান ইচ্ছার বহমানতায় গোটা সৃষ্টি জগতের সর্বোত্তম, সর্ব শ্রেষ্ট এবং বিশ্ব পরিমণ্ডলের রহমতের কাণ্ডারী, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানব জাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ট উপহার হিসেবে প্রেরিত হন হযরত মোহাম্মদ সা.। হযরত মহাম্মদ সা. এমন একটি অনন্য নাম যে নাম প্রতিদিন পৃথিবীর দিগ

নবুওয়াতের শেষ সূর্যটি যেভাবে অস্তমিত হল! : মো: আবুল খায়ের (স্বপন)

selectepost

পবিত্র কালামে পাকে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। যুগে যুগে পথহারা মানব জাতিকে সৎ পথে পরিচালিত করার শুভ উদ্দেশ্যে পরম করুণাময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সকল মহামানব এ ধরার বুকে তাশরীফ এনে জগতের পথভোলা, দিশেহারা মানুষজাতিকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে ইতিহাসে অমর, অক্ষয় এবং অম্লান হয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে

মহানবী সা.-এর বহু বিবাহ হৃদ্যতা ও প্রজ্ঞার দীপ্ত বহিঃপ্রকাশ : আলী হাসান উসামা

selectepost

এক ইসলামপূর্ব যুগে পৃথিবীর সর্বত্র একাধিক বিবাহের প্রচলন ছিলো ব্যাপকভাবে। কোনো সভ্যতাই একে  দোষণীয় জ্ঞান করতো না ; বরং তা ছিলো ব্যক্তির বীরত্বের প্রতীক। ফলে যার ব্যত্যয় ঘটেনি যুগ শ্রেষ্ঠ নবীগণের ক্ষেত্রেও। বাইবেলে বর্ণিত হয়েছে, “সোলায়মান আ.-এর সাতশো স্ত্রী ছিলো, যারা ছিলো রাজপরিবারের মেয়ে; এছাড়া তার তিনশো উপস্ত্রী তথা দাসী ছিলো।” [বাদশাহনামা-১১/৪] দাউদ আ. -এর

রাসূল সা.-এর সুন্নাতের ফযীলত : আব্দুল্লাহ মো. যায়েদ

Neyamot

মানব জীবনের ইহকালীন ও পরকালীন সাফল্য রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ ও অনুসরণের মধ্যে নিহিত রয়েছে। তাই আমরা যাদি সকলেই সকল কাজে রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুকরণ অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের ইহকাল ও পরকালে সফলতা আসবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফে এরশাদ করেন- হে নবী! আপনি বলুন, “তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। যাতে

মদীনা তায়্যিবা : মর্যাদাপূর্ণ এক বরকতময় নগরী : যোবায়ের বিন জাহিদ

_004

মদীনা তায়্যিবা, কী পবিত্র, কী সুন্দর একটি নাম! শোনামাত্রই হৃদয়ের আয়নায় ভেসে উঠে এক শান্তিপূর্ণ নগরীর ছবি। অনির্বচনীয় আনন্দে এক অপূর্ব হিল্লোল দোল খেয়ে যায় হৃদয়তন্ত্রীতে। প্রেম, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধে ভরে যায় মন। আবেগের উচ্ছ্বাসে যেন হারিয়ে যাই কল্পনার রাজ্যে। কল্পপাখায় ভর করে হলেও যেন মন যেতে চায় পবিত্র সে ভূখন্ডে। স্বপ্নের সেই নগরীতে। প্রতিটি

মহানবী হযরত মোহাম্মদ সা. মানবতার মুক্তির অগ্রদূত : এস.এম. ইকবাল হোসেন

islamic-wallpaper-for-desktop

বিশ্ব যখন পারস্য ও রোমান দু’পরাশক্তির করতলগত ছিল। অমনিতর এক হতাশা ও অবক্ষয় নেমে এসেছিল আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে। খুন, রাহাযানি, সন্ত্রাস, জুয়া, মূর্তি পূজা ছিল নৈমিত্তিক ঘটনা। শরাব ও ব্যভিচারে ছিল যারা আসক্ত। এমনকি মেয়েদের জীবন্ত কবরও দেয়া হত। যেন মানবতার লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই। পাশবিকতায় যেন পশুও পরাজিত। এটা এমন অন্ধকার, যখন

হযরত দাউদ আ. : মাওলানা যুবাইর আহমদ

najaf

আল্লাহ তার মাঝে নবুওয়াত ও রাজত্বের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। আল্লাহ তাকে প্রজ্ঞা ও বাকপটুতা দান করেছিলেন। তিনি এমন নবী ছিলেন, যার সাথে পাখ-পাখালী, পাহাড়, পর্বত তাসবীহ পাঠ করত। চিরবিরল এক কণ্ঠস্বর আল্লাহ তাকে দান করেছিলে। শয়তান জালুতকে হত্যা করার জন্য আল্লাহ তাকে বনী ইসরাঈল সম্প্রদায় থেকে নবী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। ফলে সে দাউদ আ. এর


Hit Counter provided by Skylight