বিভাগ : রম্য গল্প

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

পূর্ব প্রকাশিতের পর…… পির আলী : এমন মুর্খ মুছল্লীর কথা শুনিলে মানুষের জ্ঞান বিবেক কি স্থির থাকতে পারে? শয়তান : হুজুর আসল ঘটনা তো এখনও বলিতে পারি নাই এই শুনুন মুছল্লী সাহেবের বাকী কাহিনী। ইনি হালাল হারামের খুব বিচার করিয়া চলেন। তাই মরা মাছ কখনও খান না। জীবিত মাছ সর্বদা জবেহ করিয়া খাইয়া থাকেন। নিজ

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

পির-আলী- পূর্বযুগে মানুষের মনুষ্যত্ববোধই কম ছিল, তাই ধর্মবোধ আর কতদুর থাকিবে। তবে এই প্রগতির যুগে যদি হইতে তাহা হইলে অমন একটি সাধারণ মানুষের নিকট কেহই মাথা নত করিত না। শয়তান- হুজুর! আমি একজন বৃদ্ধ বটে তবুও আপনার কথায় না হাসিয়া পারিলাম না। এই প্রগতির যুগে কেহ নমরূদকে প্রভু বলিয়া স্বীকার করিত না। একথা সত্যি। কিন্তু

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

পূর্ব প্রকাশিতের পর…… [পির আলী- একজন আলেম, মাগরিব নামায অন্তে তিনি শয়তানের সংগে কথা বলিতেছিলেন।] পির আলী- কখন আসিয়াছ? শয়তান- তাহা টের পান নাই, হুজুর? পির আলী- না ত! এতক্ষণ পর্যন্ত তেমন কিছুই টের পাই নাই। শয়তান-  হুজুর! আপনার ‘আলাম তারায়’ যখন পহেলা পেচ বাঁধে তখন আসিয়া আমি আপনার মোক্তাদি হইয়াছি। পির আলী- তবে কি

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

পূর্ব প্রকাশিতের পর… পির আলী- খোরাছানী দরবেশ নাকি একজন আলেম। তাহা সত্তেও সে এত অবুঝ হইল কি করিয়া? শয়তান- হুজুর! আলেমদের মধ্যে এরকম লোক আজও ভুরি ভুরি আছেন। কয়টি শুনিবেন? অনেক আলেম আছেন যাহারা এখন বিশ্বাস করেন যে, পৃথিবী সূর্য্য অপেক্ষা অনেক বড় এবং উহা সর্বদা স্থির থাকে ও সূর্য্য উহার চতুঃপার্শ্বে প্রদক্ষিণ করিতেছে। অনেকে

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

পূর্ব প্রকাশিতের পর.. হুজুর, এই সমস্ত দলের সকল লোক কুরআন ও হাদীসের দোহাই দিয়া চলে, অতএব ইহাদের একটি হাদীস আনিয়া যদি আপনার সম্মুখে ধরিতাম তাহা হইলে আর অন্য কোন দাওয়ার প্রয়োজন হইত না। তাই বিশ্বাস করুন আপনাকে বিভ্রান্ত করিবার জন্য এবার কোন চেষ্টাই করি নাই। আগামীতেও করিব না। তবে যদি আপনি নিজে নিজে আমার বড়শী

শয়তানের ডায়েরি

পূর্ব প্রকাশিতের পর…… পির আলী- তোর বংশের ইতিহাস শুনিয়া অবাক হইলাম। ইহার প্রতিটি বাক্যে শরীর শিহরিয়া উঠে। তোর পিছনে যে এত বড় ও ভয়াবহ ইতিহাস রহিয়াছে তাহা কখনও ধারণা করি নাই। এই আশ্চর্য্যজনক ইতিহাস না বলিয়া এতক্ষণ খুটিনাটি বিষয় আলোচনা করিয়া সময় নষ্ট করিয়াছ কেন? শয়তান- হুজুর! আমার সংক্ষিপ্ত নছবনামা শুনিয়া অবাক হইয়াছেন? তবে আমার

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

পির আলী- তোর পিতা-মাতা ও পুত্রের কথা শুনিয়া কেমন যেন লাগিতেছে। কারণ ইতিপূর্বে আমার ধারণা ছিল অন্যরূপ। শয়তান- হুজুর! মানুষে আমার ও আমার বংশের ইতিহাস না জানিয়া অনেক সময় যা ইচ্ছা মন্তব্য করিয়া বসে। অনেকে মনে করে আমি ফেরেস্তাদের বংশধর। অনেকে মনে করে আমার স্ত্রী পুত্র কিছুই নাই, আবার অনেকে ভাবে নাউজুবিল্লাহ আমার কোন পিতামাতা

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা [কাফেলা- ০০৭]

পূর্ব প্রকাশিতের পর…… পির আলী- তোর এই গুণবাচক ও সম্মানসূচক নামগুলির বিশেষত্ব ও মহ্ত্বা শুনিতে পারি? শয়তান- তাহা শুনিতে পারেন। তবে সমস্ত নামের বিশেষত্ব বর্ণনা করিতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন হইবে। তাই প্রসিদ্ধ কায়েকটি নামের বিশেষত্ব ও মহত্ব মোখতাছার ভাবে বর্ণনা করিতেছি। “ইবলিস”- এই নামটি আল্লাহ তাআলার নিজ প্রদত্ত নাম। এই নাম দ্বারা আল্লাহ তাআলা

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

পূর্ব প্রকাশিতের পর…… মাওলানা সাহেব রাগান্বিত হইয়া বলিলেন-বেটা তুমি কি নিজেও দোযখে যাইতে চাও? এবং আমাকেও নিতে চাও? না হইলে একটি অবলা নারীকে জোর পূর্বক তালাক দিতে বল কোন জ্ঞানে? কথাটি একটু নিগুঢ়ভাবে চিন্তা করিয়া দেখ। আমি তোমার হিতের জন্যই বলিতেছি যে, এ নারীটির প্রতি আর মহব্বত না করিয়া অন্যত্র আর একটি নেকাহ কর। বুঝি

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা [কাফেলা- ০০৭]

পির আলী- আচ্ছা, আল্লাহ তাআলা হজরত মুছা আ. কে এইরূপ কঠিন জালালী মেজাজ দিয়া কেন তৈরি করিলেন? শয়তান- হুযুর! হজরত মুছাকে এইরূপ মেজাজ দিয়া সৃষ্টি করার মূল কারণটি অতি রহস্যজনক, তাহা আপনাকে পরে বলিতেছি। উহার পূর্বে প্রকাশ্য কারণের কথা শুনুন। হুযুর! দুনিয়ায় আল্লাহ তাআলা দেশ কালও পরিস্থিতি অনুসারে যথাযোগ্য নবী প্রেরণ করিয়া থাকেন। তাহা যদি

শিক্ষনীয় গল্প: ফরীদুন বাদশাহর বালাখানার উপর খোদাইকৃত ছিল , গল্প থেকে শিক্ষা : আলতামাশ বাদশাহর ঘটনা

শিক্ষনীয় গল্প ফরীদুন বাদশাহর বালাখানার উপর খোদাইকৃত ছিল- হে ভাই! পৃথিবী কারো জন্য চিরস্থায়ী বাসবাসের জায়গা নয়, এখানে সকলেই মুসাফির। অতএব, তোমার অন্তর সৃষ্টিকর্তার প্রতি নিবদ্ধ কর এবং তা যথেষ্ট অনুধাবন কর। এ সুন্দর পৃথিবীর বুকে কোন কিছুর ভরসা করো না। কেননা প্রাণ যখন চলে যাবার জন্য প্রস্তুত হবে, তখন বালাখানায় মৃত্যু হওয়া আর মাটিতে

শয়তানের ডায়েরি : (মোছাঃ উম্মে হাবিবা)

পির আলী- আচ্ছালামু আলাইকুম না বলিয়া আচ্ছামু আলাইকুম বলার অর্থ কি? শয়তান- হুজুর! আচ্ছালামু আলাইকুম অর্থ হইল তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হউক। আর আচ্ছামু আলাইকুম অর্থ হইল তোমাদের ওপর ধ্বংস নিপতিত হউক। হযরত মুছার মুখে ঐ ধরণের নিন্দাজনক কথা শুনিয়া ছালাম দিতে আর মনে চাইল না। তাই ঐ ভাবে বলিয়া বিদায় হইয়াছি। আরব দেশে উক্ত

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

পির আল- আরে! নবীকে আল্লাহ তাআলা ছারে জাহান হেদায়েত করার উদ্দেশ্যে প্রেরণ করিয়া এখন কি তাহার বিরুদ্ধে তোকে সাহায্য করিলেন? তাহা কখনই হইতে পারে না; কারণ নবী হইল তাঁহার দোস্ত এবং শয়তান হইল তাঁহার দুশমন। দোস্তকে অপমান করিয়া দুশমনকে সাহায্য করা আল্লাহ তাআলার শান নহে। শয়তান- হুজুর! আপনি একজন বিশিষ্ট আলেম হইয়া একটি ভুল উক্তি

জান্নাতি কাফেলা : এক আল্লাহভীরু মাদরাসা ছাত্র!যা বর্তমানে পাওয়া বিরল!

   এক ছিল এক কওমী ছাত্র অর্থাৎ তালেবে ইলম। সে পড়ত দিল্লীর এক মাদ্রাসায়। কিন্তু রাত কাটাত পাশে এক মসজিদে। একবার মসজিদের নিকটবর্তী মহল্লার এক মেয়ে তার কোনো আতœীয়ের কাছে কোন কারণে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে শুরু হল  সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, শুরু হল মারামারি। পরিস্থিতি বেসামাল দেখে মেয়েটি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নিল। মসজিদে তখন

জান্নাতি কাফেলা : একটি শিক্ষণীয় গল্প , এক খেয়ানতকারী ও ইমাম হুসাইন রা. এর বিচারকার্য ,

al-jannatbd.com, আল জান্নাত । মাসিক ইসলামি ম্যাগাজিন, al-jannatbd.com, quraner alo, মাসিক জান্নাত, islamer alo, www.al-jannatbd.com, al-jannat, bangla islamic magazine, bd islam, islamic magazine bd, ব্লগে জান্নাত, জান্নাতের পথ, আল জান্নাত,

একটি শিক্ষণীয়  গল্প    একদিন এক কৃষকের গাধা গভীর কুয়ায় পড়ে গেলো। গাধাটা করুণ সুরে কেঁদে কৃষকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাতে লাগলো। কৃষক ভাবলো, যেহেতু গাধাটা বৃদ্ধ হয়ে গেছে, কাজেই একে উদ্ধারের ঝামেলায় না গিয়ে মাটি ফেলে কুয়ার মাঝেই কবর দিয়ে ফেললেই ল্যাঠা চুকে যায়। কাজেই কৃষক শাবল দিয়ে মাটি ফেলতে লাগলো গাধার ওপর। প্রথমে

একাকিত্বের দুঃস্বপ্ন : নূরে ইয়াসমিন ফাতেমা

ফাগুনের রাতটা যেন আজ বেশি বড় মনে হচ্ছে। দক্ষিণের বাতাসটা এলো মেলো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে রুমের চার কোনায়। নীল পর্দাটাকে ভেদ করে একফালি চাঁদের আলো আছড়ে পড়েছে মাহমুদার বালিশের উপর। রাত কত হবে, আধো আন্ধারে ওয়ালঘড়িটাও দেখা যাচ্ছে না। তবে রাতের দ্বীপ্রহর পেড়িয়ে যাচ্ছে সেটা মোটামুটি সঠিক। একটু খাটের উপর বসে থেকে আবার শুয়ে পড়লেন

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

পির আলী- না, ইজ্জত হারাইতে বলিনা। তবে এত বড় একটা ব্যাপারে ইজ্জত নষ্ট  হইলে ছোট কার্যে ইজ্জত বাঁচিবে কি করিয়া বুঝি না। শয়তান- হুজুর। বেজার হইবেন না, অপরাধ ক্ষমা করবেন। ব্যাপারটি দেশীয় উদাহরণ দ্বারাও উপলদ্ধি করা যায় যে, একজন সাধারণ লোককে যদি আমি কায়েদে আজম অথবা গান্ধীজী বলিয়া ডাক দেই তবে বাস্তবিক কায়েদে আজম অথবা

শয়তানের ডায়েরি

পূর্ব প্রকাশিতের পর…… পির আলী- আচ্ছা আমাদের দেশে কতক ফকির আছে তাহারা নামাজ পড়ে না, শুধু জিকির আজকার করে আর বলে যে- “আমরা দেলে দেলে নামাজ পড়ি।” এই ধরণের ফকিরদিগকে কি বে-নামাজীর অন্তর্ভুক্ত মনে কর? শয়তান- হুজুর! এই সমস্ত জানা কথা নিয়া আলোচনা করিয়া যদি সময় নষ্ট করেন তবে ডায়েরীর আসল কথা শুনিবেন কখন? পির

শয়তানের ডায়েরি

মোছাঃ উম্মে হাবিবা : পূর্ব প্রকাশিতের পর…… পির আলী- বে-নামাজীর জন্য দোয়া করি, আল্লাহ তাহাদিগকে নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন। শয়তান- হুজুর! আপনার নিকট দোয়া চাহিয়া আরো সর্ব্বনাশ করিলাম নাকি জানিনা। যাহা হউক তবুও কিতাবের কথার উপর ভরসা আছে যে বড় পাপীদের জন্য দোয়া করিলে নাকি আল্লাহ কবুল করেন না উপরন্তু দোয়াকারী আরো কৈফিয়াতে পড়েন।

ধারাবাহিক উপন্যাস : রাজকুমারী

সাদেক হোসেন পূর্ব প্রকাশিতের পর…… পরমদেব ও শিকদেব-এর নিকট মহারাজার এই জবাব অপছন্দনীয় হলেও এখন মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ, সোমনাথ রক্ষার জন্য এখন লাখ-লাখ যোদ্ধা সেখানে ইপস্থিত। তাই সোমনাথের মহারাজার শক্তি এখন অনেক বেশি। কিছুতেই এখন তাকে কাবু করা যাবে না। রাজকুমুমারী চন্দ্রমুখী অত্যন্ত রূপসী। শুধু এ-কারণেই রাজা পরমদেব রাজকুমারীর সঙ্গে তার

শয়তানের ডায়েরি

মোছাঃ উম্মে হাবিবা : পির আলী- বে-নামাজীকে এত ভাল জান কেন? এবং তাহাদের জন্য এত দোয়াই বা কর কেন? শয়তান-  হুজুর! বেনামাজীরা আমার সকল আত্মীয় স্বজনের চেয়েও বেশি ঘনিষ্ট। ইহারা যে কঠিন দায়ীত্ব সম্পন্ন করিয়া থাকে তাহা অন্য আর কাহারও পক্ষে সম্ভবপর নয় : বে-নামাজীকে আল্লাহ তাআলা বেশি অপছন্দ করেন; আর আমি নামাজীকে অভিশাপ করি।


Hit Counter provided by Skylight