বিভাগ : মে ২০১৫

সম্পাদকীয় : শাবান মাসের ফযীলত

Sampadokia-150x150

সকল প্রশংসা ও শ্রেষ্ঠত্ব মহান আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক। অজস্র দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয়নবী মোহাম্মদ সা.-এর প্রতি।  পবিত্র শাবান মাস রহমত বরকত এবং মাগফিরাতের বার্তাবাহক। আরবি চান্দ্রমাসের মধ্যে শাবান মাস হলো বিশেষ ফযীলতপূর্ণ। এ মাসে রয়েছে লাইলাতুল বরাতের মতো অত্যন্ত বরকতময় রজনী, যাকে বলা হয় মাহে রমযানের আগমনী বার্তা। শাবান মাস

তাওবা এবং তার পরবর্তী করণীয় সমূহ : মো. কামরুল ইসলাম

Tawba

যে তাওবা করে ও ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তারাই তবে বেহেশতে প্রবেশ করবে, তাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হবে না। [সূরা মারিয়ম : ৬০] কোনো গুনাহ বা অন্যায় হয়ে গেলে সাথে সাথে অথবা পরবর্তীতে তার জন্য অনুতপ্ত হয়ে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করাকেই তাওবা বা ইস্তিগফার বলে। গুনাহ আল্লাহর রাগ গোস্বার উপকরণ। আল্লাহ রাগ

যৌতুকের ধ্বংসাত্মক জোয়ার রুখতে হবে এখনি : ইউসুফ বিন আব্দুল মজিদ

বিবাহ এমন এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণূ আমল যার মাধ্যমে দুটি মানুষ তাদের নতুন জীবনের সূচনা করে। পা রাখে নতুৃন এক অধ্যায়ে। সবাই আশা করে, যেন এই শুভ সূচনার শুভসমাপ্তি হয়। তবে সবার জীবনে আর সেটা হয়ে উঠে না বিভিন্ন কারণে। এ কারণগুলো কখনও ব্যক্তিগত হয় আবার কখনও হয় সামাজিক। এটাতো বলাই বাহুল্য যে, যতক্ষণ মানুষের ব্যক্তি

জান্নাতের বালাখানার বর্ণনা : সংকলনে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

al-jannatbd

প্রশিদ্ধ তাবেয়ী হযরত মুজাহিদ রহ. বলেন, জান্নাতের ভূমি হবে রৌপ্যের। হযরত সাহল বিন সাদ রা. বলেন, নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন, জান্নাতের যমীন হবে গড়াগড়ি খাওয়ার জায়গা। তা হবে কস্তুরীর। তোমাদের জন্তুগুলোর গড়াগড়ি খাওয়ার জায়গার ন্যায়। জান্নাতের দেয়াল হবে সোনা রুপা ও কস্তুরীর হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, জান্নাতের চারটি দেয়ালের একটি ইট স্বর্ণের, আরেকটি

আল্লাহর ভয় : মো. জসিমুদ্দিন

007

প্রত্যেকটি মানুষেরই উচিত আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনিই ভয় কর। আর তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করোনা। [সূরা আলে ইমরান: ১০২] এই আয়াতে মূলত একটি মূলনীতি ব্যক্ত করা হয়েছে। আর তা হলো, তাকওয়া বা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা। অর্থাৎ

আদর্শ পুরুষের বৈশিষ্ট্য : মুফতী উবায়দুল হক খান

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

মানবিক উন্নত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, নৈতিকতার বিশেষণে ভূষিত ও উত্তম চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত মানুষকেই আদর্শ মানুষ বলা যায়। এই আদর্শ মানুষই সমাজের মূলভিত্তি। এদের দ্বারাই সমাজ সুন্দরভাবে চলে। মানবতা হয় উপকৃত। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কল্যাণে সে নিবেদিত হয়। এসব গুণে কোন পুরুষ গুণান্বিত হলে তাকেই আদর্শ পুরুষ বলে। আদর্শ সন্তানের জন্য যেমন আদর্শ মায়ের দরকার, আদর্শ

ইমামে আযম এবং আধ্যাত্মিক সাধনা : আবদুল্লাহ জামিউ আযম জীম

Islamic_Books

আমরা হানাফি মাযহাবের অনুসারী। আমাদের ইমামের নাম আবু হানিফা। তার আসল নাম নোমান বিন সাবেত।  তিনি তাবেঈ ছিলেন। তিনি বাগদাদে একশত পঞ্চাশ হিজ্জরিতে ইন্তেকাল করেন। এটা তার অতিসংক্ষিপ্ত পরিচয়; তবে আমরা এখানে তার অধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে জানব। বড় বড় ব্যক্তিদের দৃষ্টিকোণ থেকে মনে করা হত যে, অন্য ব্যক্তিরা যেভাবে তাসাউফের চিন্তা ভাবনা থেকে অনেক দূরে তেমনি

মে দিবস এবং ইসলামে শ্রমের মর্যাদা : মো: আবুল খায়ের স্বপন

ship2

“আসিতেছে শুভদিন, দিনে দিনে বহু বাড়িয়েছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ।”। সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, সাহিত্য, ঐতিহ্য, মেধা মনন, যশ, খ্যাতি, আভিজাত্য, পিরামিড, তাজমহল পৃথিবীর এসবই কায়িক এবং মানসিক শ্রমের দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর আদি পিতা হযরত আদম আ. যেদিন এ অনিন্দ্য কাব্য সুন্দর পৃথিবীতে স্বর্গলোক ছেড়ে চলে আসেন ঠিক তখন থেকেই শ্রমের যাত্রা শুরু হয়। আজও

সমাজ গড়তে ইমামরা যা করতে পারেন : মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

ইমামতি একটি মহান দায়িত্ব। এটি সুন্দর ও সম্মানজনক পেশা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও ইমামতি করেছেন। তারপর তার সাহাবিরা ও খোলাফায়ে রাশেদীন, ওই একই মহান দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। ইমামতির রয়েছে অনেক ফযীলত। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কেয়ামতের দিন দুই শ্রেণীর মানুষ মেশকের তৈরি টিলার ওপর অবস্থান করবে। (ক) ওই গোলাম যে আল্লাহ

আল্লাহর অনুপম বৈশিষ্ট্য সমূহ : ডা. গোলাম মোস্তফা

21-6-2012-11-42-26909

আল-কুরআন এবং সহীহ্ হাদীসে আল্লাহর যে সব গুণবাচক নামের বর্ণনা পাওয়া যায়, তা মূলত আল্লাহর প্রধান সত্তার গুণাবলী এবং বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও আল্লাহর বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য আল-কুরআন এবং সহীহ্ হাদীসে উল্লেখ আছে, যা সাধারণভাবে আল্লাহর গুণবাচক নামের সাথে সম্পর্কিত নয়। আল্লাহর নামের সাথে সম্পর্কিত নয় এমন সব অনুপম বৈশিষ্ট্য সমূহের বিবরণ হলো, আল্লাহ্ কাউকে জন্ম দেননি

তাহাজ্জুদ:এক জ্যোর্তিময় ইবাদত : হাবিবুল্লাহ নোমানী

Sirat 02

তাহাজ্জুদ হৃদয়ের তৃপ্তি, ঈমানের দীপ্তি, কবরের সাথী আধারের বাতি ও স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভের এক জ্যোতির্ময় ইবাদত। হযরত আদম আ. হতে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা. পর্যন্ত সকল নবী রাসূলের বৈশিষ্ট্য। সর্বযুগের অলী, আউলিয়া, পরহেযগার মুত্তাক্বী ও খোদাভীরুদের বিশেষ হাতিয়ার বা অবলম্বন। দ্বীনের দায়ী ও কর্মীদের রুহানী জ্যোতি ও বিস্ময়কর মনোবল অর্জনের কার্যকর মাধ্যমও হলো এই

মহাবিশ্বের ধ্বংস ও তার পূর্বলক্ষণ [পর্ব-১]: মূল হারূন ইয়াহিয়া- অনুবাদ: আজমেরী মারইয়াম মেরী

Guha

“তারা  শুধু এই অপেক্ষাই করছে যে, কিয়ামত তাদের কাছে আকস্মাৎ এসে পড়ুক। বস্তুত কিয়ামতের লক্ষণসমূহ তো এসেই পড়েছে। সুতরাং কিয়ামত এসে পড়লে তারা উপদেশ গ্রহণ করবে কেমন করে?’’ [সূরা মুহাম্মাদ ৪৭: ১৮] যুগ যুগ ধরে মানুষ ভেবে এসেছে মহাবিশ্বের ধ্বংস নেই। আজ যেমন আছে কালও তেমন থাকবে। আর এ বিশ্বাস থেকেই জন্ম নিয়েছে বস্তুবাদী গ্রীক

ইসলামী শরীয়তে মেছওয়াকের উপকারিতা : মিযানুর রহমান জামীল

signboard-vector1

মানব জীবনে সুন্নতের গুরুত্ব অপরিসীম। সুন্নত ছাড়া উম্মতপাড়ার ঈমান-আমল রয়ে যায় অসম্পূর্ণ। ইসলামী শরীয়তে সুন্নতে নববীর অনুসরণকে উম্মতের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাদীসে বলা হয়েছে ‘যে ব্যক্তি শেষ যামানায় একটি সুন্নত জিন্দা করবে সে এক’শ শহীদের সওয়াব পাবে।’ সুন্নতের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে মেছওয়াক একটি মূল্যবান সুন্নত। হাদীসে সুন্নতটির কথা বার বার উল্লেখ করা হয়েছে। এ

এক সাহাবীর বিয়ে ও বর্তমান নবদম্পত্তির প্রতি বার্তা : মাওলানা ইবরাহীম খলীল

2812405301_66ec0e93f1

বিয়ে নবী কারীম সা. এর সুন্নত সমূহের একটি সুন্নত। সুন্নতের গুরুত্ব অপরিসীম এটা সবারি জানা। যাহোক এমন কোন সুন্নত নেই যা কোন না কোন সাহাবী আমল করেনি। আমাদের উচিৎ আল্লাহর নবীর সুন্নত বা তার আমলগুলো সাহাবীদের আমলের সাথে মিলিয়ে করা। কারণ এতে যেমন থাকে তৃপ্তি তেমনি থাকে নিশ্চয়তা। আর  রাসূলুল্লাহ সা. এর সকল কাজ ও

হযরত ইবরাহীম আ. এর ঘটনাসংকলন : আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

najaf

হযরত ইবরাহীম আ. এর বংশ তালিকা- ইবরাহীম ইবন তারাখ ইবন লাহুর ইবন সারুগ ইবন রাউ ইবন ফালিগ ইবন আবির ইবন শালিহ ইবন আরফাখশায ইবন সাম ইবন নূহ আ.। আহলে কিতাবদের গ্রন্থে এভাবেই হযরত ইবরাহীম আ. এর বংশ তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। হাফিজ ইবন আসাকির রহ. তার ইতিহাস গ্রন্থে, ইসহাক ইবন বিশর কাহিলীর ‘আল মাবদা’ গ্রন্থের

তাবলীগ হেদায়াতের সহজ পথ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

quran

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি যুগে যুগে মানুষের হেদায়াতের জন্য অসংখ্য নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা. এর উপর যিনি সারাআলমের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন এবং তার পদাঙ্ক অনুসরণকারী জান উৎসর্গকারী দ্বীনের কাজ নিয়ে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাহাবীদের উপর। তাবলীগ জামাত

শিরকের ইহ ও পরকালীন ক্ষতি : মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম

al-jannatbd.com, আল জান্নাত । মাসিক ইসলামি ম্যাগাজিন, al-jannatbd.com, quraner alo, মাসিক জান্নাত, islamer alo, www.al-jannatbd.com, al-jannat, bangla islamic magazine, bd islam, islamic magazine bd, ব্লগে জান্নাত, জান্নাতের পথ, আল জান্নাত,

শিরক অর্থ অংশ বা অংশিদারিত্ব সাব্যস্ত করা। অন্যকথায় আল্লাহর সত্তা অথবা গুণাবলীর সাথে অন্যকে শরীক করা। রাসূলুল্লাহ সা. শিরকের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আল্লাহর জন্য অংশীদার সাব্যস্ত করা, অথচ তিনি (আল্লাহ) তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’। শিরক শব্দটি তাওহীদের বিপরীত। আর শিরক হলো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ, আল্লাহর বাণী, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তার সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না।

কবিতাগুচ্ছ : শ্রমিক দিবস, হে মহান

Kabita

[শ্রমিক দিবস] মাহদী বিন মকবুল: শ্রম দাবিতে অষ্ট্রোলিয়ায়, মরল হাজার শ্রমিক । দাবি ছিল পারিশ্রমিক , পায় যেন সঠিক। কিন্তু মালিক বুঝল না তা, করল বোমাবাজি। মারল শ্রমিক মরল পুলিশ, তারই কারসাজি। কিন্তু আমার দয়ার নবী, বসে মদীনায়। বলে গেছেন পাওনা যেন, সময় মত মিটাই।   [হে মহান] সৈয়দা সুফিয়া খাতুন: তোমার লিলা বুঝা বড়

কবিতাগুচ্ছ : আল জান্নাত, অবৈধ ভালবাসা মানে, পথ শিশু, পরকালের আশায়, সবার আছে,

Kabita

  মারুফা আক্তার শিফা  সত্য নায়ের মাঝি তুমি তুমি সবার আশা তুমি হলে দাওয়াত তরী দাওয়াত তোমার নিশা ডাকো তুমি দিনের পথে সদা সর্বদা তোমার ডাকে পথ পেয়েছে কত রকম পথ হারা তাইতো বলি থেকো তুমি খোদার রাহে তে রহিম যিনি দিবে তোমায় পূণ্য বহু যে,ফেরা মুজাহিদ মসি আমার যখন ইচ্ছে হত যমুনার বুকে

(শরীয়তসম্মত যে কোন সমস্যার সমাধান জানতে প্রশ্ন লিখে পাঠিয়ে দিন মাসিক আল জান্নাতের ঠিকানায়। )জীবন জিজ্ঞাসা

Sowal Jowab

মুহাম্মাদ আতীকুল্লাহ, সাভার, ঢাকা। প্রশ্ন: মুসাফাহার পর হাতে চুমু খাওয়া কিরূপ ? এতে কখনো নিজের হাতে আবার কখনো যার সাথে মুসাফাহা করা হয়েছে, তার হাতে চুমু খাওয়া হয়। উভয়টিরই শরয়ী বিধান জানাবেন। উত্তর: মুসাফাহার পর নিজের হাতে চুমু খাওয়া মাকরূহে তাহরীমী। আর ফিকহের কিতাবে আলিম, বুযুর্গ ও ন্যায়পরায়ণ বাদশাহহর হাতে মুসাফাহার পর চুমু খাওয়ার অনুমতি

গীবত একটি ধ্বংসাত্মক ব্যধি : আবু সাইদ

আল জান্নাত । মাসিক ইসলামি ম্যাগাজিন, al-jannatbd.com, quraner alo, মাসিক জান্নাত, islamer alo, www.al-jannatbd.com, al-jannat, bangla islamic magazine, bd islam, islamic magazine bd, ব্লগে জান্নাত, জান্নাতের পথ, আল জান্নাত,

গীবত একটি মারাত্মক ক্ষতিকর কাজ। যার কারণে মানুষ দুনিয়াতে কখনও লাঞ্ছিত হয়, কখনও অন্যের কাছে হয় অবিশ্বাসেরও পাত্র। অবার আখেরাতে তো এর ভয়াবহ শাস্তি আছেই। গীবতের ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ ধারণা থেকে বেঁেচ থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গুনাহ। এবং তোমরা একে  অপরের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমরা একে অপরের


Hit Counter provided by Skylight