বিভাগ : মার্চ ২০১৫

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাধীনতা

Sampadokia-150x150

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্য। অসংখ্য দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব মুহাম্মদ সা. এর ওপর এবং তার অনুসারীদের ওপর । ইসলাম তার ঊষালগ্নেই স্বাধীনতার মূলনীতি ঘোষণা করেছে। আমীরুল মু’মিনিন হযরত ওমর ইবনে খাত্তাবের রা. সেই বিখ্যাত উক্তিটি আমরা স্মরণ করতে পারি, যেখানে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘পৃথিবীর বুকে তুমি মানুষকে ক্রীতদাসে পরিণত

ইবাদতে প্রভূর ধ্যান : মুফতি তানজিম আলম কাসেমি (ভারত)

quran

অনুবাদ : মুফতি মোস্তাকিম আমীর : বান্দাকে বন্দেগির জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই বান্দার জন্য আবশ্যক হল সে স্বীয় প্রভূর ইবাদত করবে এবং ইবাদতের প্রকাশ ঘটাবে। তাঁর সামনে নিজেকে এমনভাবে পেশ করবে যে, নিজের কথা-বার্তায়, ওঠা-বসায় প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বিনয়ী ও অক্ষমতার প্রকাশ ঘটাবে এবং মন মেজাজে যেন এই কথাটি ভালোভাবে বসে যায় যে, ঐ সত্ত্বার

পবিত্র কুরআনে ঘোষিত আল্লাহর বান্দার গুণাবলি : মাওলানা আলী উসমান

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন,রাহমানের বান্দা তারাই যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মূর্খরা কথা বলতে থাকে তারা বলে সালাম। [সূরা ফুরকান : ৩৬] উক্ত আয়াতটি সূরা ফোরকানের ৬৩ নম্বর আয়াত, অধিকাংশ তফসীরবিদের মতে সমগ্র সূরাটি মক্কা মুর্কারামায় নাযিল হয়েছিল। তবে ইবনু আব্বাস ও কাতাদাহ রা. এ সূরার

ধন সম্পদের বিনিময়ে জান্নাতের মহল ক্রয় : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

sign4

জাফর ইবন সুলায়মান রহ. বলেন যে, একদা আমি এবং মালেক ইবন দিনার একসঙ্গে বসরা শহরে গেলাম। ঘুরতে ঘুরতে আমরা একটি আলিশান মহলের কাছে গিয়ে এর ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম যে, মিস্ত্রী ও অন্যান্য শ্রমিকরা কাজ করতেছে। মহলটির একপাশে বসে আছে অত্যন্ত সুন্দর সুদর্শন  এক যুবক। এরকম সুন্দর পুরুষ আমরা আগে কখনও দেখিনি। যুবকটি মহল নির্মাণ

ইসলাম আল্ল­াহর মনোনিত ধর্ম : মিযানুর রহমান জামীল

2-al-jannatbd.com

ইসলাম মানবতার ধর্ম। শান্তি-শৃংখলা বিশ্বস্ততা ও আদর্শের ধর্ম। ইসলামই সমাজের উঁচু-নীচু সব শ্রেণীর মানুষকে এক কাতারে এনে সম্প্র্রীতির সোনালি অধ্যায় সূচনা করেছে। অন্যায় অত্যাচার অবিচার আর নীতিহীনতার উর্ধ্বে কোনো বেআইনী কথা বা কাজকে ইসলাম কষ্মিনকালেও সমর্থন করেনি, বরং সে সব অভিযোগ অনুযোগকে শরীয়তের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে আল-কুরআনের আলোকে তার বিহীত সমাধান দিয়েছে ইসলাম।  অন্যদিকে একনিষ্ঠতা

সবর : পরম শান্তির অনিন্দ্য বাসর- মুফতী পিয়ার মাহমুদ

2232800607_64943c72fa

কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেছেন- “আর অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি সাধন এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। আপনি সুসংবাদ দিন সবরকারীদের।” -সূরা বাকারা:১৫৫ এই দুনিয়া হলো, সুখ-দুঃখ ও শান্তি-অশান্তির মধ্যবর্তী ঠিকানা। এ জগতে কেউ পরিপূর্ণ সুখ-শান্তি লাভ করতে পারবে না। থাকতে পারবে না পেরেশান মুক্ত। দুঃখ-কষ্ট, বিষাদ, বিবাদ, উদ্বেগ-উৎকন্ঠা,

অহংকার একটি প্রলয়ংকারী গুনাহ : মাওলানা আবু মুহাম্মাদ ইসমাইল

Dua

সকল প্রশংসার একমাত্র অধিকারী তুমি আল্লাহ, অসংখ্য দরুদ ও সালাম অবতীর্ণ হোক ঐ মহামানবের প্রতি যার সৃষ্টি আমাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। আজ বিশ্ব মানব যেন বিবেকহীন পশুত্বের রুপ ধারণ করেছে! গুনাহ করতে করতে বর্তমানে আমাদের এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে যে, কোনটি ছাওয়াব আর কোনটি গুনাহ? এ অনুভুতিটুকও হারিয়ে ফেলেছি। সরেযমীনে গিয়ে দেখা যায় মারা-মারি,

পরকীয়া থেকে বাঁচার উপায় : মোহাম্মদ হোসেন

Biye

পরকীয়ার ভয়াল থাবায় ছারখার হচ্ছে পরিবার ও সমাজ। অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে চলমান স্থিতিশীলতা, বাড়ছে অবিশ্বাস আর সন্দেহ। ধর্মীয় বিধান আর প্রচলিত মূল্যবোধ ভেঙ্গে পড়ছে। ভদ্রতার আড়ালে চলছে অনৈতিক কাজ। মোবাইল সংস্কৃতি আর আকাশ সংস্কৃতি অনৈতিক কাজকে প্রতিনিয়ত উস্কে দিচ্ছে। এসব অনৈতিক কাজের শিকার হচ্ছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। তবে সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে

পর্দা যখন হেদায়াতের পথে আহ্বানকারী : উবায়দুল হক খান

Porda

আজ শুধু আমাদের দেশেই নয়; বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হাজারো মুসলিম মা-বোনরা পর্দা রক্ষা করার মাধ্যমে ইসলামের মর্যাদাকে সমুন্নত করে রেখেছে। তাদের মাঝে ইসলামের ভালোবাসা এতই প্রবল যে, হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও তারা ইসলামের প্রতিটি আদেশ মানার উপর অটল ও অবিচল থাকে। যার ফলে ইসলামের প্রতি তাদের এই ভালোবাসা ইহুদি-খিৃস্টানদের মাঝেও প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। হিজাবের সুফলতা

সময়ের প্রেক্ষাপটে সংকট নিরসনে ফাতওয়া দিবে কারা : ইবরাহিম খলিল উল্লাহ ছাদেকী

Islamic_Books

আমাদের মুসলিম সমাজে ফাতওয়া দেওয়ার বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সোনালি যুগ থেকে ধারাবাহিক সুন্দর এক প্রবাহমান নদীর শ্রুতের ন্যায় চলে আসছে। তখনকার যুগে যারা ফাতওয়া দিত তাদের মধ্যে ছিল প্রচুর আল্লাহ তাআলার ভয়ভীতি, যুহদ, তাকওয়া-পরহেজগারি, দ্বীনদারী, ধার্মিকতা আরও ছিল তাদের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইলম এর ভান্ডার। যেমন ছিল তাদের মাঝে পবিত্র কুরআনের ইলম

ডিভোর্সের নেপথ্য কারণ : মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব

Porda

বিকারগ্রস্ত মানুষ সবসময় ছিল এখনও আছে। সময়ের প্রয়োজন ও প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানুষ বাড়ছে বৈ কমছে না। বিকারগ্রস্ত সমাজের একটি বড় ব্যাধি হলো ডিভোর্স। সামান্য থেকে সামান্যতম কারণে একটি সাজানো সংসার ভেঙ্গে খান খান। অতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে ডিভোর্সের হার। ঢাকার একটি প্রভাবশালী দৈনিকের পক্ষ থেকে ডির্ভোসের প্রবণতা নিয়ে

সন্ত্রাস নির্মূলে ইসলামের ভূমিকা : মাহবুবুর রহমান নোমানি

quran

সন্ত্রাস বর্তমান বিশ্বের একটি বার্ণিং ইস্যু। সব চেয়ে আলোচিত বিষয় ও আতংকের নাম। এটি সমাজের দুষ্টক্ষত, মরণব্যাধি বিষফোঁড়া; যার অপারেশন ব্যতিরেকে সমাজের শান্তি, স্বস্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়। ব্যক্তি সন্ত্রাস, সামাজিক সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস, তথ্য সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সন্ত্রাস, সাংস্কৃতিক সন্ত্রাস ইত্যাদি হরেক রকম সন্ত্রাসে ছেঁয়ে গেছে আজকের পৃথিবী। সন্ত্রাসের ভয়াবহ অভিশাপে দেশ-জাতি আজ

আতœহত্যা: ইসলাম কি বলে : মো: আবুল খায়ের স্বপন

Madok

মহান আল্লাহ তাআলা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে একটি সুনিদৃষ্ট সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকার জন্য   তাদের মধ্যে মহামূল্যবান এক জীবন বা প্রাণ দিয়ে এ পৃৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। যদিও মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর দেয়া মহামূল্যবান এ জীবনের ব্যাপ্তি সর্ম্পকে কোন মানুষকে নুন্যতম কোন ধারনা প্রদান করেননি। বরং তা সর্ম্পকে তিনিই কেবলমাত্র সম্যক জ্ঞাত আছেন। মানুষ

এমন ছিল যাদের আমল : মুহা. আশরাফুল ইসলাম

Upnnas

হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বড় প্রিয় সাহাবী ছিলেন। যখন মুসলমানগণ পারস্যের কিসরা সম্রাজ্যের ওপর আক্রমণ করেন সে সময় এই কিসরা ছিল সমসাময়িক পৃথিবীর পরাশক্তি। ইরানি সংস্কৃতি সমস্ত পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত ছিল। তৎকালীন সময়ে সমগ্র পৃথিবীতে দুটি সংস্কৃতি  ছিল। একটি হল রুমান সংস্কৃতি, অপরটি ইরানি। কিন্তু ফ্যাশন ও পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে

অশ্লীলতার সয়লাবে সতর্কতার আহ্বান : যোবায়ের বিন জাহিদ

Iman Akida

সেদিন আমাদের এক মুহতারাম উস্তায আমাকে ডাকলেন। আমি হুজুরের কামরায় গেলাম। গিয়ে দেখি হুজুর মেঝেতে বসে দুজন ছাত্র সঙ্গে নিয়ে আমাদের মাদরাসায় নেয়া দৈনিক পত্রিকায় নারীদের অশ্লীল ছবিযুক্ত অংশগুলো কাগজ দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন। আমি গেলে হুজুর আমাকে প্রথমে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি হাদীস শোনালেন ; “যে ব্যক্তি ইসলামে কোন উত্তম প্রথার

ইসলামের দৃষ্টিতে পার্থিব জীবনে সম্পদের গুরুত্ব : মুফতী মুহাম্মাদ রূহুল আমীন

TK copy

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের উপার্জিত সম্পদ মৌলিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। ১. হারাম তথা অবৈধ সম্পদ; যা মানুষ শরী‘আত কর্তৃক নিষিদ্ধ পন্থা অবলম্বন করে উপার্জন করে। ২. হালাল তথা বৈধ সম্পদ; যা মানুষ শরী‘আত অনুমোদিত পথ ও পন্থা অবলম্বন করে উপার্জন করে। বক্ষমান আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দ্বিতীয় প্রকার তথা হালাল সম্পদের ব্যাপারে ইসলামী শরী‘আতের দৃষ্টিভঙ্গী আলোকপাত

হযরত হূদ আ. : সংকলন- আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

Upnnas

হযরত হূদ আ. এর বংশ তালিকা হূদ ইবন শালিখ ইবন আরফাখশায ইবন সাম ইবন নূহ আ. মতান্তরে হূদ- যার নাম ছিল আবির ইবন রাবাহ ইবনুল জারুদ ইবন আয ইবন আওস ইবন ইরাম ইবন সাম ইবন নূহ আ.। হূদ এর গোত্রের নাম আদ ইবন আওস ইবন সাম ইবন নূহ। তারা ছিল আহকাফ অর্থাৎ বালুুর ঢিবিপূর্ণ এলাকার

প্রেমের ভয়ংকর পরিণতি : মোহাম্মদ ইউসুফ আহমেদ

Biye

নোয়াখালীর সোনাপুরী প্রধান সড়কের পূর্বে অবস্থিত এখলাসপুর গ্রাম। মনোরম সেই গ্রামের একটি বিলের পাশে মালেক সর্দারের বাড়ি। বাড়ির সদস্য হিসাবে রফিকুল্লাহরও একটি আবাসন রয়েছে সর্দার বাড়িতে। ছয় সন্তুান নিয়ে ছোট্ট সংসার তার। দু বেলা খাবার পেলে তৃতীয় বেলা টানাটানি। এদিকে দরিদ্রতার যাতাকলে পিষ্ট হয়ে চলতে থাকে তাদের দুরুহ সংসার। একদা রফিকুল্লাহ ফজরের নামায আদায় করে

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা [কাফেলা- ০০৭]

ec95_polar_ice_crystal_clear_ice_cube_tray_ice

পির আলী- যাহা হউক. সমস্ত মুর্খ মুনশী মুছল্লীদের কাহিনী শুনিয়া লাভ নাই। কারণ ইহার মধ্যে শিক্ষার কোন বস্তু নাই বলিলেই চলে। শয়তান- তবে হুজুর শিক্ষিত ও বিচক্ষণ লোকের কাহিনী শুনুন। ইতিপূর্বে যাহার শুধু পরিচয়খানা দিয়াছি তাহার কথাই প্রথমে দুই এক কলেমা বর্ণনা করি। তিনি হলেন মৌলবী মোহাম্মদ ইনশা আল্লাহ। ইনি ইন্ডিয়া কয়েকবার ঘুরিয়া আসিয়াছেন। কোন

ধারাবাহিক উপন্যাস : কিশোরীর হাতের রক্তের চিঠি

Rokter Chiti

আবুল হাসান সম্ভবত তাদের এ মূর্তিপূজা  দেখেই চিনতে পেরেছিলো যে, তারা সকলেই প্রায় আরব দেশের লোক। আবুল হাসান তাদের  এ করুণ অবস্থা দেখে খুবই ব্যথিত হল। সে তাদেরকে দ্বীনি দাওয়াত দিতে শুরু করল। মূলত এমনি হওয়া দরকার সকল মুসলমানদের গুণ। কেননা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এ উম্মতে মোহাম্মদীর সম্পর্কেই ইরশাদ করেছেন- তোমরাই শেষ্ঠ উম্মত, মানব

কবিতাগুচ্ছ : কোন সুরে, আজানের সুর, রাব্বুল আলামীন, স্বপ্ন দেখো, জীবনের লক্ষ্য

Kabita

[কোন সুরে] সৈয়দা সুফিয়া খাতুন : বল-রে পাখি কোন সুরে কোন নামে ডাকিস-রে তুই আমার রব কে? তুই যে নামে ডাকিস সে নামে ডাকবো আমি তোরই সনে। তোর সুরে সুর মিলিয়ে ডাকবো আমি গাছের ডালে ফুলের বনে, ঐ নামে ডাকবো আমি তোরই সনে। পাখি-রে তুই আয়রে আমার কাছে আয়, তোকে আমি কলা দিব ছোলা দিব,


Hit Counter provided by Skylight