বিভাগ : জান্নাতে কাফেলা

অধিক হাদীস মুখস্তকারী কয়েকজন মুহাদ্দিস

  মুহাদ্দিসগণের নাম                        মুখস্ত হাদীসের সংখ্যা ১.ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন             ১০,০০০০০ টি ২.ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল               ১০,০০০০০ টি ৩.ইমাম আবুজুর ’আ                       ৭,০০০০০ টি ৪.ইমাম আবু দাউদ সিজিস্থানি              ৫,০০০০০ টি ৫.ইমাম বুখারী                              ৩,০০০০০ টি ৬.ইমাম মুসলিম                             ৩,০০০০০ টি ৭.ইমাম ইসহাক ইবনে

কুরআন বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

– কুরআনের প্রথম মুফাসসের হচ্ছেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.। – কুরআনের প্রথম সংকলন হচ্ছেন হযরত ওসমান গণী রা.। – কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক হচ্ছেন মাওলানা আমীর উদ্দীন বসুনিয়া। নিচে কয়েকজন বিশিষ্ঠ ওহী লেখকের নাম দেয়া হলÑ ১. হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. ২. হযরত ওমর বিন খাত্তাব রা. ৩. হযরত ওসমান বিন আফফান রা. ৪.

আল্লাহর কুদরতের বিস্ময়কর বিকাশ

মাওলানা রুকন  উদ্দীন : আমরা সকলেই জানি আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা এবং সকল বান্ডারের মালিক মহান প্রভু। তারপরও কি কোন একটি বার আল্লাহর এই নেয়ামত রাজিগুলো নিয়ে চিন্তা করেছি, ভেবে দেখেছি আমাকে এতো সুন্দর করে কে সৃষ্টি করেছে ? আর কেনই বা সৃষ্টি করেছে ? প্রত্যেক জিনিস তৈরির পিছনে কোন না কোন কারণ তো অবশ্যই

ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.এর বীরত্ব, রিযিকদাতা

ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.এর বীরত্ব : খাদিজা বিনতে আঃ কাদির হযরত আলী ইবনে আবি তালেব রা. বলেন, আমার জানা মতে প্রত্যেকেই গোপনে হিজরত করেছেন। একমাত্র ওমর ইবনে খাত্তাব রা. এমন ব্যক্তি যিনি প্রকাশ্যে হিজরত করেছেন। তিনি যখন হিজরত করার ইচ্ছা করলেন নিজের তলোয়ার গলায় বাঁধলেন এবং ধনুক কাঁধে ঝুলিয়ে নিলেন এবং কয়েকটি তীর হাতে নিয়ে

অন্তরের আলোয় উদ্ভাসিত হাফিজ কলিম সিদ্দিকী, সাঈফার স্বপ্ন, অন্যরকম প্রতিদান,

অন্তরের আলোয় উদ্ভাসিত হাফিজ কলিম সিদ্দিকী : আবুল মোহাম্মদ:- জন্ম থেকে নেই চোখের জ্যোতি। অন্তরে তার জ্ঞান আহরনের অদম্য পিপাসা। প্রবল মনোবল আর অসাধারণ গুনাবলী দিয়ে তিনি এখন সকলের নয়নের মনি। সকলের চোখের তাঁরায় তাঁরায় তাকে নিয়ে অনাগত দিনের সোনালী স্বপ্ন। তিনি হচ্ছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের মাছিমপুর এলাকায় অবস্থিত জামিয়া মাছুমিয়া ইসলামিয়া মাছিমপুর

হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. এর ইনসাফ, সাহাবী ও চড়–ই

হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. এর ইনসাফ : মায়মুনা আক্তার রিতা :- হযরত আব্দুল্লা ইবনে আমর ইবনে আস রা. বলেন, হযরত আবু বকর রা. জুমুআর দিন দাঁড়িয়ে বলেন, সকাল বেলা তোমরা সদকার উটগুলো নিয়ে আসবে, আমরা তা বন্টন করব। আর  সেখানে অনুমতি ব্যতিত কেউ আমার নিকট প্রবেশ করবে না। এক মহিলা তার স্বামীকে বলল, এই

পরিচালকের কথা………… , অল্পে তুষ্টিহীনতার কুফল -খাদিজা আক্তার

পরিচালকের কথা………… , প্রিয় জান্নাতী কাফেলার বন্ধুরা! আশা করি সকলেই ভালোই আছো। আর ভালো তো থাকবেই, কারণ বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে ফিরে এলো পবিত্র ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ। এ ঈদে ধনী মুসলমানগণ কুরবানী করে থাকেন। এই জন্য তাকে কুরবানির ঈদ বলা হয়। প্রতি বছর এই ঈদ এসে আমাদেরকে অনেক কিছু শিক্ষা দিয়ে যায়।

হযরত উম্মে হারাম বিনতে মিলহান রা. -এর আল্লাহর রাস্তায় শাহাদত -ইরশাদুল ইসলাম

ইমাম বুখারী রহ. হতে বর্ণিত, হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. হযরত উম্মে হরাম বিনতে মিলহান রা. এর ঘরে গেলেন এবং সেখানে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।  কিছুক্ষণ পর মুচকি হেসে জাগ্রত হলেন।  হযরত উম্মে  হারাম রা. জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সা. আপনি কেন হাসছেন? তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমার উম্মতের কতিপয় লোক আল্লাহর

জীবন সয়াহ্নে প্রভুর প্রেমে পাগল এক তাপসী- তামান্না মুহাম্মদ

হযরত মুআযা রহ. এর মৃত্যুমুখে হাসি এক বিখ্যাত তাপসী নারী হযরত মুআযা আদাবিয়্যা রহ.। বর্ণিত আছে, প্রতিটি রাতের সূচনাতেই সে নিজেকে নিজে এই বলে প্রস্তুত করতো, হে মুআযা! এটাই তোমার জীবনের সর্বশেষ রাত। আগামীকালের সূর্য দেখা তোমার ভাগ্যে আর জুটবে না। কিছু যদি করতে চাও তাহলে এই রাতেই করে নাও। অতপর মুসল্লায় বসে পড়তেন। ইবাদত

বেহেশতের বাজার -মুছাম্মত : হুরে-ঈন

নিজের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আমরা কত মেকাপই না করে থাকি। বাজারে গিয় সবচেয়ে দামী মেকাপবক্স ক্রয় করি যেন উন্নত মেকাপ দিয়ে নিজের চেহারা বেশি সৌন্দর্যম-িত করতে পারি। আবার কেউ তো আছে যাদের কাড়ি কাড়ি টাকা আছে তারা তো স্কীন সার্জারীও করে থাকেন সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য। কিন্তু মনের রাখবেন- এই পৃথিবীতে আমরা যতই চেষ্টা করি না

আহ্ যুবকরা যদি এমন হতো : ইউসুফ আহমেদ

একদিন এক যুবক জীবিকার উদ্দেশ্যে, মক্কার নগরীর অলি গলি দিয়ে হাঁটছিলো। হঠাৎ চোখে পড়লো, রাস্তার মাঝে একটা হার পড়ে আছে। আশেপাশে আর কেউ নেই, দেখে হারটা উঠিয়ে নিলো। মালিকের খোঁজে হেরেম শরীফে এলো। এমন সময় একটা ঘোষণা কানে এসে ধাক্কা দিলো: আমার একটা হার হারিয়ে গেছে। যদি কোনো দয়ালু ব্যক্তি পেয়ে থাকেন আল্লাহর ওয়াস্তে দয়া

ইমাম গাযালী রহ.এর ইখলাস, হযরত আবুবকর রা.এর অমূল্য উপদেশ, বড় পাচঁ কাজ করলে আল্লাহর ওলী হওয়া যায়।

বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। এদেশে বসবাসরত ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমন। প্রতিদিন সুবহে সাদিকের সময় লক্ষাধিক মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়। আজানের ধ্বনি শুনে মুসলমানদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সমবেত হয় মসজিদে, এক সাথে আল্লাহর কুদরতি পায়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। ইসলামের এ সুমহান আদর্শ দেখে বিজাতীরা ১৪শত বছর পূর্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। মুসলমানদের অস্তিত্ব পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য নানারকম ষড়যন্ত্রের পথ তারা বেছে নিয়েছিল। কিন্তু তারা সফলতার মুখ দেখেনি। প্রায় দেড় হাজার বছর পর আজও এ ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তবে কালের বিবর্তনে তাদের ষড়যন্ত্রের কৌশলের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান যুগকে আধুনিকতার শীর্ষ যুগ বলা হয়। মিডিয়াসহ নানারকম কৌশলের মাধ্যমে তারা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ঈমানকে ধংস করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাদের এ কৌশল অনেকটা সফলতার দারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তারা মুসলমানদের অন্তর থেকে ঈমানের নূরকে বিদূরিত করে নাস্তিক্যবাদ ঢুকিয়ে দিয়েছে। একজন মুসলিম সন্তানের কলম থেকে ইসলামের পক্ষে, বাতিলের বিরুদ্ধে লেখা আসবে। কিন্তু আফসোস! আজ তারই কলম বাতিলের পক্ষে এবংহকের বিরুদ্ধে কথা বলছে। সেসব নাস্তিকদের লেখা পড়ে সরলমনা মুসলমানদের ঈমানের প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। দিন দিন বাংলার বুকে নাস্তিকদের আবাস বেড়েই চলছে। একদল নামধারী লেখকদের কু-রুচিপূর্ণ লেখা এবং মিডিয়ায় অশ্লীল ছবির ছড়াছড়িতে আজ যুব সমাজ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। মানুষের মনুষ্যত্ববোধ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, ঘর থেকে বের হলেই স্পষ্ট বুঝা যায়। পার্ক, উদ্যানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে বিবেকবান মানুষের প্রবেশ অনেকটা দুর্লভ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এসব স্থানের পরিবেশ স্বামী-স্ত্রীর একান্ত বাসকেও হার মানায়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বাংলার বুকে অশ্লীল, বেহায়াপনা কাজের নিন্দা জানানোর কোন লোক খুজে পাওয়া যাবে না। মুসলমানদের এ চরম সংকটময় মুহুর্তে একদল সাহসী ওলামায়ে কেরাম ও একনিষ্ট ধার্মিক মানুষ কলমের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন। অনেক বাঁধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে সম্মুখপানে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলার বুকে বেশ কয়েকটি ইসলামী পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। এসব পত্রিকাগুলোতে বর্তমান পেক্ষাপটে কুরআন-হাদীসের আলোকে ইসলামের সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয়। যাতে করে বাংলার প্রতিটি মুসলমান খুজে পায় সরল পথের দিশা। ইসলামী পত্রিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পত্রিকা মাসিক “আল-জান্নাত”। গত এক বছর যাবত আমি পত্রিকাটি পড়ছি। পত্রিকার প্রচ্ছদ এবং তথ্যবহুল লেখা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি এমন একটি পত্রিকা প্রতিটি মুসলমানের পঠন অপরিহার্য। কারণ, মিথ্যা, অশ্লীল কথা ও ছবির ছড়াছড়িতে বাজার যখন গরম, তখন ইসলামী পত্রিকাই একজন মুসলমানের জন্য সঠিক তথ্য পাওয়ার একমাত্র সম্বল। ইসলামী পত্রিকার মাধ্যমে একজন মানুষ খুঁজে পেতে পারে তার জীবনে চলার পথের পাথেয় এবং সোনালি ভবিষ্যৎ। সত্য, ন্যায়ের মশালবাহী ওলামায়ে কেরাম ও ধর্ম পিপাসু লোকের মেহনত আল্লাহ যেন কবুল করে বাংলার যমীন থেকে নাস্তিক্যবাদকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেন। সদা এই কামনাই করি। পাঠিয়েছে : রুম্মান বিন আল মামুন, আল জামিআ ইসলামিয়া মদীনাতুল উলুম, ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকা।

হযরত ইমাম গাযালী রহ. এর বাল্যকালের ঘটনা। তখন তিনি মাদরাসা নিযামিয়ার ছাত্র। একদিন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাদরাসা পরিদর্শনের জন্য যান এবং প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে নিজ নিজ পড়াশুনার উদ্দেশ্য জিজ্ঞাসা করেন । সকল ছাত্রগন প্রত্যেকের  উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলে দিলো, কেউ কেউ বলল, আমার পিতা একজন কাজী, তাই আমিও কাজী হবো। কেউ বললো আমি একজন বড় অফিসার

পাচঁটি ভয়াবহ রোগ থেকে সকলকে মুক্ত থাকতে হবে

বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। এদেশে বসবাসরত ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমন। প্রতিদিন সুবহে সাদিকের সময় লক্ষাধিক মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়। আজানের ধ্বনি শুনে মুসলমানদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সমবেত হয় মসজিদে, এক সাথে আল্লাহর কুদরতি পায়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। ইসলামের এ সুমহান আদর্শ দেখে বিজাতীরা ১৪শত বছর পূর্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। মুসলমানদের অস্তিত্ব পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য নানারকম ষড়যন্ত্রের পথ তারা বেছে নিয়েছিল। কিন্তু তারা সফলতার মুখ দেখেনি। প্রায় দেড় হাজার বছর পর আজও এ ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তবে কালের বিবর্তনে তাদের ষড়যন্ত্রের কৌশলের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান যুগকে আধুনিকতার শীর্ষ যুগ বলা হয়। মিডিয়াসহ নানারকম কৌশলের মাধ্যমে তারা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ঈমানকে ধংস করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাদের এ কৌশল অনেকটা সফলতার দারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তারা মুসলমানদের অন্তর থেকে ঈমানের নূরকে বিদূরিত করে নাস্তিক্যবাদ ঢুকিয়ে দিয়েছে। একজন মুসলিম সন্তানের কলম থেকে ইসলামের পক্ষে, বাতিলের বিরুদ্ধে লেখা আসবে। কিন্তু আফসোস! আজ তারই কলম বাতিলের পক্ষে এবংহকের বিরুদ্ধে কথা বলছে। সেসব নাস্তিকদের লেখা পড়ে সরলমনা মুসলমানদের ঈমানের প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। দিন দিন বাংলার বুকে নাস্তিকদের আবাস বেড়েই চলছে। একদল নামধারী লেখকদের কু-রুচিপূর্ণ লেখা এবং মিডিয়ায় অশ্লীল ছবির ছড়াছড়িতে আজ যুব সমাজ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। মানুষের মনুষ্যত্ববোধ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, ঘর থেকে বের হলেই স্পষ্ট বুঝা যায়। পার্ক, উদ্যানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে বিবেকবান মানুষের প্রবেশ অনেকটা দুর্লভ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এসব স্থানের পরিবেশ স্বামী-স্ত্রীর একান্ত বাসকেও হার মানায়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বাংলার বুকে অশ্লীল, বেহায়াপনা কাজের নিন্দা জানানোর কোন লোক খুজে পাওয়া যাবে না। মুসলমানদের এ চরম সংকটময় মুহুর্তে একদল সাহসী ওলামায়ে কেরাম ও একনিষ্ট ধার্মিক মানুষ কলমের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন। অনেক বাঁধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে সম্মুখপানে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলার বুকে বেশ কয়েকটি ইসলামী পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। এসব পত্রিকাগুলোতে বর্তমান পেক্ষাপটে কুরআন-হাদীসের আলোকে ইসলামের সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয়। যাতে করে বাংলার প্রতিটি মুসলমান খুজে পায় সরল পথের দিশা। ইসলামী পত্রিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পত্রিকা মাসিক “আল-জান্নাত”। গত এক বছর যাবত আমি পত্রিকাটি পড়ছি। পত্রিকার প্রচ্ছদ এবং তথ্যবহুল লেখা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি এমন একটি পত্রিকা প্রতিটি মুসলমানের পঠন অপরিহার্য। কারণ, মিথ্যা, অশ্লীল কথা ও ছবির ছড়াছড়িতে বাজার যখন গরম, তখন ইসলামী পত্রিকাই একজন মুসলমানের জন্য সঠিক তথ্য পাওয়ার একমাত্র সম্বল। ইসলামী পত্রিকার মাধ্যমে একজন মানুষ খুঁজে পেতে পারে তার জীবনে চলার পথের পাথেয় এবং সোনালি ভবিষ্যৎ। সত্য, ন্যায়ের মশালবাহী ওলামায়ে কেরাম ও ধর্ম পিপাসু লোকের মেহনত আল্লাহ যেন কবুল করে বাংলার যমীন থেকে নাস্তিক্যবাদকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেন। সদা এই কামনাই করি। পাঠিয়েছে : রুম্মান বিন আল মামুন, আল জামিআ ইসলামিয়া মদীনাতুল উলুম, ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকা।

* রাজনীতিকদের ৫টি ভয়াবহ রোগ থেকে রক্ষা করতে হবে (১)    দূর্নীতি। (২)    ক্ষমতার দাপট। (৩)    দখলবাজি। (৪)    ওয়াদা ভঙ্গ। (৫)    জনগনকে অবহেলা। *আইনজীবিদের ৫টি ভয়াবহ রোগ থেকে রক্ষা করতে হবে (১)  আইন উদাসীনতা। (২)  সত্যকে লুকানো। (৩) আদালতে হট্রগোল। (৪) মামলা ঝুলিয়ে রাখা। (৫) ক্ষমতাবানদের আদেশ মানা। *পুলিশদের ৫টি ভয়াবহ রোগ থেকে রক্ষা করতে হবে

এক সাহাবীর মেহমানদারী -সানজিদা উম্মে সুমাইয়া

বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। এদেশে বসবাসরত ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমন। প্রতিদিন সুবহে সাদিকের সময় লক্ষাধিক মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়। আজানের ধ্বনি শুনে মুসলমানদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সমবেত হয় মসজিদে, এক সাথে আল্লাহর কুদরতি পায়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। ইসলামের এ সুমহান আদর্শ দেখে বিজাতীরা ১৪শত বছর পূর্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। মুসলমানদের অস্তিত্ব পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য নানারকম ষড়যন্ত্রের পথ তারা বেছে নিয়েছিল। কিন্তু তারা সফলতার মুখ দেখেনি। প্রায় দেড় হাজার বছর পর আজও এ ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তবে কালের বিবর্তনে তাদের ষড়যন্ত্রের কৌশলের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান যুগকে আধুনিকতার শীর্ষ যুগ বলা হয়। মিডিয়াসহ নানারকম কৌশলের মাধ্যমে তারা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ঈমানকে ধংস করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাদের এ কৌশল অনেকটা সফলতার দারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তারা মুসলমানদের অন্তর থেকে ঈমানের নূরকে বিদূরিত করে নাস্তিক্যবাদ ঢুকিয়ে দিয়েছে। একজন মুসলিম সন্তানের কলম থেকে ইসলামের পক্ষে, বাতিলের বিরুদ্ধে লেখা আসবে। কিন্তু আফসোস! আজ তারই কলম বাতিলের পক্ষে এবংহকের বিরুদ্ধে কথা বলছে। সেসব নাস্তিকদের লেখা পড়ে সরলমনা মুসলমানদের ঈমানের প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। দিন দিন বাংলার বুকে নাস্তিকদের আবাস বেড়েই চলছে। একদল নামধারী লেখকদের কু-রুচিপূর্ণ লেখা এবং মিডিয়ায় অশ্লীল ছবির ছড়াছড়িতে আজ যুব সমাজ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। মানুষের মনুষ্যত্ববোধ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, ঘর থেকে বের হলেই স্পষ্ট বুঝা যায়। পার্ক, উদ্যানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে বিবেকবান মানুষের প্রবেশ অনেকটা দুর্লভ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এসব স্থানের পরিবেশ স্বামী-স্ত্রীর একান্ত বাসকেও হার মানায়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বাংলার বুকে অশ্লীল, বেহায়াপনা কাজের নিন্দা জানানোর কোন লোক খুজে পাওয়া যাবে না। মুসলমানদের এ চরম সংকটময় মুহুর্তে একদল সাহসী ওলামায়ে কেরাম ও একনিষ্ট ধার্মিক মানুষ কলমের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন। অনেক বাঁধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে সম্মুখপানে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলার বুকে বেশ কয়েকটি ইসলামী পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। এসব পত্রিকাগুলোতে বর্তমান পেক্ষাপটে কুরআন-হাদীসের আলোকে ইসলামের সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয়। যাতে করে বাংলার প্রতিটি মুসলমান খুজে পায় সরল পথের দিশা। ইসলামী পত্রিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পত্রিকা মাসিক “আল-জান্নাত”। গত এক বছর যাবত আমি পত্রিকাটি পড়ছি। পত্রিকার প্রচ্ছদ এবং তথ্যবহুল লেখা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি এমন একটি পত্রিকা প্রতিটি মুসলমানের পঠন অপরিহার্য। কারণ, মিথ্যা, অশ্লীল কথা ও ছবির ছড়াছড়িতে বাজার যখন গরম, তখন ইসলামী পত্রিকাই একজন মুসলমানের জন্য সঠিক তথ্য পাওয়ার একমাত্র সম্বল। ইসলামী পত্রিকার মাধ্যমে একজন মানুষ খুঁজে পেতে পারে তার জীবনে চলার পথের পাথেয় এবং সোনালি ভবিষ্যৎ। সত্য, ন্যায়ের মশালবাহী ওলামায়ে কেরাম ও ধর্ম পিপাসু লোকের মেহনত আল্লাহ যেন কবুল করে বাংলার যমীন থেকে নাস্তিক্যবাদকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেন। সদা এই কামনাই করি। পাঠিয়েছে : রুম্মান বিন আল মামুন, আল জামিআ ইসলামিয়া মদীনাতুল উলুম, ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকা।

এক সাহাবী নিজের একটি উট বিক্রি করার জন্য ছেলেকে বাজারে পাঠালেন। কিন্তু যাবার সময় ছেলেকে নসিহত করলেন যে, উটটি বিক্রি করার সময় উটের মধ্যে যে খুত/ খারাবী আছে তা অবশ্যই ক্রেতাকে জানিয়ে দিবে। তাতে কোন ক্রেতা উট কিনলে কিনবে, না হয় উটটিকে বাড়িতে ফেরত নিয়ে আসবে। ছেলেটিও বাজারে উটটি বিক্রি করে বাবাকে টাকা দেওয়ার পর

হাদীসে রাসূল সা.

নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন, সেই মহিলার কোন নামায কবুল হয় না যে তার স্বামী ছাড়া অন্য কারোর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে; যতক্ষণ না সে নাপাকীর গোসল করার ন্যায় গোসল করে নেয়। [আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, সিলসিলাতুস সাহীহা : হা. ১০৩১ – নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন, তোমাদের স্ত্রীরাও জান্নাতি হবে যে স্ত্রী অধিক

সফলতার মাপকাঠি

প্রিয় ভাই ও বোনেরা! আল্লাহ তাআলার দরবারে মানব জাতির সফলতার মাপকাঠি বংশ খান্দান বা রুপ-সৌর্ন্দয নয়। আল্লাহ তাআলার দরবারে সফলতার মাপাকাঠি হলো মানুষের আমল। চোখ দেখে, কান শুনে, জিহ্বা বলে, হাত-পা সঞ্চালিত হয়, মস্তিস্ক ভাবে, হৃদয় নানারুপ আবেগ পোষণ করে- এসবই তার আমল। মানুষ চব্বিশ ঘন্টাই কোন না কোন আমলে ব্যস্ত থাকে। এখন দেখার বিষয়

হযরত আব্বাস রা. এর নিজ পুত্রকে নসীহত

আতিকুল ইসলাম হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমাকে আমার পিতা হযরত আব্বাস রা. বললেন, হে আমার বেটা, আমি দেখছি আমিরুল মুমিনীন হযরত ওমর রা. তোমাকে ডাকেন এবং তোমাকে নিজের কাছে বসান এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য সাহাবাদের মত তোমার নিকট হতেও পরামর্শ গ্রহণ করেন। অতত্রব, আমার তিনটি কথা স্মরণ রাখিও (১) আল্লাহকে ভয় করতে

আবদুল্লাহ ইবন হুজাফাহ রা. এর কৃতিত্ব : ইউসুফ আহমেদ

প্রতিটি মুসলমানের উচিত আবদুল্লাহ ইবন হুজাফাহ’র মাথায় চুম্বন করা। -হযরত উমর রা. হিজরি ১৯ সনে খলীফা উমার রা. রোমানদের বিরুদ্ধে একটি বাহিনী পাঠালেন। এই বাহিনীতে আবদুল্লাহ ইবন হুজাফাহ আস-সাহমীও ছিলেন। রোমের কাইসার মুসলিম মুজাহিদদের ঈমান, বীরত্ব এবং আল্লাহ ও রাসূলের জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দেওয়ার বহু কাহিনী শুনতেন। তিনি তাঁর সৈন্যদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোন মুসলমান

হাদীসের গল্প : র্ধৈযের পুরস্কার -খাদিজা আক্তার [রিপা]

মুসলমান নারী ও পুরুষের যে গুনটির কথা আলোচনা করা হয়েছে তা হলো- ধৈর্য। এক স্বামী আল্লাহর রাস্তায় সফরে যাচ্ছে। স্ত্রীকে বলে যাচ্ছে তুমি ঘরে থেকো। এ কথা বলে স্বামী চলে যাওয়ার কিছু দিন পর ঐ মহিলার পিতা অসুস্থ। এই মহিলা রাসুল সা. এর খেদমতে গিয়ে আরজ করলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার স্বামী আমাকে বলে গেছেন- আমি

জীবনের গল্প : পথের দিশা -হাফেজ শহিদুল্লা মাহমুদ, সংকল্পের জয় : মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম

[পথের দিশা -হাফেজ শহিদুল্লা মাহমুদ] আশিক সাদিক। ফজিলত ১ম বর্ষের ছাত্র। ছোটকাল থেকেই চঞ্চল। প্রখর মেধাবী আর কঠোর পরিশ্রমী। মকতব, হেফজ থেকে শুরু করে বোর্ডের আওতাধীন প্রায় সকল ক্লাসেই বোর্ডস্ট্যান্ড করেছে সে। কিন্তু তার মাঝে অহংকারের উপাদান খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ছোট-বড় সকলের সাথে হ্নদয়কাড়া ব্যবহারের মন্ত্রটা খুব যতœকরেই আয়ত্ব করেছে সে। রসিকতার কারণে সহপাঠিদের মাঝে

জীবনের গল্প : অন্ধকার থেকে আলোর পথে -মারজিয়া আক্তার

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

মডার্ণ পরিবারের আধুনিকা মেয়ে মমতা। সে আমার শৈশবের বন্ধু ও বিদ্যালয়ের সহপাঠী। একসাথে যাই, একসাথে ফিরি। তাই আমার সাথে তার বন্ধুত্য ও সখ্যতা বেশ পুরোনো। আমি শৈশব থেকেই সম্পূর্ণ ধর্মীয় অনুশাসনের উপর প্রতিপালিত। সে কারণে স্বাভাবিক ভাবেই পর্দা করাকে আমি নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছিলাম। কিন্তু মমতা এ সবের ধারধারতো না। তার কথা-বার্তা, চলা-ফেরা সবকিছুতেই


Hit Counter provided by Skylight