বিভাগ : জান্নাতে কাফেলা

কা’বার হজের চেয়েও বড় : মুহাম্মদ নূরুন নবী (রৌমারি)

একবার বিখ্যাত হাদিস-বিশারদ আবদুল্লাহ বিন মুবারক রহ. হজের উদ্দেশে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে তিনি দেখতে পান একটি বালিকা আবর্জনার স্তূপ থেকে কী যেনো তুলে নিচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখেন বেচারী আবর্জনার স্তূপ থেকে একটি মরা পাখি তুলে নিচ্ছে এবং দ্রুত কোনোকিছু দিয়ে সেটাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। ইবনে মুবারক রহ. সেখানে থেমে গেলেন এবং বিচলিত হয়ে দরিদ্র

ছড়া-কবিতা

বলতে পারো? মাবরুর গাছে গাছে ফুলের তারা দূর আকাশে চাঁদ সেতারা কে বানালো বলতে পারো? উড়ে বেড়ায় মেঘের পাহাড় প্রাণি-ফসল-শস্যের আহার কে ছড়ালো বলতে পারো? ভোরের আকাশ রঙিন চাদর সূয্যিটাকে জড়িয়ে আদর কে উঠালো বলতে পারো? কাঁঠাল কলা পাকা আমে বিভিন্ন স্বাদ বরই জামে কে ছড়ালো বলতে পারো? মানুষকে কে শ্রেষ্ঠ করে ভালো-মন্দের বিশ্বঘরে কে

বিশটি মূল্যবান উপদেশ

১। কিয়ামত সেই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে যখন পৃথিবীতে আল্লাহর নাম উচ্চারণকারী কেউ থাকবে না। ২। বান্দা যখন মিথ্যা বলে তখন তার মুখের দুর্গন্ধে ফেরেশতা এক মাইল দূরে সরে যায়। ৩। আল্লাহর স্মরণ ও সৎকর্মের জন্য নিয়ামত অপরিহার্য। ৪। প্রয়োজনের একটি সীমারেখা আছে; কিন্তু লোভের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। ৫। সফলতা অর্জনের পূর্বশর্ত হলো সফলতা অর্জনের অনুভূতি

যারা জান্নাতী কাফেলার সদস্য হতে চায়

১৬৩৭. মো. শাকিল আহমদ; পিতা : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম; গ্রাম: চটটিটুয়া; থানা: লালমোহন; জেলা: ভোলা ১৬৩৮. মো. জুনাইদ বিন হাফিজ উল্লাহ; পিতা: হাফিজ উল্লাহ; গ্রাম: দেওরগাছ, ডাক: চুনারুঘাট, জেলা: হবিগঞ্জ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা। ১৬৩৯. মো. সাইফুল ইসলাম; গ্রাম: + পো: অলিপুর বাজার; থানা: হাজীগঞ্জ, জেলা: চাঁদপুর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : জামেয়া ইসলামিয়া মুহাম্মদিয়া,

হিংসা ও তার চিকিৎসা

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

কারো সুখ-শান্তি আরাম-আয়েশ দেখে অন্তরে তার প্রতি কষ্ট ও জ্বালা-পোড়া অনুভব করা এবং তার আরাম-আয়েশ, সুখ-শান্তিরমত নেয়ামতগুলোর বিনাশ কামনা করাকে হিংসা বলে। ইহা সম্পূর্ণ হারাম। হযরত রাসূলে মাকবুল সা. এরশাদ করেন, হিংসা নেকী সমূহকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে যেমনভাবে আগুন খড়কোটা কে জ্বালিয়ে শেষ করে দেয়। অবশ্য এমন ব্যক্তির উপর হিংসা করা জায়েয যে, আল্লাহ তায়ালার

জীবন সায়াহ্নে খলীফা ও আমীরগণের উক্তি

Karbala

     হযরত আমীরে মোয়াবিয়া রা. এর জীবন সয়াহ্নে হযরত আমীরে মোয়াবিয়া রা. -এর মৃত্যু নিকটবর্তী হলে তিনি বলেন- আমাকে বসিয়ে দাও। লোকেরা তাকে বসিয়ে দিল। তিনি তাসবীহ ও যিকির শুরু করে দিলেন। তারপর কেঁদে কেঁদে বললেন: হে মোয়াবিয়া! বার্ধক্য ও ভগ্নদশায় বুঝি আল্লাহ তা আলার যিকিরের কথা মনে পড়ছে? এর সময় তো তখন ছিল, যখন

দ্বীনের জন্য মেয়েদের কোরবানী

বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। এদেশে বসবাসরত ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমন। প্রতিদিন সুবহে সাদিকের সময় লক্ষাধিক মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়। আজানের ধ্বনি শুনে মুসলমানদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সমবেত হয় মসজিদে, এক সাথে আল্লাহর কুদরতি পায়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। ইসলামের এ সুমহান আদর্শ দেখে বিজাতীরা ১৪শত বছর পূর্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। মুসলমানদের অস্তিত্ব পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য নানারকম ষড়যন্ত্রের পথ তারা বেছে নিয়েছিল। কিন্তু তারা সফলতার মুখ দেখেনি। প্রায় দেড় হাজার বছর পর আজও এ ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তবে কালের বিবর্তনে তাদের ষড়যন্ত্রের কৌশলের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান যুগকে আধুনিকতার শীর্ষ যুগ বলা হয়। মিডিয়াসহ নানারকম কৌশলের মাধ্যমে তারা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ঈমানকে ধংস করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাদের এ কৌশল অনেকটা সফলতার দারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তারা মুসলমানদের অন্তর থেকে ঈমানের নূরকে বিদূরিত করে নাস্তিক্যবাদ ঢুকিয়ে দিয়েছে। একজন মুসলিম সন্তানের কলম থেকে ইসলামের পক্ষে, বাতিলের বিরুদ্ধে লেখা আসবে। কিন্তু আফসোস! আজ তারই কলম বাতিলের পক্ষে এবংহকের বিরুদ্ধে কথা বলছে। সেসব নাস্তিকদের লেখা পড়ে সরলমনা মুসলমানদের ঈমানের প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। দিন দিন বাংলার বুকে নাস্তিকদের আবাস বেড়েই চলছে। একদল নামধারী লেখকদের কু-রুচিপূর্ণ লেখা এবং মিডিয়ায় অশ্লীল ছবির ছড়াছড়িতে আজ যুব সমাজ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। মানুষের মনুষ্যত্ববোধ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, ঘর থেকে বের হলেই স্পষ্ট বুঝা যায়। পার্ক, উদ্যানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে বিবেকবান মানুষের প্রবেশ অনেকটা দুর্লভ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এসব স্থানের পরিবেশ স্বামী-স্ত্রীর একান্ত বাসকেও হার মানায়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বাংলার বুকে অশ্লীল, বেহায়াপনা কাজের নিন্দা জানানোর কোন লোক খুজে পাওয়া যাবে না। মুসলমানদের এ চরম সংকটময় মুহুর্তে একদল সাহসী ওলামায়ে কেরাম ও একনিষ্ট ধার্মিক মানুষ কলমের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন। অনেক বাঁধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে সম্মুখপানে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলার বুকে বেশ কয়েকটি ইসলামী পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। এসব পত্রিকাগুলোতে বর্তমান পেক্ষাপটে কুরআন-হাদীসের আলোকে ইসলামের সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয়। যাতে করে বাংলার প্রতিটি মুসলমান খুজে পায় সরল পথের দিশা। ইসলামী পত্রিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পত্রিকা মাসিক “আল-জান্নাত”। গত এক বছর যাবত আমি পত্রিকাটি পড়ছি। পত্রিকার প্রচ্ছদ এবং তথ্যবহুল লেখা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি এমন একটি পত্রিকা প্রতিটি মুসলমানের পঠন অপরিহার্য। কারণ, মিথ্যা, অশ্লীল কথা ও ছবির ছড়াছড়িতে বাজার যখন গরম, তখন ইসলামী পত্রিকাই একজন মুসলমানের জন্য সঠিক তথ্য পাওয়ার একমাত্র সম্বল। ইসলামী পত্রিকার মাধ্যমে একজন মানুষ খুঁজে পেতে পারে তার জীবনে চলার পথের পাথেয় এবং সোনালি ভবিষ্যৎ। সত্য, ন্যায়ের মশালবাহী ওলামায়ে কেরাম ও ধর্ম পিপাসু লোকের মেহনত আল্লাহ যেন কবুল করে বাংলার যমীন থেকে নাস্তিক্যবাদকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেন। সদা এই কামনাই করি। পাঠিয়েছে : রুম্মান বিন আল মামুন, আল জামিআ ইসলামিয়া মদীনাতুল উলুম, ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকা।

   ১.সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন- হযরত খাদিজা রা. ২.দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বপ্রথম বেশি ধন সম্পদ ব্যয় করেছেন- হযরত খাদিজা রা. ৩. ইসলামের জন্য সর্ব প্রথম শহীদ হয়েছেন- হযরত সুমাইয়া রা. ৪.সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিছাহ ছিলেন- হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রা. ৫.দ্বীনের জন্য সীমাহীন কষ্ট করেছেন হযরত আছিয়া রা. [ফেরাউনের স্ত্রী]

অহীর প্রারম্ভিক কিছু পূর্বাভাস

quran

কুরআন নাযিলের ছয় মাস আগে থেকেই আল্লাহ তায়ালা মোহাম্মদ সা. কে স্বপ্নের মাধ্যমে এ মহান কাজের জন্য প্রস্তুত করে নিচ্ছিলেন। ইতিহাসের প্রমাণ অনুযায়ী প্রথম ওহী এসেছিল রমযান মাসের ২১ তারিখ সোমবার রাত্রে। মোহাম্মদ সা. এর বয়স ছিল তখন ৪০ বছর ৬ মাস ১২ দিন। হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী সা.এর উপর ওহী

কুরআন বিষয়ক বিশেষ জ্ঞান

quran

কুরআন লিপিবদ্ধকরণ যখন থেকে কুরআন নাযিল শুরু হয়, সেদিন থেকেই আল্লাহর রাসূল তা লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য পারদর্শী সাহাবীদের নিযুক্ত করেন। হযরত যায়দ বিন সাবেত রা. ছাড়া আরো ৪২ জন সাহাবী এ কাজে নিযুক্ত ছিলেন। এ সম্পর্কে রাসূল সা. বলেন, তোমরা আমার কাছে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লেখো না। মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত কুরআন

হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীগণ

selectepost

হাদীস সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও শিক্ষাদানের ওপর নির্ভর করে মোহাদ্দেসগণ সাহাবাদের চার ভাগে বিভক্ত করেছেন- মুকছিরীন, মুতাওচ্ছেতীন, মুকিল্লীন ও আকাল্লীন। মুকছিরীন: যে সমস্ত সাহাবা এক হাজার বা ততোধিক হাদীস শিক্ষা দিয়েছেন তাদেরকে বলেন মুখছিরীন। মুতাওয়াচ্ছেতীন: যে সমস্ত সাহাবা পাচশত বা ততোধিক তবে তা এক হাজারের কম হাদীস শিক্ষা দিয়েছেন তাদেরকে মুতাওয়াচ্ছেতীন বলে। মুকিল্লীন: যে সমস্ত সাহাবা

সর্বনাশা ইয়াবা : মোহাম্মদ আজমুলুয়াদ

quran

শোভন,  পিতা-মাতার শোভনীয় ছেলে। একমাত্র বলে মা-বাবার চোখের মণি। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ছেলেকে কোন আয়োজনই বাদ দেননি চাকরিজীবি মা-বাবা। শোভন অধ্যয়নের জন্যে একাগ্রচিত্ত। সামাজীকরনের প্রথম ধাপ পাড়ি দিয়ে সবে মাত্র সে দ্বিতীয়তে পৌঁছেছে। নিঃসঙ্গ জীবনের তিক্ত সময় কাটানোর জন্য স্কুল প্রাঙ্গনে তার জুটেছে কয়েকজন বন্ধু। শোভন জানে না তার সদ্য পরিচিত বন্ধুগুলোর প্রশংসনিও চরিত্র

অহংকারের দুনিয়াবী কুফল : এইচ,এম আব্দুল্লাহ আল মাসউদ

Jahannam

অহংকার অর্থ হল, উত্তম গুনাবলীর ব্যাপারে নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় মনে করা এবং অন্যদেরকে ছোট ও তুচ্ছ জ্ঞান করা। হাদীস শরীফে অহংকারের সংজ্ঞা এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘‘অহংকার হচ্ছে হক অস্বীকার করা এবং মানুষদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা”। অহংকারে দুনিয়াবী কুফল আখেরাতের ব্যাপারে আমাদের উদাসীনতা ও অবিশ্বাস আর দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্কতা ও গুরত্ব দ্বারা বাহ্যিক ভাবে

রাসুল সা. -এর তাবুক অভিযান

Upnnas

মুসলমানদের তাবুক অভিযান নবম শতাব্দীর একটি স্মরণীয় ঘটনা। রোম সম্রাটরা বহু আগে থেকেই আরব দেশ জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন। হোদায়বিয়ার সন্ধির পর বাইজানটাইন স¤্রাট হেরাক্লিয়াসের কাছে ইসলামের বাণীসহ দূত প্রেরিত হয়েছিল। হেরাক্লিয়াস মুসলিম দূতকে পরম সমাদরে গ্রহণ করলেও আরবদেশ জয়ের আশা পরিত্যাগ করতে পারেননি। মোহাম্মদ সা.-এর নেতৃত্বে মক্কা, তায়িফ ও হুনায়নে ইসলামের বিজয়বার্তা ঘোষিত হলে তিনি

আল্লাহর প্রেমে বিভূর এক বাদীর বিষ্ময়কর ঘটনা

5853313-kaaba-mecca-saudi-arabia

বিয়ে: বয়স ঠিক যখন ২১ হয়ে গেল তারপরই তার বাবা-মা ছেলে দেখা শুরু করলেন। কিছু দিনের মধ্যে এক ছেলেও মিলে গেল। ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, বিরাট অংকের বেতনে একটি কোম্পানিতে চাকরি করে। বাবা-মা রাজি হলেও ফাতেমার দ্বীমত থাকায় ওই ছেলের সাথে বিয়ে হয়নি। শেষমেষ বাবা-মা একজন কুরআনে হাফেজকে বিয়ের জন্য তাদের ফাতেমার সম্মতি জানতে চাইলেন। ফাতেমা

ফ্যাশন বনাম নগ্নতা : কামরুল ইসলাম

Porda

বর্তমান যুগে ফ্যাশন বলে যা মার্কেটে আছে, তা পোষাকের আসল উদ্দেশ্য কে ব্যাহত করেছে। পুরুষ এবং মহিলার মাঝে এমন পোষাকের প্রচলন ঘটেছে যে, শরীরের কোন অংশ খোলা থাকে, আর কোন অংশ ঢাকা থাকে, এ ব্যাপারে কোন খবর রাখেনা। আজ-কালের পোষাক হয়তো এমনই শর্টকার্ট যে, শরীরের অনেক অংশই খোলা থেকে যায়। কিংবা জালের মত এতো পাতলা

মৃত দেহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর -মামুনুর রশীদ

Mritto

আল্লাহ তাআলা বেহেশতি রুমণীদেরকে সব রকমের ক্লেদ থেকে পবিত্র রেখেছেন এবং এদের অধিকার হবে তারাই যারা পবিত্র থাকবে পার্থিব পাপ পঙ্কিলতা থেকে। এ কারনে হযরত রাসূলে কারীম সা. আমাদেরকে বারবার সতর্ক করেছেন আমরা যেন আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বেচেঁ থাকি। কবীরা গোনাহ থেকে হারাম উপার্জন থেকে সদা যেন আমরা বিরত থাকি। কিন্তু আমরাতো এতটা নির্বোধ! সদা

আল্লাহর অপরূপ সৃষ্টি

Zikra

গতিময় এই সৃষ্টি জগত আল্লাহ তাআলার অবদান। বিশ্ব জাহান তিনিই সৃষ্টি করেছেন। আমি মানুষ, আপনিও মানুষ। আর এই যে আমাদের শক্তি সাহস বুদ্ধি ইত্যাদি এগুলো অর্জন করতে আমাদের কি কোন কিছু ব্যয় করতে হয়েছে? আমরা সকলেই একত্রিত হয়ে কি আল্লাহর কাছে দরখাস্ত দিয়েছিলাম? আল্লাহ আমাদের কে মানুষ হিসাবে সৃষ্টি করেন? নাকি কোন আন্দোলনের ফলে আমাদের

পবিত্র কুরআন থেকে জ্ঞান

ss copy

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ক’জন নবীর বয়স: হযরত আদম আ. -১০০০ বছর হযরত নূহ আ.   ৯৫০ বছর হযরত শুয়াইব আ. -৮৮২ বছর হযরত সালেহ আ. -৫৮৬ বছর হযরত যাকারিয়া আ. -২০৭ বছর হযরত ইবরাহীম আ. -১৯৫ বছর হযরত সুলাইমান আ. -১৫০ বছর হযরত ইসমাঈল আ. -১৩৭ বছর হযরত ইয়াকুব আ. -১২৯ বছর হযরত মুসা আ. –

অধিক হাদীস মুখস্তকারী কয়েকজন মুহাদ্দিস

Islamic_Books

  মুহাদ্দিসগণের নাম                        মুখস্ত হাদীসের সংখ্যা ১.ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন             ১০,০০০০০ টি ২.ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল               ১০,০০০০০ টি ৩.ইমাম আবুজুর ’আ                       ৭,০০০০০ টি ৪.ইমাম আবু দাউদ সিজিস্থানি              ৫,০০০০০ টি ৫.ইমাম বুখারী                              ৩,০০০০০ টি ৬.ইমাম মুসলিম                             ৩,০০০০০ টি ৭.ইমাম ইসহাক ইবনে

কুরআন বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

– কুরআনের প্রথম মুফাসসের হচ্ছেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.। – কুরআনের প্রথম সংকলন হচ্ছেন হযরত ওসমান গণী রা.। – কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক হচ্ছেন মাওলানা আমীর উদ্দীন বসুনিয়া। নিচে কয়েকজন বিশিষ্ঠ ওহী লেখকের নাম দেয়া হলÑ ১. হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. ২. হযরত ওমর বিন খাত্তাব রা. ৩. হযরত ওসমান বিন আফফান রা. ৪.

আল্লাহর কুদরতের বিস্ময়কর বিকাশ

মাওলানা রুকন  উদ্দীন : আমরা সকলেই জানি আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা এবং সকল বান্ডারের মালিক মহান প্রভু। তারপরও কি কোন একটি বার আল্লাহর এই নেয়ামত রাজিগুলো নিয়ে চিন্তা করেছি, ভেবে দেখেছি আমাকে এতো সুন্দর করে কে সৃষ্টি করেছে ? আর কেনই বা সৃষ্টি করেছে ? প্রত্যেক জিনিস তৈরির পিছনে কোন না কোন কারণ তো অবশ্যই


Hit Counter provided by Skylight