বিভাগ : ডিসেম্বর 15

সম্পাদকীয় : রবিউল আউয়াল মাস উম্মতের করণীয়

Sampadokia-150x150

সকল প্রশংসা ও শ্রেষ্ঠত্ব মহান আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক। অজস্র দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয়নবী মোহাম্মদ সা.-এর প্রতি। কুরআন-সুন্নাহর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আল্লাহ তায়ালা কিছু ইবাদতকে তারিখের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন আর কিছু ইবাদতকে জুড়ে দিয়েছেন দিনের সঙ্গে। তারিখের সঙ্গে স¤পৃক্ত ইবাদতের ক্ষেত্রে দিন কোনটি হচ্ছে, তা দেখার বিষয় নয়। যেমন হজের নির্ধারিত তারিখ

রাসূল সা. -এর অনুপম আদর্শ ও আমাদের অবস্থা : মুফতি আব্দুল মুকিত

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহর রাসূলের মধ্যে আছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ, যারা আাল্লাহকে চায়, আখেরাত দিবসের কামনা করে ও আল্লাহকে বেশী স্মরণ করে। [সূরা আহযাব : ২১] অন্য স্থানে আল্লাহ বলেন, কলম ও যে জ্ঞান তারা লেখেন তার শপথ, আপনি আপনার প্রভুর অনুগ্রহে পাগল নন। নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী। [সূরা নূন : ১-৪] জ্ঞানের

আমলের বিনিময়ে জান্নাতীদের জান্নাতে অবস্থান : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

al-jannatbd.com, আল জান্নাত । মাসিক ইসলামি ম্যাগাজিন, al-jannatbd.com, quraner alo, মাসিক জান্নাত, islamer alo, www.al-jannatbd.com, al-jannat, bangla islamic magazine, bd islam, islamic magazine bd, ব্লগে জান্নাত, জান্নাতের পথ, আল জান্নাত,

সর্বনি¤œ জান্নাতীর অবস্থান হযরত মুগিরা ইবনে শোবা রা. নবী কারীম সা. থেকে ইরশাদ করেন- হযরত মুসা আ. আল্লাহর কাছে জানতে চাইলেন যে, জান্নাতে সর্বনি¤œ জান্নাতী কে হবে? আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ ফরমান, জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশের পর সর্বশেষ এক ব্যক্তি এলে আল্লাহ পাক আদেশ করবেন তুমিও জান্নাতে চলে যাও। সে আরয করবে, হে আল্লাহ! লোকেরা নিজ নিজ

দেশ সাধীনতায় আলেম মুক্তি যুদ্ধা : তুহফা বিনতে আব্দুল কাইয়ুম

Sadinota

স্ব-অধীনতা থেকে স্বাধীনতা শব্দের উৎস যার অর্থ নিজের অধীনে হওয়া। অন্য কথায় নিজের ইচ্ছা অভিপ্রায় অনুযায়ী চলা। কিন্তু প্রকৃতার্থে কোন মানুষই স্বাধীন নয়। তাকে স্রষ্টার অধীনে থাকতে হয়। আবার নিজের স্বাধীনতা ভোগ করতে গিয়ে অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করাও স্বধীনতা বিরোধী কাজ। তাই মানুষ ইচ্ছে করলেই তার সকল কাংখিত জিনিস অর্জন করতে পারে না। পারে না

বিশ্ব নবীর স্বর্ণালি শৈশব : মুফতি আবু সালেহ আহমদ

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

হযরত মুহাম্মদ সা. একটি নাম, একটি জীবন, একটি বিপ্লব, একটি আদর্শ। পৃথিবী আজ অবদি কতো মহামানব, মহামণীষী, যুবক, শিশুর-কিশোরের মুখ দেখেছে; কিন্তু নবী মুহাম্মদ সা. শুধু একজনই দেখেছে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যার জীবন ছিল পাপ-পঙ্কীলতা মুক্ত। যেমন আকর্ষণীয় ছিল তার যৌবনকাল, তেমনি চমকপ্রদ ছিল তার শৈশবকাল। বরকতময় জন্মগ্রহণ রাসূলের জন্মের আগে সাঙ্গ হয় আবরাহার

মৃত্যু-পরবর্তী জীবন : মমিনুল ইসলাম মোল্লা

clr-flowerback.jpg

কুরআনের বর্ণনানুযায়ী হযরত ইসরাফিল আ. শিঙ্গায় মুখ লাগিয়ে আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এটি এমন এক শিঙ্গা যার আওয়াজে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সবাই মৃত্যুবরণ করবে। তবে এসময় ফেরেস্তাগণ জীবিত থাকবেন বলে জানা যায়। শিঙ্গায় প্রথমবার ফুঁক দেয়ার পর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। তারপর আবার ফুৎকার দিলে সবাই জেগে উঠবে। এ ফুৎকারের ব্যবধান কত বছর তা কেউ

মহানবী সা. এর বিনম্র জীবনাচরণ : মুহাম্মদ আব্দুল মুনিম খান

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

বিনয়ের মূর্তপ্রতীক ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা.। পৃথিবীবাসীর একটা স্বাভাবিক পদ্ধতি হলো উঁচুশ্রেণীর লোকেরা নিচু শ্রেণীর লোকদের সাথে উঠাবসা করতে চায় না। অভিজাত শ্রেণীর লোকেরা সাধারণ মানুষের সাথে উঠাবসা করাকে অপমান মনে করে থাকে। কিন্তু রাসূল সা. এর কাছে এসব কিছুই ছিল না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. ছিলেন মানবজাতির অনুকরণীয় ও অনুস্মরণীয় মহান উদার,

ফরজ গোসল কিভাবে করবেন : মুফতি আব্দুল্লাহ নোমান

Biye

ইসলামের যাবতীয় হুকুম-আহকাম পালন পবিত্রতার উপর নির্ভর করে। এ জন্য পবিত্রতাকে ঈমানের অঙ্গ বলা হয়েছে। এখানে পবিত্রতা বলতে জাহেরী ও বাতেনী উভয় প্রকার নাপাকী হতে পবিত্র হওয়াকে বুঝানো হয়েছে। পবিত্রতার ফজিলত ও উপকারিতা অনেক। কুরআন মাজিদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীকে ভালবাসেন।’ [সূরা বাকারা]। রাসূল সা. এরশাদ করেন, ‘যখন কোনো

মোহর : নারীর অপরিহার্য অধিকার : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

Biye

ইসলামের যে বিধানগুলো আল কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে তার অন্যতম হলো স্ত্রীর মোহর। বিয়ের কারণে নারীর সতীত্ব রক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের খাতিরে ইসলাম স্বামীর উপর যে অর্থনৈতিক যিম্মাদারী আরোপ করেছে। তারই নাম মোহর। কুরাআন হাদীসে কোথাও একে “সিদাক” শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে কোথাও বা আবার অন্য শব্দে। কত প্রসঙ্গে কত ভাবে যে মহাপ্রজ্ঞাময়

মহানবী সা. এর মহানুভবতা : উবায়দুল হক খান

মক্কা বিজয়ের দিন মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করছেন তাঁর প্রিয় জন্মভূমিতে। সাথে হাজার হাজার সাহাবী, সবাই আনন্দিত। ছেড়ে যাওয়া মক্কা নগরীতে ফিরে আসতে পেরে আনন্দে আত্মহারা মুহাজিরগণ। খুশিতে মন দুলছে আনসার সাহাবীদেরও। বিজয়ের ধ্বনি সবার কন্ঠে। মক্কার কাফিররা কত কষ্ট দিয়েছে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর প্রিয় সাহাবীদেরকে। তাদেরকে নিজ দেশ

পশ্চিমা আধুনিক নারীরা কেন ইসলাম গ্রহণ করছে? : মুহাঃ ইউসুফ আহমাদ

Porda

ইসলামে নারীকে কোন মর্যাদা দেয়া হয়নি, উত্তরাধিকার সহ নানা ক্ষেত্রে নারীকে ইসলামে বঞ্চিত করা হয়েছে- এ মর্মে যখন সারা বিশ্বে বিশেষ করে পশ্চিমা মিডিয়াতে ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তখনই খুবই বিস্ময়করভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, পশ্চিমা বিশ্বেই সবচেয়ে বেশী সংখ্যক অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে। ফলে ইসলাম এখন পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রত বর্ধনশীল ধর্ম

পারিবারিক জীবনে রাসূল সা. -এর আদর্শ : মাওলানা আব্দুর রব

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

রাসূলের পারিবারিক জীবন প্রতিটি মানুষ আল্লাহর গোলাম বা দাস। জীবনের সকল স্তরে এই দাসত্ব বজায় রাখাটাই মানব জীবনের সার্থকতা। মানব জীবনে অনেকগুলো স্তর পার হতে হয়। যেমন, শৈশবকাল, কৈশোরকাল, যৌবনকাল ও পারিবারিক জীবন ইত্যাদি। পারিবারিক জীবনে প্রবেশ করার মাধ্যমেই মানুষের পূর্ণতা ঘটে। মানব জীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিল পারিবারিক সূত্রের পথ ধরেই। যে পরিবারের প্রথম বিন্যাস

গাড়িওয়ালা : মেহেরুন নেসা

3 Taka Horse Ride_ Dhaka Zoo_ Mirpur

আমার গরুর গাড়ি চলে ধীরে ধীরে, কাস্তুল হতে আটগাঁও মানুষ বহন করে। রোদ বৃষ্টি দিন রাত আমার গাড়ি আছে, বিপদ হলে যে কোনো জন পায় যে আমায় কাছে।..  .. রজব আলী মনের অজান্তেই এই গান ধরেছে। গরুর জোয়ালের পাশে বসে। এখন দ্বিপ্রহর। বাম হাতে একখান ছাতা। বেশ পুরনো।  হাতলটা কাঠের।  ডান হাতে গরু চড়ানোর ছোটকা।

ঝাড়-ফুকেঁর শরীয়ত সম্মত বিধান পর্ব-২ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

Islamic_Books

গত সংখ্যায় আলোচনা করা হয়েছে বদ নযর, যাদু ও তদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। এ সংখ্যায় আরো কিছু বিষয় আলোচনার পর এগুলোর প্রতিক্রিয়া অবসানে কি কি করনীয় এবং তার চিকিৎসা কিভাবে করা হবে তার আলোচনার দাবী রাখে। যাদুকর ও ভেল্কীবাজদেরকে চেনার উপায় যাদুকর বা বেল্কীবাজ রোগী এবং তার বাবা-মা’র নাম জিজ্ঞেস করবে। অথচ নাম জানা ও

হযরত ইউসুফ আ. এর স্বপ্ন :মাওলানা ইয়াসিন হোসাইন

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ইউসুফ তার পিতাকে বলেছিল, হে আমার পিতা! আমি এগারটি নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রকে দেখেছি। দেখেছি তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়। সে বলল, আমার পুত্র! তোমার স্বপ্ন বৃত্তান্ত তোমার ভাইদের নিকট বর্ণনা করো না; করলে তারা তোমার বিরুদ্ধে ষড়ষন্ত্র করবে। শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। এ ভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন

দেশ বিদেশের খবর

amardesh

স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে অবিচল বাংলাদেশ পূর্ব জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে বাংলাদেশের ‘দৃঢ় প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার ‘প্যালেস্টাইনি জনগণের সঙ্গে সংহতির আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এক বাণীতে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য সংগ্রামে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ

Kabita

 [কুরসীর ছায়ায়] সৈয়দা সুফিয়া খাতুন : আল্লাহ তোমার কুরসীর নিচে দিও আমায় ঠাই বারে বারে আমি যেন দেখতে পারি, তোমার মহিমা চাইনা দোযখ চাইনা বেহেশত, চাই শুধু তোমার ভালোবাসা। ঝিনুক যেমন মুক্তা রাখে সুরক্ষা করে তেমনী করে তুমি আমায় রেখেছো যতন করে, আমার হৃদয়ের মাঝে তুমি ছাড়া অন্য কেহ নাই। আখেরাতে যেয়ে যেন তোমার দেখা

প্রশ্ন উ্ত্তর

Sowal Jowab

ফায়জুর রহমান , ত্রিশাল প্রশ্ন: এক শ্রেণীর মানুষ নবী কারীম সা. কে মানুষ মনে করে না। তারা মনে করে, নবী কারীম সা. আল্লাহ তা‘আলার জাতী নূরের তৈরি আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। এদের এরূপ আকীদা বিশ্বাসের ব্যাপারে শরয়ী বিধান কি? উত্তর: নবী কারীম সা. যে মানুষ ছিলেন, এটা কুরআনের অনেক আয়াত ও স্বয়ং রাসূলে আকদাস সা.- এর

সর্বনাশা ইয়াবা : মোহাম্মদ আজমুলুয়াদ

quran

শোভন,  পিতা-মাতার শোভনীয় ছেলে। একমাত্র বলে মা-বাবার চোখের মণি। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ছেলেকে কোন আয়োজনই বাদ দেননি চাকরিজীবি মা-বাবা। শোভন অধ্যয়নের জন্যে একাগ্রচিত্ত। সামাজীকরনের প্রথম ধাপ পাড়ি দিয়ে সবে মাত্র সে দ্বিতীয়তে পৌঁছেছে। নিঃসঙ্গ জীবনের তিক্ত সময় কাটানোর জন্য স্কুল প্রাঙ্গনে তার জুটেছে কয়েকজন বন্ধু। শোভন জানে না তার সদ্য পরিচিত বন্ধুগুলোর প্রশংসনিও চরিত্র

অহংকারের দুনিয়াবী কুফল : এইচ,এম আব্দুল্লাহ আল মাসউদ

Jahannam

অহংকার অর্থ হল, উত্তম গুনাবলীর ব্যাপারে নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় মনে করা এবং অন্যদেরকে ছোট ও তুচ্ছ জ্ঞান করা। হাদীস শরীফে অহংকারের সংজ্ঞা এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘‘অহংকার হচ্ছে হক অস্বীকার করা এবং মানুষদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা”। অহংকারে দুনিয়াবী কুফল আখেরাতের ব্যাপারে আমাদের উদাসীনতা ও অবিশ্বাস আর দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্কতা ও গুরত্ব দ্বারা বাহ্যিক ভাবে

রাসুল সা. -এর তাবুক অভিযান

Upnnas

মুসলমানদের তাবুক অভিযান নবম শতাব্দীর একটি স্মরণীয় ঘটনা। রোম সম্রাটরা বহু আগে থেকেই আরব দেশ জয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন। হোদায়বিয়ার সন্ধির পর বাইজানটাইন স¤্রাট হেরাক্লিয়াসের কাছে ইসলামের বাণীসহ দূত প্রেরিত হয়েছিল। হেরাক্লিয়াস মুসলিম দূতকে পরম সমাদরে গ্রহণ করলেও আরবদেশ জয়ের আশা পরিত্যাগ করতে পারেননি। মোহাম্মদ সা.-এর নেতৃত্বে মক্কা, তায়িফ ও হুনায়নে ইসলামের বিজয়বার্তা ঘোষিত হলে তিনি


Hit Counter provided by Skylight