বিভাগ : ডিসেম্বর-14

সম্পাদকীয় : রবিউল আউয়াল আমাদের কর্তব্য

Sampadokia-150x150

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং শান্তি বর্ষিত হোক মুহাম্মদ সা. ও তার সাহাবীদের উপর। আল্লাহ তাআলা কিছু ইবাদতকে জুড়ে দিয়েছেন তারিখের সঙ্গে।  নির্দিষ্ট তারিখেই সেই ইবাদত পালিত হবে। যেমন হজ্জের নির্ধারিত তারিখ হচ্ছে ৯জিলহজ্জ। রোযার সম্পর্কও তারিখের সঙ্গে। রমযানের প্রথম তারিখ থেকে রোযা শুরু হবে। ঠিক প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের নফল রোযার

মুসলিম উম্মাহর একমাত্র জীবন ব্যবস্থা আল কুরআন : মাওলানা নূর হোসাইন

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

পূর্ব প্রকাশিতের পর… সূরা কোন কোন মুফাস্সীর-এর মতে, সূরা শব্দের অর্থ হল অতিরিক্ত পানীয়, কুরআনের অংশ, শহর বেষ্টনী, চিহ্ন, নিদর্শন, উচ্চস্থান, মর্যাদা, দীর্ঘ ও সুরম্য প্রাসাদ। ইমাম জাবরী রহ.-এর মতে- সূরা হল যা কুরআনের কতগুলো আয়াতকে শামিল করে যার শুরু এবং শেষ রয়েছে এবং তার নিম্নসংখ্যা হল তিন আয়াত। আল্লামা সাইয়্যেদ আমীনুল ইহসান রহ.-এর মতে-সূরা

সংকলনে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

324366886_59d464eef3

জান্নাতের আখাঙ্খী যেন পরিশ্রম করে হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন : নবী করীম সা. ইরশাদ ফরমান Ñ আমি জান্নাতের এমন কোন দৃষ্টান্ত দেখি নাই যার আকাঙ্খী শুয়ে থাকে। আর না আমি জাহান্নামের এমন দৃষ্টান্ত দেখেছি যে উহা থেকে আত্মরক্ষাকারী শুয়ে আছে। হযরত উমর রা. বলেন, জনাব নবী করীম সা. এরশাদ ফরমানÑজান্নাতে সে ব্যক্তিই প্রবেশ করবে

তিনি ছিলেন একজন সফল রাষ্ট্র নায়ক : মাওলানা আলী উসমান

jashn_e_eid_milad_un_nabi_01_by_sheikhnaveed-d38ebik

পৃথিবীতে যত মহামানব অতিবাহিত হয়েছেন তাদের কৃতিত্ব, কর্মদক্ষতা, জ্ঞান গরিমা, শিষ্টাচার, শিক্ষা দিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুনা কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যে সব গুণাবলির ভিত্তিতে  কোনো মানবকে আদর্শ, সফল মানব হিসেবে পরিগণিত করা হয়, সেই সব গুণের নিরিখে বিশ্বের কোনো কোনো মানব কোনো কোনো দেশে কিঞ্চিৎ কিংবা আংশিকভাবে সফল হলেও তাদের কেউ-ই আদর্শ মানব হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে

সূরা ফাতিহার ডাক : সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.

quran

প্রিয় পাঠকবৃন্দ! সূরা ফাতিহা সম্পর্কে একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন। কারণ, সূরা ফাতিহা আসমানি মুজিযাসমূহের মধ্যে একটি অদ্বিতীয় ও মণি-মুক্তাতুল্য মুজিযা। গোটা পৃথিবীর সকল বুদ্ধিজীবী, নামিদামি সব কবি-সাহিত্যিক, সুবিখ্যাত মনস্তত্ববিদ, প্রখ্যাত সমাজসংস্কারক, এবং সকল আধ্যাত্মিক নেতৃবৃন্দ সহ পৃথিবীর বিখ্যাত সাহিত্যিকগণও যদি সমবেত হন যে, তারা এমন একটি সূরা রচনা করবেন যেই সূরার ওপর সর্বস্তরের মানুষ নিজেদের

সমাজ সংস্কারক মহানবী সা. : উবায়দুল হক খান

selectepost

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আবির্ভাবের পূর্বে আরব সমাজের ধর্মীয়, সমাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। তখন মানবতা ছিল ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত। সেই অজ্ঞতার যুগে মানুষের ছিলনা কোন সামাজিক অধিকার। মানুষ ভুলে গিয়েছিল তাদের সৃষ্টির মহান উদ্দেশ্য। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর লেগে থাকতো যুদ্ধবিগ্রহে। তখন নারীজাতির ছিলনা কোন সামান্যতমও

অলৌকিক কুরআন ও সালোক-সংশ্লেষণ : মূল: হারূন ইয়াহিয়া

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

“শপথ রাতের, যখন তার অবসান ঘটে, এবং শপথ প্রভাতের যখন তা শ্বাস গ্রহণ করে।” [সূরা তাকভীর ৮১: ১৭-১৮] গাছপালা যখন সালোক-সংশ্লেষণে অংশ নেয় তখন কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। এই কার্বন-ডাই-অক্সাইড হলো এক প্রকার গ্যাস যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে, সালোক-সংশ্লেষণের সময় গাছপালা যে অক্সিজেন ত্যাগ করে তা আমরা নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করি। এই অক্সিজেন হচ্ছে আমাদের

যেমন ছিলেন আমাদের নবী : মাওলানা আবু হানিফা

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

জন্মপূর্ব ও মহানবীর শুভাগমন সায়্যিদুল মুরসালীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন, হযরত মুহাম্মদ সা. এর জীবনী মূলত ঐ বার্তাগুলোর নাম যেগুলো তিনি মানবজাতির হেদায়েতের জন্য নিয়ে এসেছিলেন এবং মানুষকে তিনি হাতে কলমে সেগুলো বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তার প্রতিটি কথা ও কাজ ইশারা ও সমর্থন এর অন্তর্ভূক্ত। যার দ্বারা তিনি মানব জীবনের চলার গতিপথকে পাল্টে দিয়েছিলেন, পুরোনা দাড়িপাল্লার জায়গায় নতুন

ইসলাম ও নারীর কর্মসংস্থান : নাজমা সুলতানা

ship2

নারী ও পুরুষ অখণ্ড মানব সমাজের দু’টি অপরিহার্য অঙ্গ। এই দু’টি অঙ্গই একে অপরের পরিপূরক। এর কোনটিকে বাদ দিয়ে সমাজ গঠিত হয়না। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, নারী-পুরুষের সুষম উন্নয়ন তথা সমাজ প্রগতিতে নারীর ভূমিকা কোথায় এবং কতটুকু? নারী অর্ধেক মানবতা। পুরুষ মানবতার মাত্র একাংশের প্রতিনিধি, অপর অংশের প্রতিনিধিত্ব করে নারী। তাই নারী সমাজকে বাদ দিয়ে

মাদকের ভয়াবহতা ও তার প্রতিকার : মাওলানা আব্দুস সাত্তার

Madok

নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভবান ব্যবসা ও বেশি আলোচিত বিষয়। বিশেষ করে ফেনসিডিল ও ইয়াবা সহজলভ্য ও বহনযোগ্য বলে এর বিস্তার দেশজুড়ে। দেশের এমন কোনো উপজেলা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মাদকের থাবা নেই। দেশজুড়ে এক বিশাল জাল বিস্তার করে আছে এই মরণ নেশার ভয়াবহ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র মাফিয়াদের সঙ্গে রয়েছে

হাদীস ও ফেকাহ শাস্রবিদ ইমাম আবু হানীফা রহ. : মাওলানা জামাল উদ্দীন রাহমানী

al-jannatbd

শেষ পর্ব সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা ইমাম আবু হানীফা রহ. এর পৌত্র ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার পিতামহ নুমান হিজরী ৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন, আমার প্রতিতামোহ সাবেত তাকে নিয়ে যখন হযরত আলী রা. এর কাছে নিয়ে যায়। তখন তিনি [আবু হানীফ] ছিলেন ছোট। তখন আলী রা. তার ও তার পরবর্তী বংশধরের জন্য দোআ

লজ্জাশিলতা ঈমানের অঙ্গ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

2232800607_64943c72fa

একটি সুন্দর সমাজ ব্যক্তিকে ভালো বা মন্দ বানাতে পারে। এজন্য পরিবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব সমাজকে সুন্দর করা। উঠতি বয়সের একটি ছেলে বা মেয়ে চারিদিকে যা দেখে সেভাবেই নিজেকে গড়তে চায়। টি.ভি চ্যানেলে যা দেখে নিজের বাস্তব জীবনকেও সেভাবে ভাবে বা সেভাবেই জীবন যাপন করতে চায়। অর্থাৎ মেকাপ পোশাক, চাল-চলনে ঐরকম অনুসরণ করতে চায়। তার তো

ইতিহাসের টুকরো কাহিনী : মাও. মোহাম্মদ সফিউল্লাহ

ঈমান যখন জাগলো আব্বাসী খেলাফতের এক প্রতাপশালী খলীফা নাম তার মুকতাদির। আব্দুল্লাহ আল কাতির নামক তার এক মন্ত্রী ছিল। সে খলীফার খুবই আস্থাভাজন ও প্রিয়ভাজন ব্যাক্তি ছিল। খলীফা মাঝে মাঝেই তাকে বড় বড় উপহার উপঢৌকন দিতেন। সে এগুলো সঞ্চয় করে রাখত। সঞ্চিত অর্থ যখন বিশাল অংকে রুপ নিলো তখন সে এই অর্থ দিয়ে দজলা নদীর

যিকিরে সুশোভিত হয় বেহেশতের বাগান : সালাউদ্দিন জয়নাল

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করার পর সর্বোত্তম যিকির হলো কালিমা শরীফ পাঠ করা। তিরমিযি শরীফে হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সা. কে বলতে শুনেছি সর্বোত্তম যিকির হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং সর্বোত্তম দোআ হলো আল হামদুুলিল্লাহ। সমস্ত যিকিরের মূল হল কালেমা, যা ইসলামের প্রাণ ও মূল। বুখারী ও মুসলিম শরীফে

আদম আ. এর ওফাত ও আপন পুত্র শীছ আ. এর প্রতি তার অসিয়ত : সংকলন- আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

Sristi jogot

পূর্ব প্রকাশিতের পর.. শীছ অর্থ আল্লাহর দান। হাবীলের নিহত হওয়ার পর তিনি এ সন্তান লাভ করেছিলেন বলে আদম ও হাওয়া আ. তার  নাম রেখেছিলেন শীছ। আবু যর রা. রাসূলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা একশ চারখান সহীফা নাযিল করেন। তন্মধ্যে পঞ্চাশটি নাযিল করেন শীছ আ. এর উপর। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক রহ.

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা [কাফেলা-০০৭]

ec95_polar_ice_crystal_clear_ice_cube_tray_ice

পূর্ব প্রকাশিতের পর…… দশমা স্ত্রীর বেলায়ও অনুরুপ অবস্থা ঘটিয়াছিল। একদিন মুছল্লীর এক আত্মীয় কিছু মিষ্টি নিয়া মুছল্লীর বাড়িতে বেড়াইতে আসে। মুছল্লীর স্ত্রী ঘরে বসিয়া উহা হইতে কিছু মিষ্টি ভক্ষণ করিল। ইহা দেখিয়া মুছল্লি সাহেব বলেন। যাহারা স্বামীর বিনা এযেনে পরের হাতের মিষ্টি খাইতে পারে তাহারা স্বামীর অগোচরে যাহা ইচ্ছা তাহাই করিতে পারে। এমন বিশ্বাসঘাতক স্ত্রী

জীবনের গল্প : রিতা ও মা- মোঃ বদরুদ্দোজা বদর

3 Taka Horse Ride_ Dhaka Zoo_ Mirpur

মা। ছোট একটি শব্দ। এই একটি শব্দের মাঝে লুকিয়ে আছে অনেক ভক্তি, ভালোবাসা, আদর, মমতা। অনেক ত্যাগের বিচিত্র অভিব্যক্তি। মাকে ভালোবাসে না  এমন হতভাগা ও পাষাণ হৃদয় এই পৃথিবীতে খুব কমই আছে। মাকে সবাই ভালোবাসে মনে প্রাণে। রিতাও মাকে ভালোবাসতো। বয়স ৮ বছর। ঢাকা বছিলা বস্তির আদরের মেয়ে। বাবা নেই, দুঃখের সংসার। কোনমতে ছোট ভাই

কাব্যগুচ্ছ : সুখ যে আমার অসুখ, আল জান্নাত, আঁধার বনের মুক্তা, লিখতে হলে

Kabita

[সুখ যে আমার অসুখ] সৈয়দা সুফিয়া খাতুন : সুখ সুখ করে আমি কেঁদে মরি সুখ তো আমার কপালে নেই, সুখের আশায় আমি কত কি করি। টাকা টাকা করে আমি দিন রাত ভাবি টাকার জন্য আমি কত কি করি টাকার পাহাড় গড়েছি আমি। সুদ দিয়ে সুদ খেয়ে লুট করে গড়েছি আমি সম্পদের পাহাড় একদিকে আসে অন্যদিকে

কবিতাগুচ্ছ : সালাম, আমার নবী, বৃষ্টি পড়ে বাংলাদেশে, সবই ছিলো, মায়ের আদরটুকু

Kabita

[সালাম ] শামছুন্নাহার লাখি : লজ্জা কেন করো তুমি, সালাম দিতে ভাই। সালাম দেয়ার লাভটা কি ভাই, তোমার জানা নাই। সালাম দিলে নব্বই নেকী, পাইবে যে ভাই তুমি। দ্যুলোক ভুলোক সাবার চেয়ে, একটি নেকিই দামি। সালাম দিলে পাইবে নেকি, বাড়বে মুহাব্বত। শান্তি আসবে ঘরে ঘরে, হইবে সবাই সৎ। এত লাভের কাজটিও ভাই, যদি তুমি ছাড়ো।

জিজ্ঞাসা জবাব

Sowal Jowab

মুহাম্মাদ আরেফ রাব্বানী, কসবা, বি-বাড়ীয়া প্রশ্ন: আব্দুল ওয়াহ্হাব নজদী সম্পর্কে আল্লামা কাশ্মীরী (রহ.) ফয়জুল বারী কিতাবে লিখেছেন:তাঁর এই উক্তিটি কতোটুকু সঠিক? উত্তর দিয়ে রাহনুমায়ী করবেন। উত্তর: আব্দুল ওয়াহ্হাব নজদী সম্পর্কে আল্লামা কাশ্মীরী (রহ.) এর উক্তিটি সঠিক। এ ধরনের কথাই আল্লামা শামী (রহ.) বাবুল বুগাতে বলেছেন। হযরত মাওলানা মুফতী মাহমূদ গাংগুহী (রহ.)ও এমনি মতামত ব্যক্ত করেছেন।

কালিমা শরীফের এক্সরে রিপোর্ট

21-6-2012-11-42-26909

শাহিদাল্লাহু……. আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ট জ্ঞাণীগণও  সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।  নিশ্চয় আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দীন হলো ইসলাম। [আল ইমরান:১৮-১৯] সুতরাং অন্য ধর্মাবলম্বী চাই সে ইয়াহুদিদের ধর্ম হোক বা নাসারাদের ধর্ম হোক কোন ধর্মই ইসলাম ধর্মের বিপরীতে আল্লাহর কাছে 


Hit Counter provided by Skylight