বিভাগ : জুন 2015

আহলান সাহলান মাহে রমজান

Sampadokia-150x150

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি আমাদের হেদায়েতের জন্য আসমানী কিতাব পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা. এর উপর এবং তার পরিবার পরিজনের উপর। মহাকালের একটা অজানা অথচ নির্দিষ্ট অংশকেই আমরা জীবন বলি। জীবনসমূহের এ সম্মিলিত রূপকে সময় নাম দিয়ে আমরা গুনে যাচ্ছি সেকে-, মিনিট,

ঈমান ও হেদায়েত মুসলমানের মূল্যবান সম্পদ : মুফতী মোহাম্মদ আমীন- অনুবাদ: মাওলান আলী উসমান

2232800607_64943c72fa

وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি  অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন। [সূরা আনকাবুত : ৬৯] হেদায়েত পৃথিবীর সবচেয়ে মূলবান ধন। আল্লাহ তাআলার নিকট যত সম্পদের ভা-ার রয়েছে তারমধ্যে হেদায়েত সবচেয়ে দামী। হেদায়েতের মূল্য এত উঁচুমানের যে, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে

জান্নাতের অপরূপ নিয়ামতের বর্ণনা : সংকলনে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

Jannater porichoi

কারা জান্নাতের সুঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত থাকবে হযরত ইবনে আমের রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম  সা. ইরশাদ করেন, যে মুসলমান চুক্তিবদ্ধ জিম্মি কাফেরকে হত্যা করেছে সে জান্নাতের সুঘ্রাণ থেকে বঞ্চিত হবে। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ পাওয়া যাবে সত্তর বছরের  দূরত্ব থেকে। হযরত মাকাল ইবনে ইয়াসার রা. থেকে বর্ণিত হুজুর সা. বলেন, যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তার প্রজা

আল কুরআন সংরক্ষণে স্রষ্টার আলৌকিক ব্যবস্থা : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

এই ধুলির  ধরায় মহান স্রষ্টা যতগুলো কিতাব নাযিল করেছেন মহাগ্রন্থ  আল কুরআন ছাড়া সবগুলোতেই বিকৃতি সাধিত হয়েছে। আল কুরআনের সকল কিছুই আজো সুসংরক্ষিত। আপনরুপে অবিকৃত থাকবে কিয়ামত অবধি ইনশাআল্লাহ। কেননা আল কুরআনের হেফাজত ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন সকল কিছুর কর্তা স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে- ‘নিশ্চয় আমিই এই কুরআন নাযিল করেছি এবং আমিই

রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করুন : আবু আফীফ মাহবুব

293896_118747478269047_160091589_n

চন্দ্র-সূর্যের আবর্তনে, দিবস-যামিনীর বিবর্তনে, সময়ের চাকা ঘুরে মোমিনের দোআরে আবারো কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। আর ক’টা দিন পরেই রমজানের সিয়াম সাধনা শুরু হবে পৃথিবীর দেশে দেশে। কিন্তু সে মহামহিমান্বিত মাসকে বরণ করে নেওয়ার জন্য আমরা কতটুকু প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি? দুনিয়ার কোনো প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের জন্য বহুপূর্ব থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকি। কিন্তু দ্বীনের বেলায় আমাদের

তারাবীর ফযীলত ও সুন্নত তরিকা : মুফতী মাহফুজুর রহমান

Ram

তারাবীহ রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। দিনের বেলা সিয়াম, রাতের বেলা কিয়াম রমজানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। রোযার দ্বারা যেমন মানুষের সকল পাপ মোচনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে তেমনি তারাবীর দ্বারাও। রোযা ফরজ আর তারাবী সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তবে সুন্নত হলেও গুরুত্বের দিক থেকে অন্যান্য সুন্নত থেকে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। বিনা কারণে তারবীর নামায ত্যাগ করলে কঠোর শাস্তির ঘোষণা রয়েছে। 

পৃথিবী ও মহাবিশ্বের ধ্বংস এবং তার পূর্ব লক্ষণ

book_Page_334

২. বৃহৎ শহরের ধ্বংস (সময় ও সংকট) “বিশাল বিশাল নগর ও শহর ধ্বংস প্রাপ্ত হবে। এমনভাবে নিশ্চিহ্ন হবে যে মনে হবে আগের দিনেও কিছুই ছিলনা।” আজ আমরা দেখছি বিংশ শতাব্দী হলেও সামরিক প্রযুক্তি কিভাবে বিশ্ব মানবের চরম সর্বনাশ করেছে। এ প্রযুক্তির আস্ফালনে ভয়ংকরভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বৃহৎ বৃহৎ শহরগুলো। পরমাণবিক বোমা বিস্ফোরণে বিশ্বমানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়েগেছে

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি : সিয়াম সাধনা- উবায়দুল হক খান

293896_118747478269047_160091589_n

ইসলাম ধর্মের পঞ্চবুনিয়াদির তৃতীয় স্তম্ভ হলো রোযা। প্রতি বৎসর পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনা তথা রোযা রাখা প্রত্যেক সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ। এ রোযার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি, পরহেযগারী [খোদাভীতি] ও নৈকট্য লাভ করতে সক্ষম হয়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ

আল্লাহর অনুপম গুণাবলি : ডা. গোলাম মোস্তফা

Zikra

পূর্ব প্রকাশিতের পর.. ১৪. আহকামুল হাকিমীন আল্লাহ্ সব বিচারকের তুলনায় সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক আল্লাহর ঘোষণা: “আল্লাহই আহকামুল হাকিমীন অর্থাৎ আল্লাহ্ কি সব বিচারকের তুলনায় সর্বশ্রেষ্ঠ বড় বিচারক নন? [সূরা তীন:৮] ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনুল মুনযির, বায়হাকী, হাকেম এবং ইব্ন মারদুইয়া হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

শবে বরাত:বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি কাম্য নয়- মাও. মাহবুবুর রহমান নোমানি

ss copy

শাবান মাসের ১৫তম রাতটিকে ফার্সি ভাষায় শবে বরাত বলা হয়। হাদীস শরিফে এ রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান’ অর্থাৎ অর্ধ শাবানের রাত্র। বরকতময় এ রাতটিকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে দুই শ্রেণীর মানুষ প্রান্থিকতার শিকার। এক শ্রেণীর লোক পূণ্যময় এ রাতটিকে এমনভাবে উদযাপন করে, যা এ রাতের মাহাত্মের সাথে আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। তারা

পরিবারের সুখ অক্ষুন্ন রাখার উপায় : মাহমুদা বুশরা

Porda

মহান প্রভূর পবিত্র বাণী “কিছু কিছু কন্যা সন্তান পুত্র সন্তান অপেক্ষা ভাল। [সূরা আলে ইমরান] আল্লাহ্ তাআলা উক্ত আয়াত দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, এমন কিছু পূণ্যবতী মেয়ে রয়েছে যাদের উজ্জ্বল আদর্শের কাছে অনেক অনেক জ্ঞানবান পুরুষও তুলনার অযোগ্য। মহান প্রভূ মেয়েদের প্রসংশা করে তাদেরকে সৎ কাজের প্রতি উৎসাহী করে তোলেছেন। একজন সৎ ও আদর্শবান নারী

সত্যের অভাবিত বরকত : মুহাম্মদ শরীফুল আলম

Neyamot

মুসলিম জাতি দীর্ঘ সাতশ বছর শাসন করেছিল এই ভারত উপমহাদেশ। কিন্তু কালের আবর্তনে বৃটিশদের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়ে তারা। গোটা ভারত উপমহাদেশে ইংরেজরা নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। তাদের শাসন-শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হয় আপামর জনতা। কতিপয় রাজার ভোগ-বিলাসিতা ও গাদ্দারদের বেইমানির কারণে মুসলমানরা নেতৃত্ব- কর্তৃত্ব-ক্ষমতা সব হারায়। হয়ে যায় একেবারে নিঃস্ব। তবু খাঁটি ঈমানদারগণ

খতমে বুখারী শরীফের বরকতময় মাহফিল : মামুনুল বারী

Islamic_Books

গত ০৬.০৭.১৪৩৬ হিজরী মোতাবেক ২৬.০৪.২০১৫ ঈসায়ী রোজ শনিবার বিকেলে নেত্রকোণাস্থ চকপাড়া জামিয়া রাহেলা পারভিন তাহযীবুল বানাত বালিকা মাদরাসার খতমে বুখারী শরীফ উপলক্ষ্যে আলোচনা ও দোআ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলোচনা ও দোআ এবং বুখারী শরীফের খতমের জন্য দুজন মুহাক্কীক ও বুজুর্গ আলেমকে দাওয়াত দেয়া হয়। তাদের একজন জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জের সম্মানিত প্রিন্সিপাল শায়খুল হাদীস হযরত

মা : মুহাম্মদ ইলিয়াছ ওয়াহেদী

al-jannatbd

যতদূর মনে পড়ে ক্লাস ফাইভে পড়ি। কতই বা বয়স হবে নয় কিংবা দশ। স্কুল থেকে বাড়ির দূরত্ব একমাইল বা তার চেয়েও কম। বরাবর পড়াশোনায় ভালো বলে বাবা-মায়ের অনেক আদর কুড়াতে সক্ষম হয়েছি। তার উপর আমি পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। ঢাকা থেকে অনতিদূরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এর আওতাধীন একটি ছোট গ্রাম ধীরাশ্রমে একটি সাজানো পরিবারে আমার বসবাস।

হযরত ইবরাহীম আ. : সংকলন : আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

69bk

হযরত ইবরাহীম আ. এর সাথে খোদায়ী দাবিদার এক দূর্বল বান্দার বিতর্ক প্রসঙ্গ আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি কি ঐ ব্যক্তিকে দেখনি, যে ইবরাহীমের সাথে তার প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত  হয়েছিল, যেহেতু আল্লাহ তাকে কর্তৃত্ব দিয়েছিলেন। যখন ইবরাহীম বলল, তিনি আমার প্রতিপালক, যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সে বলল, আমিও তো জীবন দান করি ও

ধারাবাহিক উপন্যাস : কিশোরীর হাতের রক্তের চিঠি

Rokter Chiti

পূর্ব প্রকাশিতর  পর… আবুল হাসানদের জাহাজটিও ঢুকলো সিন্ধু রাজ্যের সমুদ্রসীমায়। আর এটা জানতে বাকি রইলনা সিন্ধুরাজা দাহিরের। যখন শুনতে পারলো যে এরা মুসলমান, হজ্জে যাচ্ছে, শুনে তার মাথা আরো খারাপ হয়ে গেল। তার পোষা কুকুরগুলোকে পাঠালো সমুদ্রপৃষ্ট থেকে এদের ধরে নিয়ে আসতে। ডাকাত সৈন্যরা জাহাজটিকে নজরদারিতে রাখলো। যেই জাহাজটি ঘাটে ভিরল, ডাকাত দল জাহাজটিকে আটক

শয়তানের ডায়েরী : উম্মে হাবিবা আকলিমা

ec95_polar_ice_crystal_clear_ice_cube_tray_ice

পূর্ব প্রকাশিতর পর… ফেরাউন আমার কথা শুনিয়া একটি হাসি দিয়া বলিল, ভাই! তুমি তো অতি প্রাচীন মনোভাবের লোক। তাই তোমার মধ্যে এখন পর্যন্ত ধর্ম ভীতি বিরাজ করিতেছে। আজকাল আধুনিক যুগে ঐ ধরণের প্রাচীন বুলি আর উচ্চারণ করিওনা। যুগের সাথে পা ফেলিয়া একটু চলিতে শিখ। ফেরাউনের নছিহত শুনিয়া আমার সমস্ত আক্কেল ঠান্ডা হইয়া তমিজে পরিণত হইল।

Porda

কি ভয়ংকর এই প্রেমের পরিণতি ছেলেটির নাম আবদুল্লাহ। ঝিনাইদহ জেলায় শৈলকূপা থানার সাতগাছি গ্রামে বসবাস তার। পারিবারিক অবস্থা বেশী একটা ভাল না। ধন-সম্পদ বলতে তেমন কিছু নেই। একবেলা খাবার জুটলে অন্য বেলা উপোস থাকতে হয়। খুব কষ্টে চলে তাদের সংসার। তারপরও পিতা-মাতার পূণ্য আশা ছিল, ছেলেটাকে উচ্চ শিক্ষিত বানাবে। ছেলে অনেক বড় একটা চাকরি করবে

দেশ বিদেশের খবর

Des-Bideser Khobor copy

২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ করতে গিয়ে কয়েক হাজার লোক ভিসার মেয়াদের মধ্যে দেশে ফেরেননি ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে ওমরাহ করতে গিয়ে কয়েক হাজার লোক ভিসার মেয়াদের মধ্যে দেশে ফেরেননি। এ কারণেই সৌদি সরকার বাংলাদেশকে ওমরাহ ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য অনলাইন সিস্টেম লক করে দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যেই সৌদি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ হজ

কবিতা : রমজানের বার্তা, মহান প্রভুর দান, আমি বলিনি কিছুই, আলোর দিশারী, রমজানের রোযা

spring-2009-wallpaper

[রমজানের বার্তা] সৈয়দা সুফিয়া খাতুন : রমজানেরই বার্তা নিয়ে এলো সাবান মাস, ঈদের খুশির বার্তা নিয়ে এলো রমজান মাস যাকাতের হুকুম নিয়ে এলো রমজান মাস। গরিব দুখির অভাব পূরণ করতে এলো রমজান মাস। রোযার শেষে ঈদ আসে এই ঈদ হলো গরিব দুঃখির বছরে দু’বার আসে। যাদের অনেক বিত্ত আছে তাদের ঈদ প্রতি দিন আসে। রোযাদারের

জীবন জিজ্ঞাসা

Sowal Jowab

মুহাম্মা সানাউল্লাহ, সোনারগঁাঁও, নারায়ণগঞ্জ প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি বললো, আমার কাছে লাউ পছন্দনীয় নয়। এ কথা শুনে অন্য একজন বলে উঠলো, কী বললেন ! নবী কারীম সা. যেখানে লাউ খুব পছন্দ করতেন, সেখানে লাউ আপনার নিকট পছন্দনীয় নয় বলছেন! এতে আপনার ঈমান চলে গেছে। তাড়াতাড়ি তাওবা করে  ঈমান নবায়ন করেন। বাস্তবেই উক্ত ব্যক্তির ঈমান চলে


Hit Counter provided by Skylight