বিভাগ : রোজনামচা

জীবন ফিরে পেলাম (স্মৃতিচারণ) / রাহাত ইবনে মাহবুব

মাদরাসার বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। ছুটি শরু হয়ে গেছে গতকালই। জনমানবশূণ্য মাদরাসায় আমরা মাত্র হাতে গনা সাত জন। তালিবে ইলম বিছানা পত্র আর ব্যাগ গুছানোয় ব্যস্ত। অনেক কাজ বাকি এখনও। চটজলদি সেরে ফেলা চাই। এরপর দুজন শিক্ষকের পিছু পিছু যেতে হবে কাকরাইল মসজিদে। তারপর সেখান থেকে দশ দিনের জন্য তাবলীগ জামাতে। দ্রুত সকালের নাস্তা সেরে গাট্টি

প্রথম রোজার স্মৃতি / ইব্রাহিম হাসান হৃদয়

পড়ালেখার সুবাদে আমাকে নানার বাড়ি থাকতে হতো। তাই জীবনের প্রথম রোজা রেখেছি নানার বাড়িতেই। তখন ছিলো শীতকাল। প্রচ- শীতের মাঝেও প্রতিদিন সেহরি খেতে খেতে উঠতাম। নানু একা বলে আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলতেন প্রতিদিনই। নিয়মিত সেহরি খেলেও নানু আমাকে রোজা রাখতে দিতেন না। বলতেন, তুমি এখন ছোট। তুমি দুপুরে একবার খেলে তোমার রোজা দুইটি হবে।

আমার অবহেলা ও কলমের অভিমান / মুহাম্মদ রাসেল রাবী

আজ শুক্রবার। সপ্তাহশেষে একটু নীরবতায় নিশ্বাস নেবার দিন আজ। আমার সঙ্গে আমার কলমটাও যাতে একটু প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে তাই বসলাম খাতা নিয়ে। দ্বিতীয় সাময়িক পরীার প্রস্তুতির জন্য প্রায় একমাস পর আজই কলমটা হাতে নিলাম। কিন্তু একি! দীর্ঘদিন পর সাাতে কারাগারের কয়েদির মত দেখাচ্ছে ওকে। যেন সবেমাত্র ছাড়া পাওয়া শক্তিহীন কঙ্কালসার দেহ সে। কী বলে

প্রত্যুষে একদিন…/ মুহাম্মদ রাসেল রাবী

ফজরের নামায পর মাসনূন কিছু দোয়া পড়েই বেরিয়ে পড়লাম মসজিদ থেকে। অন্যদিনের মত সূরা ইয়াছিন এবং দু-চার পারা কোরান তেলাওয়াত আর করলাম না আজ। ইচ্ছে হল, একটু হাঁটতে যাবো গ্রামের পথে। দেখবো সকাল ও সূর্য। প্রভাত ও তার প্রকৃতি। প্রভু ও তার সৃষ্টি প্রভৃতি। যেই ইচ্ছে সেই হচ্ছে। এক’পা দু-পা করে অগ্রসর হলাম ইচ্ছে-কল্পের প্রভাত

আমার প্রথম রোজা / মোহাম্মদ আতিকুর রহমান

আমার জীবনের প্রথম রোজা রাখি যখন আমার বয়স সাত বছর। আমার পিতা-মাতা আমাকে প্রথমে স্কুলে ভর্তি করে দেন। তখন স্কুলের পরিবেশে রোজা কি জিনিস কিছুই বুঝতাম না। পরবর্তী সময়ে আমার পিতা-মাতার ইচ্ছা ঘুরে যায়। তারা আমাকে মাদরাসায় ভর্তি করে দেন। তো, একদিন হুজুর আমাদের রমজানের ফযিলত বর্ণনা করেন। তখন আমার মনেও রোজা রাখার ইচ্ছা হলো।

আম্মুর মার খেয়ে রোজা রেখেছিলাম / কাউকাবা বিনতে শেখ আহমদ

বয়স তখন সাত কি আট মনে নেই। প্রতি বছরের মতো রমযান মাসের আগমন ঘটল। রোযা রাখার বার্তা নিয়ে পশ্চিম আকাশে এক ফালি চাঁদ উদিত হল। বয়সী ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে আনন্দফুর্তি করে চাঁদটা দেখে এলাম। আহ কী আনন্দ! আগামীকাল রোযা। বাড়ির সবাই রোযা রাখবে আমিও রাখব তাদের সঙ্গে। আম্মুকে বলেছি যাতে আমাকে রোযা রাখার জন্য ডাকে। সাহরী

দিনলিপি : একটি ছোট্ট হৃদয়ের আকুতি

দিনলিপি : একটি ছোট্ট হৃদয়ের আকুতি ১৮/৫/২০১৩ ঈ. আজ অঝোরে বৃষ্টি ঝরছে। চারিদিকে ঘনকালো অন্ধকার। উত্তর দিক থেকে ছুটে আসা তীব্র বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দে চারদিকে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আশপাশের গাছগুলো প্রচ- দুলছে। হঠাৎ বিজলি চমকালেই আঁতকে উঠি। এই বুঝি মেঘ গর্জাবে, দালানগুলো কেঁপে উঠবে। পরিবেশটাকে ভীষণ অসহায় মনে হল। আমি আনমনে ভাবছি,

কবরে কে আমার সাথি হবে?

১৭.৭.৩৬ হিজরী আজ সারাটা দিন খুব বিষণœতায় কেটেছে। আম্মু বাসায় নেই। ভাইয়া মাদরাসায় চলে গেছেন। ছোট আপুর কাছে আমার সময় কাটতো। আজ সকালে ছোট আপুটাও চলে গেছে। আমি এখন একা, সম্পূর্ণ একা। কিছুটা ভয় পাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর কবরের একাকিত্বের কথা স্মরণ হয়ে গেলো। দুনিয়াতে অল্প সময়ের একাকিত্বে বিচলিত হয়ে পড়ছি, অথচ কবরে কতকাল একা থাকতে


Hit Counter provided by Skylight