বিভাগ : প্রবন্ধ

তাকওয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা / আহমদ আবদুল্লাহ

তাকওয়া মহান রব্বুল আলামীনের এক বিশেষ গুণ। যাদেরকে তিনি এ গুণে গুণান্বিত করেন, তারা খুবই সৌভাগ্যশীল। তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত। তাকওয়া এর আভিধানিক অর্থ ‘ভয় করা’, ‘ছেড়ে দেওয়া’ ও ‘বেঁচে থাকা’।  পরিভাষায় বলা হয়, আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসায় প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে বিরত থাকা। গুণাহের সর্বপ্রকার কার্যাদি থেকে নিজেকে হেফাজত করা। অশ্লীল কথাবার্তা, নির্লজ্জ কথোপকথন ও

ঈমানের দৃঢ়তা / উম্মে হাবিবা নুসরাত

ছোট্ট বালক ইউসুফ। বয়স দশ। রূপে, গুণে ইউসুফি সৌন্দর্যেরই দ্যোতি ছড়াচ্ছে যেনো। পিতা ইসলামি সালতানাতের সুলতান নাজমুদ্দিন আইয়ুব। এমন একটি ছেলে পেয়ে বড্ডো খুশি তিনি। ছেলের ইমানদীপ্ত কথা, আচরণে মাঝেমধ্যে মুগ্ধ হয়ে যান। ও একসময় ইসলামি সালতানাতকে ক্রুসেডমুক্ত করবে, এটাই তার বিশ্বাস। ১১৪৮-১১৪৯ সালের মাঝামাঝি সময়। ইসলামি শিক্ষায় দীক্ষিত করতে ইউসুফকে একটা কাফেলার সঙ্গে তিকরিতে

তাজা ঈমানের শক্তি / তানভীর রহমান

আরবের উত্তপ্ত মরুর সকল প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে, স্বীয় জীবনকে আল্লাহর রাহে সোপর্দ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বদরের প্রান্তরের দিকে নির্ভীক পানে এগিয়ে চলছে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে গড়া সত্য ও ন্যায়ের ঝান্ডাবাহী একদল নকীব। যারা শির থাকতে দেননি আমামা। ছিলেন যারা আল্লাহর প্রেমে মূর্তমান এক উপমা। উদ্দেশ্য তাদের একটাই, ইসলামের চিরশত্রু কাফেরদের বিরুদ্ধে

জীবন হউক কর্মমুখর / মুহাম্মদ শরীফুল আলম

উদ্যম হচ্ছে সাফল্যের প্রতীক। যারা উদ্যমী হয়, সাফল্য তাদের পিছু ছাড়ে না। সে হয় সকলের প্রিয়। তাকে দেখলেই মন ভরে যায়। প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আর কেনই বা নয়, সে তো মেতে ওঠে কর্মের সৃজনশীলতায়। ইসলাম কর্মমুখরতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ

বন্ধু একটু ফিরে দেখ : রুহুল নবীর

এক আল্লাহর সৃষ্টি, একই মানব থেকে বের হওয়া, একই জনপদে গড়ে ওঠা, একই খাবার খাওয়া, কিন্তু আমাদের মাঝে আর তাদের মাঝে কত পার্থক্য! আমাদের জীবনযাপন আর তাদের জীবনযাপনের মধ্যে কত ফরাক। তাদের শরীর মাটির তৈরি আমাদের শরীরও মাটির তৈরি। তারাও কোন না কোন পিতা-মাতার ঔরসে জন্মগ্রহণ করেছে, আমরাও কোন না কোন পিতা-মাতার ঔরসে জন্মগ্রহণ করেছি।

মায়ের সাথে বেয়াদবীর ফল / মুহাম্মদ আতিকুর রহমান

গ্রীষ্মকাল, বেশ গরম, তাই আনিস সাহেব একটি চেয়ার নিয়ে বাইরে বসে আছেন। বাইরের ঠা-া বাতাস আনিস সাহেবের চোখে ঘুম এনে দিল। হঠাৎ তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। যখন চোখ খুললেন, দেখলেন তার সামনে একজন লোক বসে আছে। খুব জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থা। দেখে মনে হচ্ছে অনেক দিন যাবৎ কিছু খায়নি। লোকটি আনিস সাহেবের নিকট খাবার চাইল। আনিস সাহেব ঘর

মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আজীবন / তানভির রহমান

আসরের নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে যাচ্ছিলাম। মাঠে চোখ পড়তেই দেখলাম আমাদের পাড়ার রাশেদকে ওর বাবা সাইকেল চালানো শেখাচ্ছেন। ওর বাবা সাইকেলের পিছনের সিটে ধরে দৌড়াচ্ছেন আর রাশেদ সাইকেল চালাচ্ছে। রাশেদের সাইকেল চালানো দেখে আমারও ছোটবেলার প্রথম সাইকেল চালানোর কিছু স্মৃতি মনে পড়ে গেল। সাথে কিছু ভাবনারও উদয় হল। আর সেই ভাবনাই চোখের কোণায় দু’ফোঁটা

ক্ষমা / রাহাত ইবনে মাহবুব

বদর যুদ্ধে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে হেরে যাবার পর কাফেরদের মেজাজ বেশ চড়া। বড় বড় নেতারা লাত-উজ্জার নামে নানান শপথ করে বসে আছে, প্রতিশোধের আগুনে তারা জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার। প্রায় সহ¯্র অস্ত্র সজ্জিত কাফের সৈনিক গুড়িয়ে গেছে মাত্র তিনশত তের জন দরিদ্র নিরস্ত্র মুসলমান সৈনিকের কাছে। কি লজ্জার কথা! লজ্জায় কাফেরদের মাথা কাটা যাওয়ার দশা। অন্যদিকে

পাহাড়ের পাদদেশে / মোস্তফা কামাল গাজী

পাহাড়ের গা ঘেঁসে পিচের সরু রাস্তা। হাজারো গাড়ির সথে এগিয়ে চলছে আমাদের মাইক্রোটাও। পাহাড়ের পাদদেশে বিশাল খাদ। রাস্তার দু’পাশে লোহার রেলিং দেয়া। গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাতে খাদে না পড়ে সেজন্য এ ব্যবস্থা। একটু পরপর বাঁক। মোড় নিতে গেলে গা ছমছম করে। এই বুঝি সামনের কোনো গাড়ির ধাক্কায় খাদে পড়ে যাই! কিন্তু না। রাস্তাটা বিপদজনক হলেও

মসজিদই ছিল মুসলমানদের অফিস / জমির আল-হাফিজ

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়ত ঘোষণার পর দ্বীনের কাজে মেহনত শুরু করেছিলেন। এতে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। হিজরতের পর মদীনায় মসজিদে নববী নির্মাণ ছিল প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সকল মুসলমানকে এক জায়গায় একত্র করার উদ্দেশ্যে এ মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সেখানে রুহানি প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পার্থিব সমস্যা-সম্পর্কিত বিষয়েও আলোচনা করা হতো এবং সমাধানও প্রদান

দেওবন্দের এদারা / মোস্তফা কামাল গাজী

মসজিদে রশিদে ফজর পড়ে বাইরে এলাম। বসন্তের ঝকঝকে একটা সকাল। মৃদু বাতাসে একটু একটু শীত লাগছে। মসজিদের বেলে পাথরের বিশাল চত্বর। তার একপাশে ফুলের বাগান। নানা রঙের ফুল ফুটে আছে সেখানে। নাম না জানা চমৎকার কিছু হলুদ রঙের ফুল গাছের ডালে ঝুলছে। শিশিরজলে ভেজা ফুলগুলো বেশ লাগছে। তবে এতো ফুলের মাঝেও প্রজাপতি উড়ছে না কোথাও।

কিতাব হল বিপদের বন্ধু / নাদিরা বিনিতে ইউনুছ

বিগত ২০১৬ সালের ১৫ই ডিসেম্বর রোজ শনিবার ৯ টার সময় দুটি হাদীসের কিতাব নিয়ে বের হলাম ছাতক থানার চরবাড়া মহিলা মাদ্রাসায় আসার জন্য। কিছুণ হেঁটে পয়েন্টের মধ্য এসে গাড়ির জন্য অপো করছিলাম এবং কিছুণ অপো করার পর গাড়ি পেয়ে আমি ও আমার আব্বু গাড়িতে উঠলাম। প্রায় দশ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করার পর আরেকটি পয়েন্টে পৌঁছার

ধৈর্য সফলতার সোপান / জাকারিয়া সদর

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্য ধারণকারীদের সঙ্গে আছেন। (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৫৩) বিপদে ধৈর্যধারণ করা একটি মহৎ গুণ। যার মাঝে এই গুন বিদ্যমান থাকে, সে চরম সংকটময় মুহূর্তেও আপন লক্ষ্যপানে এগিয়ে চলতে সক্ষম হয়। পক্ষান্তরে যার মাঝে ধৈর্যধারণ করার ক্ষমতা নেই, সে সামান্য প্রতিবন্ধকতায় পড়লে কিংবা সমালোচনায়

ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব / তানভীর রহমান

জাহেলিয়াতের বর্বরতা দ্বারা উত্তপ্ত আরবের ঊষর ভূমিতে ন্যায়ের ফুল ফোটাতে, মূর্খতার ব্যধিতে আক্রান্ত মানুষের কলুষিত অন্তরকে ঈমানী আলোতে আলোকিত করতে, আধার বিশ্বে হেদায়েতের সূর্যোদয়ের মাধ্যমে সত্যের আলো ছড়াতে আল্লাহপাক দুনিয়ার বুকে প্রেরণ করলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, সর্দারে আম্বিয়া হযরত মুহাম্মদ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। অতঃপর কাক্সিক্ষত শুভলগ্ন যখন সমাসন্ন তখন ৪০ বছর বয়সে হেরার নির্জন গুহায় ধ্যানমগ্ন

নারী / হাজেরা সুলতানা হাসি

  বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর ॥ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনবদ্য সৃষ্টি ‘নারী’ কবিতার চরণদুটি বাস্তব সত্য। মানবেতিহাসের পরতে পরতে নারীর অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। তেমনি, ইসলামের ইতিহাসেও রয়েছে নারীর ব্যাপক ভূমিকা। নব-ওহীপ্রাপ্ত রাসূল সা. যখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লেন, তখন একজন নারীর (খদিজাতুল কুবরা রা.) আঁচলই

ন্যায় বিচারক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম / এইচ. এম. শহীদুল ইসলাম মামুন

  মক্কার কাবা ঘর। যাকে বায়তুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর বলা হয়। প্রাচীনকাল হতেই এ ঘরটি সারা পৃথিবীর মানুষের অতি পরিচিত। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা আব্দুল মুত্তালিব ছিলেন এই ঘরের সংরক্ষক। প্রতিটি মুসলমান পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় কাবা ঘরের দিকে মুখ করে দাঁড়ায়। আমাদের মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবকালে কাবা ঘরের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়

প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণী

  ভিক্ষাবৃত্তির লাঞ্ছনা আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি নিজেকে সুরক্ষিত রাখে এবং নিজের পবিত্রতা বজায় রাখে। যতটুকু পরিশ্রম করা দরকার ততটুকু পরিশ্রম করে। যতটুকু কষ্ট করা দরকার ততটুতু কষ্ট করে। আর যে-লোক ভয়ঙ্কর প্রয়োজন ছাড়া অন্যের কাছে হাত পাতে সে নিকৃষ্ট, হীন ও লাঞ্ছনাগ্রস্ত। এ ধরনের লোক কখনো সৌভাগ্যবান হয় না। কারণ, ভিক্ষাবৃত্তির মতো নিষিদ্ধ কাজ তাকে সঙ্কীর্ণ

দুঃখ স্মৃতি / মাইমুনা বিনতে মুজিবুর রহমান

ঈদ মানেই খুশি। ঈদ মানেই আনন্দ। আর আমরা এই আনন্দটা সব সময় ঢাকায় উদযাপন করি। প্রতিবারের মত এবারও ঈদের কেনাকাটা সেরে অধির আগ্রহে ঈদের অপেক্ষা করছি। আর মাত্র দুই দিন বাকি। আর ত্বর সইছে না। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে বাসায় ছোটমামা এবং মামি এসে উপস্থিত হলেন আমাদেরকে নিয়ে যাবেন বলে। আমি খুশিতে আত্মহারা, কিন্তু

সবুজাভ প্রকৃতির আতিথেয়তায় / ইবরাহীম ইবনে আবদুল বারেক

এক কুঁড়ি দুই পাতা ও ৩৬০ আওলিয়ার দেশ পুণ্যভূমি সিলেট। ¯্রষ্টার নিপুণ হাতে গড়া, সবুজের চাদরে ঢাকা এই সিলেট। জেলাটিতে সবুজের সমারোহ এত বেশি মনে হয় যেন সবুজের মেলা বসেছে। এই পুণ্যভূমির দর্শন লাভের জন্য খুব বেশি উৎসুক ছিলাম। আমরা জানি এই ভূমিতেই শুয়ে আছেন হযরত শাহজালাল, শাহপরাণ (রাহিমাহুমাল্লাহ) এরম ত হাজারো আওলিয়া, যাঁদের সুভাগমণে

মাদরাসা নিয়ে কিছু কথা / তানভীর রহমান

পৃথিবীতে যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল মাদরাসা। স্বভাবতই মাদরাসা বলতে আমরা বুঝি ইলমে দ্বীন শিক্ষা করার জায়গা। কিন্তু মাদরাসার সজ্ঞা এতটুকু নয়। মাদরাসা হল এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষ গুনাহ মুক্ত নির্মল পরিবেশ পায়। আল্লাহকে চিনতে পারে, নবী সা. এর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করতে পারে, ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ  করার

গরীবের ঈদ // তানভীর রহমান

মুসলমানদের বছরে দুটি আনন্দ উৎসব রয়েছে। সেগুলো হল ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা। মহান আল্লাহ তাআলা এই দুই দিনে মুসলমানদের শরীয়তসম্মতভাবে আনন্দে মেতে ওঠার সুযোগ দিয়েছেন। ঈদের দিন বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে বর্ণিলতার ছাপ দেখা দেয়। কিন্তু কয়েক শ্রেণির মুসলমান ঈদের বর্ণিলতাকে মেনে নিতে পারে না। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সমাজের অভাবী মানুষেরা। তাদের কাছে ঈদের আনন্দ বলতে


Hit Counter provided by Skylight