বিভাগ : প্রবন্ধ

মাদকাসক্তির মরণ ছোবলে বিপন্ন মানব সভ্যতা : উত্তরণে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি : মুফতি সরওয়ার হোসাইন

মদের শাব্দিক অর্থ : মদ শব্দের সমার্থক শব্দ হিসেবে মদ্য শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। মদ (বি) শব্দের অর্থ : ১. দম্ভ, গর্ব, অহঙ্কার (শক্তি মদমত্ত), ২. প্রমত্ততা, ৩. বিহ্বলভা, ৪. কস্তরী (মৃগমদ), ৫. মদ্য, সুরা, ৬. প্রমত্তকর রস (মহুয়ার মদ), ৭. হাতির গ-দেশ থেকে ক্ষরিত স্্রাব। মত্ততা সৃষ্টিকারী দ্রব্য বিশেষ বা নেশার দ্রব্য। মদ শব্দের ইংরেজি

সুন্দর ও নিরাপদ জীবনের ভিত্তি সবর : এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান

সবর বা ধৈর্য আল্লাহর পরিপূর্ণ মুমিন বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তা‘আলা যাকে এই গুণ দেন; সেই এই গুণে সুসজ্জিত হয়। জীবনের প্রতিটি েেত্র এ গুণটির উপস্থিতি অপরিহার্য। মানুষের উন্নতি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের বড় উপায় হলো এই সবর বা ধৈর্য। মানুষ যত বেশি সবর করতে পারবে, তার গুনাহ তত বেশি মাফ হবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

নেশা মদ ও জুয়ার কুফল : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন কৃত “বিশ্ব নারী মুক্তির উপায়” থেকে গৃহীত

মহান আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারার ২১৯ নং আয়াতে সূরা মায়েদার ৯০-৯১ নং আয়াতে এবং সূরা নিসার ৪৩ নং আয়াতে নেশা, মদ ও জুয়াকে হারাম ঘোষণা করেছেন। হাদীস শরীফে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সর্বপ্রকার অপকর্ম এবং অশ্লীলতার জন্মদাতা হল মদ, এটি পান করলে মানুষ নিকৃষ্টতর পাপে লিপ্ত হয়। নাসায়ী শরীফের হাদীসে বলা হয়েছে, শরাব ও

ইসলামে কর্মজীবী ও শ্রমিকদের অধিকার : উমর মুহাম্মদ মাসরুর

ইসলাম গৃহকর্মী ও শ্রমিকদের মর্যাদা প্রদান করেছেন, তাদের অবস্থান বিবেচনা করেছে, তাদের সম্মানিত করেছে এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তাদের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। পূর্ববর্তী কোনো কোনো সমাজব্যবস্থায় কাজ ও শ্রমের অর্থ ছিলো দাসত্ব ও গোলামি। কোনো কোনো সমাজব্যবস্থায় কাজের অর্থ ছিলো হীনতা ও অপদস্থতা। কিন্তু ইসলাম সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক অধিকারের স্বীকৃতি

অসুস্থ ব্যক্তির আত্মিকসেবা ও ধর্মীয় অধিকার : মমিনুল ইসলাম মোল্লা

মুসলিম পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তাকে মুসলিম ডাক্তারের নিকট নিয়ে যাওয়া তার ধর্মীয় অধিকার। ভাল মুসলিম ডাক্তার পাওয়া না গেলে ভিন্ন কথা, তবে চিকিৎসা যদি ঝাড়-ফুঁক জাতীয় হয় তাহলে অবশ্যই চর্চাকারী মুসলিম হতে হবে। কুরআনের আয়াত বা সহিহ হাদিসের দুয়া দিয়ে ঝাড়-ফুঁক করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে আরোগ্যদাতা একমাত্র আল্লাহ। রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু

স্বাধীনতার অপব্যাখ্যা : মানবতা আজ কোথায়? জামিল আহমদ

ঐতিহাসিক ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়। ২৫ শে মার্চের সূর্য চোখ বন্ধ করে আঁধার নামিয়ে আনল। এ সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু করল। ঘড়ির কাটা বারটায় পা রাখলে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে তারিখ বদলে গেল। শুরু হয়ে গেল ঐতিহাসিক ২৬ শে মার্চ। এর বেশ কয়েক মিনিট

কুরআন মানব জাতির পথ প্রদর্শক : মমিনুল ইসলাম মোল্লা

কুরআন পাঠ উত্তম ইবাদত। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যে, রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে সে উহার বদলে একটি নেকি লাভ করে আর একটি নেকি দশটি নেকির সমান [তিরমিযী শরীফ : হাদীস নং ২৯১০] তবে তা সুন্দর করে পড়তে হবে। কেউ ইচ্ছে

সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাসূল সা. : এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান

সামাজিক আচার আচরণ ও মেলামেশা মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ন্যায়বিচার হলো সামাজিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলার সোপান। ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই সমাজবদ্ধ জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। যে দেশ ও সমাজে মজলুম মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয় সেখানে আল্লাহর আজাব ও আসমানী গজব নাজিল হয়। আখলাকুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা নবীচরিত্র একটি সামগ্রিক বিষয়। বিচারকার্যে নবীর

কিশোর অপরাধ ও আমাদের দায়বদ্ধতা : আতিকুর রহমান নগরী

একটি শিশু নিরপরাধ এবং মাসুম বেশে জন্মগ্রহণ করে। তার মধ্যে থাকে ল আশা। শিশুকে সুমানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের। পরিবারই শিশুর শিার মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আমাদের মনে রাখতে হবে আজকের শিশু-কিশোররা আগামী দিনের সম্পদ। তাকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। উন্নত বিশ্বে শিশুদের কল্যাণ ও বিকাশের জন্য

আল মসজিদুল আকসা : অতীত ও বর্তমান ড. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান

আল মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। এটি ইসলামরে প্রথম কেবলা এবং মক্কা ও মদিনার পর তৃতীয় পবিত্র স্থান।  এটির সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহীম আ. জেরুসালেম এ মসজিদটি  প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  কাবা নির্মাণের চল্লিশ বছর পর (খ্রিষ্টপূর্ব

আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী : মুহাম্মাদ মিনহাজ উদ্দিন

মানুষ সমগ্র সৃষ্টিজগতের সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। জ্ঞান-গুণ, বিবেক-বোধ, বুদ্ধিমত্তা-তৎপরতা, কার্যদক্ষতা ও জীবনব্যবস্থা থেকে শুরু করে আনুসাঙ্গিক প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ অপরাপর অন্যান্য সৃষ্টি থেকে ব্যতিক্রম ও প্রাগ্রসর। জীবন ও জগতের সকল কিছুতে মানুষের স্বকীয়তা-অনন্যতা ও বৈশিষ্ট্য দেদীপ্যমান। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সমুজ্জ্বল ও প্রকৃষ্ট বহুবিধ গুণাবলী দ্বারা ঋদ্ধ করেছেন যা মানুষকে সৃষ্টিকুল থেকে সামগ্রিকভাবে বৈচিত্রময় ও আলাদা করে

হালাল উপায়ে ব্যাবসা ও মুনাফা : মমিনুল ইসলাম মোল্লা

ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন’। [সূরা বাকারা: আয়াত ২/২৭৫] অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ’। [সূরা নিসা: আয়াত ৪/২৯] উল্লিখিত আয়াতে  (তোমরা পরস্পরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভণ করো না) ‘অন্যায়ভাবে’ বলতে

ইসলামের ভুষণ উত্তম চরিত্র : উবায়দুল হক খান

বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত একটি হাদিসে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামকে পাঁচটি স্তম্ভসম্পন্ন একটি গৃহের সাথে তুলনা করেছেন। এ পাঁচটি স্তম্ভ হলো: আল্লাহ ও তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমানের স্যা, নামায, যাকাত, রোযা ও হজ। বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহকে এ

তাকওয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা / আহমদ আবদুল্লাহ

তাকওয়া মহান রব্বুল আলামীনের এক বিশেষ গুণ। যাদেরকে তিনি এ গুণে গুণান্বিত করেন, তারা খুবই সৌভাগ্যশীল। তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত। তাকওয়া এর আভিধানিক অর্থ ‘ভয় করা’, ‘ছেড়ে দেওয়া’ ও ‘বেঁচে থাকা’।  পরিভাষায় বলা হয়, আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসায় প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে বিরত থাকা। গুণাহের সর্বপ্রকার কার্যাদি থেকে নিজেকে হেফাজত করা। অশ্লীল কথাবার্তা, নির্লজ্জ কথোপকথন ও

ঈমানের দৃঢ়তা / উম্মে হাবিবা নুসরাত

ছোট্ট বালক ইউসুফ। বয়স দশ। রূপে, গুণে ইউসুফি সৌন্দর্যেরই দ্যোতি ছড়াচ্ছে যেনো। পিতা ইসলামি সালতানাতের সুলতান নাজমুদ্দিন আইয়ুব। এমন একটি ছেলে পেয়ে বড্ডো খুশি তিনি। ছেলের ইমানদীপ্ত কথা, আচরণে মাঝেমধ্যে মুগ্ধ হয়ে যান। ও একসময় ইসলামি সালতানাতকে ক্রুসেডমুক্ত করবে, এটাই তার বিশ্বাস। ১১৪৮-১১৪৯ সালের মাঝামাঝি সময়। ইসলামি শিক্ষায় দীক্ষিত করতে ইউসুফকে একটা কাফেলার সঙ্গে তিকরিতে

তাজা ঈমানের শক্তি / তানভীর রহমান

আরবের উত্তপ্ত মরুর সকল প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে, স্বীয় জীবনকে আল্লাহর রাহে সোপর্দ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বদরের প্রান্তরের দিকে নির্ভীক পানে এগিয়ে চলছে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে গড়া সত্য ও ন্যায়ের ঝান্ডাবাহী একদল নকীব। যারা শির থাকতে দেননি আমামা। ছিলেন যারা আল্লাহর প্রেমে মূর্তমান এক উপমা। উদ্দেশ্য তাদের একটাই, ইসলামের চিরশত্রু কাফেরদের বিরুদ্ধে

জীবন হউক কর্মমুখর / মুহাম্মদ শরীফুল আলম

উদ্যম হচ্ছে সাফল্যের প্রতীক। যারা উদ্যমী হয়, সাফল্য তাদের পিছু ছাড়ে না। সে হয় সকলের প্রিয়। তাকে দেখলেই মন ভরে যায়। প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আর কেনই বা নয়, সে তো মেতে ওঠে কর্মের সৃজনশীলতায়। ইসলাম কর্মমুখরতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ

বন্ধু একটু ফিরে দেখ : রুহুল নবীর

এক আল্লাহর সৃষ্টি, একই মানব থেকে বের হওয়া, একই জনপদে গড়ে ওঠা, একই খাবার খাওয়া, কিন্তু আমাদের মাঝে আর তাদের মাঝে কত পার্থক্য! আমাদের জীবনযাপন আর তাদের জীবনযাপনের মধ্যে কত ফরাক। তাদের শরীর মাটির তৈরি আমাদের শরীরও মাটির তৈরি। তারাও কোন না কোন পিতা-মাতার ঔরসে জন্মগ্রহণ করেছে, আমরাও কোন না কোন পিতা-মাতার ঔরসে জন্মগ্রহণ করেছি।

মায়ের সাথে বেয়াদবীর ফল / মুহাম্মদ আতিকুর রহমান

গ্রীষ্মকাল, বেশ গরম, তাই আনিস সাহেব একটি চেয়ার নিয়ে বাইরে বসে আছেন। বাইরের ঠা-া বাতাস আনিস সাহেবের চোখে ঘুম এনে দিল। হঠাৎ তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। যখন চোখ খুললেন, দেখলেন তার সামনে একজন লোক বসে আছে। খুব জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থা। দেখে মনে হচ্ছে অনেক দিন যাবৎ কিছু খায়নি। লোকটি আনিস সাহেবের নিকট খাবার চাইল। আনিস সাহেব ঘর

মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আজীবন / তানভির রহমান

আসরের নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে যাচ্ছিলাম। মাঠে চোখ পড়তেই দেখলাম আমাদের পাড়ার রাশেদকে ওর বাবা সাইকেল চালানো শেখাচ্ছেন। ওর বাবা সাইকেলের পিছনের সিটে ধরে দৌড়াচ্ছেন আর রাশেদ সাইকেল চালাচ্ছে। রাশেদের সাইকেল চালানো দেখে আমারও ছোটবেলার প্রথম সাইকেল চালানোর কিছু স্মৃতি মনে পড়ে গেল। সাথে কিছু ভাবনারও উদয় হল। আর সেই ভাবনাই চোখের কোণায় দু’ফোঁটা

ক্ষমা / রাহাত ইবনে মাহবুব

বদর যুদ্ধে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে হেরে যাবার পর কাফেরদের মেজাজ বেশ চড়া। বড় বড় নেতারা লাত-উজ্জার নামে নানান শপথ করে বসে আছে, প্রতিশোধের আগুনে তারা জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার। প্রায় সহ¯্র অস্ত্র সজ্জিত কাফের সৈনিক গুড়িয়ে গেছে মাত্র তিনশত তের জন দরিদ্র নিরস্ত্র মুসলমান সৈনিকের কাছে। কি লজ্জার কথা! লজ্জায় কাফেরদের মাথা কাটা যাওয়ার দশা। অন্যদিকে


Hit Counter provided by Skylight