বিভাগ : প্রবন্ধ

স্বাধীনতার অপব্যাখ্যা : মানবতা আজ কোথায়? জামিল আহমদ

ঐতিহাসিক ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়। ২৫ শে মার্চের সূর্য চোখ বন্ধ করে আঁধার নামিয়ে আনল। এ সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু করল। ঘড়ির কাটা বারটায় পা রাখলে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে তারিখ বদলে গেল। শুরু হয়ে গেল ঐতিহাসিক ২৬ শে মার্চ। এর বেশ কয়েক মিনিট

কুরআন মানব জাতির পথ প্রদর্শক : মমিনুল ইসলাম মোল্লা

কুরআন পাঠ উত্তম ইবাদত। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যে, রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে সে উহার বদলে একটি নেকি লাভ করে আর একটি নেকি দশটি নেকির সমান [তিরমিযী শরীফ : হাদীস নং ২৯১০] তবে তা সুন্দর করে পড়তে হবে। কেউ ইচ্ছে

সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাসূল সা. : এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান

সামাজিক আচার আচরণ ও মেলামেশা মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ন্যায়বিচার হলো সামাজিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলার সোপান। ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই সমাজবদ্ধ জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। যে দেশ ও সমাজে মজলুম মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয় সেখানে আল্লাহর আজাব ও আসমানী গজব নাজিল হয়। আখলাকুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা নবীচরিত্র একটি সামগ্রিক বিষয়। বিচারকার্যে নবীর

কিশোর অপরাধ ও আমাদের দায়বদ্ধতা : আতিকুর রহমান নগরী

একটি শিশু নিরপরাধ এবং মাসুম বেশে জন্মগ্রহণ করে। তার মধ্যে থাকে ল আশা। শিশুকে সুমানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের। পরিবারই শিশুর শিার মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আমাদের মনে রাখতে হবে আজকের শিশু-কিশোররা আগামী দিনের সম্পদ। তাকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। উন্নত বিশ্বে শিশুদের কল্যাণ ও বিকাশের জন্য

আল মসজিদুল আকসা : অতীত ও বর্তমান ড. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান

আল মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। এটি ইসলামরে প্রথম কেবলা এবং মক্কা ও মদিনার পর তৃতীয় পবিত্র স্থান।  এটির সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহীম আ. জেরুসালেম এ মসজিদটি  প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  কাবা নির্মাণের চল্লিশ বছর পর (খ্রিষ্টপূর্ব

আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী : মুহাম্মাদ মিনহাজ উদ্দিন

মানুষ সমগ্র সৃষ্টিজগতের সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। জ্ঞান-গুণ, বিবেক-বোধ, বুদ্ধিমত্তা-তৎপরতা, কার্যদক্ষতা ও জীবনব্যবস্থা থেকে শুরু করে আনুসাঙ্গিক প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ অপরাপর অন্যান্য সৃষ্টি থেকে ব্যতিক্রম ও প্রাগ্রসর। জীবন ও জগতের সকল কিছুতে মানুষের স্বকীয়তা-অনন্যতা ও বৈশিষ্ট্য দেদীপ্যমান। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সমুজ্জ্বল ও প্রকৃষ্ট বহুবিধ গুণাবলী দ্বারা ঋদ্ধ করেছেন যা মানুষকে সৃষ্টিকুল থেকে সামগ্রিকভাবে বৈচিত্রময় ও আলাদা করে

হালাল উপায়ে ব্যাবসা ও মুনাফা : মমিনুল ইসলাম মোল্লা

ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন’। [সূরা বাকারা: আয়াত ২/২৭৫] অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ’। [সূরা নিসা: আয়াত ৪/২৯] উল্লিখিত আয়াতে  (তোমরা পরস্পরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভণ করো না) ‘অন্যায়ভাবে’ বলতে

ইসলামের ভুষণ উত্তম চরিত্র : উবায়দুল হক খান

বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত একটি হাদিসে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামকে পাঁচটি স্তম্ভসম্পন্ন একটি গৃহের সাথে তুলনা করেছেন। এ পাঁচটি স্তম্ভ হলো: আল্লাহ ও তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমানের স্যা, নামায, যাকাত, রোযা ও হজ। বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহকে এ

তাকওয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা / আহমদ আবদুল্লাহ

তাকওয়া মহান রব্বুল আলামীনের এক বিশেষ গুণ। যাদেরকে তিনি এ গুণে গুণান্বিত করেন, তারা খুবই সৌভাগ্যশীল। তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত। তাকওয়া এর আভিধানিক অর্থ ‘ভয় করা’, ‘ছেড়ে দেওয়া’ ও ‘বেঁচে থাকা’।  পরিভাষায় বলা হয়, আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসায় প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে বিরত থাকা। গুণাহের সর্বপ্রকার কার্যাদি থেকে নিজেকে হেফাজত করা। অশ্লীল কথাবার্তা, নির্লজ্জ কথোপকথন ও

ঈমানের দৃঢ়তা / উম্মে হাবিবা নুসরাত

ছোট্ট বালক ইউসুফ। বয়স দশ। রূপে, গুণে ইউসুফি সৌন্দর্যেরই দ্যোতি ছড়াচ্ছে যেনো। পিতা ইসলামি সালতানাতের সুলতান নাজমুদ্দিন আইয়ুব। এমন একটি ছেলে পেয়ে বড্ডো খুশি তিনি। ছেলের ইমানদীপ্ত কথা, আচরণে মাঝেমধ্যে মুগ্ধ হয়ে যান। ও একসময় ইসলামি সালতানাতকে ক্রুসেডমুক্ত করবে, এটাই তার বিশ্বাস। ১১৪৮-১১৪৯ সালের মাঝামাঝি সময়। ইসলামি শিক্ষায় দীক্ষিত করতে ইউসুফকে একটা কাফেলার সঙ্গে তিকরিতে

তাজা ঈমানের শক্তি / তানভীর রহমান

আরবের উত্তপ্ত মরুর সকল প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে, স্বীয় জীবনকে আল্লাহর রাহে সোপর্দ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বদরের প্রান্তরের দিকে নির্ভীক পানে এগিয়ে চলছে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে গড়া সত্য ও ন্যায়ের ঝান্ডাবাহী একদল নকীব। যারা শির থাকতে দেননি আমামা। ছিলেন যারা আল্লাহর প্রেমে মূর্তমান এক উপমা। উদ্দেশ্য তাদের একটাই, ইসলামের চিরশত্রু কাফেরদের বিরুদ্ধে

জীবন হউক কর্মমুখর / মুহাম্মদ শরীফুল আলম

উদ্যম হচ্ছে সাফল্যের প্রতীক। যারা উদ্যমী হয়, সাফল্য তাদের পিছু ছাড়ে না। সে হয় সকলের প্রিয়। তাকে দেখলেই মন ভরে যায়। প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আর কেনই বা নয়, সে তো মেতে ওঠে কর্মের সৃজনশীলতায়। ইসলাম কর্মমুখরতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ

বন্ধু একটু ফিরে দেখ : রুহুল নবীর

এক আল্লাহর সৃষ্টি, একই মানব থেকে বের হওয়া, একই জনপদে গড়ে ওঠা, একই খাবার খাওয়া, কিন্তু আমাদের মাঝে আর তাদের মাঝে কত পার্থক্য! আমাদের জীবনযাপন আর তাদের জীবনযাপনের মধ্যে কত ফরাক। তাদের শরীর মাটির তৈরি আমাদের শরীরও মাটির তৈরি। তারাও কোন না কোন পিতা-মাতার ঔরসে জন্মগ্রহণ করেছে, আমরাও কোন না কোন পিতা-মাতার ঔরসে জন্মগ্রহণ করেছি।

মায়ের সাথে বেয়াদবীর ফল / মুহাম্মদ আতিকুর রহমান

গ্রীষ্মকাল, বেশ গরম, তাই আনিস সাহেব একটি চেয়ার নিয়ে বাইরে বসে আছেন। বাইরের ঠা-া বাতাস আনিস সাহেবের চোখে ঘুম এনে দিল। হঠাৎ তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। যখন চোখ খুললেন, দেখলেন তার সামনে একজন লোক বসে আছে। খুব জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থা। দেখে মনে হচ্ছে অনেক দিন যাবৎ কিছু খায়নি। লোকটি আনিস সাহেবের নিকট খাবার চাইল। আনিস সাহেব ঘর

মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আজীবন / তানভির রহমান

আসরের নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে যাচ্ছিলাম। মাঠে চোখ পড়তেই দেখলাম আমাদের পাড়ার রাশেদকে ওর বাবা সাইকেল চালানো শেখাচ্ছেন। ওর বাবা সাইকেলের পিছনের সিটে ধরে দৌড়াচ্ছেন আর রাশেদ সাইকেল চালাচ্ছে। রাশেদের সাইকেল চালানো দেখে আমারও ছোটবেলার প্রথম সাইকেল চালানোর কিছু স্মৃতি মনে পড়ে গেল। সাথে কিছু ভাবনারও উদয় হল। আর সেই ভাবনাই চোখের কোণায় দু’ফোঁটা

ক্ষমা / রাহাত ইবনে মাহবুব

বদর যুদ্ধে মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে হেরে যাবার পর কাফেরদের মেজাজ বেশ চড়া। বড় বড় নেতারা লাত-উজ্জার নামে নানান শপথ করে বসে আছে, প্রতিশোধের আগুনে তারা জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার। প্রায় সহ¯্র অস্ত্র সজ্জিত কাফের সৈনিক গুড়িয়ে গেছে মাত্র তিনশত তের জন দরিদ্র নিরস্ত্র মুসলমান সৈনিকের কাছে। কি লজ্জার কথা! লজ্জায় কাফেরদের মাথা কাটা যাওয়ার দশা। অন্যদিকে

পাহাড়ের পাদদেশে / মোস্তফা কামাল গাজী

পাহাড়ের গা ঘেঁসে পিচের সরু রাস্তা। হাজারো গাড়ির সথে এগিয়ে চলছে আমাদের মাইক্রোটাও। পাহাড়ের পাদদেশে বিশাল খাদ। রাস্তার দু’পাশে লোহার রেলিং দেয়া। গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাতে খাদে না পড়ে সেজন্য এ ব্যবস্থা। একটু পরপর বাঁক। মোড় নিতে গেলে গা ছমছম করে। এই বুঝি সামনের কোনো গাড়ির ধাক্কায় খাদে পড়ে যাই! কিন্তু না। রাস্তাটা বিপদজনক হলেও

মসজিদই ছিল মুসলমানদের অফিস / জমির আল-হাফিজ

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়ত ঘোষণার পর দ্বীনের কাজে মেহনত শুরু করেছিলেন। এতে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। হিজরতের পর মদীনায় মসজিদে নববী নির্মাণ ছিল প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সকল মুসলমানকে এক জায়গায় একত্র করার উদ্দেশ্যে এ মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সেখানে রুহানি প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পার্থিব সমস্যা-সম্পর্কিত বিষয়েও আলোচনা করা হতো এবং সমাধানও প্রদান

দেওবন্দের এদারা / মোস্তফা কামাল গাজী

মসজিদে রশিদে ফজর পড়ে বাইরে এলাম। বসন্তের ঝকঝকে একটা সকাল। মৃদু বাতাসে একটু একটু শীত লাগছে। মসজিদের বেলে পাথরের বিশাল চত্বর। তার একপাশে ফুলের বাগান। নানা রঙের ফুল ফুটে আছে সেখানে। নাম না জানা চমৎকার কিছু হলুদ রঙের ফুল গাছের ডালে ঝুলছে। শিশিরজলে ভেজা ফুলগুলো বেশ লাগছে। তবে এতো ফুলের মাঝেও প্রজাপতি উড়ছে না কোথাও।

কিতাব হল বিপদের বন্ধু / নাদিরা বিনিতে ইউনুছ

বিগত ২০১৬ সালের ১৫ই ডিসেম্বর রোজ শনিবার ৯ টার সময় দুটি হাদীসের কিতাব নিয়ে বের হলাম ছাতক থানার চরবাড়া মহিলা মাদ্রাসায় আসার জন্য। কিছুণ হেঁটে পয়েন্টের মধ্য এসে গাড়ির জন্য অপো করছিলাম এবং কিছুণ অপো করার পর গাড়ি পেয়ে আমি ও আমার আব্বু গাড়িতে উঠলাম। প্রায় দশ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করার পর আরেকটি পয়েন্টে পৌঁছার

ধৈর্য সফলতার সোপান / জাকারিয়া সদর

‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্য ধারণকারীদের সঙ্গে আছেন। (সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৫৩) বিপদে ধৈর্যধারণ করা একটি মহৎ গুণ। যার মাঝে এই গুন বিদ্যমান থাকে, সে চরম সংকটময় মুহূর্তেও আপন লক্ষ্যপানে এগিয়ে চলতে সক্ষম হয়। পক্ষান্তরে যার মাঝে ধৈর্যধারণ করার ক্ষমতা নেই, সে সামান্য প্রতিবন্ধকতায় পড়লে কিংবা সমালোচনায়


Hit Counter provided by Skylight