বিভাগ : গল্প

ভয় / মুস্তাকিম আল মুনতাজ

রাত ১০টা। সবে মাত্র টিপ টিপ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঘরে এসেছে সায়েম। কিছুণ পরেই বৃষ্টির গতি বেড়ে গেল। বাহিরে মুষলধারে বৃষ্টি ও প্রচন্ড তুফান হতে লাগলো। আকাশেও খুব ঘনঘন বিকট আওয়াজে বজ্রপাত হচ্ছে। এমন বিকট শব্দে থরথর করে কেঁপে উঠছে সায়েমের বুক। খুব ভয়ও করছে তার। সায়েমের মা আমিনা বেগম। তিনি ছাড়া সবাই ঘুমিয়ে আছে।

অনুতপ্ত / আহমদ আবদুল্লাহ

নাহিন বাবা-মার খুব আদুরের মেয়ে। পড়ালেখা, কাজকর্ম সব বিষয়ে তার কোনো জুড়ি নেই। বাবা-মা এমন মেয়ে পেয়ে খুব খুশি। কিন্তু ঠিক তার বিপরীতমুখী ছিলো রাফি। পড়ালেখায় ছিলো না মনোযোগ। খেলাধুলা আর অনর্থক কাজে সময় ব্যয় করা রাফির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তার কাজকর্মে বাসার সবাই অতিষ্ঠ। বিশেষ করে বাবা-মা। রাফিকে সবাই বুঝাতো, কিন্তু ফলাফল হতো শূন্য।

পরিকল্পনা ইব্রাহিম / হাসান হৃদয়

ঈশান কোণে মেঘ জমেছে খুব। অন্ধকার হয়ে আসছে চারিদিক। মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরছে গালিব। পথিমধ্যেই ঝুম বৃষ্টি নামলো, বইগুলো ভিজে যাচ্ছে তাই দৌড়ে একটি ঘরের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। তবুও বৃষ্টির কবল থেকে রা পাচ্ছে না সে। তাই সে অপারগ হয়ে দরজায় ধাক্কা দিল। একটা ছেলে দরজা খুললো। গালিবকে দেখে ঘরে আসতে বলে। গালিব ঘরে প্রবেশ

এক দুঃখিনি মায়ের আশা / আতিকুর রহমান

বেশ কয়েক বছর হলো গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয়নি। ছোট বেলায় গিয়েছিলাম। তারপর আর যাওয়া হয়নি। তাই এবার ইরাদা করলাম যে, পরীক্ষার ছুটিতে গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুরে আসবো। সময় মত পরীক্ষা শেষ হলো। তাই ঠিক করলাম আগামীকাল ভোরে রওয়ানা দিবো। যেইভাবা সেই কাজ। ফজরের নামাজ পড়েই রওয়ানা দিলাম। তাই সকাল শেষ হবার পূর্বেই গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে

সততার পুরস্কার… মুহাম্মাদ আতাউর রহমান (মারুফ)

বহুদিন আগের কথা,এক গ্রামে বাস করত নূরুল্লাহ্ নামের একজন দরিদ্র কৃষক। নিজের আবাদের ছোট্ট তেটির দেখাশোনা আর অন্যদের বাড়িতে মাটি কেটেই তার সংসার চলে। তবে সম্পদের দিক দিয়ে সে দরিদ্র হলেও ঈমানের দিক দিয়ে কিন্তু দরিদ্র নয়! পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ সময়মত আদায়ের পাশাপাশি তাহাজ্জুদও সাধারণত বাদ দেয় না সে। শরিয়তের অন্য সকল আদেশনিষেধও যথাযথভাবে পালন

অন্য আনন্দ / রেদওয়ান সামী

রুবি ঘড়ি দেখছিল আর ব্যাগ গুছাচ্ছিল। রুবির এমন ব্যস্ততা দেখে রুবির মা বলল, রুবি এত তাড়া কিসের তোর? কোথাও বেরুচ্ছিস না কি? হ্যাঁ, মা আজ আমাদের পাঠাগারের ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। বন্ধুরা মিলে একটা পার্টির আয়োজন করেছি কলেজে। সকাল দশটায় ওরা সবাই কলেজে থাকবে। ওরা আমাকে বলে দিয়েছে, আমি না গেলে না-কি পার্টিটা প্রাণ পাবে না।

জেলে রহমতুল্লাহর ছোটো মেয়েটি / মুনিরুল্লাহ রাইয়ান

জেলে পাড়ার একটি জীর্ণ কুটির। জেলে রহমতুল্লাহর। এক স্ত্রী আর এক ছোটো মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। প্রতিদিন ভোরে মেয়েকে সঙ্গী করে জাল নিয়ে মাছ ধরতে বেরিয়ে যায়। কখনও নদীর তীরে, সমুদ্র সৈকতে। কখনওবা বিল- হাওড়ে। ঘরে ফিরে সন্ধ্যার দিকে। কোনো সময় ঝুড়ি ভর্তি মাছ নিয়ে। কোনো সময় শূন্য হাতেই। রহমতুল্লাহর একমাত্র আয়ের উৎস তার এই

হারানো স্মৃতি / উম্মে হাবিবা নুসরাত

ছোটবেলায় খুব দুষ্টু ছিলাম আমি। উদ্ভট সব কা- করে বেড়াতাম কেবল। ছয় বোনের মাঝে আমি ৪র্থ। আমার ছোট ছিলো ইসরাত। পিঠেপিঠি হওয়ায় ওর সঙ্গে খুব ভাব হতো আমার। যতো দুষ্টুমি সব ওকে সঙ্গে নিয়েই করতাম। অবশ্য ও আমার মতো দুষ্টু ছিলো না। ও ‘র’ উচ্চারণ করতে পারতো না বলে আমাকে বলতো ‘নুসলাত’ আর ওর নাম

এলো রক্তরাঙা বসন্ত / উম্মে হাবিবা নূসরাত

শীতের জীর্ণতা ঘুচিয়ে, কৃষ্ণচূড়ার রক্তআভা গায়ে মেখে, গলায় মহুয়ার মালা পরে, ঝোপে ঝোপে কোকিলের কুহুতান নিয়ে কে এলো? এ যে ঋতুরাজ বসন্ত! সে এসেছে বিজয়ী বেশে, প্রকৃতিকে নবরূপে সাজিয়ে দিতে। ষড়ঋতুর দেশ আমাদের বাংলাদেশ। ছয়টি ঋতু নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য আর সৌন্দর্য নিয়ে পালাক্রমে উপস্থিত হয় আমাদের মাঝে। তার মধ্যে বসন্তকে বলা হয় ঋতুর রাজা। শীত

জ্বীনের গল্প / এইচ এম শহীদুল ইসলাম মামুন

সিরাজ মিয়া খুব সৎ লোক। ফেনীর ছোট নদীর তীরে তাদের বসবাস।এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার সংসার খুব সুখে চলছে। ছেলের নাম মামুন বয়স ১১ বছর হবে। ছেলেটি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। বাড়ির অদূরে নদীর চর। বিচিত্র কোলাহল, খোলামেলা মাঠ। প্রতিদিন সন্ধ্যা হতেই ওই মাঠে ছেলেদের কোলাহল দেখা যায়। বয়ে যায় ক্রিকেট, ফুটবল আর হকি

বড় হবার ইচ্ছা / উম্মে হাবিবা নুসরাত

সবাই গভীর ঘুমে বিভোর। নিশীথিনীর গুমোট নীরবতা সবখানে। দূরে কোথাও নিশাচর পাখিরা ডাকছে। ঘুম নেই শুধু হাসানের চোখে। ক্লাস ফাইভে পড়ে ও। কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে শুধু। ভাবছে আগামীকাল স্কুলে কী হবে কে জানে। স্যার বলেছে অংক খাতা দিবে কাল। অংক খাতায় কী যে সব লিখে এসেছে হাসানই ভালো জানে। নিশ্চিত শূন্য পাবে। এরপর

তোমাদের গল্প : তাদের তরে / রাহাত ইবনে মাহবুব

  পড়ন্ত বিকেল। অফিসের সামনের রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছে ইরফান। টিপ টিপ করে বৃষ্টি ঝরছে। শরীর ভেজার মত না। টিপ টিপ বৃষ্টির ফোঁটার ছিটাই তার চশমার কাঁচ ভরে গেছে। সহসা ছোট্ট একটা ছেলে এসে তার পাঞ্জাবীর পেছন দিকটা ধরে খুব আস্তে একটা টান দিল। ইরফান পিছন ফিরে তাকাল। ছেলেটা অবশ্য এটাই চেয়েছিল।

ধৈর্য হোক আমাদের শিক্ষা / ইজহারুল ইসলাম

ছোটবেলায় একবার পুকুরে গোসল করতে গিয়ে নতুন সাবান হারিয়ে ফেলেছিলাম। কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এসেছি। আম্মু জিজ্ঞেস করেছেন,কাঁদছিস কেন? সাবান হারিয়ে ফেলেছি, এ্যাঁ এ্যাঁ! যদিও কানমলা খাইনি, তবে বকাঝকা ঠিকই খেতে হয়েছিলো! এতে করে সারাদিন মন খারাপ ছিলো। সেদিন গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল এবং হারানো সাবানের কথা মনে করে জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করলাম!

ডায়েরীর পাতায় নয়, মনের পাতায়! / আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

নদীর পাড়ে অবস্থিত আমাদের মাদ্রাসা। সবুজের সমারোহের মধ্যখানে আমাদের জামেয়া ও জামেয়ার পাশেই মসজিদ, যেখান থেকে খুব সহজেই শুনতে পাই সমধুর আজান। যখন ধানের সময় আসে তখন আমাদের জামেয়া ও মসজিদটি সবুজ মাঠের মধ্যখানে আরো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এই সময় যে কেউ দেখলেই তার চোখ ও মন জুড়াবেই। এই জামেয়ার স্মৃতি কখনো ভোলার নয়; আর

ছেলেটার নাম অমর / রাহাত ইবনে মাহবুব

ঘড়িতে সময় রাত ১০ টা বেজে ৩০ মিনিট। মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে মিনমিনেভাবে হেডলাইট জ¦ালিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে একটা মিনি বাস। মাদরাসার বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে আজই। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মাদরাসার দুজন শিক্ষকসহ আমরা বেশ কজন ছাত্র মিলে ১০ দিনের জন্য তাবলীগ জামাতে যাচ্ছি। সাথীর সংখ্যা মোট সতের জন। সবাই সবার বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় আসবাব ভর্তি ব্যাগ

কুরআনের মহিমায় / আতিকুর রহমান

কুরআনের মহিমায় আতিকুর রহমান হান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে এ মানবজাতিকে হাজারো বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। এবং এ কুরআনই হলো মানবজাতির জন্য একমাত্র মুক্তির পথ। এ পবিত্র কুরআনের বিষয়েই একটি ঘটনা উল্লেখ করছি। সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে একটি জাহাজ তার উদ্দেশ্য দিকে চলছে। সেই জাহাজে ছিল কুরআনের একজন হাফেজ। হঠাৎ এক ঝড় এসে জাহাজটিকে ডুবিয়ে

হজ্বের স্বপ্ন / আতিকুর রহমান

হজ্ব শেষ। এবার ফেরার পালা। জেদ্দা বিমান বন্দরে নিজ ফ্লাইটের অপেক্ষায় বসে আছেন ডা. খালিদ হাসান। ডা. খালিদ পাকিস্তানের পেশোয়ারের অধিবাসি। তিনি বসে বসে একটি বই পড়তেছেন। এমন সময় একজন লোক এসে উপস্থিত হলো। ডা. খালিদ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলো, ভাই আপনি মনে হয় পাকিস্থান থেকে এসেছেন। ডা. খালিদ বললেন, আপনি কিভাবে জানলেন? না, আপনার হাতে

সময় আর বেদনা / রাহাত ইবনে মাহবুব

সময় কখনও কারো জন্য অপেক্ষা করে না। যে এগোতে থাকে তার আপন গতীতে যা নির্ধারণ করে দিয়েছে মহা ক্ষমতাধর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যিনি ব্যতীত সময়ের আপন গতী প্রতিরোধ করার মতন সাধ্য এ জগতের কারো নেই। একদিন দু’দিন করে সপ্তাহ, পক্ষ, মাস, বছর, শতাব্দী, যুগ ইত্যাদি নানান রূপে সময় পেরিয়ে যায় মানুষের জীবন থেকে। সময় পেরিয়ে

এক দুঃখিনী নারীর গল্প / তানভীর রহমান

বাংলাদেশের অসংখ্য বৃদ্ধাদের মধ্যে একজন হলেন হালিমা খাতুন। বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর। এই বৃদ্ধা বাস করেন সাভারের এক বৃদ্ধাশ্রমে। তিনি নিজেও কখনো ভাবেন নি যে তাঁকে বৃদ্ধাশ্রমে আসতে হবে। কেননা, তাঁরও ছিল একটি সুখের সংসার, ছিল সাজানো-গোছানো একটি বাড়ি, ছিল স্বামী ও সন্তান। কিন্তু হঠাৎ করে তার জীবনটা ওলটপালট হয়ে গেল। একদিন অফিস থেকে ফেরার

আলোর দিগন্তে /রাহাত ইবনে মাহবুব

মক্কার বালুকাময় মরুভূমি ছাড়িয়ে নির্ভিকপানে সামনে এগিয়ে চলেছেন জাহেলীয়াতের কষ্টিপাথরে মোড়ানো ওমর রা.।মরুভূমির উত্তপ্ত বালুকণা অসহ্য গরম, প্রচ- বাতাস কোন কিছুই তার গতিরোধ করতে পারছে না সামান্যতম। হাতে তার ধারালো এক তলোয়ার। চেহারায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞার সুস্পষ্ট ছাপ ভেসে উঠেছে। চোখ দিয়ে যেন অনন ঠিকরে বেরুচ্ছে। কিন্তু তিনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি কি কাউকে কতলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন?

ভয়ানক পথে / এনামুল করীম ইমাম

মানীর মান খোদায় বাঁচায়, বাপজানরে জোতা দিয়া পিটাইছে কিন্তু আমি ইজ্জত নিয়া পলাইয়া বাঁইচা আইছি। সমাজে প্রচলিত এই প্রবাদটি অহরহ-ই শোনা যায়; কিন্তু আমাদের গল্পটা একটু অন্যরকম এবং খানিকটা ভিন্ন স্বাদের। বদর যুদ্ধের ময়দান থেকে মুশরিক কুরাইশ দলের অন্যতম সদস্য উমায়ের ইবনে ওয়াহহাব কোনো রকম নিজের জীবনটা বাঁচিয়ে পালিয়ে আসতে পারল বটে; কিন্তু বিজয়ী মুসলমানদের


Hit Counter provided by Skylight