বিভাগ : জান্নাতী কাফেলা

আল মসজিদুল আকসা : অতীত ও বর্তমান ড. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান

আল মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। এটি ইসলামরে প্রথম কেবলা এবং মক্কা ও মদিনার পর তৃতীয় পবিত্র স্থান।  এটির সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। আল্লাহর নবী হযরত ইব্রাহীম আ. জেরুসালেম এ মসজিদটি  প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  কাবা নির্মাণের চল্লিশ বছর পর (খ্রিষ্টপূর্ব

আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী : মুহাম্মাদ মিনহাজ উদ্দিন

মানুষ সমগ্র সৃষ্টিজগতের সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। জ্ঞান-গুণ, বিবেক-বোধ, বুদ্ধিমত্তা-তৎপরতা, কার্যদক্ষতা ও জীবনব্যবস্থা থেকে শুরু করে আনুসাঙ্গিক প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ অপরাপর অন্যান্য সৃষ্টি থেকে ব্যতিক্রম ও প্রাগ্রসর। জীবন ও জগতের সকল কিছুতে মানুষের স্বকীয়তা-অনন্যতা ও বৈশিষ্ট্য দেদীপ্যমান। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সমুজ্জ্বল ও প্রকৃষ্ট বহুবিধ গুণাবলী দ্বারা ঋদ্ধ করেছেন যা মানুষকে সৃষ্টিকুল থেকে সামগ্রিকভাবে বৈচিত্রময় ও আলাদা করে

হালাল উপায়ে ব্যাবসা ও মুনাফা : মমিনুল ইসলাম মোল্লা

ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন’। [সূরা বাকারা: আয়াত ২/২৭৫] অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ’। [সূরা নিসা: আয়াত ৪/২৯] উল্লিখিত আয়াতে  (তোমরা পরস্পরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভণ করো না) ‘অন্যায়ভাবে’ বলতে

ইসলামের ভুষণ উত্তম চরিত্র : উবায়দুল হক খান

বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত একটি হাদিসে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামকে পাঁচটি স্তম্ভসম্পন্ন একটি গৃহের সাথে তুলনা করেছেন। এ পাঁচটি স্তম্ভ হলো: আল্লাহ ও তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমানের স্যা, নামায, যাকাত, রোযা ও হজ। বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহকে এ

চলে যায় সময় বেলায় অবেলায়-: মুহাম্মদ আবু হানিফ

সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। এবং অতিবাহিত হলে আর ফিরে আসে না। এভাবেই অতীত পর্দায় লুকিয়ে যায় মানুষের শৈশব ও কৈশোরের অবাধ চপলতা। অতীত কাহিনীতে পরিণত হয় যৌবনের উদ্দমতা। সময়ের গতিতে উপস্থিত হয় পৌঢ়ত্ব ও বার্ধক্যের গাম্ভীর্যতা। সময়ের সমীকরণ তখন বার্তা দেয় অনিবার্য মৃত্যুর। তখন মনে হয় চোখ খুললেই যেন ভেসে উঠল জীবন সমাপ্তির

পথশিশুর দরুন কুরআন-হাদীসের বাণী: জামিল আহমদ

“আমার খেতে ভাল লাগছে না, আমি এখন কিছু খাব না” বলে একটু চুপ রইল মেছবাহ। অনন্তর বলল, বর্তমান সময়টা আমার ভাল যাচ্ছে না, কিছু ভাল লাগছে না। আব্বু বাসায় না আসা পর্যন্ত আমি কিছুই মুখে দিব না। আম্মু হিসাবে মমতাজ বেগমের যতটুকু চেষ্টা করা দরকার তাতে তিনি  ত্রুটি করেন নি। আপু মারিয়াম এবং বড় ভাইয়া

জামাল ও তার কম্বল: রাহাত ইবনে মাহবুব

কাক ডাকা ভোর।  সূর্যি মামা সবে মাত্র কীরণ বিলাতে শুরু করেছে। ঘন কুয়াশার কারণে চারদিক বেশ ধোঁয়াটে। তাই সূর্যি মামার সদ্য ছড়ানো মিষ্টি রুদ্দুর অতটা সুবিধা করতে পারছে না। কমলাপুর রেলষ্টেশনের আবর্জনা ভরা প্লাটফর্মের এক কোণে ছেড়া একটা ছালার বস্তা গায়ে জড়িয়ে নিশ্চুপ বসে আছে জামাল। অসহনীয় ঠান্ডার তীব্রতায় থর থর করে কাঁপছে ওর পুরো

তাঁরাও যখন দীনের দাঈ! মীজানুর রহমান হানাফী

সুস্থ সুশীল জ্ঞানী সমাজের কাউকে যখন দেখি দীন-ধর্ম বিমুখ। ধর্ম বিদ্বেষী কর্মকান্ডে তৎপর। অবাক হই,আশ্চর্যের সীমা হারিয়ে যায়। তাদের বিচ্ছিন্নতায় ব্যথিত হই। কী সেই হেতু? যার জন্যে তারা দীন-ঈমানের মতো মহা দৌলত থেকে বঞ্চিত। অথচ যারা মনের ভাব প্রকাশ করতে জানে না; মুখে বলতে পারে না হৃদয়ে জমে থাকা আবেগ-অনুভূতি। তারাও এসেছেন বিশ^ ইজতেমার বিশাল

বড়, মেঝো, ও ছোট ভাই: দিলখোলাশা জাহিদ খান

আজরাঈল এসে পড়েছে তার জান কবজ করতে। সে তার বড় ভাইয়ের কাছে চলে গেল। বড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে বললো ভাইয়া! আজরাঈল আমার জান কবজ করতে এসেছেন। আমি মরণের পর কী তুমি আমার সাথে ঐ অন্ধকার কবরে যাবে? বড় ভাই বললো, ঐ কবরে যাবো তো দূরের কথা তুই মারা গেলে তোর জানাযার নামাজটাও পড়তে যাবো না।

মুঠোফোনও হতে পারে মারণাস্ত্র: আবদুল হান্নান জুলফিকার

বর্তমান সমাজের চিত্রটি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে আমরা পরস্পরকে ভালোবাসার চেয়ে নিজের মুঠোফোন বা মোবাইল ফোনকেই বেশি ভালোবাসি। প্রতিদিন খাবার খেতে ভুলে গেলেও অথবা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ নিতে ভুলে গেলেও; মোবাইল ফোন সঙ্গে থাকবেই। মুঠোফোন ছাড়া জীবন কাল-কুঠরিতে ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকা কয়েদীদের জীবনের মতো। মুঠোফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির কল্যাণে

মেঘ বালিকার ডায়েরী: জামিল আহমদ

একলা ভ্রমণ করার অভ্যাস নেই আমার। পরিস্থিতির স্বীকার হলে ভিন্ন কথা। কিছুদিন আগে এমনই একটি বিষয়ে একা সফর করেছি। যেটা ছিল আমার ব্যক্তিগত একটি কাজের জন্য। ফজরের নামায শেষ করে মাথাটা একটু বালিশে রাখলাম। মনের অজান্তে চোখের পাতায় ঘুম এসে ভিড় জমাল। অতঃপর যখন দিনমনি পূর্ব আকাশে উঁকি দিল, তখন আমার আঁখিদ্বয়ের পাতা পৃথক হল।

মদীনার পথে প্রিয় নবীজী সা.: আয়েশা সিদ্দীকা বিনতে সুলাইমান

নবুওয়তের একাদ্বশ বর্ষ। ৬২১ সন। মক্কায় আগমন করলো মদীনার আওস গোত্রের নেতা আবুল হাফসার আনাস ইবনে রাফে। সাথে একদল টগবগে যুবক। তারুণ্যের দীপ্ত প্রভা তাদের সমগ্র দেহে যেন ঢেউ খেলছে। এই যুবক দলের একজন ছিলেন ইয়াস ইবনে মুয়াজ। মদীনার যুবক দলটিকে নবীজী দাওয়াত দিলেন ইসলামের পথে। কিন্তু তাদের কেউ সেদিন সাড়া দেয়নি নবীজীর দাওয়াতে। তবে

আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে! মীম হাবিবী

গল্প শুধু গল্প নয়, শুধু পড়ে যাবার বিষয় নয়, গল্পের পেছনে একটা ছায়া থাকে, সেটা আমাদের পথ দেখায়। রূপকথা শুধু চুপকথা নয়, শুধু শুনে যাবার বিষয় নয়, সেখানে একটা প্রেরণা থাকে, থাকে পথ-নির্দেশনা। কাহিনী শুধু কাহিনী নয়, নতুন পথ নির্মাণের বাহিনীও, সংকট উত্তরণের মূলমন্ত্রও। যুগে যুগে এই যে এতো গল্প, এতো কাহিনী, এতো রূপকথা রচিত

আদরের সন্তান: মোহাম্মদ দিলখোলাশা জাহিদ খান

আমাদের সমাজে কত রকমের হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতিদিন। কেউ শত কষ্টের মাঝেও জীবন সংসার অতিবাহিত করতে হয়। কেউ আবার হারিয়ে যাচ্ছে অজানার উদ্দেশ্যে কষ্ট থেকে বাঁচার জন্য। প্রতিটি মানুষ চায় একটু সুখ, একটু ভালোবাসা, একটু আদর। কিন্তু এই সুখ পাখি যে সবার কাছে এসে ধরা দেয় না। এমনি একটা ঘটনা তুলে ধরছি। করিম

missed call : উম্মে শাহামা

আবার  আগের নাম্বার| কী করি? কল রিসিভ করব? না করব না? নাঈমা না তো আবার? কারণ ওকে এস এম এস করতেই উক্ত নাম্বার থেকে কলটি এসেছে| হাবীবা এতক্ষণ দ্বিধাবিভক্ত ছিল| আচ্ছা, এবার যদি কল আসে কথা বলব না, রিসিভ করে চুপটি মেরে কানের কাছে ধরে রাখব| আটার খামিরা তৈরী করে উঠতে না উঠতেই আবার ফোন|

জীবন ফিরে পেলাম (স্মৃতিচারণ) / রাহাত ইবনে মাহবুব

মাদরাসার বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। ছুটি শরু হয়ে গেছে গতকালই। জনমানবশূণ্য মাদরাসায় আমরা মাত্র হাতে গনা সাত জন। তালিবে ইলম বিছানা পত্র আর ব্যাগ গুছানোয় ব্যস্ত। অনেক কাজ বাকি এখনও। চটজলদি সেরে ফেলা চাই। এরপর দুজন শিক্ষকের পিছু পিছু যেতে হবে কাকরাইল মসজিদে। তারপর সেখান থেকে দশ দিনের জন্য তাবলীগ জামাতে। দ্রুত সকালের নাস্তা সেরে গাট্টি

তাকওয়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা / আহমদ আবদুল্লাহ

তাকওয়া মহান রব্বুল আলামীনের এক বিশেষ গুণ। যাদেরকে তিনি এ গুণে গুণান্বিত করেন, তারা খুবই সৌভাগ্যশীল। তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত। তাকওয়া এর আভিধানিক অর্থ ‘ভয় করা’, ‘ছেড়ে দেওয়া’ ও ‘বেঁচে থাকা’।  পরিভাষায় বলা হয়, আল্লাহ তায়ালার ভালোবাসায় প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে বিরত থাকা। গুণাহের সর্বপ্রকার কার্যাদি থেকে নিজেকে হেফাজত করা। অশ্লীল কথাবার্তা, নির্লজ্জ কথোপকথন ও

ভয় / মুস্তাকিম আল মুনতাজ

রাত ১০টা। সবে মাত্র টিপ টিপ বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঘরে এসেছে সায়েম। কিছুণ পরেই বৃষ্টির গতি বেড়ে গেল। বাহিরে মুষলধারে বৃষ্টি ও প্রচন্ড তুফান হতে লাগলো। আকাশেও খুব ঘনঘন বিকট আওয়াজে বজ্রপাত হচ্ছে। এমন বিকট শব্দে থরথর করে কেঁপে উঠছে সায়েমের বুক। খুব ভয়ও করছে তার। সায়েমের মা আমিনা বেগম। তিনি ছাড়া সবাই ঘুমিয়ে আছে।

ঈমানের দৃঢ়তা / উম্মে হাবিবা নুসরাত

ছোট্ট বালক ইউসুফ। বয়স দশ। রূপে, গুণে ইউসুফি সৌন্দর্যেরই দ্যোতি ছড়াচ্ছে যেনো। পিতা ইসলামি সালতানাতের সুলতান নাজমুদ্দিন আইয়ুব। এমন একটি ছেলে পেয়ে বড্ডো খুশি তিনি। ছেলের ইমানদীপ্ত কথা, আচরণে মাঝেমধ্যে মুগ্ধ হয়ে যান। ও একসময় ইসলামি সালতানাতকে ক্রুসেডমুক্ত করবে, এটাই তার বিশ্বাস। ১১৪৮-১১৪৯ সালের মাঝামাঝি সময়। ইসলামি শিক্ষায় দীক্ষিত করতে ইউসুফকে একটা কাফেলার সঙ্গে তিকরিতে

প্রথম রোজার স্মৃতি / ইব্রাহিম হাসান হৃদয়

পড়ালেখার সুবাদে আমাকে নানার বাড়ি থাকতে হতো। তাই জীবনের প্রথম রোজা রেখেছি নানার বাড়িতেই। তখন ছিলো শীতকাল। প্রচ- শীতের মাঝেও প্রতিদিন সেহরি খেতে খেতে উঠতাম। নানু একা বলে আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলতেন প্রতিদিনই। নিয়মিত সেহরি খেলেও নানু আমাকে রোজা রাখতে দিতেন না। বলতেন, তুমি এখন ছোট। তুমি দুপুরে একবার খেলে তোমার রোজা দুইটি হবে।

অনুতপ্ত / আহমদ আবদুল্লাহ

নাহিন বাবা-মার খুব আদুরের মেয়ে। পড়ালেখা, কাজকর্ম সব বিষয়ে তার কোনো জুড়ি নেই। বাবা-মা এমন মেয়ে পেয়ে খুব খুশি। কিন্তু ঠিক তার বিপরীতমুখী ছিলো রাফি। পড়ালেখায় ছিলো না মনোযোগ। খেলাধুলা আর অনর্থক কাজে সময় ব্যয় করা রাফির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তার কাজকর্মে বাসার সবাই অতিষ্ঠ। বিশেষ করে বাবা-মা। রাফিকে সবাই বুঝাতো, কিন্তু ফলাফল হতো শূন্য।


Hit Counter provided by Skylight