বিভাগ : গবেষনা প্রতিবেদন

মাদকের ভয়াবহতা ও তার প্রতিকার : মাওলানা আব্দুস সাত্তার

Madok

নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভবান ব্যবসা ও বেশি আলোচিত বিষয়। বিশেষ করে ফেনসিডিল ও ইয়াবা সহজলভ্য ও বহনযোগ্য বলে এর বিস্তার দেশজুড়ে। দেশের এমন কোনো উপজেলা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মাদকের থাবা নেই। দেশজুড়ে এক বিশাল জাল বিস্তার করে আছে এই মরণ নেশার ভয়াবহ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র মাফিয়াদের সঙ্গে রয়েছে

আলেম সমাজের প্রতি অবজ্ঞা একটি ধ্বংসাত্মক ব্যাধি : বিচারপতি আল্লামা তাকী উসমানী

quran

হযরত আমর ইবনে আওফ রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. এরশাদ করেন- اتقوا زلة العالم وانتظروا هيئته “উলামায়ে দ্বীনের ত্র“টি-বিচ্যুতি দেখা থেকে বেচে থাক এবং তাদেরকে বিচ্যুতি থেকে ফিরে আসার অপেক্ষাকর।” [সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী : হা.১৯২৬৩, আল মুদখালু ইলাস সুনানিল কুবরা লিল বায়হাকী : হা.৬৭৩] আলেম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, যাকে আল্লাহ তা’আলা দ্বীন ইসলামের তথা

আশুরা ও কারবালা: করণীয়-বর্জনীয় : মাও. মাহবুবুর রহমান নোমানি

Karbala

মুহাররম মাসের দশম তারিখকে আরবীতে আশুরা বলা হয়। এ দিবসটি অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এ দিবসটির সাথে জড়িয়ে আছে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঐতিহাসিক হাজারো ঘটনা। ইতিহাসে পাওয়া যায়, আসমান-যমীন সৃষ্টি হয়েছে মুহাররম মাসের দশ তারিখে। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম আ.কে সৃষ্টি করা হয়েছে এই তারিখে। এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠানো হয় এবং

হাদীস ও ফেকাহ শাস্রবিদ ইমাম আবু হানীফা রহ. : মাওলানা জামাল উদ্দীন রাহমানী

najaf

১ম পর্ব সমাজের অধঃপতনের সময় আলোক বার্তিকা নিয়ে যে সকল মনিষীরা পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত হয়েছিলেন, পার্থিব লোভলালসা ও ক্ষমতার মোহ যাদেরকে ন্যায় ও সত্যের আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র পদস্খলন ঘটাতে পারেনি, যারা অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত করেননি, ইসলাম ও মানুষের কল্যাণে সারাটা জীবন যারা পরিশ্রম করে গিয়েছেন, সত্যকে আকড়ে থাকার কারণে যারা জালেম সরকার

হে তরুণ তোমার পরশে গড়ে উঠুক নতুন পৃথিবী : হাকীমুত তুল্ল্ল­াব মুফতী হাবীবুল্লাহ

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

হে তরুণ, হে যুবক, হে নওজোয়ান। তোমার জীবনে একটি সুন্দর স্বপ্ন আছে। আছে সুন্দর স্বপ্নের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ। স্বপ্ন ও স্বপ্নের ভবিষ্যৎ দেখা ও ভাবা যুবকের হাজার বছরের তারুণ্যের দাবী। তোমাদের প্রতিটি স্বপ্ন ও সম্ভাবনার মধ্যে দিয়েই জ্বলে উঠবে জাতি ও ধর্মের নতুন ইনকিলাব। কিন্তু সেই শক্তি ও সম্ভাবনাকে মুছে ফেলার জন্য এখানে ওখানে আরও

মসজিদ ব্যাংক হতে পারে উন্নয়নের নতুন বিল্পব : মোহাম্মদ হোসেন

TK copy

৩য় পর্ব ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি মসজিদ ব্যাংকের জন্য একটি স্বতন্ত্র শরীয়া বোর্ড থাকবে। দেশের হক্কানী পীর, আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ বিশেষ করে যাদের ইসলামী অর্থনীতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান রয়েছে সে ধরণের দশজন ব্যক্তিকে নিয়ে ব্যাংকের শরীয়া বোর্ড গঠিত হবে। শরীয়া বোর্ডের কাজ হবে নিম্নরূপ: ১. সুদের মধ্যে ব্যাংক যাতে না জড়ায় সে ব্যাপারে গাইড লাইন দেয়া। ২.

দুনিয়াতে বেহেশতের নেয়ামত : ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

quran

বিভিন্ন দেশে নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ। এ সপ্তাহের মূল কথা ‘শিশুর জন্য মায়ের দুধের বিকল্প নেই।’ প্রশ্ন জাগে কেন এমন শ্লোগান বা সপ্তাহ পালন? সরল বিশ্বাসী মা-বাবারা যখন গুঁড়ো দুধের টিনের গায়ে হৃষ্টপুষ্ট শিশুর নাদুস নুদুস ছবি আর মিডিয়ায় চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন দেখে, তখন তারা প্রলুব্ধ না হয়ে পারে না। এর সাথে

ইসলামে নারীর মর্যাদা এবং বর্তমান নারী সমাজ : মাওলানা আবদুল জব্বার ফিরোজ

Porda

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা মানব জাতিকে দু’টি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন, এক শ্রেণীর নাম পুরুষ, অপর শ্রেণী হলো নারী। তিনি প্রকৃতিগত কারণে  পুরুষ ও নারীকে একে অপরের পরিপূরক হিসাবে গঠন করেছেন। একজন পুরুষ যেমনি নারী ছাড়া তার জীবনের পূর্ণতা খুঁজে পায়না, তেমনি একজন নারীও জীবনসংঙ্গী হিসাবে একজন পুরুষ ছাড়া জীবনের পরিপূর্ণতা কল্পনা করতে পারেনা। আল্লাহ তাআলা

সমাজ ধ্বংসের জন্য কি মহিলারাই দায়ী? : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

Porda

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি পরম করুণাময় বিচার দিনের মালিক, যিনি মানবকুল সৃষ্টি করে তাদের মধ্যে যুগে যুগে নবী প্রেরণ করেছেন। উত্তম পরিণতি কেবলই মুত্তাকীদের জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সত্যের দিশারি, নারীকুলের মুক্তিকামী সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মোহাম্মদ সা. এর উপর এবং তার অনুসারীদের উপর। আল্লাহ তাআলা মানব সৃষ্টি করেছেন নারী ও

আল্লাহর মনোনীত মহান জীবন ব্যবস্থা ‘আল ইসলাম’ : অধ্যক্ষ আ.ম.ম. খালেদ জমীল

Sirat 01

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদেরকে তথা মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন সুন্দরতম গঠনে। তিনি আমাদেরকে শুধুমাত্র সৃষ্টি করেননি, বরং সৃষ্টির পাশাপাশি অফুরন্ত নেয়ামত ও অসংখ্য দান-অনুদানের মাধ্যমে এই পৃথিবীর বুকে আমাদেরকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সম্মান-মর্যাদার সাথে বসবাস ও জীবন যাপনের সুযোগ দান করেছেন। আমাদের উপর মহান আল্লাহর অন্যতম প্রধান দান ও অনুগ্রহ হচ্ছে মহান জীবন ব্যবস্থা

যাকাতের উদ্দেশ্য এবং দাতা ও গ্রহীতার জীবনে তার প্রভাব : মুফতি তাকি ওসমানী

TK copy

যাকাত ইসলামের পঞ্চ ভিত্তির অন্যতম একটি ভিত্তি। যাকাত ওয়াজিব করার দ্বারা ইসলামের লক্ষ্য শুধু ধন-সম্পদ সংগ্রহ করা এবং রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করাই নয়। অভাবী ও দুঃখী মানুষের শুধু অভাব ও দুঃখ দুর্দশা দূর করা উদ্দেশ্য নয়; বরং তার প্রথম লক্ষ্য দাতার জীবনে বিস্তর কার্যকরি প্রভাব ফেলা, তাকে বস্তুগত চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠানো, তার ভিতরকার মানসিকতায় ব্যাপক

বিনোদন ও খেলাধুলা : সীমারেখা ও চৌহদ্দি মুফতী পিয়ার মাহমুদ

Kheladula jpg

ইসলাম ফিতরাতের ধর্ম। তাই মানুষের ফিতরাত তথা স্বভাবজাত চাহিদাকে ইসলাম স্বীকার করেছে অকপটে। মূল্যায়ন করেছে যথাযথভাবে। তবে সেই স্বভাবজাত চাহিদার পাগলা ঘোড়াকে লাগামহীন ছেড়ে দেয়নি। এর লাগাম টেনে ধরে দিয়েছে সীমারেখা। নির্দিষ্ট করে দিয়েছে তার চৌহদ্দি। মানুষের স্বভাবজাত চাহিদাগুলোর অন্যতম হলো খেলাধুলা ও বিনোদন। এই খেলাধুলা ও বিনোদনকে ইসলাম নিষেধ করেনা; বরং ক্ষেত্রবিশেষ উৎসাহ দিয়েছে

ব্যাংকে টাকা রাখার শরয়ী আহকাম : ফারহিন জান্নাত

TK copy

বর্তমানে টাকা সংরক্ষণের অধিক নিরাপদ ও সহজলভ্য উপায় হচ্ছে ব্যাংক; উপরন্তু ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। মিথ্যা, জালিয়াতি, চুরি-ছিনতাই ও রাহাজানির এ যুগে মানুষ নিজের কষ্টার্জিত অর্থকড়ি হেফাজতের জন্য ব্যাংকের দ্বারস্থ হচ্ছে। তাই বলা যায়, সামাজিক জীবনে ব্যাংক এখন এক অপরিহার্য অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। একটি দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যতা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার এক অব্যর্থ অস্ত্র হচ্ছে

সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থার বিকল্প : মুফতি তাকি উসমানী

TK copy

পূর্ব প্রকাশিতের পর.. গত সংখ্যায় আলোচিত হয়েছে সুদের অপকারিতা নিয়ে আজকের আলোচ্য বিষয় হলো ইসলামে সুদের বিকল্প কি হতে পারে, তা নিয়ে। সুদী ব্যবস্থার বিকল্প আরও একটি প্রশ্ন আছে, যেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা আজকাল মানুষের মনে জাগ্রত হচ্ছে। প্রশ্নটি হলো, আমরা একথা স্বীকার করি যে, ‘ইন্টারেস্ট’ হারাম। কিন্তু যদি ‘ইন্টারেস্ট’ কে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়,

আদর্শ মা আদর্শ সমাজ গড়ার কারিগর : মুহাম্মদ আবু সালেহ

Porda

একথা চরম সত্য যে, পৃথিবীর সকল মাখলুকের সৃষ্টিকর্তা এক আল্লাহ। আবার এটাও সত্য যে, সবমাখলুককেই তিনি এক উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেননি এবং রাখেননি সবাইকে মান-মর্যাদার এক স্তরে। আল্লাহ তাঁর সকল সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন এক উদ্দেশ্যে, শুধু একটিমাত্র সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন অন্য এক উদ্দেশ্যে। একমাত্র মানুষই সেই সৃষ্টজীব যাকে আল্লাহ তাআলা তার যমীনে তার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য

যৌতুকের ভয়াবহতা : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

Porda

আজকের সমাজের অতি পরিচিত ও বহুল আলোচিত একটি শব্দের নাম যৌতুক। বিবাহের সকল আলোচনার সঙ্গে সমাজের একটি বড় অংশে আলোচনা হয় যৌতুক নামের এই ‘দেনা-পাওনা’ নিয়ে। এই দেনা- পাওনার আলোচনাটা অনেক সময় হয় একদম শুরুতেই বর-কনে পছন্দের আগে। কখনো কখনো বর-কনে পছন্দের পর। বহু পরিবারে বিয়ের ক্ষেত্রে এটা প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ নিয়ে হয় বিস্তর

ইসলামে শ্রমের মর্যাদা ও গুরুত্ব : ইবরাহীম খলিলুল্লাহ ছাদেকী

শ্রমের গুরুত্ব ইসলামি সমাজের প্রত্যেক নাগরিককে জীবিকার্জন করতে হবে, রিজিক অন্বেষণে বিচরণ করতে হবে বিস্তৃত এই পৃথিবীতে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন। তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে সুগম করেছেন। অতএব তোমরা তার পৃষ্ঠে বিচরণ কর এবং তার দেয়া রিযিক আহরণ কর। [সূরা মুলূক : ১৫] শ্রম বলতে বুঝায় কোন দ্রব্যের উৎপাদনে বা রাষ্ট্রের সেবায় ব্যক্তির একক বা

ইভটিজিং ধর্মীয় অনুশাসন লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ পরিণতি : শাকির আহমেদ শোয়েব

Porda

ইভটিজিং বিশ্বের অন্যতম প্রধান “সামাজিক ব্যাধি” হিসেবে পরিচিত। পাশ্চাত্যের অসভ্য ও বিষাক্ত সংস্কৃতির সংস্পর্শ এবং নারী অধিকারের নামে নারী জাতিকে ইসলামের সুশীতল ছায়া ও সুমহান জীবনাদর্শ থেকে বের করে আনার কুফলই আজকের ইভটিজিং। শুধু পাশ্চাত্যেই নয়, বরং বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মুসলিম দেশ সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, শান্তিপ্রিয় ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশেও অনেক আগেই ব্যাপিত হয়েছে এ বিষবৃক্ষের বীজ।

বিয়ে ও যৌনসর্ম্পকইসলামি দৃষ্টিকোণ : মুফতী পিয়ার মাহমু

Porda

দ পৃথিবীর সকল মানুষ মিলে একটি পরিবার। আদমের পরিবার। কুদরতের অশেষ মহিমায় এ পরিবার সৃষ্টি করেছেন এক আল্লাহ। অনন্তর বেধেঁ দিয়েছেন দয়া ও মায়ার বাধঁনে। আবাদ করেছেন এই জগত দয়ামায়া, প্রেম ভালোবাসাস্নাত বন্ধনে। অতঃপর এর আবাদ প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অব্যাহত গতিতে বহমান রাখার ব্যবস্থাও করেছেন অতীব সুচারু রূপে ও সন্তর্পণে। সেই লক্ষে কুদরতের

আমি নেসা তাই সম্মানিতা (পর্ব-৩) : নূরে ইয়াসমিন ফাতেমা

Porda

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা ও তাঁর হাবীব মুহাম্মদ সা. নারীদের সম্মানিত করেছেন ইসলামের মাধ্যমে। এক সময় মেয়েদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। পিরিয়ড হলে তাকে ঘর থেকে বের করে দিত। সতীদাহ থেকে শুরু করে নাবালিকা বিয়ে দেয়া হতো। অল্পবয়সী মেয়েরা বিধবা হলে সারাজীবন অবিবাহিত থাকতে হতো, সেইসব দুঃসহ অবস্থার অবসান হয়েছে ইসলামের নীতির মাধ্যমে। শিক্ষা অর্জন প্রত্যেক

গোনাহের পরিণাম রিযিক হতে বঞ্চিত হওয়া : মুফতি তাকি উসমানী

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : যে ব্যক্তি গোনাহ হতে ইস্তেগফার করে এবং আবার সে গোনাহ করতে থাকে অর্থাৎ গোনাহ পরিত্যাগ না করে বরাবর গোনাহ করেই যাচ্ছে, পাশাপাশি ওই গোনাহ থেকে ক্ষমাও চাচ্ছে; এই ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনের সাথে বিদ্রুপকারী।  [শোআবুল ইমান, হাদীস নং- ৭১৭৮] ইস্তেগফারের সাথে সাথে গোনাহ করা ক্ষতিকর এটা অত্যন্ত ঘৃণিত ও


Hit Counter provided by Skylight