বিভাগ : কবিতা গুচ্ছ

পুঁজি : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

এক সেকেন্ডের নাই ভরসা পুঁজি নিয়ে দিশেহারা দুনিয়ার এই পুঁজি ভারি অর্থ নিয়ে কাড়াকাড়ি এত কিছু থাকার পরও তোমার কিছু নাই পেট ভরেছে, বেজায় তবু আরো কিছু চাই। দুনিয়ার এই খেলা ঘরে খেলছো কোন খেলা জুলুমবাজ আর অহংকারে পাপাচারের মেলা। এই দুনিয়ার টাকাকড়ি এই দুনিয়ায় শেষ যত হাজার-কোটি থাকুক তোমার ক্যাশ। আখেরাতের পুঁজি তোমার আছে

বোকা খায় ধোঁকা : মুহাম্মাদ আবু আখতার

পাপের মাঝে সুখের আশা করছে যেসব বোকা, দুঃখের সাগর পাড়ি দিয়ে খাচ্ছে শুধু ধোঁক। সুখের আশায় পাপের নেশায় করছে মাতামাতি, অশান্তি আর দুঃখ বিষাদ বাড়ছে রাতারাতি। পাপের পথে সুখের খোঁজে হচ্ছে দিশেহারা, মরীচিকার পিছে তারা ছুটছে লাগাম ছাড়া।

ও নবীজী: সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

যে দিন তুমি এসেছিলে এই ভূবনে, সেই দিন কাননে কুসুমকলি ফুটে ছিল সবই, কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে, পাখিরা গেয়েছিল সুরে সুরে তোমারি নামে। মৌমাছিরা গুঞ্জন করেছিল ফুলের বনে প্রজাপতিরা নেচে ছিল গোলাপ বাগে, বনের ময়ূর পেখম তুলে নেচে ছিল খুশির তালে বনের হরিণ ছোটে চলেছিল আনমনে পাহাড়ের ঝর্ণা ছুটে চলেছে অবিরত। চাঁদ-সূর্য, গ্রহ-তাঁরা, গাছ-গাছালি, পাহাড় নদী

রাসূল এলেন বলে: লাবিব শাহেল

রাসূল এলেন এই ধরাতে ছড়িয়ে  দিতে আলো রাসূল আসার সাথে সাথে দূর হলো সব কালো। পড়লো ধ্বসে কিসরা প্রাসাদ মোদের নবী আসায় হাসলো সকল সৃষ্টিরাজি নবীর ভালোবাসায়। শান্তি খুঁজে মানুষগুলো আসলো দলে দলে রাসূল এলেন বলে রাসূল এলেন বলে।

নারী তুমি: ইব্রাহিম হাসান হৃদয়

নারী তুমি ঘরের শোভা থাকবে তুমি ঘরে, রূপকে কেন বিলাও তুমি পর পুরুষের তরে। তুমি নারী মায়ের জাতি তুমি অনেক দামি, কার ছলনায় পড়ে ওগো হচ্ছো বিপথগামী। খুব অধিকার দিলেন প্রভু সমান কেন চাও? অযথা এক বোঝা নিজের মাথায় তুলে নাও। থাকতে সময় আসো ফিরে দ্বীনের ছায়াতলে, ফাঁদে তাদের পা দিও না ভাসবে চোখের জলে।

বিজয় বীণা: রাসেল রাবী

বিজয় বীণার সুর অচেনা বিজয় পূর্ব ক্ষণে, বিজয় গানের গায়ক সবে আমার কাব্যতানে। বিজয় মানে বিয়োগ ব্যথার কান্তবাক্য ভুলে, বিজয় বেশে চলবো মোরা বদ্ধ দুয়ার খুলে। বিজয় সে নয় সুলভ রতœ চন্দ্র সূর্য মত, বিজয় সে হয় রণক্ষেত্রে রক্ত খেয়ে শত। বিজয় এখন ধ্বনিপদে দলা দীন-দুঃস্থ যারা, বিজয় এখন দীনবাহী সব জঙ্গী ওদের তারা। বিজয়

স্বাধীনতা: শিপার মাহমুদ জুম্মান

স্বাধীনতা তুমি রক্তে রঞ্জিত লাখো শহীদের দান, লাল সবুজে সমারোহ তুমি মুক্তি যোদ্ধার প্রাণ। নয়টি মাসের নির্মমতা কা- তোমার বুকে সয়ে, লাল সবুজের স্বাধীন পতাকা দিয়েছে আমায় তুলে। স্বাধীনতা তুমি নবীন প্রবীণের জাগ্রত বিবেকের রবি, তোমার বুকে ছড়িয়ে আছে মাতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। তুমি ৫২, ২৫, ২৬ শের অগ্নিদাহ আত্মত্যাগী অবদান, বাঁধার প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে আসা বিজয়ের

কবিতা ও ছড়া

মিরাজুন্নবী সা. সৈয়দা সুফিয়া খাতুন মিরাজে গেলেন আমাদের নবী আল্লাহর ডাকে জিব্রীল এসে জাগালেন তাঁরে মধ্যরাত্রির ফাঁকে। বোরাকে চড়ি জিব্রীল সাথে মসজিদে আক্্সায়, কদম রাখেন জেরুজালেমে, বায়তুল মুকাদ্দাস যথায়। দাঁড়িয়ে সেথায় আম্বিয়াকুল আকুল ভক্তি সনে জানান স্বাগতম মোদের নবীরে উষ্ণ-আলিঙ্গনে। অতঃপর দিলেন মহাশূন্য পাড়ি সপ্তাকাশে ঊর্ধ্বভ্রমণ হুর-গিলমান, ফেরেশতা জানায় সালাম আনত নয়ন। শেষ মঞ্জিলে এসে

কবিতাগুচ্ছ

শীত-বর্ষা সৈয়দা সুফিয়া খাতুন বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর নদীর জলে, টিনের চালে ছন্দ তুলে হওয়ায় ওড়ে গাছের ডালে কচুর পাতায় পাতায় মুক্তার জল ঝিলিমিলি করে কালবৈশাখী ঝড়ে মনের সুখে আম কুড়াতে বাইরে ছোটে কালো জামের বেগুনি রঙয়ে মুখ রাঙিয়ে খায় সবাই মনের সুখে লিচু গাছের মিষ্টি লিচু খেতে লাগে মধুর মতো আয়রে নাতি-নাতনিরা গ্রামের বাড়ি আয়

Auto Draft

সেবা সৈয়দা সুফিয়া খাতুন ও আকাশ ও বাতাস কার ইশারায় দিচ্ছ আমায় সেবা ও চাঁদ ও সুরুজ কার ইশারায় দিচ্ছ আমায় সেবা ও ফুল ও পাখি কে দিল তোমায় এতো রূপের বাহার কিচির-মিচির করে ও পাখি কি কথা বল আমার প্রভুর সনে অধম আমি ডাকার মত ডাকতে পারি না প্রভু তোমায় তবুও রহমত-বরকত পেয়ালা ভরে

কবিতাগুচ্ছ

পৃথিবী সৈয়দা সুফিয়া খাতুন পৃথিবীতে যত সুখ আছে মনে হয় দয়াময় সবটুকু সুখ দিয়েছেন আমায় পৃথিবীতে যত কষ্ট আছে মনে হয় দয়াময় সবটুকু কষ্ট দিয়েছেন আমায় পৃথিবীতে যত অপরূপ সৃষ্টি আছে মনে হয় সবটুকু আমার জন্য করেছেন সৃষ্টি আকাশ-বাতাস, রবি-শশি যা কিছু আছে মনে হয় আমার জন্য করেছেন সৃষ্টি এতো কিছু পেয়ে এতো কিছু দেখে

কবিতাগুচ্ছ

অন্ধকার কারাগার সৈয়দা সুফিয়া খাতুন আমি কোথায় আছি কেমন আছি তোমরা কি জান বন্ধু যখন আমি ছিলাম দুনিয়াতে ধন-সম্পদ বেশী ছিল বলে কুমন্ত্রণা আর কুবুদ্ধি দিয়েছিলে ক্ষণে ক্ষণে এখন আমি অন্ধকার কারাগারে পড়ে আছি একা কেউ রাখে না আমার খবর কেমন আছি আমি কোথায় আমার ধন-সম্পদ কোথায় আমার বন্ধু-স্বজন যারা আমার আপন ছিল তাদেরকে পর

কবিতাগুচ্ছ

ঘর সৈয়দা সুফিয়া খাতুন সারা জীবন কোথায় ছিলাম কোথায় আমার ঘর শেষ বিকেলে এসে আমি হলাম সবার পর এই দুনিয়াটা হলো তাসের ঘর একদিন তো ভেঙ্গে শেষ হয়ে যাবে রবে না কিছুই যার কাছে টাকা আছে সেই হলো রাজা টাকা কি আর আসল-নকল যায় আসে না কারো হালাল-হারাম কিছুই বোঝে না মরে গেলে সব থাকবে

কবিতাগুচ্ছ

  মায়ের দোয়া সৈয়দা সুফিয়া খাতুন   মা যে আমার রাজকন্যা সাত রাজার ধন হিরা-মণির খনি সুখে-দুখের সাথী মা গো, তুমি না থাকলে কে করিবে আমায় দোয়া তোমার দোয়া সঙ্গে নিয়ে চলছি আমি মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ভয় নাই আমার বুকে তোমার দোয়া আছে বলে আদর-সোহাগ দিয়ে বড় করেছো আমায় তুমি চলে গেলে কেমনে থাকবো আমি

কবিতাগুচ্ছ

সংঘাত চাই না সৈয়দা সুফিয়া খাতুন . চাই না যুদ্ধ চাই শান্তি চাই না ধ্বংস চাই নির্মাণ চাই না হিংসা চাই ভালবাসা মানুষে মানুষে নেই কোন ব্যবধান সবাই তো এক আল্লাহর সৃষ্টি আল্লাহকে মানলে হয়ে যাবে সব সমাধান এসে যাবে শান্তি চারদিকে সংঘাত বোমবাজ কি হচ্ছে কি হবে জানি না ভয়ে ভয়ে কম্পন করে আমার

মোনাফেক / সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

ক্ষমা করে দাও প্রভু আমায় ক্ষমা করে দাও জীবনের খেলাঘরে বহু গুনাহ করেছি আপন মনে বহু ধোঁকা পেয়েছি, ছলনায় পড়েছি বার বার অশান্ত মনে তোমার কাছে ফিরে এসেছি তোমার ভালোবাসা পেয়ে অনাবিল শান্তি পেয়েছি মনে মোনাফেকি আর মিথ্যাচারে পড়ে আছে বহু জনে সহজ সরল মানুষকে কষ্ট দিয়ে অট্টহাসি হাসে তারা অন্যকে কষ্ট দিয়ে নিজে সুখে

কবিতাগুচ্ছ

হৃদয়ে মদীনা মোনাওয়ারা সৈয়দা সুফিয়া খাতুন মক্কা থেকে মদীনাতে এলেন নবীজী কতো যে কষ্ট করে, রহমতেরই বার্তা নিয়ে। পিছন ফিরে চোখের জলে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন নবীজী, হে! আমার প্রিয় জন্মভূমি মক্কাবাসী আমি তোমাদের ভালবাসি। এসি গাড়িতে এসে আমার পথ ফোরায় না সহজে, আমার দয়াল নবী পায়ে হেঁটে উটে চড়ে পথবিহীন রৌদ্রের তাপে, অন্ধকারে শক্ত মাটির

কবিতাগুচ্ছ

প্রভু আমার সৈয়দা সুফিয়া খাতুন আমি কত কথা বলে ফেলি অধৈর্য হয়ে আমার ভাল কথাগুলি রেখে দিও প্রভু স্মৃতির পাতায় ধরে মন্দগুলি মুছে দিও প্রভু তোমার ভালবাসা দিয়ে তুমিই তো আমায় পাঠিয়েছো এই পৃথিবীতে কতই না ভালবেসে দিয়েছো আমায় অফুরন্ত নিয়ামত পৃথিবীজুড়ে আমি কত কথা বলে ফেলি মনের অজান্তে পাপসাগরে ডুবে আছি আমি যে গুনাহগার

কবিতাগুচ্ছ

মা জননী সৈয়দা সুফিয়া খাতুন ওগো মা জননী তোমায় দেখে এলাম জান্নাতুল মাওয়ায়। তোমার বীর শহীদ গাজী সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে আছ শান্ত হয়ে। মোর নবীজীকে চিনেছিলে তোমারই অন্তর দিয়ে। তাই তো তুমি জীবনসঙ্গী করে নিয়েছিলে ভালবেসে। ধন্য হলো পূর্ণ হলো মা তোমার জীবন আমার প্রিয় নবীজীর প্রিয়সঙ্গী হয়ে। আমরা পেলাম শ্রেষ্ঠ নবী রাহমাতুল্লিল আলামীন। জাবালে

কবিতাগুচ্ছ

আলোর দিশা সৈয়দা সুফিয়া খাতুন জীবনের বাঁকে বাঁকে তোমায় ভালোবেসেছি আল কুরআন আর হাদীস পড়ে তোমায় খুঁজে পেয়েছি। আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন তোমায় আমাদের জন্য সেরা উপহার, কোকিল যেমন গান গেয়ে যায় বসন্তের আগমনে, তেমনি করে সকল মুসলমান আল কুরআনের বাণী গেয়ে যায় সুর তুলে। নামাজের সাথে কেরাত পড়ে কত যে মধুময় সুরে কিযে শান্তি পাই

কবিতাগুচ্ছ

সৃজন সৈয়দা সুফিয়া খাতুন এই পৃথিবীতে পাইনি কোন আপনজন পেয়েছি শুধু একজন যে-জন আমায় করিলেন সৃজন তাঁকেও যে ভুলে আছি আমি যে অধম স্বার্থের পৃথিবীতে পড়ে আছি নির্জনে যাদের জন্য আমি রক্ত-মাংস করিলাম ক্ষয় তাহারা আমায় ভুলে গিয়ে হয়ে গেল পর আমি জেনে-শুনে করেছি বিষপান ক্ষমা করে দিও ওগো হাকিম ও রহমান আকাশে যতগুলি তারা


Hit Counter provided by Skylight