বিভাগ : কবিতা গুচ্ছ

রমজানের বার্তা : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

রমজানেরই বার্তা নিয়ে এলো শাবান মাস, ঈদের খুশির বার্তা নিয়ে এলো রমজান মাস যাকাতের হুকুম নিয়ে এলো রমজান মাস। গরিব দুঃখীর অভাব পূরণ করতে এলো রমজান মাস। রোজার শেষে ঈদ আসে এই ঈদ আবার গরিব দুঃখীর সামনে বছরে দু’বার আসে। যাদের অনেক বিত্ত আছে তাদের ঈদ প্রতিদিন আসে। রোযাদারের পুরস্কার দিবেন আল্লাহ নিজ হাতে। রায়হান

মাগো তুমি শামীম শিকদার : শামীম শিকদার

মাগো তুমি শৈশব স্মৃতি কষ্ট পেলে হাসা, তুমি আমার হৃদয় মণি দেওয়া কিছু আসা। তোমায় ঘিরে গল্প করি শিশির ভেজা রাতে, তুমায় নিয়ে ছড়া লেখি ছন্দগুলো মাতে। তোমায় ভেবে ছবি আঁকি আমার নয়ন মাঝে, তোমায় ভেবে কল্পনা দেখি ছোট বড় কাজে। তুমি আমার মনের মণি হালকা উষ্ণ হাওয়া, তুমি আমার নূরের প্রদীপ স্বপ্নগুলো পাওয়া।

সিয়াম সাধনার মাস : রমজান আলী রনি

মুসলমানের ঘরে ঘরে জ্বলছে আলোর বাতি পবিত্র এই মাহে রমজান ইবাদতে মাতি। মনের যতো গোপন ময়লা আল্লাহ করবে মাফ হোক না ভারী হোক না বিশাল হোক না নদী নাফ। খানাদানায় নেই ভেদাভেদ সিয়াম কার্যের মাস সরল মনে রাখবো রোজা পাপ যে হবে নাশ। নামাজ পড়ে যাকাত দিয়ে তসবিহ হাতে দিয়ে দিনের শেষে রোজা রেখে যাবো

সপ্ন দেখি : নাহিদ নজরুল

স্বপ্ন দেখি একটু করে স্বপ্ন দেখি অল্প স্বপ্ন দেখি জীবন গড়ার ছোট্ট একটি গল্প। স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন বুনি মন আকাশের মাঝে স্বপ্ন আঁকি স্বপ্ন ডাকি নিত্য নতুন সাজে। স্বপ্ন দেখি নতুন দিনের মিষ্টি রোদের ভোর স্বপ্ন দেখি এগিয়ে খুব দূর হয়ে যাক ঘোর।

জান্নাতের সবুজ পাখি : মাহদী হাসান ফরাজী

একশো হাফেজ শহীদ হলো পাখি হলো জান্নাতে সবুজ পাখির রিজিক এখন হুর প্রিয়সীর রান্নাতে। একশো বাবার স্বপ্ন প্রাসাদ ভাসল রক্ত বন্যাতে একশো মায়ের কলজে ছিঁড়ে ভিজল আঁখি কান্নাতে। একশো ভাইয়ের আত্মাবাধঁন সিক্ত হলো রক্ততে একশো বোনের স্নেহ প্রীতি দগ্ধ জালিম শক্তিতে। একশো ছবি স্মৃতির ফ্রেমে বন্ধি হলো সন্ধ্যাতে একশো প্রাণের ভালোবাসা পড়বে না আর মন্দাতে।

রুখে দাঁড়াও : মুহাম্মাদ আবু আখতার

চারদিকে আজ পাপের মেলা নেইকো যে তার শেষ, নিত্য দিনেই নতুন সাজে দেখাচ্ছে তার বেশ। ঘরে বাইরে সব জায়গাতে চলছে অশ্লীল গান, খুব সহজেই পাপ হয়ে যায় খোলা রাখলে কান। দুর্নীতি আর অনাচারে ভরছে সবার মন, পাপের পথে নেই বাধা আর কাটছে কঠিন ণ৷ জেগে ওঠো মুসলিম সমাজ রুখে দাঁড়াও সব, তা না হলে দোজাহানেই

ঠিক দাঁড়াবে সামনে ঘুরে : ইদ্রিস মণ্ডল

যাদের ঘামে ফলে ফসল আর উৎপাদন হয় কারা ভাবে তাদের কথা ক’জন বলো কয় কেউ ভাবে না তাদের কথা সবাই থাকে নিরবতা ভাবলে পরে ওদের কথা ন্যায্য দাবী পেতো পেট পুরে ভাত শ্রমিক গুলো মনের সুখে খেতো এখন সবার ভাবতে হবে পাল্টে গেছে দিন থাকবে না চুপ শ্রমিকরা আর শুধতে হবে ঋণ করবে মিছিল চাইবে

একটু চিন্তা কর : হেদায়েত উল্লাহ

মৃত্যুর কথা একটু ভাবো ওরে ভোলা মন, বিদায় নিলে পড়ে থাকবে ভিটে মাটি ধন। যাবে না কেউ সঙ্গে তোমার কেউ হবে না সাথী আধার ঘরে আলো পেতে জোগাড় কর বাতি। নামায কালাম পড়ে তুমি নেকি অর্জন কর বাঁচতে যদি চাওরে মুমিন আল্লাহর পথ ধর। এপারের ধন এপারে রবে যাবে না ওপারে পুণ্য অর্জন কররে মুমিন

কোন সুরে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

বল-রে পাখি কোন সুরে কোন নামে ডাকিস-রে তুই আমার রব কে ? তুই যে নামে ডাকিস সে নামে ডাকবো আমি তোরই সনে। তোর সুরে সুর মিলিয়ে ডাকবো আমি গাছের ডালে ফুলের বনে, ঐ নামে ডাকবো আমি তোরই সনে। পাখি-রে তুই আয়রে আমার কাছে আয়, তোকে আমি কলা দিব ছোলা দিব, আরো দিব চিড়া মুড়ি। খাবি-রে

তুমিহীনা : ফাতেমাতুয যাহরা স্মৃতি

তোমার কথা বসে বসে ভাবে আমার মন চোখের তারায় তব ছবি ভাসে সারাণ। তোমার তরে জীবন আমার সপে দিতে চাই তোমায় ছাড়া চাওয়ার কিছু এই ধরাতে নাই। তুমি রাহিম তুমি কারিম তুমি আমার সব তুমি হীনা বন্ধ হবে সুখের কলরব। তোমার কথা ভেবে ভেবে উদাস হয়ে যাই বিপদ-আপদ সব কিছুতে তোমায় কাছে পাই।

আম্মু : হুমায়রা সুলতানা

ভালো লাগে আম্মু যখন আদর করে ডাকেন স্নেহের পরশ দিয়ে বুকে আগলে রাখেন। সারাণ আগলে রাখেন স্নেহের পরশ দিয়ে সব কিছু সয়ে যান উচ্ছ্বাস নিয়ে মা যে আমার সবচেয়ে প্রিয় আমার মূল শিরোনাম মনি মুক্তা হীরার চেয়েও মায়ের অনেক দাম।

ডিজিটাল চাল : মাহবুবা আক্তার তামান্না

হরেক রকম মানব-মানবী কারো কর্ম যেন দানব-দানবী। ডিজিটাল হায় কোথা আমি যাই মন চায় কভু দূরে পালাই। সুদ-ঘুষ সেথা কলিযুগ যেন বরকত নেই যে ভাবি আমি হেন। চাকুরী নেই যে ডিগ্রী হলেও ে বেকার বসে থাকে ডিজিটাল কালেও। পর্দা নেই তাই ইভটিজিং ও চলে পথে-ঘাটে সবখানে নোংরামি চলে। রাজনীতি দেখো হায় কেমন যে মন্দ নেতারা-নেত্রীরা

সার্থক জনম : আশানীল

স্বস্তি দাও গো আল্লাহ আমায় শান্তি দাও গো মনে, সরল পথে চলতে চাই যে থেকো আমার সনে। তুমি হলে দয়ার সাগর বড়ই মেহেরবান, তোমার দয়ায় আজো আছে ধরা বহমান। কত শখে মানব জাতি করলে তুমি সৃজন, তোমার নামেই পশু-পাখি করছে শত গুঞ্জন। গাছের পাতা নড়েচড়ে তোমায় শুধু ডাকে, মানবজাতি কেমন করে ভুলে কাজের ফাঁকে ?

পরাধীন স্বাধীনতা : হাজেরা জান্নাহ

জাতির রক্ত পুড়িয়ে প্রদীপ আলো দিয়ে স্বাধীনতার। সেই রক্ত হয়ে গেলে বিক্রি মূল্য কি বেঁচে থাকার। বুকের গহীনে চাঁপা নিশ্বাস হৃদয়ে রক্তরণ। দ্বীনের রাহে কেউবা শহীদ কেউবা কারাবরণ। রাতের আঁধারে হয় রাজপথ দ্বিতীয় কারবালা। সত্য প্রকাশে এখন অপরাধ মিথ্যার জয়মালা। স্বাধীন দেশে পরাধীন জাতি চোখে হতাসার বান। কেমনকরে গাইবো আমি স্বাধীনতার জয়গান।

একটা সময় : আব্দুল্লাহ আল মামুন

একটা সময় ছিল যখন পড়তো নামাজ মা, আমরা সাথে সিজদা দিতাম ছোট্ট সোনার ছা। মায়ের কোলে মাথা রেখে গান কবিতা যত, দোয়া দুরুদ তাশাহুদও শিখে নিতাম শত। এখন যারা মা রয়েছেন হয় না নামাজ পড়া, দিন কাটে তার সিরিয়ালে রিমোট হাতে ধরা।

যৌতুক : আবদুল্লাহ আল মুক্তাদির

কুড়ি বছর চলে গেলেও হচ্ছে না তার বিয়া মা-বাবা যে সখ করে তার নাম দিয়েছে প্রিয়া। রূপে-গুণে বুদ্ধিমতি কম নাহি তার কিছু দারিদ্রতা হাত ছানিয়ে ডাকে শুধু পিছু। আসছে তাকে দেখতে অনেক পছন্দ হয় সবার হয় না বিয়ে শুনে যবে নেই তো টাকা বাবার। লোকে তাকে তুচ্ছ করে দেয় অপবাদ শত নয়ন ডুবে সব সয়ে

মা বাবা : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

বাবা মায়ের চোখের পানি মুছে দিতে চাই তোমরা দুজন আর কেঁদো না দুঃখ ভীষণ পাই। তোমাদের এই কষ্ট দেখে হৃদয় ফেটে যায় তবে কি আর মূল্য থাকে ভবের দুনিয়ায়। পৃথিবীর বুকে তোমরা দুজন বড়ই আপনজন তোমাদেরই দুঃখ দেখলে কাঁদে আমার মন। আদর ¯েœহ দিয়ে আমায় দূর করেছ ভয় হাশরের সেই মাঠে যেন শান্তির দেখা হয়।

বাংলা ভাষা : তাহমিদ আল হাসান

বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন দিল হেসে ভাষার মাসে স্মরণ করি গভীর ভালোবেসে। ভাষার জন্য রফিক সালাম এগিয়ে দিলো বুক এই ভাষাতইে কান্না হাসি এই ভাষাতেই সুখ। বাংলা আমার মায়ের ভাষা আল্লাহর সেরা দান জীবন দিয়ে রাখতে হবে বাংলা ভাষার মান।

মাতৃভাষা : ইয়াহইয়া মাহমুদ সজীব

বাংলা আমার মাতৃভাষা বাংলা আমার প্রাণ, ‎ভাষার জন্য দিতে পারি ‎বিলিয়ে দিতে জান। ‎বাংলা আমার ভাষা বলে বড় গর্ব হয়, বাংলা এখন এলিট ভাষা আর ফেলনা নয়। আজ যে আমার নেই কোন ভয় ‎েনইকো পরাজয়, ‎ভাষার জন্য জীবন দিয়ে, ‎করেছি বিশ্ব জয়।

কে? জিনিয়াস মাহমুদ

  চাঁদ দিলো কে আকাশবুকে কেবা দিলো সূর্য? কেবা দিলো রাতের আঁধার ভাবছে বসে তুর্য। কেবা দিলো নানাগাছে নানারকম ফুল-ফল? পাখিরকণ্ঠে মিষ্টি আওয়াজ? বৃষ্টি নামক ঐ জল? কেবা দিলো মায়ের বুকে অমূল্য সেই দুদ্ধ? বলছি এবার শোনো সবাই করো না কেউ যুদ্ধ; তিনি হলেন অসীম উদার অবিনশ্বর যিনি, তোমার আমার সবার মালিক আল্লাহ তাআলা তিনি।

বিকেল বেলার ক্ষণ : খালেদা আক্তার অনন্যা

বিকেল বেলার এই প্রহরে হাঁটি নদীর পাড়, ঘাসগুলা হাওয়ায় দুলে দুলে মনের ধার! অবাক দেখি অস্ত যায় নদী মাঝে রবি, এমন দৃশ্য দেখে মন যায় হয়ে যে কবি। হিমেল বাতাস বয়ে চলে নদীর জল ছুঁয়ে, হাতটা বাড়াই জল ছুঁই একটুখানি নুয়ে! পাখি সব ব্যস্ত হয়ে ছুটে নিজ নীড়ে, তাদের দেখে টনক নড়ে যাচ্ছি তাই ফিরি!


Hit Counter provided by Skylight