বিভাগ : ঈমান ও আক্বিদা

ইসলাহে নফস বা আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা : মুফতি আমজাদ হোসাইন

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

রসুল সা. ইরশাদ করেন, মানুষের ভিতরে এমন একটি টুকরা আছে ওই টুকরাটি যদি পরিশুদ্ধ হয় তাহলে মানবদেহের পুরো অংশ পরিশুদ্ধ হয়। কিন্তু যদি ওই টুকরাটি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে মানবদেহের পুরো অংশ নষ্ট হয়ে যায়। সেই অংশটির নাম হলো ‘আত্মা’। মানুষ পৃথিবীতে আগমন করার পর, এক কানে আজান ও এক কানে একামত দেওয়ার কারণ হলো,

ঝাড়-ফুকেঁর শরীয়ত সম্মত বিধান পর্ব-২ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

Islamic_Books

গত সংখ্যায় আলোচনা করা হয়েছে বদ নযর, যাদু ও তদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। এ সংখ্যায় আরো কিছু বিষয় আলোচনার পর এগুলোর প্রতিক্রিয়া অবসানে কি কি করনীয় এবং তার চিকিৎসা কিভাবে করা হবে তার আলোচনার দাবী রাখে। যাদুকর ও ভেল্কীবাজদেরকে চেনার উপায় যাদুকর বা বেল্কীবাজ রোগী এবং তার বাবা-মা’র নাম জিজ্ঞেস করবে। অথচ নাম জানা ও

ঝাড়-ফুকেঁর শরীয়ত সম্মত বিধান (১) : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

Islamic_Books

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা করে না, তার ঈমান নেই। মহান আল্লাহ বলেন, আর তোমরা আল্লাহর উপরই ভরসা কর- যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।’ [আল-মায়েদাহ:২৩] তিনি অন্যত্র বলেন, ‘যারা মুমিন, তারা এমন যে, যখন

তাবলীগ: এতো আমাদেরই কাজ : মুফতী আশ্রাফুল ইসলাম

islamic-wallpaper-15

মানুষকে সত্যের পথে আহবান করা, সিরাতে মুস্তাকিমের পথ বাতলে দেয়া এবং ওয়ায-নসিহতের কথা স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আপনি হেকমত এবং সুকৌশলে মানুষকে আপনার প্রতিপালকের প্রতি আহবান করুন।” [নাহল: ১২৫]  অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, “ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে; যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করে এবং সৎকর্ম

রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে আদব : মাওলানা শরীফ আহমদ

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে তাঁর দিকে আহ্বানের জন্য অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। যাদের মধ্যে সর্বপ্রথম হলেন আদম আলাইহিস সালাম এবং সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। দরূদ ও শান্তির অবিরাম ধারা বর্ষিত হোক নবীকুল শিরোমণী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও সম্মানিত সাথীদের উপর।

ইসলামই দিতে পারে মানবতার মুক্তি : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

21-6-2012-11-42-26909

আলহামদুলিল্লাহ, দরুদ ও ছালাম আমাদের শ্রেষ্ঠনবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর প্রতি এবং তাঁর সাহাবাদের প্রতি। আমরা মুসলমান। কী পবিত্র একটি নাম। ইসলাম আমাদের কেবলমাত্র ধর্ম নয়, ইসলাম আমাদের একটা পরিপূর্ণ জীবনাদর্শ। আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন- নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ধর্ম হলো ইসলাম। [আল ইমরান:১৯] কিন্তু অতি

ঈমান ও হেদায়েত মুসলমানের মূল্যবান সম্পদ : মুফতী মোহাম্মদ আমীন- অনুবাদ: মাওলান আলী উসমান

2232800607_64943c72fa

وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি  অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন। [সূরা আনকাবুত : ৬৯] হেদায়েত পৃথিবীর সবচেয়ে মূলবান ধন। আল্লাহ তাআলার নিকট যত সম্পদের ভা-ার রয়েছে তারমধ্যে হেদায়েত সবচেয়ে দামী। হেদায়েতের মূল্য এত উঁচুমানের যে, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে

মানুষের জীবনে সবরের গুরুত্ব : মুফতি তানযীম আলম কাসেমী

Quran-Freeislamicwallpaers_net _4_

জীবনের অধিকাংশ ঘটনার কাছে মানুষ হেরে যায়। তৎক্ষণাৎ রাগ করে বসে সামনের মানুষটার ওপর। জ¦লে উঠে শরীরে প্রতিশোধের আগুন। মন চায় এখুনি শক্তি প্রয়োগে তাকে পংগু করে দেই। এতে আমার মেজাজ ঠান্ডা হবে। শান্তি পাবে মন। অনেক অনিষ্ঠতা থেকে বেঁচে যাব। এমন উত্তেজনা অবস্থায় কোনো পদক্ষেপ নেয়ার অনুমোদন করেনা ইসলাম। যে সব কাজে সাধারণত মানুষ

আল্লাহর অনুপম গুণাবলি : ডা. গোলাম মোস্তফা

Zikra

পূর্ব প্রকাশিতের পর.. ১৪. আহকামুল হাকিমীন আল্লাহ্ সব বিচারকের তুলনায় সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক আল্লাহর ঘোষণা: “আল্লাহই আহকামুল হাকিমীন অর্থাৎ আল্লাহ্ কি সব বিচারকের তুলনায় সর্বশ্রেষ্ঠ বড় বিচারক নন? [সূরা তীন:৮] ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনুল মুনযির, বায়হাকী, হাকেম এবং ইব্ন মারদুইয়া হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

আল্লাহর ভয় : মো. জসিমুদ্দিন

007

প্রত্যেকটি মানুষেরই উচিত আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনিই ভয় কর। আর তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করোনা। [সূরা আলে ইমরান: ১০২] এই আয়াতে মূলত একটি মূলনীতি ব্যক্ত করা হয়েছে। আর তা হলো, তাকওয়া বা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা। অর্থাৎ

আল্লাহর অনুপম বৈশিষ্ট্য সমূহ : ডা. গোলাম মোস্তফা

21-6-2012-11-42-26909

আল-কুরআন এবং সহীহ্ হাদীসে আল্লাহর যে সব গুণবাচক নামের বর্ণনা পাওয়া যায়, তা মূলত আল্লাহর প্রধান সত্তার গুণাবলী এবং বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও আল্লাহর বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য আল-কুরআন এবং সহীহ্ হাদীসে উল্লেখ আছে, যা সাধারণভাবে আল্লাহর গুণবাচক নামের সাথে সম্পর্কিত নয়। আল্লাহর নামের সাথে সম্পর্কিত নয় এমন সব অনুপম বৈশিষ্ট্য সমূহের বিবরণ হলো, আল্লাহ্ কাউকে জন্ম দেননি

তাবলীগ হেদায়াতের সহজ পথ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

quran

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি যুগে যুগে মানুষের হেদায়াতের জন্য অসংখ্য নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা. এর উপর যিনি সারাআলমের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন এবং তার পদাঙ্ক অনুসরণকারী জান উৎসর্গকারী দ্বীনের কাজ নিয়ে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাহাবীদের উপর। তাবলীগ জামাত

শিরকের ইহ ও পরকালীন ক্ষতি : মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম

al-jannatbd.com, আল জান্নাত । মাসিক ইসলামি ম্যাগাজিন, al-jannatbd.com, quraner alo, মাসিক জান্নাত, islamer alo, www.al-jannatbd.com, al-jannat, bangla islamic magazine, bd islam, islamic magazine bd, ব্লগে জান্নাত, জান্নাতের পথ, আল জান্নাত,

শিরক অর্থ অংশ বা অংশিদারিত্ব সাব্যস্ত করা। অন্যকথায় আল্লাহর সত্তা অথবা গুণাবলীর সাথে অন্যকে শরীক করা। রাসূলুল্লাহ সা. শিরকের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আল্লাহর জন্য অংশীদার সাব্যস্ত করা, অথচ তিনি (আল্লাহ) তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’। শিরক শব্দটি তাওহীদের বিপরীত। আর শিরক হলো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ, আল্লাহর বাণী, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তার সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না।

আজানের মধুর ধ্বনিতে ইসলামের ছায়াতলে এক খ্রিস্টান নারী : রাহুল আমীন

Iman Akida

তাটিনা ফাতিমা, স্লোভাকিয়ায় জন্ম নেয়া একজন খ্রিস্টান নারী। বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ানো ছিল তার শখ। এভাবে বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ানোর পথে মসজিদ ও মুসলিমদের সান্নিধ্যে আসেন তিনি। আজানের সুমধুর ধ্বনি, একত্রে মুসলিমদের নামায আদায়, মুসলিম সংহতি, আরবি ভাষা তাকে দারুণভাবে বিমোহিত করে। এরপর থেকেই মহান আল্লাহর প্রতি তার ভালোবাসা ও বিশ্বাস জন্মাতে থাকে। তার মনে

অশ্লীলতার সয়লাবে সতর্কতার আহ্বান : যোবায়ের বিন জাহিদ

Iman Akida

সেদিন আমাদের এক মুহতারাম উস্তায আমাকে ডাকলেন। আমি হুজুরের কামরায় গেলাম। গিয়ে দেখি হুজুর মেঝেতে বসে দুজন ছাত্র সঙ্গে নিয়ে আমাদের মাদরাসায় নেয়া দৈনিক পত্রিকায় নারীদের অশ্লীল ছবিযুক্ত অংশগুলো কাগজ দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন। আমি গেলে হুজুর আমাকে প্রথমে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি হাদীস শোনালেন ; “যে ব্যক্তি ইসলামে কোন উত্তম প্রথার

বিশ্ব নবী সা.এর বিশ্বব্যাপী দাওয়াতি প্রোগ্রাম : মাহবুবুর রহমান নোমানি

sompadokio

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে নবী! আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।’ [সূরা আহযাব:৪৫-৪৬] মহানবী হযরত মোহাম্মদ সা. চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত লাভ করেন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পরপরই তাঁর ওপর অর্পিত হয় ইসলামের প্রচার-প্রসারের দায়িত্ব। বিবি খাদিজা রা. কে ইসলামের প্রতি দাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর দাওয়াতি জীবন। প্রথম কিছুদিন

আবু তালেবকে মৃত্যুর সময় কালিমার দাওয়াত : মাওলানা ইবরাহীম খলীল

21-6-2012-11-42-26909

হযরত ইবনু আব্বাস রা. বলেন, ওতবাহ ইবনু রাবীআহ, শাইবাহ ইবনু রবীআহ, আবু জেহেল ইবনে হেশাম, উমাইয়া ইবনু খাল্ফ ও আবু সুফিয়ান ইবনু হারব এবং কওমের অন্যান্য নেতৃস্থানীয় লোকজন আবু তালেবের নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আবু তালেব! আমাদের মধ্যে আপনার মর্যাদা কতখানি তা আপনি অবগত আছেন? বর্তমানে আপনার অসুস্থতার অবস্থাও দেখতেছেন। এমতাবস্থায় আপনার ব্যাপারে আমাদের

উম্মতের ফিকিরে হযরত ইলিয়াছ রহ. : হাকীমুত্ব তুল্লাব মুফতী হাবীবুল্লাহ

najaf

বনী আদম দুনিয়াতে আল্লাহর খলীফা। ইলম ও জ্ঞান হতে বঞ্চিত অসংখ্য সৃষ্টির মাঝে সে এক জ্ঞানবান সৃষ্টি। তার জ্ঞান চর্চার সঠিক ও উত্তম পাত্র হলো, আল্লাহর জ্ঞান ও তার মারেফত হাসিল করা। যেই দৌলতের কারণে তাকে যমীনের খেলাফত দান করা হয়েছে সেই দৌলত ও নেয়ামত লাভের প্রথম সিঁড়ি হলো তার রবের উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন

লজ্জাশিলতা ঈমানের অঙ্গ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

2232800607_64943c72fa

একটি সুন্দর সমাজ ব্যক্তিকে ভালো বা মন্দ বানাতে পারে। এজন্য পরিবার ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব সমাজকে সুন্দর করা। উঠতি বয়সের একটি ছেলে বা মেয়ে চারিদিকে যা দেখে সেভাবেই নিজেকে গড়তে চায়। টি.ভি চ্যানেলে যা দেখে নিজের বাস্তব জীবনকেও সেভাবে ভাবে বা সেভাবেই জীবন যাপন করতে চায়। অর্থাৎ মেকাপ পোশাক, চাল-চলনে ঐরকম অনুসরণ করতে চায়। তার তো

নতুন প্রজন্মের প্রয়োজন বৈপ্লবিক ঈমান : মাকসুদুর রহমান মারুফ

Iman Akida

নতুন প্রজন্মের চিন্তাচেতনা নতুন প্রজন্ম মনে করে, ইসলাম ধর্ম হলো কিছু সেকেলে ধারণার সমষ্টি এবং এমন একটি জীবন বিধানের নাম, যা আধুনিক যুগের দাবি ও চাহিদা পূরণে অক্ষম; বরং অকার্যকরই বটে।  এটি পার্সন্যাল ও ব্যক্তিগত ধর্ম; সংস্কৃতি, কালচার ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই। এটি বিজ্ঞান ও প্রগতির এ যুগে সংস্কৃতি, কালচার, শাস্ত্রীয়

আল্লাহর বড়ত্ব ও সৃষ্টি নৈপূণ্য : জোবায়েরুল ইসলাম

Zikra

পূর্ব প্রকাশিতের পর… আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও গুণাবলী তার যাতের সাথে সম্পৃক্ত এবং তাঁর জন্য শোভনীয়। তিনি সকল সৃষ্টির কল্পনার ঊর্ধ্বে, খেয়ালাতের (কল্পনার) ঘোড়া দৌড়াতে দৌড়াতে স্তব্ধ হয়ে যাবে, স্তব্ধ হয়ে অবস হয়ে যাবে কিন্তু আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। অন্তর তাকে চেনে তাঁর সদৃশ্য তৈরী করতে পারে না। তিনি তাঁর আরশে সমাসীন আছেন, তিনি


Hit Counter provided by Skylight