বিভাগ : আমরা যাদের উত্তরসূরী

মানবতার আধ্যত্মিক রাহবার: কাওমী মাদরাসা -মুহাম্মদ সাইদুল ইসলাম

শিক্ষা জাতির মেরুদ-, মেরুদ-হীন অশিক্ষিত কোন জাতি বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনা। কেননা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যবঞ্চিত একটি জাতির ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি সব কিছুই গড়ে ওঠে শিক্ষার উপর ভিত্তি করে। তাইতো বলা হয়, যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত সে জাতি ততবেশী বিশ্বে উন্নত ও প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক বিষয়-বস্তু হলো মানব জাতিকে তার অস্তিত্ব, অবস্থান, উত্থান,

তাবলীগের অন্যতম মুরব্বি হযরত মাওলানা আলী আকবার রহ.

জন্ম : মাওলানা আলী আকবর রহ. ১৯০৮ ঈসায়ীতে বি.বাড়ীয়া জেলার শ্যামবাড়ি গ্রামে এক দ্বীনদার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা গাজী মুন্সি সেকান্দার আলী চৌধুরী ছিলেন মসজিদের ইমাম। পিতামহ ছিলেন একজন আল্লাহওয়ালা বুযুর্গ ও দ্বীনি কাজে উদ্যমী, অক্লান্ত, পরিশ্রমী কর্মবীর মুজাহিদ। তাঁর দ্বীনি জযবা ও একনিষ্ঠতার দরুন তৎকালীন দেশে পীর মাশায়েখ ও আলেম-উলামা এ বাড়িতে

খতমে বুখারী শরীফের বরকতময় মাহফিল : মামুনুল বারী

গত ০৬.০৭.১৪৩৬ হিজরী মোতাবেক ২৬.০৪.২০১৫ ঈসায়ী রোজ শনিবার বিকেলে নেত্রকোণাস্থ চকপাড়া জামিয়া রাহেলা পারভিন তাহযীবুল বানাত বালিকা মাদরাসার খতমে বুখারী শরীফ উপলক্ষ্যে আলোচনা ও দোআ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলোচনা ও দোআ এবং বুখারী শরীফের খতমের জন্য দুজন মুহাক্কীক ও বুজুর্গ আলেমকে দাওয়াত দেয়া হয়। তাদের একজন জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জের সম্মানিত প্রিন্সিপাল শায়খুল হাদীস হযরত

ইমামে আযম এবং আধ্যাত্মিক সাধনা : আবদুল্লাহ জামিউ আযম জীম

আমরা হানাফি মাযহাবের অনুসারী। আমাদের ইমামের নাম আবু হানিফা। তার আসল নাম নোমান বিন সাবেত।  তিনি তাবেঈ ছিলেন। তিনি বাগদাদে একশত পঞ্চাশ হিজ্জরিতে ইন্তেকাল করেন। এটা তার অতিসংক্ষিপ্ত পরিচয়; তবে আমরা এখানে তার অধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে জানব। বড় বড় ব্যক্তিদের দৃষ্টিকোণ থেকে মনে করা হত যে, অন্য ব্যক্তিরা যেভাবে তাসাউফের চিন্তা ভাবনা থেকে অনেক দূরে তেমনি

এক সাহাবীর বিয়ে ও বর্তমান নবদম্পত্তির প্রতি বার্তা : মাওলানা ইবরাহীম খলীল

বিয়ে নবী কারীম সা. এর সুন্নত সমূহের একটি সুন্নত। সুন্নতের গুরুত্ব অপরিসীম এটা সবারি জানা। যাহোক এমন কোন সুন্নত নেই যা কোন না কোন সাহাবী আমল করেনি। আমাদের উচিৎ আল্লাহর নবীর সুন্নত বা তার আমলগুলো সাহাবীদের আমলের সাথে মিলিয়ে করা। কারণ এতে যেমন থাকে তৃপ্তি তেমনি থাকে নিশ্চয়তা। আর  রাসূলুল্লাহ সা. এর সকল কাজ ও

হায়াতে তাবেয়িনের পাতা থেকে : তুহফা বিনতে আব্দুল কাইয়ুম

পড়ন্ত বিকাল, অস্তগামী সূর্যটা বাইতুল্লাহ শরীফের উপর সোনালি রেখা বিস্তার করতে শুরু করলো, এতে বাইতুল্লাহর উন্মুক্ত ও পবিত্র প্রাঙ্গণে শীতল বায়ু প্রবাহের আভাস পেয়ে, সাহাবী ও বড় বড় তাবেঈদের অনেকেই তাওয়াফ শুরু করে দিলেন, তারা হেরেমের বায়ুম-লকে সুবাসিত করে দিলেন তাকবীর ও তাহলীল দ্বারা। সারাদিন প্রখর উত্তাপে তেতে উঠা কাবা অঙ্গনের তাপ কমে যাওয়ায় এখন

এমন ছিল যাদের আমল : মুহা. আশরাফুল ইসলাম

হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বড় প্রিয় সাহাবী ছিলেন। যখন মুসলমানগণ পারস্যের কিসরা সম্রাজ্যের ওপর আক্রমণ করেন সে সময় এই কিসরা ছিল সমসাময়িক পৃথিবীর পরাশক্তি। ইরানি সংস্কৃতি সমস্ত পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত ছিল। তৎকালীন সময়ে সমগ্র পৃথিবীতে দুটি সংস্কৃতি  ছিল। একটি হল রুমান সংস্কৃতি, অপরটি ইরানি। কিন্তু ফ্যাশন ও পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে

হযরত হূদ আ. : সংকলন- আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

হযরত হূদ আ. এর বংশ তালিকা হূদ ইবন শালিখ ইবন আরফাখশায ইবন সাম ইবন নূহ আ. মতান্তরে হূদ- যার নাম ছিল আবির ইবন রাবাহ ইবনুল জারুদ ইবন আয ইবন আওস ইবন ইরাম ইবন সাম ইবন নূহ আ.। হূদ এর গোত্রের নাম আদ ইবন আওস ইবন সাম ইবন নূহ। তারা ছিল আহকাফ অর্থাৎ বালুুর ঢিবিপূর্ণ এলাকার

হযরত আবু বাকার রা. এর জীবনী -মুনতাসির বিল্লাহ

সফরের সাথী সিদ্দিকে আকবার রা. : আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সা. ছিলেন পৃথিবীর সর্বকালের সেরা মানব। তার সাহাবীরাও ছিলেন ইতিহাসের সবচেয়ে আলোকিত মানুষ। সাহাবীদের এই সোনালি কাফেলার সেরা ব্যক্তিটি হলেন ইসলামের প্রথম খলিফা  হযরত আবু বকর রা. এই মহান মানুষটির জীবনের বাঁকে বাঁকে আমাদের জন্য রয়েছে অনেক আদর্শ ও শিক্ষা। মক্কার কুরাইশ গোত্রের কথা আমরা

যুদ্ধক্ষেত্রে হযরত আবু তালহা রা. এর বীরত্ত্ব : মোছা. জান্নাত আক্তার

সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম সাহাবী যিনি সততা বিশ্বস্ততার উজ্জল নক্ষত্র। যিনি ছিলেন ঈমান ও সাহসে বলীয়ান, উদার ছিল যার বিশাল হৃদয়; শুধু হৃদয় নয় যেন এক বিশাল সাগর। যে সাগরের দূর্বার ঢেউ এখনও কঁম্পন তুলে যায় আকাশে বাতাসে। এমনই ছিলেন রাসূল সা. এর এক সাহাবী আবু তালহা রা.। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম যুদ্ধ বদর। আবু তালহা রা.

তাবলিগ জামাতের উজ্জ্বল নক্ষত্র হযরতজি মাওলানা যোবাইরুল হাসান রহ. : যোবায়ের বিন জাহিদ

বিশ্ব ইজতিমার আখেরী মুনাজাতে যার দো’আয় আমিন আমিন বলতো পৃথিবীর লাখো মুসলিম, যার অশ্র“ঝরা কান্না লক্ষ হৃদয়কে বিগলিত করে চোখে অশ্র“র বন্যা বইয়ে দিতো, সেই মহান বুজুর্গ, বিশ্ব তাবলিগ জামাতের অন্যতম মুরুব্বী হযরত মাওলানা যোবাইরুল হাসান কান্ধলবী রহ. আজ এ পৃথিবীর বুকে নেই। অসংখ্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্খীকে শোক সাগরে ভাসিয়ে ১৮ মার্চ ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি

উম্মতের ফিকিরে হযরত ইলিয়াছ রহ. : হাকীমুত্ব তুল্লাব মুফতী হাবীবুল্লাহ

বনী আদম দুনিয়াতে আল্লাহর খলীফা। ইলম ও জ্ঞান হতে বঞ্চিত অসংখ্য সৃষ্টির মাঝে সে এক জ্ঞানবান সৃষ্টি। তার জ্ঞান চর্চার সঠিক ও উত্তম পাত্র হলো, আল্লাহর জ্ঞান ও তার মারেফত হাসিল করা। যেই দৌলতের কারণে তাকে যমীনের খেলাফত দান করা হয়েছে সেই দৌলত ও নেয়ামত লাভের প্রথম সিঁড়ি হলো তার রবের উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন

হাদীস ও ফেকাহ শাস্রবিদ ইমাম আবু হানীফা রহ. : মাওলানা জামাল উদ্দীন রাহমানী

শেষ পর্ব সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা ইমাম আবু হানীফা রহ. এর পৌত্র ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার পিতামহ নুমান হিজরী ৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন, আমার প্রতিতামোহ সাবেত তাকে নিয়ে যখন হযরত আলী রা. এর কাছে নিয়ে যায়। তখন তিনি [আবু হানীফ] ছিলেন ছোট। তখন আলী রা. তার ও তার পরবর্তী বংশধরের জন্য দোআ

সাক্ষাতকার : সাহিত্যাঙ্গনে কওমি পড়–য়াদের এগিয়ে আসা জরুরী -মুফতী আবদুল খালেক

মুফতী আবদুল খালেক একজন প্রবীণ আলেম। জন্ম ১৯৪০ সালে শরীয়তপুরে। প্রাথমিক শিক্ষা নিজ গ্রামে। লেখা পড়া করেছেন কওমি আলিয়া উভয় অঙ্গনে। পরীক্ষা দিয়েছেন দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল। উচ্চ শিক্ষার জন্য ভর্তি হয়েছেন করাচী দারুল উলূম। সেথায় সম্পন্ন করেন মেশকাত, দাওরা ও ইফতা। বুখারী পড়েছেন মুফতী মুহাম্মদ শফী রহ.-এর নিকট। আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন

হাদীস ও ফেকাহ শাস্রবিদ ইমাম আবু হানীফা রহ. : মাওলানা জামাল উদ্দীন রাহমানী

১ম পর্ব সমাজের অধঃপতনের সময় আলোক বার্তিকা নিয়ে যে সকল মনিষীরা পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত হয়েছিলেন, পার্থিব লোভলালসা ও ক্ষমতার মোহ যাদেরকে ন্যায় ও সত্যের আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র পদস্খলন ঘটাতে পারেনি, যারা অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত করেননি, ইসলাম ও মানুষের কল্যাণে সারাটা জীবন যারা পরিশ্রম করে গিয়েছেন, সত্যকে আকড়ে থাকার কারণে যারা জালেম সরকার

অসহায় আম্মার পরিবার ! : মুফতী মুহাম্মাদ শোয়াইব

আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তো জীবন দিয়েছেন অনেকেই। সেই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়তম চাচা হযরত হামজা রা., হযরত হানজালা রা., হযরত সা’দ রা., হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ রা., হযরত খুছাইমা রা. থেকে শুরু করে কত ভাগ্যবানই তো জীবন দিয়েছেন দ্বীন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে। আজও দিচ্ছেন মিসর, ফিলিস্তিন, গাজা, ইরাক, আফগানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু

ইতিহাসের পাতায় ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. : মাওলানা আমীরুল ইসলাম

খুরাসান একটি ইতিহাস সমৃদ্ধ অঞ্চল। এ অঞ্চলটির সাথে জড়িয়ে আছে হাজারো উত্থান-পতনের ঘটনা। হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর গোড়া থেকেই এটি জ্ঞানের রাজধানী নামে খ্যাত। ইতিহাসে বাগদাদ, বুখারা ও সমরকন্দেরমত তারও রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস। শহরটির বিভিন্ন কেন্দ্রে হাজারো মুহাদ্দিস, শায়খ এবং ফকিহগণের তত্বাবধানে হাদীসে নববী  ফিক্হ এবং ইসলামী আইনশাস্ত্রে খোলামেলা আলোচনা চলতো। দূরদূরান্তর থেকে লোকেরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের পিপাসা

হযরত দাউদ আ. : মাওলানা যুবাইর আহমদ

আল্লাহ তার মাঝে নবুওয়াত ও রাজত্বের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। আল্লাহ তাকে প্রজ্ঞা ও বাকপটুতা দান করেছিলেন। তিনি এমন নবী ছিলেন, যার সাথে পাখ-পাখালী, পাহাড়, পর্বত তাসবীহ পাঠ করত। চিরবিরল এক কণ্ঠস্বর আল্লাহ তাকে দান করেছিলে। শয়তান জালুতকে হত্যা করার জন্য আল্লাহ তাকে বনী ইসরাঈল সম্প্রদায় থেকে নবী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। ফলে সে দাউদ আ. এর

যিনি ছিলেন এ ধরার রহমত : মাওলানা আমীরুল ইসলাম

আমাদের প্রিয় নবী রাহমাতুল্লিল আলামীন। তিনি যে রহমত ও দয়ার মূর্ত প্রতীক ছিলেন, তা আর কোন নূতন বিষয় নয়। মহান আল্লাহ তাআলা এ মর্মে সোয়া চৌদ্দশত বৎসর পূর্বেই ঘোষণা করেছেন- আমি আপনাকে এ পৃথিবীর জন্য কেবল রহমত করে পাঠিয়েছি। [সূরা আম্বিয়া : ১০৭] দয়া ও করুনা বিনয় ও নম্রতা; আদর্শ ও আত্মত্যাগ; ভালোবাসা ও উদারতা

জীবন সায়াহ্নে হযরত ওমর রা. : সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী

আমর বিন মাইমুন রা. বলেন, যেদিন সকালে উমর রা. আহত হন, সেদিন সকালে আমি তার সাথে দাঁড়ানো ছিলাম। আমাদের দুজনের মাঝে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. ছিলেন। আর তখন ছিল ফজরের সময়। তিনি যখন নামাযের মুহূর্তে দুই কাতারের মাঝখান দিয়ে আতিক্রম করতেন, তখন তিনি মুসল্লিদের লক্ষ করে বলতেন, তোমরা কাতার সোজা করে দাঁড়াও তখন মুসল্লিগণ ঠিকভাবে

ইসলাম প্রচার ওআলেম সমাজ : উবায়দুল হক খান

ইসলাম প্রচারে আলেম সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এ উপমহাদেশেও আমরা উলামা-মাশায়েখদের মাধ্যমেই ইসলাম পেয়েছি। সমাজের নিপীড়িত, নির্যাতিত, নিগৃহীত, অসহায় জনগোষ্ঠী ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় লাভের প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান করলে দেখা যায় উলামা-মাশায়েখদের মাধ্যমেই তারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন। হযরত খাজা মঈন উদ্দীন চিশতী রাহ., হযরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়া রাহ., হযরত শাহ জালাল রাহ. প্রমূখ এ উপমহাদেশের প্রত্যন্ত


Hit Counter provided by Skylight