বিভাগ : আগস্ট 2015

হজ্জ সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করুন : মুফতী আব্দুল বারী

হজ্জের শাব্দিক অর্থ- হজ্জ শব্দের আভিধানিক অর্থ, ইচ্ছা করা। পরিভাষায় হজ্জ বলা হয়, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশে শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে কাবা শরীফ ও সংশ্লিষ্ট স্থান সমূহ জিয়ারত করা। ইসলামের পাচঁটি স্তম্ভের অন্যতম হজ্জ। যারা হজ্জে যাচ্ছেন তারা বলা বাহুল্য অনেক সৌভাগ্যবান, সুতরাং আল্লাহর কাছে দোআ করুন- হে আল্লাহ! আমার হজ্জকে সহজ করো এবং

হজ্জে মহিলাদের পর্দা : মুফতী আব্দুল্লাহ মুকাররম

হজ্জ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। মৌলিক বিষয়ের একটি। নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন, ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর স্থাপিত। ১. এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সা. আল্লাহ তাআলার রাসুল। ২. নামায কায়েম করা। ৩. যাকাত প্রদান করা। ৪. রমজানের রোযা রাখা। ৫. হজ্জব্রত পালন করা।’ [বোখারী ও মুসলিম] হজ্জের

জান্নাতিদের আনন্দ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

বিশালকায় উঠের উপর আরোহীগন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি পরহেযগার লোকদিগকে অতিথিরূপে দয়াময়ের মেহমান বানাব। [মারইয়াম: ৮৫] এই আয়াতের   তাফসীরে হযরত নোমান ইবনে সাদ বর্ণনা করেন যে, তোমাদের জানা উচিৎ আল্লাহর কছম, এ সমস্ত সম্মানিত লোকদেরকে মেহমানরূপে পদব্রজে চলতে দেয়া হবে না বরং তাদের কাছে এমন উট পেশ করা হবে যার তুলনা কোন কালেও কোন মাখলুকাত

ইলম অর্জনের শিশুর অধিকার : মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক

ইলম অর্জন, জীবন ও জগৎ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা লাভ, ইহপরকালীন কল্যাণের পথ পথান্তর বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা অর্জন শিশুর একটি মৌলিক অধিকার। এ অধিকার প্রদানে, এ বিষয়ে শিশুর যথাযথ পরিচর্যায় মহানবী সা. স্থাপন করেছেন সর্বোচ্চ আদর্শ। আমাদের সালাফে সালেহীনগণও এক্ষেত্রে রেখেছেন উজ্জ্বল উদাহরণ। মহানবী সা. জ্ঞান অন্বেষণ প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ বলে ঘোষণা করেছেন। [আল মাকাসিদুল

ধর্ষণ কেন ? নেপথ্যে কী ? : মুফতী মুহাম্মদ শোয়াইব

ভয়ানকরূপে বৃদ্ধি পাচ্ছে ধর্ষণ। কোমলমতি শিশু থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ পর্যন্ত কেউই রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণের হাত থেকে। মানব সমাজের মরণব্যাধিরূপে আবির্ভূত ধর্ষণের স্টাইল ও কৌশলেও দিন দিন নতুন নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে তার ভয়াবহতাও। ধর্ষণের পর গলা টিপে বা স্বাস রুদ্ধ করে হত্যা করা এখন অতি মামুলি ব্যাপার। চার থেকে পাঁচ বছরের যে

পৃথিবী ও মহাবিশ্বের ধ্বংস এবং তার পূর্বলক্ষণ (পর্ব-3) ড. হারুন ইয়াহয়া

  ৪. দারিদ্র্য “দরিদ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। লাভের ধন শুধু ধনীরাই ভোগ করবে। গরীবরা এর দ্বারা উপকৃত হবে না।” (তিরমিযী) হাদীসে যেমন বলা হয়েছে- কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সাথে সাথে দারিদ্র্য ও জীবন ধারণের খরচ বেড়ে যাবে । ঠিক তেমনি আজকের দিনে আমরা তা প্রত্যক্ষ করছি। আফ্রিকা, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের বহু মানুষ অনাহারে মৃত্যুর

মুরতাদের নির্মম পরিণতি : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

মুরতাদের পরিচয়: কোনো মুসলমান ইসলামের কোন মৌলিক আকীদা-বিশ্বাস কিংবা বিধান অথবা ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়কে মানতে অস্বীকার করা কিংবা তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করা অথবা কটুক্তি ও অবমাননাকর কোন কথা বলার নামই হলো মুরতাদ হওয়া। মাআরিফুল কুরআন: ৭/২২৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩৪৪, হিন্দিয়া: ২/২৫৩ ইকফারুল মুলহিদীন- ৭২,১৯৯। মুরতাদের প্রকার: মুরতাদ দু’ প্রকারের হয়ে থাকে। (১)

রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে আদব : মাওলানা শরীফ আহমদ

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে তাঁর দিকে আহ্বানের জন্য অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। যাদের মধ্যে সর্বপ্রথম হলেন আদম আলাইহিস সালাম এবং সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। দরূদ ও শান্তির অবিরাম ধারা বর্ষিত হোক নবীকুল শিরোমণী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও সম্মানিত সাথীদের উপর।

দীনের উপর চলার সহজ পদ্ধতি : মুফতী মুস্তাকিম আমীর

চলমান সময়ের মানুষেরা যে কথাটি খুব বেশী বলে থাকে, তা হলোÑ এই যমানায় দীনের উপর চলা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা এমন এক পরিবেশে, এমন এক সমাজে বসবাস করছি যা ফেতনা ফাসাদে আক্রান্ত। ধর্মহীনতা, লজ্জাহীনতা অশ্লীলতা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। পাশ্চাত্যের নোংরা রীতিনীতি, সভ্যতার নামে অসভ্যতায় আমাদের দেশ সয়লাব। সভ্যতার নামে অসভ্যতার ফেরিওয়ালারা আমাদের

মানবতার আধ্যত্মিক রাহবার: কাওমী মাদরাসা -মুহাম্মদ সাইদুল ইসলাম

শিক্ষা জাতির মেরুদ-, মেরুদ-হীন অশিক্ষিত কোন জাতি বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনা। কেননা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যবঞ্চিত একটি জাতির ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি সব কিছুই গড়ে ওঠে শিক্ষার উপর ভিত্তি করে। তাইতো বলা হয়, যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত সে জাতি ততবেশী বিশ্বে উন্নত ও প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক বিষয়-বস্তু হলো মানব জাতিকে তার অস্তিত্ব, অবস্থান, উত্থান,

ইসলামই দিতে পারে মানবতার মুক্তি : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

আলহামদুলিল্লাহ, দরুদ ও ছালাম আমাদের শ্রেষ্ঠনবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর প্রতি এবং তাঁর সাহাবাদের প্রতি। আমরা মুসলমান। কী পবিত্র একটি নাম। ইসলাম আমাদের কেবলমাত্র ধর্ম নয়, ইসলাম আমাদের একটা পরিপূর্ণ জীবনাদর্শ। আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন- নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ধর্ম হলো ইসলাম। [আল ইমরান:১৯] কিন্তু অতি

তাবলীগের অন্যতম মুরব্বি হযরত মাওলানা আলী আকবার রহ.

জন্ম : মাওলানা আলী আকবর রহ. ১৯০৮ ঈসায়ীতে বি.বাড়ীয়া জেলার শ্যামবাড়ি গ্রামে এক দ্বীনদার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা গাজী মুন্সি সেকান্দার আলী চৌধুরী ছিলেন মসজিদের ইমাম। পিতামহ ছিলেন একজন আল্লাহওয়ালা বুযুর্গ ও দ্বীনি কাজে উদ্যমী, অক্লান্ত, পরিশ্রমী কর্মবীর মুজাহিদ। তাঁর দ্বীনি জযবা ও একনিষ্ঠতার দরুন তৎকালীন দেশে পীর মাশায়েখ ও আলেম-উলামা এ বাড়িতে

যে কারণে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ড. শিবশক্তি : হাসনা হেনা

পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিদায়াত প্রাপ্ত হৃদয়। মহান আল্লাহ পাক যাকে ভালোবাসেন তাকেই হিদায়াতের মতো মূল্যবান সম্পদ দ্বারা সমৃদ্ধশালী করেন। এ সম্পদ যদি আল্লাহ পাক কাউকে দান করতে চান তবে কেউ তা রুখতে পারেনা। আর সে মূল্যবান হিদায়াত যদি মহান আল্লাহ পাক তার হাবীব হুজুর সা. এর দীদারের মাধ্যমে কাউকে দান করেন তবে তা যে

একটি তাওবা ও আমাদের শিক্ষা : মাওলানা আমীরুল ইসলাম

১৯৬৫ সনের কথা। হজ্জের সফরে এক বৃদ্ধের সাথে আমার পরিচয়। খুবই সাদা মনের মানুষ। কথাবার্তায় অসাধারণ মাধুর্যতা। মদীনা মুনাওরায় তার একটি ছোট্ট রেস্তোরাঁ। জীবিকা হিসেবে এটাই তার একমাত্র সম্বল। খুব একটা জাঁকজমক না হলেও অনেক সাজানো গুছানো। খাবারের মানও খুব একটা খারাপ না। প্রথম পরিচয়েই তার সাথে আমার সখ্যতা গড়ে উঠলো। কথায় কথায় অনেক বন্ধুত্ব

ইসলামী ব্যাংকিং : সমস্যা ও প্রস্তাবনা : মুফতী মুআজ আহমদ

সুদভিত্তিক আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার সুচনা হয় ষোড়শ শতকে। এরপর চলে যায় কয়েক শতাব্দি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৯৬৩ সালে ড. আহমদ নজ্জারের উদ্যোগে মিসরের মিটগামারে সর্ব প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী ব্যাংক। বাংলাদেশে এর সুচনা হয় ১৯৮৩ সালে। এরপর শুরু হয় ক্রমবিকাশ। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অদ্যাবধি এ স¦ল্প সময়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর সাফল্য ঈর্ষণীয়। ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ের ভাবধারা

মন্দ ধারণা বহু অনাচারের মূল : হাফীদ মানজুর

মানুষের মনে ভাল মন্দ অনেক ধারণা সৃষ্টি হয়। কতক ধারণা থাকে নিতান্তই ভিত্তিহীন, আবার কিছু ধারণা কখনো হয়তবা বাস্তবও হয়ে যায়। তাও বাস্তবে রূপ পাওয়া পর্যন্ত শরীয়তের দৃষ্টিতে তার কোন গ্রহণযোগ্যতা থাকেনা; বরং কেবলই ধারণা হিসেবেই মূল্যায়িত হয়। শরীয়ত মানুষকে এসব ভিত্তিহীন অহেতুক ধারণা পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ মানব মনে সৃষ্ট এসব বহু ধারণা

কবিতাগুচ্ছ : অনুতপ্ত, ভুল, উপহার, গ্রহণ করোনা, ইসলাম

[অনুতপ্ত] সৈয়দা সুফিয়া খাতুন : মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছি ভয়ে ভয়ে কম্পন করছে আমার মন। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় চলে যেতে হবে আমায় এতো কিছু ফেলে দুনিয়ার মায়া ছেড়ে। রাজ প্রাসাদ ছেড়ে যেতে হবে মাটির ঘরে থাকব কেমনে অন্ধকারে! বিলাসী জীবন যাপন করেছি ভেবে ছিলাম বাঁচবো বহুদিন, এই ধারা থাকবে চিরদিন। হেলায় খেলায় চলে গেল বহু দিন,

আপনার জিজ্ঞাসা:আমাদের উত্তর

মুহাম্মাদ মুস্তফা, শিবপুর, নরসিংদী প্রশ্ন: অনেক এলাকায় দেখা যায় কবর খননের সময় যে মাটি উঠানো হয়, লাশ কবরে রাখার পর উপরে মাটি দেয়ার সময় উক্ত উঠানো মাটি ছাড়াও অন্য জায়গা থেকে মাটি এনে কবর উঁচু করে দেয়া হয়। এ সম্পর্কে শরী‘আতের বিধান কি? উত্তর: যে মাটি কবর থেকে খনন করা হয়েছে, সেই মাটিগুলোই যথেষ্ট। এর

হযরত ইসহাক আ. এর পরিচিতি : আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

ইসহাক আ এর জন্ম : আল্লাহ তাআলা পবিত্র কালামে পাকে হযরত ইসহাক আ. সম্পর্কে ইরশাদ করেন- আমি তাকে (ইবরাহীম আ.) সুসংবাদ দিয়েছিলাম ইসহাকের, সে ছিল একজন নবী, সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম। আমি তাঁকে বরকত দান করেছিলাম এবং ইসহাককেও। তাদের বংশধরদের মধ্যে কতক সৎকর্মপরায়ন এবং নিজেদের প্রতি স্পষ্ট অত্যাচারী। [সুরা সাফ্ফাত ১১২-১১৩] মাদায়েন অঞ্চলের অধিবাসী লুত আ. এর

শয়তানের ডায়েরি

মোছাঃ উম্মে হাবিবা [কাফেলা- ০০৭] পূর্বে প্রকাশিতের পর। শয়তান- বাড়ির অনতিদূরে পৌঁছিয়া দেখিতে পাইলাম আইয়ুব নবীর কয়েক সহস্র ভেড়া, বকরি ও দুম্ভা মাঠে চড়িতেছে। তখন দেখে খিয়াল হইল যে, এইখান দিয়াই পরীক্ষা আরম্ভ করিয়া দেয়। তাই মাঠের এক পার্শে বসিয়া মাঠের দিকে অগ্নিবন্যা ছুটাইয়া দিলাম। আল্লাহর রহমতে অগ্নিবন্যা ভীষণ আকারে ধারন করিয়া নিমিষের মধ্যে সকল

দেশ বিদেশের খবর

স্থগিত হওয়া ১৫৯ বাংলাদেশিকে মিয়ানমার থেকে দেশে আনা হবে ৫ আগস্ট খারাপ আবহাওয়ার কারণে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে স্থগিত হওয়া ১৫৯ বাংলাদেশিকে মিয়ানমার থেকে ৫ আগস্ট দেশে ফেরত আনা হবে বলে জনিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।  গত বৃহস্পতিবার এদের ফেরত আনার কথা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক


Hit Counter provided by Skylight