বিভাগ : অক্টোবর 2015

সম্পাদকীয় : ইসলামী অনুশাসনই উত্তরণে পথ

Sampadokia-150x150

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি মানুষের হেদায়াতের জন্য যুগে যুগে নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ট নবী মুহাম্মদ সা. এর উপর যিনি অন্ধকার যুগে আগমন করে মানুষকে আলোর পথ দেখিয়েছেন এবং সত্যের উপমা সাহাবীদের উপর যিনারা দীনের দাওয়াত নিয়ে সারা বিশ্বে ছিটিয়ে ছড়িয়ে পরছেন। পর পর দুই

নারীর নিরাপত্তা যে পথে আসতে পারে : মুফতী আব্দুল্লাহ মুকাররম

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

খবরের কাগজে নানা সময়ে আমরা আমাদের প্রতিবেশি দেশ-ভারতে ধর্র্ষণ, গণধর্ষণসহ এজাতীয় বহু সংবাদ ইতিপূর্বে দেখেছি। ভাল কিছু শিখতে না পারলেও খারাপ এ দিকটা এখন আমাদের মাঝেও অনুপ্রবেশ করেছে। বিস্মিত হবার মতো কিছু ঘটনা বর্তমানে বাংলাদেশেও ঘটেছে। পূর্বাপর অবস্থা দেখে মনে হয়, হর হামেশাই এমন বহু ঘটনা ঘটে চলেছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে অহরহ। গণ ধর্ষণের ঘটনাও

জান্নাতে নারীদের অবস্থা : আলী হাসান তৈয়ব

Porda

জান্নাতে নারীদের অবস্থা কী হবে, জান্নাতে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে- এ ব্যাপারে এমন কয়েকটি পয়েন্ট এই লেখায় একত্রিত করা হয়েছে, যা থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণায় উপনীত হওয়া যাবে। আমাদের উচিত হবে নারীরা জান্নাতে তাদের জন্য অপেক্ষমান নেকি ও নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তাদেরকে হতোদ্যম না করা। কারণ, মানব প্রকৃতি তার আগামী ও ভবিষ্যত

অতীব গুরত্বপূর্ণ চারটি তাফসীর : আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রহ.

আমাদের কাল্পনিক জীবন সীমাবদ্ধ। জীবনের চাওয়া-পাওয়া অসীম। শক্তি-সাহস-সামর্থ দূর্বল। ভাব ও ভাবনার চাহিদা বিভিন্ন। মেহনত ও মুজাহাদা ক্ষীণ। তাই আমি অনুভব করি তাফসীরের মুদ্রিত ও প্রকাশিত কিতাবাদি থেকে আহলে ইলমগণের নিকট প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য কিছু কিতাব আমার প্রিয় তালিবে ইলমদের জন্য নির্বাচন করবো। যারা চায় তারা যেনো তাতে আশ্রয় নেয় এবং পড়ে তুষ্ট হয়। আর

জান্নাতীদের জান্নাতের অবস্থান ও সঙ্গী গ্রহণ : সংকলন : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

4 (4)

কাফেরদের জান্নাতের অংশ মুসলমানদের দেয়া হবে। হযরত আবু  হুরায়রা রা. বলেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন- তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য দু’টি স্থান রয়েছে একটি জান্নাতে অপরটি জাহান্নামে। যখন কোন কাফের মারা যায় এবং জাহান্নামে চলে যায় তখন জান্নাতবাসী উক্ত কাফেরের জান্নাতের অংশের অংশীদার হয়ে যায়। জান্নাতে অংশীদারিত্ব থেকে যারা বঞ্চিত থাকবে হযরত আনাস

নারী ও পুরুষের অধিকার : মাওলানা আলমগীর হোসাইন

Porda

নারীকে আল্লাহ তাআলা ঘরের অভিভাবিকা করেছেন। ঘর সামলানো তার দায়িত্ব। অবশ্য এখানেও আমরা সীমালঙ্ঘন করে থাকি। আমরাতো  নারীকে তার প্রাপ্য দিতে কুন্ঠাবোধ করি। রান্না থেকে শুরু করে ঘরের সব কাজকর্ম সবগুলো তার কর্তব্য বলে মনে করেছি। অথচ ইসলামী শরীয়তের বিধান মতে ঘরের যাবতীয় কাজকর্ম এমনকি বাচ্চাকে দুধ পান করাতে হলেও সামর্থ অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা করতে

যে সকল সময়ে নামায পড়া নিষিদ্ধ : হাসান মুহাম্মাদ শরীফ

Sirat 02

নামায ইসলামের অন্যতম একটি মৌলিক স্তম্ভ। আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনেক বড় একটি মাধ্যম। পবিত্র কুরআনে প্রায় বিরাশি জায়গায় নামাযের কথা বলা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, নামাযে দাঁড়ালে আমার দেহ মন জুড়িয়ে যায়, আমার চোখ শীতলতা পায়। দিন রাতে সব মিলিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া  ফরয। এছাড়া আরো কিছু ফযীলতপূর্ণ নফল নামাযের  কথা

বস্তুবাদ ও ইসলাম : মুফতী মুআজ আহমদ

qqq

ইসলামী অর্থনীতির বিপরীতে পৃথিবীতে বিরাজমান অন্যসব অর্থনীতি দর্শন ও নীতিতে বহুধাবিভক্ত ও বাহ্যত সাংঘর্ষিক হলেও সেগুলো একই সূত্রে গাঁথা। বস্তুবাদই হচ্ছে এ সবের উৎস। বস্তুবাদি মানসিকতা থেকেই এ জাতীয় সকল দর্শন ও মতবাদের উদ্ভব। তাই বিভিন্ন দর্শন সৃষ্টিতে বস্তুবাদের প্রভাব এবং বস্তুবাদের বিপরীতে ইসলামের দর্শন সম্পর্কে আলোচনা করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। গত সংখ্যায় বস্তুবাদ সম্পর্কে

ইন্টারনেটে বাংলার ব্যবহারে তার স্থায়ীত্ব বাড়বে : আতিকুর রহমান নগরী

51cb36deadcce-1

সময়ের পরিবর্তনে সবকিছুতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে। খাতা-ডায়েরি’র পরিবর্তে ট্যাব, নোটবুক, প্যাড হাতে আসতে শুরু করেছে। তাই কাগজ-কলমের ব্যবহার অনেকাংশে কমতে লেগেছে। কোনো কিছুর প্রয়োজন দেখা দিলে সবজান্তা গুগলে সার্চ করে বের করে প্রয়োজন মেটাই। ছোট থেকে ছোট কাজেও আমরা প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে আছি। এক কথায় প্রযুক্তির উপর ভর করে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। প্রযুক্তির সাথে যোগাযোগের

হালাল-হারামের পরিচয় ও বিধান : মাওলানা আব্দুস সাত্তার

Islamic_Books

ইসলামি শরীয়াতে হালাল ও হারাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পৃথিবীর সব আসমানি গ্রন্থেই হালাল-হারামের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। হালাল-হারামের বিষয়গুলো নির্ধারিত করার ইখতিয়ার শুধুমাত্র আল্লাহর বিধায় বাস্তবজীবনে হালাল কাজ করা আর হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার নামই হচ্ছে ইবাদত। ইসলামের মূলমন্ত্রই হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। অর্থাৎ আল্লাহ পাকের হুকুম বা আদেশ মানা আর রাসূলুল্লাহ

খতমে নবুওয়াত ও শেষ নবী : যোবায়ের বিন জাহিদ

1904049_1475373812713486_3803293563363009027_n

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী। তার পরে পৃথিবীতে আর কোন নবীর আগমন ঘটবে না। হযরত আদম আ. থেকে নিয়ে মানব জাতির হেদায়েতের  উদ্দেশ্যে যত নবী আল্লহ তায়ালা প্রেরণ করেছেন, তাদের সমাপ্তি হয়েছে বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। নবীদের ধারাবাহিকতার এ পরিসমাপ্তিকে বলা হয় ‘খতমে নবুওয়াত’। আর আমাদের

হিংসা সমাজ জীবনকে কলুষিত করে : এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান

007

হিংসা একটি ভয়ানক সংক্রামক ব্যাধি। মানুষের হীন মনমানসিকতা, ঈর্ষাপরায়ণতা, সম্পদের মোহ, পদমর্যাদার লোভ-লালসা থেকে হিংসা-বিদ্বেষের উৎপত্তি ও বিকাশ হয়। মানবচরিত্রে যেসব খারাপ দিক আছে, তার মধ্যে হিংসা মারাত্মক ক্ষতিকারক। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, ঈর্ষাকাতরতা, কলহ-বিবাদ প্রভৃতি মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনকে অত্যন্ত বিষময় করে তোলে। এতে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবন দুর্বিষহ হয়ে

ঝাড়-ফুকেঁর শরীয়ত সম্মত বিধান (১) : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

Islamic_Books

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা করে না, তার ঈমান নেই। মহান আল্লাহ বলেন, আর তোমরা আল্লাহর উপরই ভরসা কর- যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক।’ [আল-মায়েদাহ:২৩] তিনি অন্যত্র বলেন, ‘যারা মুমিন, তারা এমন যে, যখন

তাবলীগ: এতো আমাদেরই কাজ : মুফতী আশ্রাফুল ইসলাম

islamic-wallpaper-15

মানুষকে সত্যের পথে আহবান করা, সিরাতে মুস্তাকিমের পথ বাতলে দেয়া এবং ওয়ায-নসিহতের কথা স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আপনি হেকমত এবং সুকৌশলে মানুষকে আপনার প্রতিপালকের প্রতি আহবান করুন।” [নাহল: ১২৫]  অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, “ঐ ব্যক্তির কথার চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে; যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করে এবং সৎকর্ম

শোন তরুণী তোমাকে বলছি : মুহা. ইউসুফ আহমাদ

Porda

কাযী শুরাইহ ইবনে হারিস আল-কিন্দী রহ. ইসলামী বিচারব্যবস্থায় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একজন ব্যক্তিত্ব। তাঁকে ইসলামের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারপতি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তিনি সাহাবী ছিলেন না তারপরও খলিফা উমর রাদিআল্লাহু আনহু উনাকে কুফার প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। সাহাবাদের সে সময়ের প্রেক্ষাপটে একজন তাবেঈর এমন একটি পদ প্রাপ্তি বিরল গঠনা। তার যোগ্যতার এটাই প্রধান প্রমাণ। তার

কা’বাগৃহ নির্মাণ : সংকলন : আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

Sristi jogot

হযরত ইবরাহীম খলীল আ. এর প্রশংসায় আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আল্লাহ বলেন, স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম কে তাঁর প্রতিপালক কয়েকটি কথা দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন এবং সেগুলো সে পুর্ণ করেছিল। আল্লাহ বলেন আমি তোমাকে মানব জাতির নেতা করছি, সে বলল, আমার বংশধরগণের মধ্যেও ? আল্লাহ বললেন, আমার প্রতিশ্রুতি জালিমদের জন্য নয়। [সুরা বাকারা

দাম্পত্ত জীবনের শান্তি কোন পথে! মুফতী আব্দুল্লাহ আল নোমান

Biye

মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করার সাথে সাথে তার জীবন ধারণের জন্য কিছু চাহিদা দিয়েছেন এবং চাহিদা মিটানোর পদ্ধতিও বলে দিয়েছেন। মানব জীবনে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ন্যায় জৈবিক চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ। এই চাহিদা পূরণের জন্য ইসলাম বিবাহের বিধান দিয়েছে। আল্লাহ তা‘য়ালা পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম আ.-কে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। পরবর্তী বংশ বৃদ্ধির জন্য

শয়তানের ডায়েরি : উম্মে হাবিবা আকলিমা

পূর্বে প্রকাশিতের পর। পির-আলীÑ নারীদের সম্পর্কে সর্বদাই কু-মন্তব্য করিয়া থাক কিন্তু এই জাতীয় নারীদের এত প্রশংসা করিতেছে কেন ? শয়তান, হুজুর, নারী জাতীকে অন্তর হইতে কখনোই মনে ঘৃণা করিনা। সর্বদাই তাহাদের একটু মহব্বতে নজরে দেখি। কারণ জগতের অধিকাংশ নারীকেই ফাঁদ হিসাবে ব্যবহার করার তৌফিক আল্লাহ আমাকে দান করেছেন। এই জন্য দিবানিশি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়

দেশ-বিদেশের খবর

Songbad

মিনা ট্রাজেডিতে নিহত হলেন বিশ্ব অঙ্গনে সাড়া-জাগানো ইরানি ক্বারী মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত হয়েছেন মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৫৭ তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী ইরানের বিশ্বনন্দিত যুবক ক্বারি মোহসেন হাজহাসানি করগার। গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতা। ইসলামী ইরানের নিয়ম অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার পুরস্কার হিসেবে তাকে হজে পাঠানো

কবিতাগুচ্ছ : সুখ পাখি, রহমতে রাসূল, তোমরা হবে

Kabita

[সুখ পাখি] সৈয়দা সুফিয়া খাতুন: সুখ পাখিরে আমায় একটি সুখের বড়ি এনে দাও দুঃখ পাখি যে মনের ভিতর বাসা বেঁধেছে, সুখ যে আমার চলে গেছে অচিন পুরের দেশে। এতো ডাকি তবু কেন আসে নাকো কাছে? ঘুম আসেনা রাতে দিনে ঘুমের বড়ি খেয়ে মরি, দাওনা আমায় সুখের বড়ি, লক্ষ টাকা দিয়ে কিনবো আমি। আমার রাজ প্রসাদ

জীবন জিজ্ঞাসা

Islamic_Books

মুহাম্মাদ মাহদী হাসান, কসবা, বি-বাড়িয়া প্রশ্ন: আমাদের এলাকায় কবরে লাশ দাফন করার পর, কবরের  উপর কিছু পানি ঢেলে দেয়া হয়। এভাবে পানি ঢেলে দেয়া শরী‘আত সম্মত কিনা? উত্তর: দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর কবরের উপরাংশের মাটি যেন সরে না যায় সে জন্য পানি ছিটিয়ে দেয়া মুস্তাহাব। এটাকে জরুরী মনে করার কোনো সুযোগ নেই। বরং মাটি সরে


Hit Counter provided by Skylight