রোযা সংক্রান্ত আধুনিক মাসাইল


১. মস্তিস্ক অপারেশন
রোযা অবস্থায় মস্তিস্ক অপারেশন করলে রোযা ভঙ্গ হবে না। যদিও মস্তিস্কে কোন তরল কিংবা শক্ত ওষুধ ব্যবহার করা হয়। কেননা মস্তিস্ক থেকে গলা পর্যন্ত সরাসরি কোন ছিদ্র ও পথ নেই। পূর্ব যুগে ছিদ্র ও পথ আছে ধারণা করেই এতে রোযা ভেঙ্গে যাওয়ার কথা বিভিন্ন কিতাবাদিতে উল্লেখ রয়েছে।
২. কানে ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার
কানে ড্রপ, ওষুধ, তেল ও পানি ইত্যাদি দিলে রোযা ভঙ্গ হবে না। কারণ, কান থেকে গলা পর্যন্ত কোন রাস্তা নেই। তাই কানে কিছু দিলে তা গলায় পৌঁছে না। আদি যুগে ছিদ্রপথ আছে বলে ধারণা করা হতো বিধায় সে যুগের কিতাবাদিতে রোযা ভেঙ্গে যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
৩. চোখে ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার
চোখে ড্রপ, সুরমা ও মলম ইত্যদি ব্যবহার করলে রোযা ভঙ্গ হবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় উপলব্ধি হয়। কারণ চোখে কিছু দিলে রোযা না ভাঙ্গার কথা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
৪. নাকে ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার
নাকে ড্রপ, পানি ইত্যাদি দিয়ে ভেতরে টেনে নিলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ নাক রোযা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা। নাকে ড্রপ ইত্যাদি দিলে তা গলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
৫. অক্সিজেন  ব্যবহার
নাকে অক্সিজেন নিলে রোযা ভঙ্গ হবে না। কারণ তা দেহ বিশিষ্ট কোন বস্তু নায়। রোযা ভঙ্গ হতে হলে দেহ বিশিষ্ট কোন বস্তু দেহের অভ্যন্তরের গ্রহণযোগ্য জায়গায় পৌঁছাতে হয়।
৬. মুখে ওষুধ ব্যবহার
মুখে কোন ওষুধ দিয়ে তা গিলে ফেললে রোযা ভেঙ্গে যাবে। চাই তা অল্প হোক।
৭. সালবুটামল , ইনহেলার  ব্যবহার
সালবুটামল, ইনহেলার ব্যবহার করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। শ্বাস কষ্ট দূর করার জন্য ওষুধটি মুখের ভেতর স্প্রে করা হয়। এতে যে জায়গায় শ্বাসরুদ্ধ হয় ঐ জায়গাটি প্রশস্ত হয়ে যায়। ফলে শ্বাস চলাচলে আর কোন কষ্ট থাকে না। ওষুধটি যে শিশিতে যে পরিমাণে থাকে ঐ শিশির মুখ একবার টিপলে শিশির আকারভেদে ঐ পরিমাণের একশত কিংবা দুইশত ভাগের এক ভাগ বেরিয়ে আসে। অতি অল্প পরিমাণে গ্যাসের ন্যায় বের হওয়ার কারণে কেউ ওষুধটিকে বাতাস জাতীয় মনে করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এমন নয় বরং ওষুধটি দেহবিশিষ্ট। কাঠ ইত্যাদি কোন বস্তুতে স্প্রে করলে দেখা যায় যে, ঐ বস্তুটি ভিজে গেছে। তাই এতে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
অনেককে বলতে শোনা যায় যে, ‘ইনহেলার অতি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়, তাই এতে রোযা ভঙ্গ হবে না।’ কথাটি একেবারেই হাস্যকর। কেননা কেহ যদি ক্ষুধায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে অতি প্রয়োজনে কিছু খেয়ে ফেলে তাহলে কি অতি প্রয়োজনে খাওয়ার কারণে তার রোযা ভঙ্গ হবে না? অবশ্যই হবে। অতি প্রয়োজনের সময় রোযা ভাঙলে পরবর্তীতে কাযা করা ও এতে গুনাহ না হওয়া ভিন্ন কথা। আর রোযা ভঙ্গ না হওয়া ভিন্ন কথা।
হ্যাঁ, যদি মুখে ইনহেলার স্প্রে করার পর না গিলে থুথু দিয়ে তা বাইরে ফেলে দেয়া হয়, তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে না। এভাবে কাজ চললে তো বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যাবে। এতে শ্বাস কষ্ট থেকে রেহাই পাওয়ার পাশাপাশি রোযাও ভঙ্গ হলো না।
রোযা অবস্থায় ইনহেলার  ব্যবহারের নিয়ম
কোন কোন চিকিৎসক বলেন, সাহ্রীতে এক ডোজ ইনহেলার নেয়ার পর সাধারণত ইফতার পর্যন্ত আর ইনহেলার নেয়ার প্রয়োজন হয় না। তাই এভাবে ইনহেলার ব্যবহার করে রোযা রাখা চাই। হ্যাঁ, যদি কারো বক্ষব্যাধি এমন জটিল ও মারাত্মক আকার ধারণ করে যে, ইনহেলার নেয়া ব্যতীত ইফতার পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায় না, তাদের ক্ষেত্রে শরীয়তে এ সুযোগ রয়েছে যে, তারা প্রয়োজনভেদে ইনহেলার ব্যবহার করবে ও পরবর্তীতে রোযার কাযা করে নিবে। আর কাযা সম্ভব না হলে ‘ফিদ্ইয়া’ আদায় করবে।
৮. এন্ডোস্্কপি
এন্ডেস্্কপি করলে রোযা ভঙ্গ হবে না। চিকন একটি পাইপ মুখ দিয়ে ঢুকিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানো হয়। পাইপটির মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটির অপর প্রান্তে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্ণয় করা হয়। একে “এন্ডোস্্কপি” বলে।
সাধারণত এন্ডোস্কপিতে নল বা বাল্বের সাথে কোন মেডিসিন লাগানো থাকে না। তাই এন্ডোস্্কপির কারণে রোযা ভঙ্গ হবে না। নল বা বাল্বের সাথে কোন মেডিসিন লাগানো থাকলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তেমনিভাবে টেষ্টের প্রয়োজনে কখনও পাইপের ভেতর দিয়ে পানি ছিটানো হয়। এমন করলেও রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
৯. নাইট্রোগ্লিসারিন
নাইট্রোগ্লিসারিন ব্যবহার করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। ‘নাইট্রোগ্লিসারিন’ হলো এ্যারোসল জাতীয় একটি ওষুধ যা হার্টের রোগীদের এভাবে ব্যবহার করানো হয় যে, ২/৩ ফোটা ওষুধ জিহবার নিচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। তাতে ঐ ওষুধটি যদিও শিরার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায়, তারপরও ওষুধের কিছু অংশ গলায় পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর এর মধ্যেই সতর্কতা। তবে যদি ওষুধটি ব্যবহারের পর না গিলে থুথু দিয়ে তা বাইরে ফেলে দেয়া হয়, তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে না। কারণ না গিলে শুধু শিরার মাধ্যমে কিছু ঢুকলে রোযা ভঙ্গ হয় না।
১০. ওষুধ সেবন করে হায়েয বন্ধ করে রোযা রাখা
মহিলাদের ঋতু আসা একটি স্বভাবজাত বিষয়। সৃষ্টিগত ভাবে তাদের সথে সম্পৃক্ত। তাই ইসলামী শরীয়তে উক্ত দিনগুলোতে মহিলাদেরকে মা’যূর গণ্য করে তাদের থেকে নামায-রোযা ইত্যাদির যিম্মাদারী উঠিয়ে নিয়েছেন। সনাতন ও আধুনিক চিকিৎসার দৃষ্টিতেও ঋতু মহিলাদের সুস্থতার প্রমাণ বহন করে। এর ব্যতিক্রম ঘটলে স্বাস্থের জন্য ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং স্বাস্থের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা চাই। তারপরও যদি কোন মহিলা ওষুধ সেবন করে তা বন্ধ করে রাখে তাহলে তার কোন গুনাহ হবে না এবং তাকে নামায, রোযা ইত্যাদি সবই আদায় করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight