মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম, শিবচর, মাদারীপুর
প্রশ্ন: লোকেরা বিভিন্ন পর্যায়ে বলে থাকে “প্রথমে আল্লাহর হাতে এরপর তোমার হাতে সোপর্দ করলাম”। এ ধরনের কথা বলা জায়িয আছে কিনা?
উত্তর: না,  এ ধরনের কথা বলা জায়িয নেই। কেননা এতে কুফরীর আশংকা রয়েছে। তাই এ ধরনের কথা বলা পরিহার করা জরুরী।- ইমদাদুল মুফতীন: ১২৮, ফাতাওয়া খানিয়া: ৪/৪৭০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ২/২৫৯, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩৮৪, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া বিহামিশি ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৬/৩২৪।

মুহাম্মাদ লুৎফুর রহমান, বন্দর, নারায়নগঞ্জ
প্রশ্ন: কেউ যদি এমন উক্তি করে যে, “আমি যদি অমুক কাজটি করি, তাহলে আমি একজন হিন্দু” (নাউযুবিল্লাহ), তাহলে তার ক্ষেত্রে শরয়ী কী বিধান বর্তাবে?
উত্তর: আমাদের সমাজের প্রচলন অনুযায়ী উক্ত ব্যক্তি শরয়ী দৃষ্টিতে কসমকারী বলে বিবেচিত। তাই সে যদি কাজটি করে, তাহলে কসমের কাফ্ফারা দিতে হবে। অন্যথায় কিছুই করতে হবে না। অবশ্য যদি সে সন্তুষ্টিচিত্তে কাজটি করতঃ প্রকৃতপক্ষেই হিন্দু হয়ে যাওয়ার নিয়্যাতে কথাটি বলে, তাহলে কাজটি করলে সে বাস্তবেই হিন্দু হয়ে যাবে। কাজেই উল্লিখিত কাজ থেকে বিরত থাকা তার উপর জরুরী। সাথে সাথে এরূপ কথা বলার জন্য তাওবা ইস্তিগফার করা চাই।- আল-হিদায়া: ২/৪৮১, আদ্-র্দুরুল মুখতার: ৩/৭১৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ২/৫৪, বাদায়ি‘উস সানায়ি’: ৩/৮, তাবয়ীনুল হাকায়িক: ৩/১১০।

মুহাম্মাদ শফিউল আলম, লালমোহন, ভোলা
প্রশ্ন: সমাজে যদি কোনো হারাম বা নাজায়িয কাজের ব্যাপক প্রচলন থাকে। আর সেই নাজায়িয কাজটিকে নাজায়িয ঘোষণা দিলে ফিতনা সৃষ্টির আশংকা থাকে, তাহলে করণীয় কি?
উত্তর: সমাজে প্রচলিত হারাম কার্যাবলিকে হারাম ঘোষণা দেয়া অথবা হিকমাতের মাধ্যমে মানুষকে সেসব থেকে বিরত রাখা কিংবা সতর্ক করার চেষ্টা করা ওয়াজিব। তবে যদি কারো কথা গ্রহণযোগ্য না হয়ে উল্টো এ কারণে ফিতনা সৃষ্টির প্রবল আশংকা থাকে, তাহলে তার উপর এ কাজ ওয়াজিব নয়, উত্তম। এ ক্ষেত্রে নবী কারীম (সা.)- এর নিম্নোক্ত হাদীসটি অনুসরণ করা আমাদের উপর জরুরী। হাদীসটি হলো:    নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেন, কেউ যদি কোনো নাজায়িয কাজ হতে দেখে, তাহলে ক্ষমতা থাকলে সে যেন স্বীয় হাত দ্বারা তথা ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা বন্ধ করে দেয়। ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা বন্ধ করতে সক্ষম না হলে, যবান দ্বারা যেন এর প্রতিবাদ করে। তাও সম্ভব না হলে, মনে মনে সেটিকে ঘৃণা করবে এবং প্রতিহত করার জন্য ফিকির করবে।- সূরা বাকারা: ১৯১, ২১৭, মুসলিম শরীফ: ১/৫১, মিরকাত শরহে মিশকাত: ৯/৩২৯, ফয়জুল কালাম: ১/১৪০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫৪।

মুহাম্মাদ আবূ নাঈম, শাহরাস্তি, চাঁদপুর
প্রশ্ন: গত বছর ঈদুল আযহার সময় তাকবীরে তাশরীক নিয়ে আমাদের এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ বলেন, একবার বলতে হবে, এর বেশী বলা যাবে না, একবারের বেশী বলা সুন্নাত পরিপন্থী। আর কেউ কেউ বলেন, একবার বলা জায়িয, তিনবার বলা সুন্নাত বা মুস্তাহাব। এ ব্যাপারে শরয়ী সঠিক বিধান জানিয়ে উপকৃত করবেন। যাতে করে আগত ঈদুল আযহায় আমরা বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে পারি।
উত্তর: তাকবীরে তাশরীক তিনবার পড়ার বিধান নেই। একবার পড়াই শরয়ী বিধান। তিনবার পড়া এবং এটাকে জরুরী মনে করা বিদ‘আত।-  ফাতাওয়া শামী: ২/১৭৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৫২, হিদায়া মা‘আ ফাতহিল কাদীর: ২/৪৯, আল-বাহরুর রায়িক: ২/১৬৪, কিতাবুল ফিকহি আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আ. ১/৩২৩। ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৭/৭১১।

মাহমূদুল হাসান, ভাংগা, ফরিদপুর
প্রশ্ন: জনৈক মাওলানা সাহেব বলেছেন, কুরবানীর পশুতে সুদখোর, ঘুষখোর প্রভৃতি হারাম মালের মালিক শরীক হলে কারো কুরবানীই সহীহ হবে না। তার কথাটি কতোটুকু সঠিক জানাবেন।
উত্তর: সুদ, ঘুষ বা অন্য কোনো অবৈধ পন্থায় অর্জিত সরাসরি হারাম টাকা দিয়ে যদি কেউ কুরবানীর পশুতে শরীক হয়ে কুরবানী করে, তাহলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যদি সুদ ঘুষ কোনো কিছু না খায়, তার সকল মাল হালাল থাকে, কিন্তু অন্য যে কোনো হারাম পন্থায় আসা টাকা সরাসরি কুরবানীর পশুতে প্রদান করে, তাহলেও কারো কুরবানী সহীহ হবে না। পক্ষান্তরে সুদখোর, ঘুষখোর যদি নির্দিষ্ট কোনো বৈধ টাকা দিয়ে কুরবানীর পশুতে শরীক হয় এবং নিয়্যাতে কোনো গড়বড় না থাকে, তাহলে কুরবানী সহীহ হতে বাহ্যিকভাবে শরয়ী কোনো বাধা নেই।- হিদায়া: ৪/৩৮১, আদ্-র্দুরুল মুখতার: ৬/২৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩০৪, ফাতহুল কাদীর: ৮/৪৩৫, তাবয়ীনুল হাকায়িক: ৬/৩, ফাতাওয়া খানিয়া: ৪/৩৩৩, ফাতাওয়া সিরাজিয়া: ৮৯।

মুহাম্মাদ মুনীরুল ইসলাম, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১০
প্রশ্ন: আমাদের এলাকায় কুরবানী করতে অক্ষম ব্যক্তিরা কুরবানীর আগের দিন হাঁস মুরগী ইত্যাদি জবাই করে কুরবানীর দিনের জন্য গোশ্তের ব্যবস্থা করে রাখে।
তাদের ধারণা কুরবানীর দিন কুরবানীর পশু ছাড়া অন্য কিছু জবাই করা যাবে না। তাই প্রশ্ন হলো, বাস্তবেই কি কুরবানীর দিন কুরবানীর পশু ছাড়া অন্য কোনো পশু জবাই করা যাবে না?
উত্তর: কুরবানীর দিনগুলোতে কুরবানীর নিয়্যাত ছাড়া হাঁস মুরগী ইত্যাদি জবাই করা যাবে। তথাপি না করাই উত্তম।- আদ্-র্দুরুল মুখতার মা‘আ ফাতাওয়া শামী: ৬/৩১৩, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩১৪, আহসানুল ফাতাওয়া: ৭/৪৮৫।

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ, সদর, পঞ্চগড়
প্রশ্ন: আমরা জানি, শিশুরা নিষ্পাপ এবং এরা মৃত্যুর পর জান্নাতী। এখন প্রশ্ন হলো, বিধর্মীদের ঘরে কোনো শিশু জন্ম গ্রহণ করে মারা গেলে তার স্থান কোথায় হবে এবং তার ব্যাপারে হুকুম কি? শুনেছি, মুসলমান ঘরের শিশুরা তাদের মা-বাবার জন্য সুপারিশ করবে। বিধর্মীদের শিশুরা জান্নাতী হলে, তারাও কি তাদের মা-বাবার জন্য সুপারিশ করবে?
উত্তর: মুসলমানদের মৃত নাবালিগ সন্তানরা বেহেশ্তী হওয়ার ব্যাপারে সকল উলামায়ে কিরাম একমত। এ ক্ষেত্রে কারো কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু অমুসলিমদের মৃত নাবালিগ সন্তানদের শেষ পরিণাম কি হবে সে সম্পর্কে বিস্তর মতভেদ রয়েছে। কারো মতে পিতা-মাতার অধীন হয়ে জাহান্নামী হবে। কারো মতে তাদের মাতা-পিতা যাই থাক, তারা নিজেরা পবিত্র হিসেবে তারা জান্নাতী হবে। অনেকে এমন মতও পোষণ করেন যে, তারা জান্নাতীদের খাদিম হবে। আবার কেউ কেউ বলেন, তারা আ‘রাফে থাকবে। তবে এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কথা হলো, তাদের শেষ পরিণাম কি হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। বরং বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ তা‘আলার হাতে। তিনি যাকে খুশী তাকে জান্নাতী করবেন, যাকে খুশী তাকে জাহান্নামী করবেন। আর অমুসলিমরা চিরস্থায়ী জাহান্নামী বিধায় তারা সুপারিশ পাওয়ার যোগ্য নয়।  যদ্দরুণ আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছে অনুযায়ী তাদের মৃত নাবালিগ সন্তানরা জান্নাতী হলেও তাদের জন্য সুপারিশ করবে না। আর শিশুরাও জাহান্নামী হলে তো সুপারিশের প্রশ্নই আসে না।- সূরা বায়্যিনাত: ৬, মিরকাত শরহে মিশকাত: ১/১৬৬, আত্ তীবী শরহে মিশকাত: ১/২৬২-২৬৩।

মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম, সুজানগর, পাবনা
প্রশ্ন: শুনেছি দারুল উলূম দেওবন্দের ফাতাওয়ায় শিয়াদেরকে কাফির বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন জাগে, সকল শিয়া কাফির কিনা?
উত্তর: হ্যাঁ, দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে শিয়াদেরকে কাফির বলে ফাতওয়া দেয়া হয়েছে। তবে ফাতওয়াটি সকল শিয়াদের ব্যাপারে নয়। বরং শিয়াদের মধ্যে যারা চরমপন্থী ও সীমালংঘনকারী তাদের ব্যাপারে। আর এরা হচ্ছে সেসব শিয়া যারা আল্লাহ তা‘আলা থেকে ভুল হতে পারে আকীদা রাখে। হযরত আলী (রা.) কে খোদা বলে বিশ্বাস করে। জিবরাঈল (আ.) ওহী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ভুল করেছেন মনে করে। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) – এর মহান কাফেলার মাত্র পাঁচ-ছয়জন ছাড়া সকল সাহাবায়ে কিরাম (রা.) কে কাফির বলে। কুরআন শরীফে পরিবর্তন হয়েছে বলে আকীদা রাখে। হযরত আবূ বকর (রা.) ও হযরত ওমর (রা.) কে গালি গালাজ করে। এ শ্রেণীর যতো শিয়া আছে, তারা কেউই ইসলামী শরী‘আতের মানদন্ডে মুসলমান নয়।- ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ: ৭/৪৬৪, তাফসীরে রূহুল মা‘আনী: ১৩/১২৮, কান্জুল উম্মাল: ১১/৩২৫, ফাতাওয়া শামী: ৪/২৩৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ২/২৬৪, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া বিহামিশি ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৬/৩১৯।

মুহাম্মাদ রাজিবুল ইসলাম, হোমনা, কুমিল্লা
প্রশ্ন  : কোনো বিদ‘আতী ব্যক্তির সাথে উঠাবসা করা এবং তাকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা জায়িয আছে কি না ?
উত্তর : ইসলামী শরী‘আতে বিদ‘আত অত্যন্ত জঘন্য একটি গুনাহ। শিরকের পরে সবচে বড় গুনাহ হলো বিদ‘আত। বিদ‘আতীর ব্যাপারে অসংখ্য হাদীসে কাঠোর হুঁশিয়ারী এসেছে। বিদ‘আতীকে নবী কারীম (সা.) পথভ্রষ্ট বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাই কোনো বিদ‘আতীকে সম্মান করবে না এবং কোনো বিদ‘আতীর সাথে যথা সম্ভব উঠাবসা করবে না। সাথে সাথে তাকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা থেকে দূরে থাকবে।- মিশকাতুল মাসাবীহ: ১/৩১, মাজমা‘উয যাওয়াইদ ওয়া মাম্বাউল ফাওয়াইদ: ১/৪৪৮, কানজুল উম্মাল: ১/৩৮৮, উমদাতুল ফিকহ: ১/৭৫।

মুহাম্মাদ নূমান, গফরগাঁও, মোমেনশাহী
প্রশ্ন: লোক মুখে প্রচলিত আছে যে, মৃতের বাড়িতে আগমণকারী মহিলা আত্মীয়রা যদি লাশ দাফনের দিন মৃতের বাড়ি ত্যাগ না করে, তাহলে তাদেরকে বাধ্যতামূলভাবে তিন দিন পর্যন্ত মৃতের বাড়িতে ইদ্দত (শোক) পালন করতে হয়। কথাটি কতোটুকু সঠিক জানাবেন।
উত্তর: প্রশ্নে বর্ণিত লোক মুখে প্রচলিত কথাটি সঠিক নয়। কারণ স্ত্রী ব্যতীত মৃতের অন্য কোনো মহিলা আত্মীয়ার উপর ইদ্দত বা শোক পালন করা জরুরী নয়। তবে তারা চাইলে সর্বোচ্চ তিনদিন ইদ্দত তথা শোক পালন করতে পারবে।- বুখারী শরীফ: ২/৮০৩, আদ্-র্দুরুল মুখতার মা‘আ ফাতাওয়া শামী: ৩/৫৩৩, ফাতহুল কাদীর: ৪/১৬০, আল-বাহরুর রায়িক: ৪/১৫০, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ৪/৭৩।

মুহাম্মাদ শামছুল হক, কামরাঙ্গির চর, ঢাকা
প্রশ্ন : ফরয নামাযের পর সম্মিলিত মোনাজাত কি বিদ‘আত? নবী কারীম (সা.) এবং সাহাবায়ে কিরাম (রা.) থেকে ফরয নামাযের পর সম্মিলিত মোনাজাত প্রমাণিত আছে কি ? এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি জানালে কৃতজ্ঞ হবো।
উত্তর : ফরয নামাযের পর দু‘আ কবূল হওয়ার কথা হাদীসে রয়েছে। তবে ফরয বা সুন্নাত সকল নামাযের পরই জরুরী কিংবা নামাযের অন্তর্ভূক্ত মনে করে দু‘আ করা বিদ‘আত ও বর্জনীয়। জরুরী মনে না করে স্বাভাবিকভাবে যৌথ কিংবা একাকী দু‘আ করা মুস্তাহাব। অবশ্য বিষয়টি যে মুস্তাহাব তা অবশ্যই মুসল্লীদের মাঝে ইমাম সাহেব আলোচনা করে দিবেন।
আর রাসূলে আকদাস (সা.) ও সাহাবায়ে কিরাম (রা.) ফরয নামাযের পর কিছু দু‘আ-দরূদ পাঠ করতেন; এটা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন বুখারী শরীফের এক হাদীসে বর্ণিত আছে:
في صحيح البخاري : عن أبي هريرة (رضـ) قال كتب المغيرة إلى معاوية بن أبي سفيان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول في دبر كل صلوة مكتوبة إذا سلم لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير اللهم لا مانع لما اعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد ــ صحيح الباخاري ২/৯৩৭ “হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত মুগীরা (রা.) হযরত মু‘আবিয়া ইবনে আবূ সুফিয়ানের নিকট লিখে পাঠালেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক ফরয নামাযের পর যখন সালাম ফিরাতেন, তখন বলতেন,
لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيئ قدير اللهم لا مانع لما اعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد
অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া কোনো মা‘বূদ নাই। তাঁর কোনো শরীক নেই। তাঁরই সকল রাজত্ব। সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনি সব কিছু করতে সক্ষম। ইয়া আল্লাহ! আপনি যা দান করেন, তাতে বাধাদানকারী কেউ নেই। আর আপনি যা প্রদানে বিরত থাকেন, তা প্রদানকারী কেউ নেই।- সহীহ বুখারী: ২/৯৩৭, মারাকিল ফালাহ ১৫৫, নিযামুল ফাতাওয়া: ২/৯৭, ইমদাদুল ফাতাওয়া: ১/৭৯৭।

মুহাম্মাদ মুর্শারফ হুসাইন, টঙ্গী, গাজীপুর
প্রশ্ন : নতুন বাড়ি বা দোকানে কী ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বরকত কামনা করা যায়? মৃত ব্যক্তির রূহে সাওয়াব পৌঁছানোর সঠিক শরী‘আত সম্মত পদ্ধতি কি দয়া করে জানাবেন।
উত্তর : নতুন বাড়ি বা দোকানে আল্লাহর রহমত ও বরকত কামনার জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। কোনো হাক্কানী আলিম রাসূলুল্লাহ (সা.) এর জীবনাদর্শ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। বিভিন্ন কাজের সুন্নাত তরীকা বর্ণনা করবেন। রাসূলে আকরাম সা. এর উপর দরূদ পাঠের ফযীলত বর্ণনা করবেন। অতঃপর উপস্থিত সকলেই পৃথক পৃথকভাবে অন্তরে মহব্বতের সাথে নবী কারীম (সা.) উপর ঐ সকল দরূদ পাঠ করবেন, যা হাদীসে বর্ণিত আছে। পরিশেষে আলিম সাহেব সকলকে নিয়ে মহান আল্লাহর নিকট দু‘আ করবেন। এটা জায়িয। মুসলমানদের এ পদ্ধতিই অবলম্বন করা চাই।
মাতা- পিতা কিংবা অন্য কারো জন্ম-মৃত্যু দিবস পালন ইসলামে নেই। এটি একটি বিদ‘আত কাজ। মৃত নিকটাত্মীয়ের জন্য নির্দিষ্ট দিনে নয়, বরং সব সময়ই দু‘আ করবে।
মৃত ব্যক্তির রূহে সাওয়াব পৌঁছানোর উত্তম পন্থা হলো নিম্নরূপ-
ক. তাঁর/তাঁদের জিম্মায় হজ, যাকাত ইত্যাদি থাকলে সম্ভব হলে তা আদায় করে দেয়া।
খ. কাযা নামায থাকলে তার ফিদইয়া দিয়ে দেয়া। প্রতিদিন বিতরসহ ছয় ওয়াক্ত নামায হিসেব করে ফিদইয়া আদায় করবে। আর এক নামাযের ফিদইয়া হলো এক ফিতরার সমপরিমাণ।
গ. এসব আদায়ের পর যে কোনো ধরনের আমল করে তার সাওয়াব মৃত ব্যক্তির আমলনামায় দান করা যেতে পারে। যেমন-নফল নামায পড়ে, নফল হজ করে, নফল রোযা রেখে কিংবা কোনো কিছু দান করে এরূপ নিয়্যাত করবে যে, হে আল্লাহ এই আমলের সাওয়াব অমুকের আমলনামায় পৌঁছে দাও। তাছাড়া সম্ভব হলে মসজিদ, মাদরাসা বা অন্য কোনো দীনী প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী কিছু করে দেয়া উত্তম, যার সাওয়াব মৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন পেতে থাকবেন।
উল্লেখ্য, আমাদের দেশে কেউ মারা গেলে কুলখানী, ফাতিহা পাঠ, চল্লিশা, বার্ষিকী ইত্যাদি পালন করা হয়, এসব সম্পূর্ণরূপে বিদ‘আত। সুতরাং এগুলো পরিত্যাজ্য।- ফাতাওয়া শামী: ২/২৪০-২৪৩, আহসানুল ফাতাওয়া: ১/৩৫৫, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ১/১৮৮।

মুহাম্মাদ মামূন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
প্রশ্ন  : অনেক এলাকায় দেখা যায়, মৃতের খাট বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় দরূদ, কালিমা ইত্যাদি পাঠ করা হয়। এরূপ করা জায়িয আছে কি না?
উত্তর : মৃতের খাটিয়া বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চ স্বরে দরূদ বা কালিমা পাঠ এবং যে কোনো যিকির করা মাকরূহ। তবে নীচু স্বরে পড়লে কোনো ক্ষতি নেই।- ফাতাওয়া শামী: ২/২৩৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬২, কিতাবুল ফিকহ আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আ. ১/৪৮৪, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ২/১৫২, গুনইয়াতুল মুতামাল্লী: ৫৯৪, ফাতাওয়া সিরাজিয়া: ২৩।

মুহাম্মাদ বুরহানুদ্দীন, কাশিয়ানী, গোপলগঞ্জ
প্রশ্ন: নববধু শ্বশুরালয়ের মুরব্বীদেরকে কদমবুছি বা সালাম করলে তারা তাকে টাকা দিয়ে থাকেন। এমনিভাবে নতুন জামাইকেও দেয়া হয়। এটা জায়িয আছে কিনা? বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর: কদমবুছি ইসলামী সংস্কৃতি নয়। ইসলামে এর অনুমতি নেই। তাই তা বর্জনীয়। নববধু ও জামাতা মাহরামদেরকে সালাম দিবে। জামাতা পুরুষদের সাথে মুসাফাহা-মুআনাকা করবে। এতে যদি প্রথা মনে না করে খুশী হয়ে টাকা-পয়সা দেয়, তাহলে তা গ্রহণ করা যাবে। প্রথা হিসেবে এবং জরুরী মনে করে প্রদান করা হলে তা বর্জনীয়।- মিশকাত শরীফ: ১/২৭, কিফায়াতুল মুফতী: ৯/৮৮, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ১/১৭৫।

মুহাম্মাদ মাসূম, কচুয়া, চাঁদপুর
প্রশ্ন: প্রচন্ড ঝড়-তুফান এবং শিলা বৃষ্টির সময় গ্রামের মানুষ উঠানে শিল-পাটাসহ বিভিন্ন বস্তু ফেলে থাকে। তারা মনে করে এতে ঝড়-বৃষ্টির প্রকোপ কমে। এ ব্যাপারে শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গী কি?
উত্তর: উল্লিখিত কাজগুলো হিন্দুয়ানী প্রথা। বিশেষ করে এসব করলে ঝড়-তুফান বন্ধ হয়ে যায় বা কমে যায় এ ধরনের আকীদা পোষণ করে এগুলো করাতো কুফরী। কাজেই এ ধরনের কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকা চাই। আর আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং কল্যাণ কামনা করা চাই।- তিরমিযী শরীফ: ২/১৮৩, মেরকাত শরহে মেশকাত: ১০/৫৫-৫৫, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ: ১/৬২, ইবনে মাজাহ: ২৭৭, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ১/১০৬।

উত্তর প্রদান-
দারুল ইফতা ওয়াল ইরশাদ
আল-মারকাজুল ইসলামী, বাংলাদেশ।
(উচ্চতর ইসলামী আইন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ)
২১/১৭ বাবর রোড, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা-১২০৭।
মোবাইল : ০১৯২৩১১৩৭৭২।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight