Porda

কি ভয়ংকর এই প্রেমের পরিণতি
ছেলেটির নাম আবদুল্লাহ। ঝিনাইদহ জেলায় শৈলকূপা থানার সাতগাছি গ্রামে বসবাস তার। পারিবারিক অবস্থা বেশী একটা ভাল না। ধন-সম্পদ বলতে তেমন কিছু নেই। একবেলা খাবার জুটলে অন্য বেলা উপোস থাকতে হয়। খুব কষ্টে চলে তাদের সংসার। তারপরও পিতা-মাতার পূণ্য আশা ছিল, ছেলেটাকে উচ্চ শিক্ষিত বানাবে। ছেলে অনেক বড় একটা চাকরি করবে তখন তাদের সকল দুঃখ-কষ্ট নিঃশ্বেস হয়ে যাবে। দুর্দিনের অবক্ষয়ে সুখময় দিনের আগমন ঘটবে। কিন্তু পিতা-মাতার এসব আশা-আকাঙ্খা, ভাবনা-চিন্তা, কল্পনাই রয়ে গেল। বাস্তব রুপ আর সে পেল না।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও টাকার অভাবে পড়া-লেখা ছেড়ে দিয়ে মরিচিকার পিছনে ছুটতে হল রুজির সন্ধানে। ছোট্ট একটি দোকানে চাকরি নিল। শুরু হল তার কর্মময় জীবন। শিক্ষাময় জীবন চিরতরের জন্য হারিয়ে গেল তার জীবন থেকে।
যাই হোক প্রথম মাসেই বেতন ২০০০ হাজার টাকা। প্রত্যেকদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে দোকানে চলে যায়। এখন সে আর স্কুলে যায় না। ঘুম থেকে উঠে প্রাইভেটেও যায় না। এখন তার পিঠে স্কুলের ব্যাগও ঝুলে না। ঝুলে শুধু দোকানের ব্যাগ। সারাদিন দোকানে কাজ করে। সন্ধ্যায় বাড়ি  ফিরে আসে। মাস শেষে বেতনের টাকা মায়ের হাতে তুলে দেয়। এভাবেই চলছিল তাদের সংসার। ভালই চলছিল।
একদিন ছেলেটি দোকানে কাজ করছিল। তখন একজন অপরুপ সুন্দরী তরুণী আসল। ছেলেটির দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিল। এক হাসিতেই মেয়েটি ছেলেটির হৃদয় কেড়ে নিল। মনের অজান্তেই ছেলেটির অন্তরে মেয়েটি জায়গা করে নিল। মেয়েটি একটা খাতা দিতে বলল। খাতা দেয়া হলে ছেলেটি কিছু বলার আগেই মেয়েটি বিল পরিশোধ করে চলে গেল। আর ছেলেটি যেন হারিয়ে গেল ভাবনার জগতে। মেয়েটিকে নিয়ে কতকিছু যে সে ভাবল!!!
একপর্যায়ে যখন তার ভাবনার অবসান ঘটল তখন সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে মেয়েটি তার চোখের সামনে থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। সামনে পড়ে আছে শুধু তার দেয়া বিল।
ছেলেটি এখন শুধু মেয়েটিকে নিয়েই ভাবছে। তার এখন কাজ-কর্ম কিছুই ভাল লাগছে না। শুধু মনে পড়ছে ঐ মেয়েটির কথা। তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে ঐ মেয়েটির হাসি। শ্ব^য়নে স্বপনে শুধু মেয়েটিকেই দেখছে সে।
একসময় যখন সন্ধ্যা হল তখন বাড়ি ফিরে গেল। রাতের খাবার খেয়ে ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীর বিছানায় এলিয়ে দিল। কিন্তু ঘুম এলো না। মেয়েটির কথা ভেবেই রাত কেটে গেল। পরদিন সকালে দোকানে আসল। অন্য দিনের ন্যায় স্বাভাবিক ভাবেই কাজ করছিল। তখন ঐ মেয়েটি  দোকানে এসে নরম সুরে মধুর কন্ঠে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করল, ভাইয়া! কেমন আছেন?  ছেলেটি সামনের দিকে তাকিয়ে মেয়েটিকে দেখে কি যে খুশি!
ছেলেটি অনেক্ষণ হতবাক হয়ে চেয়ে রইল মেয়েটির দিকে। তারপর বলল হ্যাঁ, ভাল আছি। এভাবেই সুত্রপাত ঘটে তাদের কথা বার্তার। একসময় দুজনেই দুজনের নাম্বার নেয়। ফোনে শুরু হয় তাদের প্রেমালাপ। দুজনেই প্রেমের জালে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। সারাদিন সারারাত চলতে থাকে তাদের প্রেমালাপ। যা বেতন পায় ফোনেই শেষ হয়ে যায়।
একপর্যায়ে ছেলেটি বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মেয়ের পিতা-মাতা এসম্পর্ক মেনে নেন না। আর মেয়েটি ও পালিয়ে যেতে রাজি হয় না। অবশেষে ছেলেটি কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে আত্মহত্যার মত জঘন্যতম পথটি বেছে নেয়। নিজেকে ঠেলে দেয় ধ্বংসের মুখে।
ছেলেটি বিষ খায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার দেহ নিথর নিস্তব্ধ হয়ে আসে। সে মৃত্যর কোলে ঢলে পড়ে। ঠিক তখনই  এলাকার লোকজন বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এখন সে হাসপাতালের “বেডে” দেখে মনে হয়, যেন সে মৃত্যর খুব কাছকাছি অবস্থান করছে….
শিক্ষা: প্রিয় পাঠক পাঠিকা! দেখলেনতো কত অল্পতেই শয়তান একটি ভালো ছেলেকে ধোঁকায় ফেলে দিল। সে নিজেও হয়ত ভাবেনি যে, এমন কিছু ঘটবে। কিন্তু বাস্তবতা এমনই, পাপ করলে তার প্রায়শ্চিত্ত যে কখন কিভাবে দিতে হয় তা কল্পনাও করা যায় না। এমন কিছু ঘটে যায় যা কখনও ঘটবার ছিল না। সুতরাং এমন  ভেবে অন্যায় করা যে, সময়মত কেটে পড়বো এটা উচিৎ নয়। কারণ এটা শয়তানের একটা ধোঁকা মাত্র। তাছাড়া নবী কারীম সা. বলে গেছেন, আমি আমার উম্মতের মধ্যে ছেলেদের জন্য মেয়েদের থেকে অধিক বিপদের জিনিস আর কিছু রেখে যায়নি। তাই তিনি প্রত্যেকটা পুরুষের জন্যই আদেশ করেছেন, গায়রে মাহরাম নারী থেকে নিজেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ দূরে রাখতে। কারণ মেয়েরা হলো শয়তানের তীর। প্রিয় পাঠক! ভুলেও আমার কথাগুলো মেয়ে বিদ্ধেষি নয়। সম্পূর্ণই নিজেদের ভালোর জন্য। তা না হলে আমরা তো একজন মেয়েকেই মা, বোন, মেয়ে বা বউয়ের স্থান দিয়ে থাকি। মেয়েরা অবশ্যই আমাদের জন্য আল্লাহর রহমত। তবে আমরা যেন তার বেধে দেয়া গ-ির বাহিরে না যাই। তাহলে আমাদের জন্যও যেমন বিপদ তেমনি বিপদ থেকে মুক্ত নয় অবলা সরল মেয়েটি। তাই মেয়েদেরকেও উদ্দেশ্য করে আল্লাহর নবী বলেছেন, তোমরা নিজেদের সৌন্দর্য পরপুরুষের সামনে প্রকাশ করো না। আর সদা দৃষ্টি অবনত রেখো। সুতারাং আমাদের কল্যাণকর হবে এটাই যে, আমরা নিজেরা সচতেন হবো। অধুনিকতার নামে নিজেকে অন্য ¯্রােতে ভাসিয়ে দিবনা। কারণ অশ্লিলতা, আধুনিকাতার কোনো কাতারেই পরে না। আল্লাহ আমাদের সাবাইকে বুঝার তাওফিক দান করুন। আমাীন
লেখক : কাফেলা সদস্য: ৫৮৮, ৩য় বর্ষ,বাইতুস সালাম মাদরাসা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight