মাসিক সংরক্ষণাগার: April ২০১৫

তাবলীগ হেদায়াতের সহজ পথ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি যুগে যুগে মানুষের হেদায়াতের জন্য অসংখ্য নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা. এর উপর যিনি সারাআলমের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন এবং তার পদাঙ্ক অনুসরণকারী জান উৎসর্গকারী দ্বীনের কাজ নিয়ে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাহাবীদের উপর। তাবলীগ জামাত

শিরকের ইহ ও পরকালীন ক্ষতি : মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম

al-jannatbd.com, আল জান্নাত । মাসিক ইসলামি ম্যাগাজিন, al-jannatbd.com, quraner alo, মাসিক জান্নাত, islamer alo, www.al-jannatbd.com, al-jannat, bangla islamic magazine, bd islam, islamic magazine bd, ব্লগে জান্নাত, জান্নাতের পথ, আল জান্নাত,

শিরক অর্থ অংশ বা অংশিদারিত্ব সাব্যস্ত করা। অন্যকথায় আল্লাহর সত্তা অথবা গুণাবলীর সাথে অন্যকে শরীক করা। রাসূলুল্লাহ সা. শিরকের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘আল্লাহর জন্য অংশীদার সাব্যস্ত করা, অথচ তিনি (আল্লাহ) তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’। শিরক শব্দটি তাওহীদের বিপরীত। আর শিরক হলো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ, আল্লাহর বাণী, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তার সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না।

কবিতাগুচ্ছ : শ্রমিক দিবস, হে মহান

[শ্রমিক দিবস] মাহদী বিন মকবুল: শ্রম দাবিতে অষ্ট্রোলিয়ায়, মরল হাজার শ্রমিক । দাবি ছিল পারিশ্রমিক , পায় যেন সঠিক। কিন্তু মালিক বুঝল না তা, করল বোমাবাজি। মারল শ্রমিক মরল পুলিশ, তারই কারসাজি। কিন্তু আমার দয়ার নবী, বসে মদীনায়। বলে গেছেন পাওনা যেন, সময় মত মিটাই।   [হে মহান] সৈয়দা সুফিয়া খাতুন: তোমার লিলা বুঝা বড়

কবিতাগুচ্ছ : আল জান্নাত, অবৈধ ভালবাসা মানে, পথ শিশু, পরকালের আশায়, সবার আছে,

  মারুফা আক্তার শিফা  সত্য নায়ের মাঝি তুমি তুমি সবার আশা তুমি হলে দাওয়াত তরী দাওয়াত তোমার নিশা ডাকো তুমি দিনের পথে সদা সর্বদা তোমার ডাকে পথ পেয়েছে কত রকম পথ হারা তাইতো বলি থেকো তুমি খোদার রাহে তে রহিম যিনি দিবে তোমায় পূণ্য বহু যে,ফেরা মুজাহিদ মসি আমার যখন ইচ্ছে হত যমুনার বুকে

(শরীয়তসম্মত যে কোন সমস্যার সমাধান জানতে প্রশ্ন লিখে পাঠিয়ে দিন মাসিক আল জান্নাতের ঠিকানায়। )জীবন জিজ্ঞাসা

মুহাম্মাদ আতীকুল্লাহ, সাভার, ঢাকা। প্রশ্ন: মুসাফাহার পর হাতে চুমু খাওয়া কিরূপ ? এতে কখনো নিজের হাতে আবার কখনো যার সাথে মুসাফাহা করা হয়েছে, তার হাতে চুমু খাওয়া হয়। উভয়টিরই শরয়ী বিধান জানাবেন। উত্তর: মুসাফাহার পর নিজের হাতে চুমু খাওয়া মাকরূহে তাহরীমী। আর ফিকহের কিতাবে আলিম, বুযুর্গ ও ন্যায়পরায়ণ বাদশাহহর হাতে মুসাফাহার পর চুমু খাওয়ার অনুমতি

গীবত একটি ধ্বংসাত্মক ব্যধি : আবু সাইদ

আল জান্নাত । মাসিক ইসলামি ম্যাগাজিন, al-jannatbd.com, quraner alo, মাসিক জান্নাত, islamer alo, www.al-jannatbd.com, al-jannat, bangla islamic magazine, bd islam, islamic magazine bd, ব্লগে জান্নাত, জান্নাতের পথ, আল জান্নাত,

গীবত একটি মারাত্মক ক্ষতিকর কাজ। যার কারণে মানুষ দুনিয়াতে কখনও লাঞ্ছিত হয়, কখনও অন্যের কাছে হয় অবিশ্বাসেরও পাত্র। অবার আখেরাতে তো এর ভয়াবহ শাস্তি আছেই। গীবতের ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ ধারণা থেকে বেঁেচ থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গুনাহ। এবং তোমরা একে  অপরের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমরা একে অপরের

আমার প্রিয় মমতা : মারজিয়া বিনতে আবুল কাসেম

মডার্ন পরিবারের আধুনিকা মেয়ে মমতা। সে আমার শৈশবের বান্ধবী ও বিদ্যালয়ের সহপাঠী। একসাথে যাই, একসাথে ফিরি। তাই আমার সাথে তার বন্ধুত্য ও সখ্য বেশ গভীর। আমি শৈশব থেকেই সম্পূর্ণ ধর্মীয় অনুশাসনের উপর প্রতিপালিত। সে কারণে স্বাভাবিক ভাবেই পর্দা করাকে আমি নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছিলাম। কিন্তু মমতা এ সবের ধারধারতো না। তার কথা-বার্তা, চলা-ফেরা সবকিছুতেই

সংকল্পের জয় -মুহাম্মদ শরীফুল আলম

ছোট্ট বালক ফাহিম। বয়স কত আর হবে? ছয় কি সাত। কিন্তু এই এতটুকু ছেলেই কিনা হয়ে উঠেছে আধুনিক মা-বাবার মাথা ব্যাথার কারণ। বলে কি ছেলে? আমি মাদরাসায় পড়ব। পবিত্র কুরআনের হাফেজ হবো। তারপর আলেম হবো। ছেলের কথা শুনে তারা যেন আকাশ থেকে পড়লেন। মা বললেন, দেখো বাবা! অমন ছেলেমি করো না। তোমার পিতা একজন শিল্পপতি।

সাহাবীর ঈমান: মাহদী বিন মকবুল, মোনাফেকের তাওবা:সুমাইয়া, [সুত্রাপুর]

সাহাবীর ঈমান মাহদী বিন মকবুল এক. হযরত আনাস রা. হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা. রাসূলল্লাহ সা. খিদমতে হাজির হলেন। তখন রাসূল সা. মুআয রা. এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন, হে মুআয! তুমি কোন অবস্থায় সকাল করেছ? তিনি উত্তর করলেন, আমি মুমিন অবস্থায় সকাল করেছি।  রাসূল সা. বললেন, প্রত্যেক কথার একটি অর্থ

হযরত উমর রা. এর ওয়াজ শোনা, পাঁচটি অন্ধকারের জন্য পাঁচটি আলো

বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। এদেশে বসবাসরত ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমন। প্রতিদিন সুবহে সাদিকের সময় লক্ষাধিক মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়। আজানের ধ্বনি শুনে মুসলমানদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সমবেত হয় মসজিদে, এক সাথে আল্লাহর কুদরতি পায়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। ইসলামের এ সুমহান আদর্শ দেখে বিজাতীরা ১৪শত বছর পূর্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। মুসলমানদের অস্তিত্ব পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য নানারকম ষড়যন্ত্রের পথ তারা বেছে নিয়েছিল। কিন্তু তারা সফলতার মুখ দেখেনি। প্রায় দেড় হাজার বছর পর আজও এ ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তবে কালের বিবর্তনে তাদের ষড়যন্ত্রের কৌশলের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান যুগকে আধুনিকতার শীর্ষ যুগ বলা হয়। মিডিয়াসহ নানারকম কৌশলের মাধ্যমে তারা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ঈমানকে ধংস করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাদের এ কৌশল অনেকটা সফলতার দারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তারা মুসলমানদের অন্তর থেকে ঈমানের নূরকে বিদূরিত করে নাস্তিক্যবাদ ঢুকিয়ে দিয়েছে। একজন মুসলিম সন্তানের কলম থেকে ইসলামের পক্ষে, বাতিলের বিরুদ্ধে লেখা আসবে। কিন্তু আফসোস! আজ তারই কলম বাতিলের পক্ষে এবংহকের বিরুদ্ধে কথা বলছে। সেসব নাস্তিকদের লেখা পড়ে সরলমনা মুসলমানদের ঈমানের প্রদীপ নিভে যাচ্ছে। দিন দিন বাংলার বুকে নাস্তিকদের আবাস বেড়েই চলছে। একদল নামধারী লেখকদের কু-রুচিপূর্ণ লেখা এবং মিডিয়ায় অশ্লীল ছবির ছড়াছড়িতে আজ যুব সমাজ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। মানুষের মনুষ্যত্ববোধ কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, ঘর থেকে বের হলেই স্পষ্ট বুঝা যায়। পার্ক, উদ্যানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে বিবেকবান মানুষের প্রবেশ অনেকটা দুর্লভ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এসব স্থানের পরিবেশ স্বামী-স্ত্রীর একান্ত বাসকেও হার মানায়। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বাংলার বুকে অশ্লীল, বেহায়াপনা কাজের নিন্দা জানানোর কোন লোক খুজে পাওয়া যাবে না। মুসলমানদের এ চরম সংকটময় মুহুর্তে একদল সাহসী ওলামায়ে কেরাম ও একনিষ্ট ধার্মিক মানুষ কলমের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন। অনেক বাঁধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে সম্মুখপানে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলার বুকে বেশ কয়েকটি ইসলামী পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। এসব পত্রিকাগুলোতে বর্তমান পেক্ষাপটে কুরআন-হাদীসের আলোকে ইসলামের সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয়। যাতে করে বাংলার প্রতিটি মুসলমান খুজে পায় সরল পথের দিশা। ইসলামী পত্রিকাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি পত্রিকা মাসিক “আল-জান্নাত”। গত এক বছর যাবত আমি পত্রিকাটি পড়ছি। পত্রিকার প্রচ্ছদ এবং তথ্যবহুল লেখা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি এমন একটি পত্রিকা প্রতিটি মুসলমানের পঠন অপরিহার্য। কারণ, মিথ্যা, অশ্লীল কথা ও ছবির ছড়াছড়িতে বাজার যখন গরম, তখন ইসলামী পত্রিকাই একজন মুসলমানের জন্য সঠিক তথ্য পাওয়ার একমাত্র সম্বল। ইসলামী পত্রিকার মাধ্যমে একজন মানুষ খুঁজে পেতে পারে তার জীবনে চলার পথের পাথেয় এবং সোনালি ভবিষ্যৎ। সত্য, ন্যায়ের মশালবাহী ওলামায়ে কেরাম ও ধর্ম পিপাসু লোকের মেহনত আল্লাহ যেন কবুল করে বাংলার যমীন থেকে নাস্তিক্যবাদকে চিরতরে নিঃশেষ করে দেন। সদা এই কামনাই করি। পাঠিয়েছে : রুম্মান বিন আল মামুন, আল জামিআ ইসলামিয়া মদীনাতুল উলুম, ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকা।

[হযরত উমর রা. এর ওয়াজ শোনা ] তাসলিমা বিনতে আবুল হুসাইন: খাতামুন্নাবী, হযরত মুহাম্মদ সা. এর শ্বশুর, আল্লাহর নবীর প্রিয় সাহাবী, ইসলামী খিলাফতের দ্বিতীয় খলিফা। কাফির সম্প্রদায় কিসরা কায়সারের মত পরাশক্তি যার ভয়ে থরথর করে কাঁপত। সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী যিনি, তিনি হলেন- হযরত উমর ফারুক রা.। তিনি বসা আছেন একটি মজলিসে। না তেমন কোন শান

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর রা.:যয়নব আক্তার আল্পনা

নাম ও বংশ পরিচয় নাম: উমর রা., পিতার নাম: খাত্তাব। কুরাইশ গোত্রের বনু আদি স¤প্রদায়ে  তার জন্ম। তিনি উমর আল ফারুক নামেও পরিচিত। ফারুক  শব্দটি তার উপাধি। ‘ফারুক’ অর্থ সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। তিনি খুলাফায়ে  রাশেদীন এর দ্বিতীয়  খলিফা। বাল্যকালে উমর ছোট সময় থেকে তার শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ছিল। তার পরিবারও এর প্রতি যতœবান ছিল। তিনি তখনকার

সম্পাদকীয় : রজব মাসের তাৎপর্য

সকল প্রশংসা ও শ্রেষ্ঠত্ব মহান আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক। অজস্র দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রিয়নবী মোহাম্মদ সা.-এর প্রতি। হিজরি বর্ষের সপ্তম মাস রজব। এই মাসের প্রথম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলোÑ এটি কুরআনে উল্লেখিত “আশহুরু হারাম” তথা মর্যাদাপূর্ণ মাসসমূহের একটি। শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী রহ. বলেছেনÑ “মিল্লাতে ইবরাহীম”-এর মধ্যে মোট চার মাস বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার

মহান স্রষ্টার অপরূপ সৃষ্টি: মুফতি মোহাম্মাদ মোস্তফা বিন আব্দুল হাই

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

মহান আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে অসংখ্য, অগণিত মাখলুকাত সৃষ্টি করেছেন। ইনসানই তার মাঝে সর্বোত্তম। আল্লাহর সাথে ভালোবাসা ও নেতৃত্ত্বের ক্ষেত্রে অতুলনীয় ইনসান। অন্যান্য সৃষ্টজীবের সাথে ভালবাসার সম্বন্ধ করা হয় নাই। তবে তারা ফেরেশতাদেরমত মাসুম নয়। তাদের থেকে গোনাহ প্রকাশ পাওয়া অসাধারণ কিছু নয়। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহের দৃষ্টি সেগুলোকে ধ্বংস করার জন্যে যথে।’ মানবরূপি দেহটি মাটি পানি

বিশ্বনবীর আদর্শ ও আমাদের প্রাত্যহিক জীবন : মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম

উভয় জাহানের সর্দার, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বৃদ্ধকাল এবং তার কথা কাজ ও ইবাদত বন্দেগি এবং আকীদা বিশ্বাস মোটকথা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের নাম সিরাত বা চরিত্র। ধর্মীয় বিষয়ে জ্ঞান রাখেন এমন কোন মুসলমানের এ কথা অজানা নয় যে, মানুষের জন্য নবী কারীম সা. এর জীবনীতে

জান্নাতের নেয়ামতের পূর্ণতা প্রাপ্তির কারণ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

জান্নাতি লোকদের মধ্যে অধিক নিয়ামতের অধিকারী তারাই হবে, যারা নিজেদেরকে দুনিয়াতে হারাম কাজ থেকে বাঁচাবে। পৃথিবীতে যে লোক শরাব পান করবে সে জান্নাতের পবিত্র শরাব থেকে বঞ্চিত থাকবে। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি রেশমের পোশাক পরিধান করবে সে জান্নাতে রেশমী পোষাক পড়া থেকে বঞ্চিত থাকবে। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি স্বর্ণ রৌপ্যের পাত্রে পানাহার করেছে জান্নাতে সে এগুলোতে পানাহার

কুরআন ও হাদীসের আলোকে পিতামাতার মর্যাদা : মোঃ আবুল খায়ের স্বপন

‘আমার প্রভু! তাদের উভয়ের (পিতামাতার) প্রতি রহমত নাযিল কর, যেমন করে তারা ছোট বেলায় আমাকে লালন পালন করে বড় করেছে।” [সূরা ইসরা : ২৪] সকল প্রশংসা সেই মহান প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি জগতের একচ্ছত্র অধিপতি, যিনি অত্যন্ত দয়া এবং মেহেরবানী করে আমাদেরকে তাঁর অনুপম সৃষ্টি, সুন্দর এ বিশ্ব ধরায় আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করে, পিতামাতার

আলেম সমাজ ও জনসাধারণের মাঝে সুসম্পর্ক সময়ের দাবী : মূল : মাওলানা রফিউদ্দিন হানীফ- হায়দারাবাদ, অনুবাদ : মুফতি মাহফুজুর রহমান

আজ গোটা বিশ্বে যেভাবে নাস্তিকতা, আশ্লীলতা, বেহায়াপনা পথভ্রষ্টতা ও বিপথগামিতা জ্যামিতিকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তা খুবই আশঙ্কাজনক। সাদাসিধা সরলমনা মানুষদেরকে তাদের অসচেতনতায় ইসলামী শিক্ষা ও সরলপথ থেকে বিচ্যুত করা হচ্ছে। সম্মোহিত ও বিমোহিত করা হচ্ছে বাহ্য চাকচিক্য দিয়ে। প্রভাবিত করা হচ্ছে প্রভাব প্রতিপত্তি দিয়ে। প্রতারিত করা হচ্ছে গলতকে সঠিক বলে, বিষকে প্রতিষেধক বলে। এক কথায় সরলমনা

সমাজ উন্নয়নে মে‘রাজের উপহার

ইসলামী সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ধারায় চন্দ্রবর্ষের ২৭ রজব পবিত্র মেরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালিত হয়। প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সা. ৪০ বছর বয়সে নবুয়াত লাভ করেছিলেন। জন্মভূমি মক্কায় ১৩ বছর কঠিন পরিস্থিতিতে ইসলাম প্রচারের পর তিনি মদীনায় হিজরত করেন এবং ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত ১০ বছর মদীনায় একটি আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। মদীনা হিজরতের

উলামায়ে দেওবন্দের অবদান ও আমাদের প্রত্যাশা : আতিকুর রহমান নগরী

আমি বকলমের পক্ষে উলামায়ে দেওবন্দের অবদান উল্লেখ করা, মহাপন্ডিতের পরিচয় দেয়ার সমান। তাছাড়া ইলমি মাহারাত তো নেই বললেই চলে। জানি আমার সমবয়সী আর কওমী পড়–য়ারা লেখার মুকাদ্দিমা দেখে বাঁকা চোখে তাকাবেন। আর কেউবা হাসবেন। উলামায়ে দেওবন্দের অবদান লিখতে গেলে কলমের কালি আর জ্ঞানশূন্যতার সম্মুখিন হবো আমি। যারপর নাই ইলমে তারিখ মুতাআলা করতে হবে। কিতাবের ইবারাত

ইসলাম ধর্মে শিক্ষার গুরুত্ব : মাহমূদুর রহমান সালিম

পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে। তারমধ্যে কিছু মানবরচিত ধর্ম এবং কিছু আসমানীধর্ম। এই সব ধর্মের মধ্য থেকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য আল্লাহ তাআলা ইসলাম ধর্মকে মনোনীত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে- ‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট (গ্রহণযোগ্য) দ্বীন কেবল ইসলাম।’ [আলে ইমরান-১৯] অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে- ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করতে চায় তার থেকে সে দ্বীন কবুল করা

আল জান্নাতের পরশে হেদায়াতের আলো-মোহা. শফিকুল ইসলাম জামী

বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে যেকটা বর্ডার এলাকা রয়েছে তার মধ্যে আমাদের নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর থানাটা বেশ প্রশিদ্ধ। উঁচু উঁচু পাহার, বড় বড় গাছ, পাহাড়ের তলদেশে বিশাল বড় ময়দান, কখনো ময়দানে শোভা পায় চোখ জুরানো ধান ক্ষেত। কৃষক ঠিক মায়ের মত করে সেখানে সোনার ফসল ফলায়।  ভোরবেলায় কৃষকরা দলে দলে ধান ক্ষেতে গিয়ে লাঙ্গল দেয়, কখনও ক্ষেত


Hit Counter provided by Skylight