মাসিক সংরক্ষণাগার: February ২০১৫

অর্থের প্রলোভনে নারীর ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

এ জগতে বেঁচে থাকতে হলে অর্থের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য, তাই বলে অর্থকে ময়লার ড্রেন থেকে কামড় দিয়ে তুলে আনা যায় না। কোন বিবেকবানের পক্ষে তা সম্ভব হয় না । এর চেয়ে অসম্ভব হল অর্থের জন্য নিজের মহামূল্যবান সম্পদ ঈমান ও সতীত্ব কে বিকিয়ে দিয়ে ময়লার স্তুপ থেকে অর্থ কুড়িয়ে নেওয়া। তার চাইতেও নিকৃষ্টতর হল সুদ-ঘুষের মাধ্যমে

দিবসের নামে অপসংস্কৃতি চর্চা ও নারী দিবস নিয়ে একটি পর্যালোচনা

এখানে মিডিয়ার আমদানীকৃত কয়েকটি দিবসের অপসংস্কৃতি পর্যালোচনা করছি ঃ- ১। ১৪ই ফেব্র“য়ারি, ভেলেন্টাইন’স ডে- [বিশ্ব ভালোবাসা দিবস] নামে একটি নির্লজ্জ দিবস। ২। ১লা এপ্রিল, এপ্রিল ফুল দিবস- মুসলমানদের জন্য বেদনাদায়ক এক ট্র্যাজেডি। ৩। ৩১শে ডিসেম্বর, থার্টি ফাস্টনাইট-অপসংস্কৃতির বিষাক্ত ছোবল। ৪। ৮ই মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ৫। পিতা/মাতা দিবসও এক ধরণের অত্যাচার। মা-বাবা বিশেষ কোন দিবসের

আত্মহত্যা (suicide) পরিচিতি ও বিধান

আত্মহত্যার রূপ আত্মহনন এক প্রকার হত্যা বিশেষ। যা বিভিন্নভাবে সংঘটিত হতে পারে। ১। নিষিদ্ধ ক্রিয়া সম্পাদন করার মাধ্যমে আত্মহনন করা। যেমনÑ তলোয়ার বর্শা বা বন্দুকের দ্বারা অথবা বিষ পান করে আথবা উঁচূ চূড়া হতে পড়ে অথবা আগুনে বা পানিতে ঝাপ দিয়ে আথবা গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজেকে হত্যা করা। ২। কর্তব্য কাজ থেকে বিরত থাকার দরুন

নবীজির ১১ বিবাহ যুক্তিসঙ্গত কেন ? সয়ৈদা সুফয়িা খাতুন

আজকাল কিছু কিছু ধর্মদ্রোহী নারী পুরুষ যুক্তি ও অনুসন্ধানের আশ্রয় না নিয়েই ধর্মকে বিশেষ করে ইসলামকে টার্গেট করে এর ত্র“টি বিচ্যুতি আবিষ্কারে লিপ্ত রয়েছে। ইসলামের বিধি বিধান সম্বন্ধে মন্তব্য করার জন্য যে পরিমাণ তথ্য জ্ঞানের প্রয়োজন তা ঐ সব সমালোচকদের মধ্যে নেই। অবশ্য নাটক উপন্যাস লিখতে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু কোন নীতি বা

সম্পাদকীয় : ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে তাঁর দিকে আহ্বানের জন্য অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। যাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন মুহাম্মাদ সা.। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবীকুল শিরোমণী মুহাম্মাদ সা. এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও সম্মানিত সাথীদের উপর।মাতৃভাষা মানে মায়ের ভাষা। মানব শিশু দুনিয়াতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে যে

আল্লাহর সাথে সেতু বন্ধনের শ্রেষ্ঠ আমল নামায : মোঃ আবুল খায়ের স্বপন

নামায কায়েম কর। যাকাত প্রদান কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর। যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও”। [সূরা আন-নূর আয়াত নং ৫৬]মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মুসলিম জাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে অবর্তীর্ণ হয় নামায। ইসলামের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রোকনের মধ্যে সবকয়টি রোকনই প্রত্যেক মুসলমানের কাছে সমান গুরুত্বের দাবীদার। তবে ঈমানের পর সব চাইতে গুরূত্বপূর্ণ বিধান হল নামায।

অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা ইসলাম কি বলে? সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সমস্ত অন্যায় অবিচার দূরিভূত করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত উম্মতের কান্ডারী হযরত মুহাম্মদ সা. এর উপর এবং শান্তি বর্ষিত হোক কাজে কর্মে রাসূলের আনুগত্যে সর্বাগ্রামী ভূমিকাপালনকারী সাহাবায়ে কেরাম রা. এর উপর। ইসলাম শান্তির ধর্ম, সব ধরনের অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, মারামারি, হানাহানি, জুলুম নির্যাতন বন্ধ করে

সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা একটি আন্তর্জাতিক অভিশাপ : মুফতী মোস্তাকিম আলম

“একটি টাকা অন্য একটি টাকার জন্ম দিতে পারে না”Ñ সুদের সমালোচনা করতে গিয়ে আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এ মন্তব্য করেছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি সুদকে ‘নিরেট জালিয়াতি’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছিলেন। সুদ হচ্ছে শোষণের হাতিয়ার। সুদ মানুষের মাঝে সৃষ্টি করে কার্পণ্য, স্বার্থপরতা, নিষ্ঠুরতা, হৃদয়হীনতার মত অসৎ গুণাবলী। সুদভিত্তিক  অর্থনৈতিক ব্যবস্থা,

জান্নাত কোথায় অবস্থিত ? : সংকলনে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ ফরমান, হুজুর সা. হযরত জিবরাইল আ. কে আরেকবার তার আসল ছুরতে দেখেছিলেন, সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। [নাজম ১৩-১৫] বিশেষ আলোচনা : বড়ই বৃক্ষকে বলা হয় সিদরুন, মুনতাহা বলা হয় চুড়ান্ত গন্তব্য স্থানকে। সুতরাং হাদীস শরীফে এসেছে যে, সপ্তম আকাশে ইহা একটি বড়ই বৃক্ষ। উর্ধ্ব জগৎ থেকে যে সমস্ত

মানবপ্রকৃতির এক ধ্বংসাত্মক ব্যাধি : সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের এবং সেসব জনপদ যাতে আমি বরকত দিয়েছিলাম, এতদুভয়ের মাঝে বহু গ্রাম আবাদ করে রেখেছিলাম যা দৃষ্টিগোচর হতো আর আমি সেই গ্রামগুলোতে ভ্রমণ নির্ধারিত করেছিলাম। তোমরা এসব জনপদে রাতে ও দিনে নিরাপদে ভ্রমণ করো। অতঃপর তারা বলতে লাগল, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের এ ভ্রমণের পরিসর বাড়িয়ে দিন। তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি

সীরাতুন্নবীর আলোয় আলোকিত হোক আমাদের জীবন : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

মহানবীর সা. ব্যক্তিত্ব কোন সাধারণ ব্যক্তিত্ব নয়; বরং তা এক অনুপম আদর্শ ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। যে অনুপম আদর্শ ব্যক্তি জীবন, সামাজিক জীবন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলসহ সকল ক্ষেত্রেই পরিব্যপ্ত। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক বিষ্ময়কর মহা-মানবের সন্ধান পাওয়া যায় যাদের চিন্তা-চেতনা ও দর্শন সারা বিশ্বে বিষ্ময়করভাবে বিস্তার লাভ করেছে এবং তাদের সুমহান আদর্শ ও কৃতিত্বের কারণে মানুষ আজও

ইসলামের এক তৃতীয়াংশ জ্ঞান সমৃদ্ধ একটি হাদীস :মাওলানা আব্দুস সাত্তার

আমীরুল মুমিনীন আবু হাফস্ উমার ইবনুল খাত্তাব রা. হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সা. কে বলতে শোনেছি, “সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তের উপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করেছে, তাই পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়েছে, আর যার হিজরত

বিশ্ব নবী সা.এর বিশ্বব্যাপী দাওয়াতি প্রোগ্রাম : মাহবুবুর রহমান নোমানি

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে নবী! আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।’ [সূরা আহযাব:৪৫-৪৬] মহানবী হযরত মোহাম্মদ সা. চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত লাভ করেন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পরপরই তাঁর ওপর অর্পিত হয় ইসলামের প্রচার-প্রসারের দায়িত্ব। বিবি খাদিজা রা. কে ইসলামের প্রতি দাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর দাওয়াতি জীবন। প্রথম কিছুদিন

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড একটি পর্যালোচনা : মুফতী আলী হুসাইন

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড কথাটি স্বতসিদ্ধ একটি বাণী। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের শ্লোগান এটি। কিন্তু কী এর মর্ম, কিইবা এর দাবী? অনেকেরই হয়ত ভেবে দেখার সুযোগ হয়নি! কাজেই আসুন এ নিয়ে একটু ভেবে দেখি। দেখুন একজন মানুষের সমস্ত শক্তিমত্তার মূল হল এই শিক্ষা নামক মেরুদণ্ড। যে মানুষের মেরুদণ্ড নেই, তার কোন সৌর্য-বির্য নেই, নেই মাথা উচু

মাতৃভাষা বাংলা তবে কেন অবহেলা? : মুফতী উবায়দুল হক খান

ভাষা পৃথিবীতে অনেক। কয়েক সহস্র। কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয় কোন ভাষা আত্মাকে প্রশান্তি দান করে? কোন ভাষা হৃদয়কে আবেগাপ্লুত করে? কোন ভাষা এক হৃদয় থেকে অন্য হৃদয়ে ভালোবাসা পৌঁছে দেয়? কোন ভাষা হৃদয়ে আনন্দ দান করে? কোন ভাষা আহত হৃদয়ের বেদনা উপশম করে? তাহলে উত্তর আসবে মাতৃভাষা। যে ভাষা ভূমিষ্ট হওয়ার পর থেকে মাতৃক্রোড়ে

আমাদের মেসওয়াক ও আধুনিক বিজ্ঞান : নাবিলা যোবাইর

আল্লাহ তাআলা বলেন, হে নবী আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহ কে ভালবাসতে চাও তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন ও তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন, আর আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু। [সূরা আল ইমরান : ৩১] অপর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের নিকট রাসূল সা, যে আদর্শ নিয়ে এসেছেন তা তোমরা গ্রহণ

শরীয়তে মাশওয়ারার গুরুত্ব ও তাৎপর্য : জুনাইদ বিন সিরাজ

মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দীনি ও দুনিয়াবি বিষয়াদি এবং ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য মাশওয়ারাকে শরীয়তে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আল কুরআন গুরুত্ব দিয়ে ঘোষণা করেছে এবং সুন্নাহ বিশদ বর্ণনা প্রদান করেছে আর এব্যাপারে ফোকাহায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন। মাশওয়ারা উম্মাহর সুপ্রতিষ্ঠিত অধিকার এবং রাষ্ট্রনায়কদের জন্য অপরিহার্য প্রতিকার। আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,  হে নবী!

গুনাহের ইহকালীন শাস্তি : মাওলানা মাকসুদুর রহমান

আমরা আল্লাহ তাআলার বান্দা। আল্লাহ তাআলা আমাদের মাবূদ। তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা পালনকর্তা রিযিকদাতা। তার অসংখ্য অগণিত নেয়ামত আমরা প্রতিমূহুর্তে ভোগ করছি। তাই বান্দা হিসেবে আমাদের একান্ত কর্তব্য হল, সদা তার হুকুমমত চলা এবং তার নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহ তাআলা তার অনুগত্যের উপর আমাদের জন্য পুরুষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, আর অবাধ্যতা ও নাফরামনীর উপর দিয়েছেন বহু

কুরআন ও বিজ্ঞান মতে ছয় দিনে (পর্যায়ে) মহাবিশ্ব সৃষ্টি : আজমেরী মারইয়াম মেরী

মহাবিশ্ব (অর্থাৎ গ্রহ, নক্ষত্র, নীহারিকা গ্যালাক্সি ইত্যাদি) সৃষ্টির শুরুতে তার আকার ও আকৃতি কেমন ছিল? বিজ্ঞানের দাবি অনুসারে এতবড় একটা মহাবিশ্ব যার কোন কূল-কিনারা নেই সেই মহাবিশ্বের সৃষ্টির সময় ব্যাস ছিল ১ লিখে তার পরে ৩৩টি শূন্য বসালে যে বিপুল সংখ্যা হয় তা দিয়ে ১ সেন্টিমিটারকে ভাগ দিলে যে ক্ষুদ্রতম সংখ্যা পাওয়া যায় তার সমান

শুকরিয়ার গুরুত্ব ও তাৎপর্য : হাকিমুত তুল্লাব মুফতী হাবিবুল্লাহ

শুকর শব্দটি আরবী ভাষায় বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। প্রসিদ্ধ অর্থ হল, দাতার ইহসানের কথা বার বার স্মরণ করা। পরিভাষায় শুকর শব্দটি বহুবিধ অর্থে ব্যবহৃত। প্রসিদ্ধ অর্থ হল দিল আল্লাহর মুহাব্বতে ভরপুর থাকা। অঙ্গ প্রতঙ্গ তার ফরমাবরদার হওয়া এবং যবান তার হামদ ও তাসবীহাতে মশগুল থাকা। কুরআনের ভাষায় শুকরিয়া তোমরা আমার শুকরগুজার হও, না শুকরিয়া করোনা।

মোহাম্মদ ইউসুফ আহমেদ : সর্বনাশা প্রেম

এই সবুজ শ্যামল অপরুপ বৈচিত্রে সাজানো বসুন্ধরায় প্রতিদিন কত তরুণ তরুণীরা অবৈধ প্রেমের জালে আবদ্ধ হয়ে স্বীয় সোনার জীবনকে ধ্বংস করছে। যার ফলে তাদের মমতাময়ী পিতা মাতার ভবিষ্যতের রঙ্গিন স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। আর এমনই একটি শোকজনক ঘটনা ঘটছে সোহেলের জীবনে। সে বড় শিক্ষিত হবে, ভাল বেতনে চাকুরী পাবে! এমন আশা নিয়েই সোহেলকে তার


Hit Counter provided by Skylight