মাসিক সংরক্ষণাগার: October ২০১৪

ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আযহা উদযাপিত হউক

Sampadokia-150x150

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্য। অসংখ্য দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব মোহাম্মদ সা. এর ওপর এবং তার অনুসারীদের ওপর । ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় যথাযোগ্য মর্যাদায় উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা। মুসলমান সম্প্রদায় তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবের এই দিনে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু কুরবানী

আল্লাহর বড়ত্ব ও সৃষ্টি নৈপূণ্য : জোবায়েরুল ইসলাম

Zikra

পূর্ব প্রকাশিতের পর… আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও গুণাবলী তার যাতের সাথে সম্পৃক্ত এবং তাঁর জন্য শোভনীয়। তিনি সকল সৃষ্টির কল্পনার ঊর্ধ্বে, খেয়ালাতের (কল্পনার) ঘোড়া দৌড়াতে দৌড়াতে স্তব্ধ হয়ে যাবে, স্তব্ধ হয়ে অবস হয়ে যাবে কিন্তু আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। অন্তর তাকে চেনে তাঁর সদৃশ্য তৈরী করতে পারে না। তিনি তাঁর আরশে সমাসীন আছেন, তিনি

আসহাবুল আরাফ : সংকলনে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

আরাফের পরিচয় : জান্নাতবাসী এবং জাহান্নামবাসীদের মাঝখানে একটি দেয়াল থাকবে তার নাম আরাফ। সেখানে কিছু মুসলমাকে অস্থায়ীভাবে রাখা হবে, যাদের নেকি বদি সমান সমান হবে। তারা আরাফের উপর থেকে জান্নাত জাহান্নাম দেখতে পাবে, তারা জান্নাতি এবং জাহান্নামিদের দেখে চিনবে এবং তাদের সাথে কথা বলবে। যার বিবরণ কুরআন শরীফের সূরা আরাফে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা

নবুওয়াতের শেষ সূর্যটি যেভাবে অস্তমিত হল! : মো: আবুল খায়ের (স্বপন)

selectepost

পবিত্র কালামে পাকে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, প্রত্যেককে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। যুগে যুগে পথহারা মানব জাতিকে সৎ পথে পরিচালিত করার শুভ উদ্দেশ্যে পরম করুণাময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যে সকল মহামানব এ ধরার বুকে তাশরীফ এনে জগতের পথভোলা, দিশেহারা মানুষজাতিকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে ইতিহাসে অমর, অক্ষয় এবং অম্লান হয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে

আল্লাহর পথে ডাক : উবায়দুল হক খান

2232800607_64943c72fa

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেনÑ ঐ ব্যক্তির কথা হতে আর কার কথা উত্তম হতে পারে! যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে এবং নিজে নেক আমল করে ও বলে, নিশ্চয় আমি মুসলমানদের মধ্য হতে একজন। [সূরা ফুস্সিলাত : ৩৩] উপরুক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরীনগণ বলেনÑ কোন ব্যক্তি যে কোন পন্থায় মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকবে সে উপরোক্ত

কওমী শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য ও তার প্রয়োজনীয়তা : কে.এফ.এম.গোলাম রাজ্জাক, আতিক

Deobond Madrasah

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানব জাতিকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজাতি হিসেবে চয়ন করেছেন। এ সম্মানের সার্থকতা তখনই প্রতিভাত হবে যখন মানুষ সচ্চরিত্র ও আদর্শবান সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে। একথা চির সত্য যে, উন্নত চরিত্র গঠনের মাধ্যমে আদর্শবান সুনাগরিক হওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে কুরআন-হাদীসের সঠিক জ্ঞান তথা দ্বীনী ইলম। আর এই দ্বীনী ইলম শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে কওমী মাদরাসা।

অসহায় আম্মার পরিবার ! : মুফতী মুহাম্মাদ শোয়াইব

Sirat 01

আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তো জীবন দিয়েছেন অনেকেই। সেই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়তম চাচা হযরত হামজা রা., হযরত হানজালা রা., হযরত সা’দ রা., হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ রা., হযরত খুছাইমা রা. থেকে শুরু করে কত ভাগ্যবানই তো জীবন দিয়েছেন দ্বীন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে। আজও দিচ্ছেন মিসর, ফিলিস্তিন, গাজা, ইরাক, আফগানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু

মৃত্যু ও জানাযা : শিক্ষা ও করণীয় : মুফতী পিয়ার মাহমুদ

Mritto

কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- “জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে। অতপর তোমরা আমারই নিকট ফিরে আসবে।” [সূরা আনকাবূত: ৫৭] অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন “হে নবী আপনি বলুন, “যে মৃত্যুর কবল থেকে আত্মরক্ষার জন্য তোমরা পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখোমুখি হবে, অনন্তর তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহ তাআলার

তাসাউফের মূল উৎস আল কুরআন : মাওলানা মুজিবুর রহমান

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

তাসাউফ ও ত্বরীকতের মূল উৎস পবিত্র আল কুরআন। কুরআন পাকে অবতীর্ণ আয়াতের  ভিত্তিতে প্রিয় নবী সা. সর্বপ্রথম তাসাউফ ও তাযকিয়ার প্রচলন শুরু করেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ তিনি উম্মীদের মধ্যে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন

কুরবানীর গুরুত্ব ও আহকামাত : মোহাম্মাদ নূরুল ইসলাম

Upnnas

আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য এমন কিছু মৌসুম তৈরী করেছেন, যেখানে তার নেক বান্দারা প্রচুর পরিমাণে নেক আমল করবে। আর এই আমলের মৌসুম প্রতি বছরেই ঘুরে ি    ফরে বান্দার সামনে আসে। এমনই একটি মৌসুম হচ্ছে পবিত্র যিলহজ্জ মাস। এই মাসের বিশেষ কিছু আমল রয়েছে। যথা হজ্জ, কুরবানী। হজ্জের সাথে কুরবানী অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। অর্থাৎ যারা হজ্জে যাবেন

ইতিহাসের পাতায় হজ্জে বায়তুল্লাহ : অধ্যক্ষ আ. ম. ম. খালেদ জমীল

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

আমাদের গৌরবময় ও মর্যাদাসম্পন্ন পরিচয় হচ্ছে : আমরা মুসলিম জাতি। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সা. এর পূর্বে আমাদেরকে এই বরকতময় নামে যিনি নামকরণ করেছিলেন তিনি হচ্ছেন: আমাদের ও আল্লাহর অসংখ্য নবীগনের মহান পিতা সাইয়েদুনা হযরত ইবরাহীম আ.। মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের আদেশ করেন তোমরা আল্লাহর পথে তথা তার দ্বীনের স্বার্থে যথাযথভাবে সংগ্রাম কর। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত

ইতিহাসের পাতায় ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. : মাওলানা আমীরুল ইসলাম

q

খুরাসান একটি ইতিহাস সমৃদ্ধ অঞ্চল। এ অঞ্চলটির সাথে জড়িয়ে আছে হাজারো উত্থান-পতনের ঘটনা। হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর গোড়া থেকেই এটি জ্ঞানের রাজধানী নামে খ্যাত। ইতিহাসে বাগদাদ, বুখারা ও সমরকন্দেরমত তারও রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস। শহরটির বিভিন্ন কেন্দ্রে হাজারো মুহাদ্দিস, শায়খ এবং ফকিহগণের তত্বাবধানে হাদীসে নববী  ফিক্হ এবং ইসলামী আইনশাস্ত্রে খোলামেলা আলোচনা চলতো। দূরদূরান্তর থেকে লোকেরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের পিপাসা

পোশাক মানুষের পরিচয় বহন করে : তাবাসসুম বিনতে মুজিবুর রহমান

Porda

এক. আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন : হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি। যা তোমাদের সতর ঢেকে রাখবে এবং সৌন্দর্যেরও উপকরণ হবে। [সূরা আরাফ : ২৬]এ আয়াতটির মাধ্যমে খুব সহজে আমরা বুঝতে পারলাম আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পোশাক দান করেছেন, আমাদের সতর ঢাকার জন্য যা সৌন্দর্যেরও মাধ্যম। সুতরাং আমাদের পোশাক

মসজিদ ব্যাংক হতে পারে উন্নয়নের নতুন বিল্পব : মোহাম্মদ হোসেন

TK copy

৩য় পর্ব ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি মসজিদ ব্যাংকের জন্য একটি স্বতন্ত্র শরীয়া বোর্ড থাকবে। দেশের হক্কানী পীর, আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ বিশেষ করে যাদের ইসলামী অর্থনীতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান রয়েছে সে ধরণের দশজন ব্যক্তিকে নিয়ে ব্যাংকের শরীয়া বোর্ড গঠিত হবে। শরীয়া বোর্ডের কাজ হবে নিম্নরূপ: ১. সুদের মধ্যে ব্যাংক যাতে না জড়ায় সে ব্যাপারে গাইড লাইন দেয়া। ২.

হাদীসে আদম আ. এর সৃষ্টি : সংকলন : আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

bd014

পূর্ব প্রকাশিতের পর… হযরত জাফর রাযী রহ. বর্ণনা করেন যে, উবাই ইবনে কা’ব রা. وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنكَ وَمِن نُّوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ۖ وَأَخَذْنَا مِنْهُم مِّيثَاقًا غَلِيظًا উল্লেখিত আয়াত তেলাওয়াত করে বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষ সৃষ্টি করে আল্লাহ তা’লা তাদের এক স্থান সমবেত করেন। এবং তাদের নিজেদের সাথে

শয়তানের ডায়েরি : মোছাঃ উম্মে হাবিবা

clr-boxback1.jpg

পূর্ব প্রকাশিতের পর…… পির আলী : এমন মুর্খ মুছল্লীর কথা শুনিলে মানুষের জ্ঞান বিবেক কি স্থির থাকতে পারে? শয়তান : হুজুর আসল ঘটনা তো এখনও বলিতে পারি নাই এই শুনুন মুছল্লী সাহেবের বাকী কাহিনী। ইনি হালাল হারামের খুব বিচার করিয়া চলেন। তাই মরা মাছ কখনও খান না। জীবিত মাছ সর্বদা জবেহ করিয়া খাইয়া থাকেন। নিজ

কায়রাওয়ানী দুলহান মূল : জুর্জি যীদান ভাষান্তর : নাজীবুল্লাহ ছিদ্দীকী

Upnnas

পূর্ব প্রকাশিতের পর… জাওহার বললেন, তোমরা মহলের ওপরে সবুজ পতাকা উড়াবে। তাহলে আমাদের সৈনিকদের কেউ তার কাছেও ঘেষবে না। -তাহলে কী এখন আমাকে যাওয়ার অনুমতি দিবেন? -না, আজ রাতটি তুমি এখানে থেকে যাও। আগামীকাল দেখবো কি করা যায়। আজ নয় কাল, এভাবে লিময়া জাওহারের শিবিরে কয়েকদিন কাটাল। ওদিকে বিনতে ইখশীদ সংবাদ শুনার জন্য ছটফট করছিলেন।

দেশ-বিদেশের খবর

Des-Bideser Khobor copy

ব্রিটিশ রানীর প্রতি আনুগত্য স্কটল্যান্ডের টানটান উত্তেজনার পর নির্ধারিত হল স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যৎ। ঐক্যবদ্ধ ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শাসনে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনে থাকার পক্ষেই রায় দিয়েছে স্কটল্যান্ডের জনগণ। আপাতত ৩২টির মধ্যে ৩০টি জেলার প্রথম দফার ভোট গণনার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে রানির প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন স্কটরা। বৃহস্পতিবারের গণভোটে ৫৫ শতাংশ ‘না’ ভোট পড়েছে এবং ৪৫ শতাংশ ‘হ্যাঁ’

কাব্যগুচ্ছ

signboard-vector1

জান্নাতেরই বার্তা : [সৈয়দা সুফিয়া খাতুন] জান্নাতেরই বার্তা নিয়ে এলেন এ ধরাতে আমার প্রিয় নবী কামলিওয়ালা কামলিওয়ালা। মক্কা থেকে মদীনাতে এলেন তিনি নূরের তস্তরিতে জান্নাতেরই খুশবু নিয়ে। সারা জাহান ভরিয়ে দিলেন জান্নাতেরই বার্তা দিয়ে, আমার প্রিয় নবী কামলিওয়ালা কামলিওয়ালা। ওগো আমার দয়াল নবী, তোমার শাফায়াত যেন পাই আমি তোমার শাফায়াত যদি না পাই আমি জন্ম

জীবন জিজ্ঞাসা

Sowal Jowab

শরিয়তসম্মত যে কোন সমস্যার সমাধান জানতে প্রশ্ন লিখে পাঠিয়ে দিন মাসিক আল জান্নাতের ঠিকানায়। মুহাম্মাদ আবূ নাঈম, শাহরাস্তি, চাঁদপুর প্রশ্ন: গত বছর ঈদুল আযহার সময় তাকবীরে তাশরীক নিয়ে আমাদের এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ বলেন, একবার বলতে হবে, এর বেশী বলা যাবে না, একবারের বেশী বলা সুন্নাত পরিপন্থী। আর কেউ কেউ বলেন, একবার বলা

পুরুষদের জন্য নারীই অধিক পরীক্ষার বস্তু

Porda

হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন রাসূল সা. বলেছেন, আমি আমার পরে আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য নারী অপেক্ষা অধিক পরীক্ষার বস্তু আর কিছুই রেখে যাইনি। [বুখারী, মুসলিম] স্বভাবগতভাবে পুরুষদের অন্তর নারীদের প্রতি ঝুঁকে পড়ে।  তখন ন্যায় অন্যায় বা বৈধ অবৈধ সীমানা রক্ষা করা সম্ভব হয়না। ফলে হারামে লিপ্ত হয়ে যায়। এছাড়া


Hit Counter provided by Skylight