মাতৃভাষা চর্চাইসলাম কী বলে? : হাফেজ রিদওয়ানুল কাদের উখিয়াভী

Quran-0

২১শে ফেব্র“য়ারি : বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস।
সকল ভাষা শহীদের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ আমাদেরকে যত নেয়ামত দান করেছেন তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি নেয়ামত হল, ভাষা তথা কথা বলার শক্তি। মনের সূক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম আকুতিকে প্রকাশ করার জন্য আমরা মুখের মাধ্যমে যে শব্দ বের করি সেটা হল ভাষা। মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী ভূষিত হওয়ার যে সকল যোগ্যতা ও গুণাবলি রয়েছে, ভাষাও তার মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে বিশ্বে অগণিত ভাষারয়েছে। পৃথিবীর একেক দেশের, একেক অঞ্চলের মানুষ একেক ভাষায় কথা বলে। এটাও আল্লাহর বড় কুদরত ও নিদর্শন যে, তিনি প্রত্যেক জাতিকে, প্রত্যেক অঞ্চলের মানুষকে পৃথক ভাষা দান করেছেন। শৈশবকালে সর্বপ্রথম যে ভাষায় মানুষ কথা বলতে শিখে সেটাই তার মাতৃভাষা বা মায়ের ভাষা। এ ভাষাতে কথা বলতে ও লিখতে মানুষ যতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে অন্য ভাষায় ততটা মনঃপুত হয় না। এ যেন তার নাড়ীর সাথে গভীর টান, আত্মার সম্পর্ক। এ সম্পর্কই পারে পরকে আপন করতে, পারে জীবন উৎসর্গ করে দেয়ার মত কঠিন ঘটনার জন্ম দিতে।
ফেব্রুয়ারি আমাদের গর্বের মাস, ভাষার মাস। নিজ মায়ের ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেয়ার  জন্য ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলার দামাল ছেলেরা রাজপথে নেমেছিল এবং বুলেটের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিল, শহীদ হয়েছিল। মাতৃভাষার প্রতি এ অকৃত্রিম ভালোবাসাকে স্মৃতিময় করতে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে  বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ইসলাম মাতৃভাষার প্রতি এ অম্লান ভালোবাসার পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি দিয়েছে।
আল্লাহ তাআলা যুগে-যুগে মানুষকে সৎ পথের দিশা দেওয়ার জন্য অগণিত নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাদের ওপর যে ঐশী বাণী অবতীর্ণ হয় তা ছিল স্বীয় মাতৃভাষায়। এ কারণেই প্রধান চার খানা আসমানী গ্রন্থ- আরবি, হিব্রু, ছুরিয়ানি ও ইবরানি ভাষায় অবতীর্ণ হয়। পরোক্ষভাবে এ দ্বারা মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর মাতৃভাষা আরবি, সে সময় আরব ভাষাভাষী বিশ্বের বুকে ছিল অপ্রতুল, তথাপিও তাঁর মাতৃভাষা আরবিতে আল্লাহ কুরআন অবতীর্ণ করেন। মাতৃভাষার প্রতি ইসলামের সমর্থন এ এক উৎকৃষ্ট উপমা।
আমাদের প্রিয়নবী সা. এর ভাষা দক্ষতা ছিল সর্বজনস্বীকৃত। আল্লাহর রাসূল সা. নিজেই বলেন, আমিই আরবের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধভাষী। [মেশকাত] প্রাতিষ্ঠানিক কোন জ্ঞান না থাকার পরেও হুযুরের মুখনিঃসৃত বাণীগুলো ছিল ভাষাশৈলীর দৃষ্টিকোণ থেকে সাহিত্যের মানদণ্ডে অত্যন্ত উঁচু মাপের। এ কথা অস্পষ্ট নয় যে, পবিত্র কুরআনের পর আরবি সাহিত্যের সবচেয়ে বড় ভাণ্ডার হল আল্লাহর রাসুলের হাদীস।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, আমি কুরআনকে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা সহজেই অনুধাবন করতে পারো। [সূরা ইউসুফ : ২]
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, আমি সকল নবীকে তাঁর স্বজাতির ভাষায় প্রেরণ করেছি, যাতে তাদের নিকট সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারে। [সূরা ইবরাহীম : ১৪]
আল্লাহর এ সকল বাণী মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি যে, একজন মুসলমানের জন্য তার নিজের ভাষায় সাহিত্য সৃষ্টি করা ইবাদত, ঈমানি দায়িত্ব। নিজের মাতৃভাষাকে ত্যাগ নবীজীর শিক্ষা নয় ; বরং এতে পাণ্ডিত্য অর্জন করা উচিত। যাতে বাংলাভাষা “কোটি-কোটি মুসলমানের এই ভাষা” ইসলামের প্রভাবে প্রভাবিত হয়। ভুলে গেলে চলবেনা, যে জাতি নিজের ভাষাকে সমৃদ্ধ করবে সে জাতি নিজেই সমৃদ্ধ হতে পারে। আমাদের ভাষা যদি সমৃদ্ধ হয় তাহলে এই অঞ্চলের মুসলমানরা সমৃদ্ধ হতে পারবে।   বি.এ অনার্স থেকে আরম্ভ করে এম.এ এবং তার উপরে বিজ্ঞান, কেমিষ্ট্রি, ফিজিক্স এ জাতীয় সাবজেক্টগুলোতে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করার জন্য বাংলা ভাষায় যথেষ্ট বই খুঁজে পাওয়া যায়না। অবশ্যই তাদেরকে আশ্রয় নিতে হয় ইংরেজি ভাষার। উচ্চ শিক্ষিত হতে হলে বিদেশী ভাষা জানা ছাড়া সম্ভব নয়। একইভাবে যদি কোন মানুষ মনে করে বাংলা ভাষায় আমি কুরআন-সুন্নাহ ও ফেকাহর একজন আলেম হব, তাহলে তার জন্য আদৌ তা সম্ভব নয় যে, বাংলা ভাষার মাধ্যমে সে একজন কুরআন, হাদীস ও ফেকাহর ওপর বিশেষজ্ঞ হবে। অবশ্যই তাকে আরবি, উর্দূ, ফার্সি জানতে হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারি যখন আসে, বইমেলা হয়, অনুষ্ঠান হয়, তখন সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা দরকার, আমাদের ভাষাকে বিভিন্ন জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা। যাতে অন্য ভাষার ওপর নির্ভর না করে নিজের ভাষার মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষিত হওয়া যায়। এ জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিদেশী বইগুলোকে বাংলা করা উচিত।
মাতৃভাষা একটি দেশের সার্বভৌমত্বের সাথে অনেকাংশে জড়িত। সঙ্গতকারণেই শিক্ষার মাধ্যম মাতৃভাষা হওয়া বাঞ্ছণীয়। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। এ ভাষায় সাহিত্য ও বর্ণের যথেষ্ট সমাহার লক্ষণীয়। আমরা অত্যন্ত হতাশ হই, যখন দেখি যে ভাষা রক্ষার জন্য আমাদের গর্ব শহীদ, বরকত, সালাম, জব্বার, রফিকসহ অনেক দামাল ছেলে বুকের তাজা রক্ত রাজপথে বিলিয়ে ছিল, সে ভাষায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায় না। অফিস, আদালত, স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, সচিবালয় সর্বস্তরে ভিনদেশীয় ভাষার ব্যবহার যত্রতত্র। আমাদের মাতৃভাষায় সমর্থক শব্দ ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বিজাতীয় কৃষ্টি-কালচারের মতো ভাষার ওপর ও তাদের বিশাল প্রভাব বিস্তার করছে।
একটি সন্দেহ নিরসন হওয়া দরকার, এ কথা দ্বারা আমরা কিন্তু বিদেশী ভাষা শিখতে নিরুৎসাহিত করছিনা। মুসলমান হিসেবে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হচ্ছে, আরবি। কুরআন অবতীর্ণও হয়েছে আরবি ভাষায়। আমার প্রতিপালক আমার কাছে একটি চিঠি লিখেছেন, অথচ আমি সেই চিঠিটা পড়তে পারি না। এটা কত বড় লজ্জার কথা। কাজেই একজন মুসলমানের অন্তরে আকুতি এবং আবেগ থাকা উচিত যে, আমি আরবি ভাষা শিখব এবং জানব। সৌদি আরবের ভাষা আরবি, কুয়েতের ভাষা আরবি, এ উদ্দেশ্যে আমি আরবি শিখবনা; বরং কুরআনের ভাষা আরবি, আল্লাহর নবীর ভাষা আরবি, এজন্যই আমি আরবি ভাষা শিখব।
আবার ইংরেজি ভাষাকেও অবহেলা করার সুযোগ নেই। বিশ্বায়নের এ যুগে আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি হওয়ার কারণে সে ভাষায় অবশ্যই আমাদের যোগ্যতা থাকা উচিত। বিশ্ব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে উন্নতির পথে। বিশ্বের সাথে সমানে তাল মিলিয়ে এগুতে না পারলে আমরা অনেক পিছিয়ে যাব। আন্তর্জাতিক মার্কেট, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে মুসলমানরা স্থান পাচ্ছেনা, যেখানে শ্রীলংকা-ভারত স্থান পায় সেখানে ইংরেজি না জানার কারণে বাংলাদেশি মুসলমানরা স্থান পাচ্ছেনা।
সুতরাং, আরবি ভাষা, ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব আছে বলে মাতৃভাষার গুরুত্ব কমে যাবে এমন নয়। বরং কেউ যদি এজন্য বাংলা ভাষা চর্চা করে যে, আমি বাংলা ভাষায় বিশুদ্ধতার্জন করে, কবিতা রচনা করে, আর্টিক্যাল রচনা করে ইসলামি সাহিত্য সৃষ্টি করে আমি এদেশের মানুষকে ইসলামি ভাবধারা সম্পন্ন করব, তখন বাংলা ভাষা চর্চা করা তার জন্য অবশ্যই ইবাদতে গণ্য হবে। আল্লাহর নবী সা. নিজের মাতৃভাষাকে বিশুদ্ধভাবে জানতেন আমিও মায়ের ভাষাকে বিশুদ্ধভাবে জানব। এমন চেতনা মনের মধ্যে সৃষ্টি করা দরকার।
কেউ-কেউ অজ্ঞতাঃবশত বলে থাকে যে, বাংলা ভাষায় হিন্দুরা কথা বলে, তাদের দেব-দেবীর নাম আছে, এই জন্য এই ভাষা মুসলমানদের নয়। এটি সম্পূর্ণ একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। কোন ভাষা যেমন পূজনীয় নয়, তেমনি ঘৃণা-বিদ্বেষেরও পাত্র নয়। একমাত্র আরবি ভাষাই পেতে পারে পবিত্র ভাষার মর্যাদা। এছাড়া পৃথিবীর আর সব ভাষাই সমমর্যাদার অধিকারী। আরবি ভাষা কুরআন নাযিল হওয়ার আগেতো আবু জেহেল, আবু লাহাবের ভাষা ছিল, কিন্তু কুরআন নাযিল হওয়ার পরে এটা মুসলমানদের ভাষা হয়েছে। দ্বিতীয়ত: ফার্সি ভাষা অগ্নিপূজারীদের ভাষা ছিল, যারা অগ্নি পূজা করত, তারা ফার্সি ভাষায় কথা বলত। ইরান ও পারস্য দেশগুলোতে মুসলমানরা যখন ইসলামের দাওয়াত প্রচার করল সেখানের মানুষ ইসলাম গ্রহণ করল; তখন তারা ফার্সি ভাষাতেই ইসলামের চর্চা শুরু করল। এক পর্যায়ে ফার্সি ভাষা ইসলামি সাহিত্যে দ্বিতীয় নম্বর সমৃদ্ধ ভাষা হয়ে যায়। আল্লামা সা’দী রহ. ফার্সি ভাষায় বোসতাঁ, গুলিস্তাঁ লিখেছেন। ইমাম রুমী রহ. ‘মসনবি শরীফ’ লিখেছেন ফার্সি ভাষায়। এরপর অনেক বড়-বড় আলেম, দার্শনিক, কবি-চিন্তাবিদ অগ্নিপূজারিদের ভাষাকে ইসলামি সাহিত্যে সমৃদ্ধ করেছেন। এর পরে উর্দূ ভাষায় অধিক হারে ইসলাম চর্চা করার কারণে তা ইসলামি সমৃদ্ধ ভাষায় পরিণত হয়েছে। অনেক আলেম, মুসলিম চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক উর্দূ ভাষায় সাহিত্য রচনা করার কারণে ইসলামি সাহিত্যের এক বিশাল ভাণ্ডার উর্দূ ভাষায় সৃষ্টি হয়েছে। দার্শনিক কবি আল্লামা ইকবাল উর্দূতে ইসলামি সাহিত্যের জোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন।
একই ভাবে যদি মুসলমানরা বাংলা ভাষা চর্চা করে, তারা ইসলামি সংস্কৃতির প্রভাব এই ভাষাতে সৃষ্টি করতে পারে। অনেক মুসলিম কবি যুগ-যুগ ধরে সাহিত্য চর্চা করেছেন বাংলা ভাষায়। কাজি নজরুল ইসলাম পবিত্র কুরআনের বাংলা অনুবাদ কাব্যে রচনার কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি অসুস্থ হওয়ার কারণে তা পূর্ণ করতে পারেননি। শুধু আমপারা কাব্যে অনুবাদ সমাপ্ত করেছেন। যা ইসলামিক ফাউণ্ডেশন হতে প্রকাশিত হয়েছে। একইভাবে কবি ফররুখসহ আরো অনেক কবি-সাহিত্যিক বাংলা ভাষায় ইসলামি ভাবধারাকে প্রচার করেছেন। বাংলা ভাষা চর্চা করা মুসলমানদের জন্য আবশ্যক এবং বাংলাতে ইসলামি ভাবধারাকে প্রচার করা ও ইসলামি সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত করা তাদের কর্তব্য।
পরিশেষে, বিংশ শতাব্দীর ইসলামি রেঁনেসার অগ্রসেনানী সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. ১৪ই মার্চ ১৯৮৪ কিশোরগঞ্জের জামিয়া এমদাদিয়া প্রাঙ্গনে বিশিষ্ট আলেম, ইসলামি বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশে যে বক্তব্য প্রদান করেছিলেন, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের মাধ্যমে এই লেখাটি সমাপ্ত করছি- ‘‘বন্ধুগণ! বাংলাভাষাকে অন্তরের মমতা দিয়ে গ্রহণ করুন এবং মেধা ও প্রতিভা দিয়ে বাংলা সাহিত্য চর্চা করুন”। কে বলেছে, এটা অস্পৃশ্য ভাষা? এটা হিন্দুদের ভাষা? বাংলাভাষা ও সাহিত্য চর্চায় পুণ্য নেই, পুণ্য শুধু আরবিতে, উর্দূতে, কোথায় পেয়েছেন এ ফতোয়া? এ ভ্রান্তি ও আত্মঘাতী ধারণা বর্জন করুন। এটা অজ্ঞতা, এটা মূর্খতা এবং আগামীদিনের জন্য এর পরিণতি বড় ভয়াবহ। এ যুগে ভাষা ও সাহিত্য হলো চিন্তার বাহন, হয় কল্যাণের চিন্তা, নয় ধ্বংসের চিন্তা। বাংলাভাষা ও সাহিত্যকে আপনারা শুভ ও কল্যাণের এবং ঈমান ও বিশ্বাসের বাহনরুপে ব্যবহার করুন। অন্যথায় শত্রুরা একে ধ্বংস ও বরবাদির এবং শিরক ও কুফুরির বাহনরুপে ব্যবহার করবে। সাহিত্যের অঙ্গনে আপনাদেরকে শ্রেষ্ঠত্বের আসন অধিকার করতে হবে। আপনাদের হতে হবে আলোড়ন সৃষ্টিকারী লেখক-সাহিত্যিক ও বাগ্মী বক্তা। ভাষা ও সাহিত্যের সকল শাখায় আপনাদের থাকতে হবে দৃপ্তপদচারণা। আপনাদের লেখা হবে শিল্পসম্মত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত। আমার কথা মনে রাখবেন, বাংলাভাষা ও সাহিত্যের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে নিতে হবে। দুটি শক্তির হাত থেকে নেতৃত্ব ছিনিয়ে আনতে হবে। অমুসলিম শক্তির হাত থেকে এবং অনৈসলামিক শক্তির হাত থেকে। অনৈসলামি শক্তি অর্থ, ঐসব নামধারী মুসলিম লেখক-সাহিত্যিক যাদের মন-মস্তিষ্ক ও চিন্তা-চেতনা ইসলামি নয়। ক্ষতি ও দুষ্কৃতির ক্ষেত্রে এরা অমুসলিম লেখকদের চেয়েও ভয়ংকর। “ওরা লিখবে, আপনারা পড়বেন”- এ অবস্থা কিছুতেই বরদাশত করা উচিত নয়। আমি আবার বলছি- শেষবারের মত বলছি, আপনারা যদি এ দেশের মাটিতে বাঁচতে চান; যদি স্বদেশের মাটিতে পরদেশী হতে না চান; যদি এখানে ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষা করতে চান তাহলে এটাই হচ্ছে একমাত্র এবং একমাত্র পথ। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন। আমিন। [জীবন পথের পাথেয়]  হে আল্লাহ! আমাদের মাতৃভাষাকে তুমি সকল ষড়যন্ত্রকারীদের শ্যেনদৃষ্টি থেকে হেফাজত করো।
লেখক: শিক্ষার্থী, আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, পটিয়া।

2 মন্তব্য রয়েছেঃ মাতৃভাষা চর্চাইসলাম কী বলে? : হাফেজ রিদওয়ানুল কাদের উখিয়াভী

  1. মোহাম্মদ আমিনুল বলেছেন:

    সত্যিই “আল-জান্নাতে”র প্রত্যেকটি আয়োজন অসাধারণ।

  2. মোহাম্মদ আমিনুল বলেছেন:

    … হে আল্লাহ! আমাদের মাতৃভাষাকে তুমি সকল ষড়যন্ত্রকারীদের শ্যেনদৃষ্টি থেকে হেফাজত করো। আমিন।

    এ লেখাটি আমি সম্পূর্ণ পড়েছি। সত্যিই এটি অসাধারণ লেখা। মাসিক “আল-জান্নাত” তার এমন লেখকদের লেখা দ্বারা আরো সমৃদ্ধশালি হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>


Hit Counter provided by Skylight