মাসিক সংরক্ষণাগার: November ২০১৩

সম্পাদকীয় : মহান আশুরার তাৎপর্য ও শিক্ষা

     সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। অজস্র রহমত ও শান্তি  বর্ষিত হোক প্রিয়নবী মোহাম্মদ সা. এর প্রতি এবং তার সকল অনুসারীদের প্রতি যারা দীনের শিক্ষা ও প্রচারের মাধ্যমে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ইসলামে বরকতময় ও ঐতিহাসিক যে কয়েকটি দিবস রয়েছে তন্মধ্যে পবিত্র আশুরা অন্যতম। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় হিজরি সনের প্রথম মাস মুহাররমের

আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব প্রাণী জবেহ করা প্রসঙ্গ : আজমেরি মরিয়ম মেরী

       আমাদের জীবন বিধান মহাগ্রন্থ আল-কুরআন। বিশ্বজগতের প্রতিপালক, সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞানী, আমাদের মালিক মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা। কোন বিষয়টি আমাদের জন্য কল্যাণকর কোনটি অকল্যাণকর তা তিনিই জানেন। কারণ, তিনিই আমাদের স্রষ্টা। আমাদের জীবনকে সুন্দর, সুশৃংখল এবং কল্যাণময় করার জন্য তিনি আমাদের দিয়েছেন বিজ্ঞানময় জীবন বিধান আল-কুরআন। এই বিজ্ঞানময় জীবন বিধানে আল্লাহ আমাদেরকে জানিয়েছেন কিভাবে

হাশরের মাঠে বিভিন্ন জনকে প্রশ্ন : সংকলন : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

নবী-রাসুলদের উদ্দেশে প্রশ্ন কুরআন শরিফে এরশাদ হয়েছেÑ “অতএব আমি অবশ্যই তাদের প্রশ্ন করব, যাদের নিকট রাসুলদের পাঠানো হয়েছে এবং আমি অবশ্যই রাসুলদের পশ্ন করব। [সুরা আ’রাফ : ৬] এ আয়াতের ব্যাখ্যা অন্য আয়াতে এভাবে করা হয়েছেÑ আর যেদিন তাদের ডেকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা রাসুলদের কে কি জওয়াব দিয়েছিলে, সেদিন তাদের সব বক্তব্যই হারিয়ে যাবে।

সভ্যতার অনুপম শিক্ষা তাওহিদ : মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ

      মহান আল্লাহ মানুষকে নিজ খলিফা হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। এরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে আমার খলিফা প্রেরণ করতে যাচ্ছি। [সুরা বাকারা : ৩০] কুরআনিক তথ্য মতে সুসভ্য সানুষেরই প্রথম আগমন হয়েছিল পৃথিবীতে। আজ থেকে প্রায় আট হাজার বছর আগে সভ্যতার ধারক মানুষের আগমন হলেও সময়ের ব্যবধানে, প্রকৃতির বিবর্তনে মানুষ সভ্যতার পথ পরিক্রমা থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

দেশাত্মবোধ ঈমানের অংশ : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভাল বাসি। প্রকৃতিগতভাবে মানুষকে স্বাধীন করে সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রত্যেক মানুষ মাতৃগর্ভ থেকে স্বাধীন হয়েই জন্মগ্রহণ করে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার প্রতিনিধি হিসেবে সম্মানিত করেছেন স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে। তাই স্বাধীনতা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। মাতৃভূমির মাটি ও মানুষের প্রতি তথা দেশ-জাতির প্রতি

মানবজীবনে তাকওয়ার অপরিহার্যতা : মাওলানা আমীরুল ইসলাম

তাকওয়া পরিচিতি : শাব্দিক অর্থ : তাকওয়া আরবি শব্দ যার অর্থ হচ্ছে, অন্তরকে অপ্রীতিকর বস্তু থেকে সুরক্ষিত রাখা। [মুফরাদাতুল কুরআন] আল্লামা রাগেব আসফাহানী রহ. বলেছেন, তাকওয়া হলো, কোন বস্তুকে তার ক্ষতিকর ও অনিষ্টকারী বস্তু থেকে রক্ষা করা। এ অর্থে আল্লাহ তাআলার বাণী, -“তিনি তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করলেন।” [সুরা আদ দুখান : ৫৬] অর্থাৎ

সভ্যতার বিনির্মাণে মোহাম্মদ সা. : আব্দুল্লাহ্ আল মেহেদী

     মোহাম্মদ সা. কে যে মক্কাবাসীরা প্রথমে নবী হিসেবে মেনে নিতে পারেনি তার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল, মোহাম্মদ সা.-এর মানুষি-অবয়ব ও নবুয়াত, একাধারে এ দু’টি বিষয় তাদের কাছে মনে হয়েছিল পরস্পরবিরোধী। তারা ধারণা করত, আল্লাহ যদি সর্বমানবের কল্যাণার্থে সত্যের বার্তাবহ কোনো নবীই পাঠাবেন, সেই নবী হবেন কোনো ফেরেশতা। আর যদি আল্লাহ কোনো মানুষকেই নবী হিসেবে

আশুরার ফজিলত তাৎপর্য ও আমল : অধ্যাপক মাওলানা মিজানুর রহমানা খান

আরবি বছরের প্রথম মাস মুহাররম। আরবি বারটি মাসের মধ্যে যে চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত বলে কুরআন শরিফ ও হাদিস শরিফ-এ ঘোষণা করা হয়েছে, মুহাররম মাস তার মধ্যে অন্যতম। আসমান-জমিন সৃষ্টিকাল হতেই এ মাসটি বিশেষভাবে সম্মানিত হয়ে  আসছে। এ মাসেরই দশ তারিখ অর্থাৎ ১০ই মুহাররম “আশূরা” দিনটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত দিন। সৃষ্টির সূচনা হয়  এই

হিজরি সন সূচনার ইতিবৃত্ত : যোবায়ের বিন জাহিদ

      হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর এক অনন্য ঐতিহ্য। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য হিজরি সন প্রবর্তন করা হয়। হিজরি সনের গণনা মূলত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় ‘নাজরান’ নামক স্থানে খ্রীষ্টানদের সাথে এক চুক্তি পত্রে তারিখ হিসেবে হিজরতের ‘পঞ্চম বছর’ লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু

সম্পদে নারীর উত্তরাধিকার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়েছে ইসলাম : কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক

মানব সমাজ যদি হয়ে থাকে নারী পুরুষের একটি সংমিশ্রিত রূপ, তবে সন্দেহ নেই নারী সে সমাজের ভারসাম্যের প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণকারী সত্বা। নারী পরম শ্রদ্ধেয় মা, আদরের বোন, প্রেমময় স্ত্রী কিংবা স্নেহভাজন কন্যা হিসেবে পুরুষের অন্তর্জগতকে নিয়ন্ত্রণ করে অঘোষিতভাবে। মহান আল্লাহর সৃষ্টির সহজাত প্রক্রিয়ায় নারী ব্যতীত বা নারীর সক্রিয় উপস্থিতি ছাড়া একটি সুন্দর, ভারসাম্যপূর্ণ ও সৃজনশীল

আল্লাহর সাথেসম্পর্ক বৃদ্ধি : নাজমা সুলতানা

 আল্লাহ পাক আসমান ও জমিন সমস্ত কিছুর একমাত্র মালিক এবং সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। সমস্ত সৃষ্টিই তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। সূর্যের উদয় ও অস্ত, শীতের পরে গ্রীষ্মের আগমন তাঁরই হুকুমে হচ্ছে। যার ফলে প্রকৃতিতে নির্দিষ্ট নিয়ম শৃংখলা বিদ্যমান। কিন্তু সৃষ্টির সেরা হিসাবে আল্লাহ পাক যে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছে দুশ্চিন্তা, হতাশা, দুঃখ-বেদনা,

দুআ’র গুরুত্ব ও ফজিলত : (মোহাম্মদ আবু হানিফা)

 সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ ছুবহানাহু ওয়া তা’আলার যার করুণা অসীম, রহমত অফুরন্ত। তিনি তার বান্দাগণকে না চাইতেই অগণিত নেয়ামত দান করে রেখেছেন। তারপরেও তিনি চান যে তার বান্দাগণ তার গায়েবী অসীম ভান্ডার থেকে যার যা প্রয়োজন, যার যা দরকার তা তারা চেয়ে নিক। আল্লাহ ছুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদেরকে দুনিয়াতে অতি অল্প সময়ের জন্য পাঠিয়েছেন। অল্পদিন পরেই

শয়তান সৃষ্টির ইতিকথা : সংকলন : আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

শয়তান সৃষ্টির ইতিকথা:    আল্লাহ তা’আলা বলেন : “মানুষকে তিনি সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির মত শুকনো মাটি থেকে এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন ধোঁয়াবিহীন অগ্নিশিখা থেকে। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? [৫৫ : ১৪-১৬] আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন : “আমি তো মানুষ সৃষ্টি করেছি ছাঁচে-ঢালা শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে এবং তার পূর্বে

ইতিহাসের টুকরো কাহিনী : (মাও. মোহাম্মদ সফিউল্লাহ)

একেই বলে ইসলাম : বহু চড়াই উৎরাই পাড়ি দিয়ে অবশেষে দামেশ্ক পৌঁছল যুবকটি। শহরের সুউচ্চ প্রাসাদ আর মনোরম পরিবেশ দেখে সে অসম্ভব মুগ্ধ হচ্ছে। শান্তি ও স্বস্তির মৃদুমন্দ বায়ুতে হিল্লোলিত হচ্ছে তার দেহ-মন। সুদূর সমরকন্দ থেকে বুখারা, বলখ, হেরাত, কাজভীল, মোসিল, হালব পেরিয়ে সে আজ পৌঁছেছে মুসলিম বিশ্বের রাজধানী দামেশকে। উদ্দেশ্য, খলিফার কাছে সমরকন্দের পাদ্রীদের

দেশ-বিদেশের

আমেরিকায় ইসলামি পন্থায় বিয়ের অনুষ্ঠান হযরত মোহাম্মাদ সা. এর সুন্নত রক্ষার্থে ইসলামি পন্থায় আড়ম্বরপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান আমেরিকান মুসলিম সেন্টারের পক্ষ থেকে এদেশের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি’র রেনেসাঁ হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতে স্বর্ণ দ্বারা লিখিত ৩০০ বছরের প্রাচীন কুরআন শরিফের সন্ধান লাভ ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের জৌনপুর-এ স্বর্ণ দ্বারা লেখা একটি ৩০০ বছরের প্রাচীন কুরআন শরিফের সন্ধান

ধারাবাহিক উপন্যাস : কায়রাওয়ানী দুলহান (ভাষান্তর : নাজীবুল্লাহ ছিদ্দীকী)

বন্য উপত্যকায় : (মূল : জুর্জি যীদান ভাষান্তর : নাজীবুল্লাহ ছিদ্দীকী) বিয়ের আর একদিন বাকী। আবু হামেদ তার অশ্বে আরোহণ করে দ্রুতগতিতে ঘোড়া ছুটাল। মরুভূমিতে হারিয়ে গেল। সূর্য তখন উত্ত্বপ্ত কিরণ ছড়াচ্ছিল। তবে আবু হামেদের গায়ে কোনো তাপ অনুভব হচ্ছিল না। কয়েকঘণ্টা ব্যাপী সে আপন গতিতে চলল। একসময় তার ঘোড়া একটি বড় পাহাড়ের কাছে এলো।

শয়তানের ডায়েরি : (মোছাঃ উম্মে হাবিবা)

পির আলী- আচ্ছালামু আলাইকুম না বলিয়া আচ্ছামু আলাইকুম বলার অর্থ কি? শয়তান- হুজুর! আচ্ছালামু আলাইকুম অর্থ হইল তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হউক। আর আচ্ছামু আলাইকুম অর্থ হইল তোমাদের ওপর ধ্বংস নিপতিত হউক। হযরত মুছার মুখে ঐ ধরণের নিন্দাজনক কথা শুনিয়া ছালাম দিতে আর মনে চাইল না। তাই ঐ ভাবে বলিয়া বিদায় হইয়াছি। আরব দেশে উক্ত

কাব্যগুচ্ছ : অপরূপ , আল জান্নাত , মুক্তির চিন্তায় , আমার দেশ , প্রভুর নামে , মোসাদ্দাস-ই-হালী

অপরূপ : (সৈয়দা সুফিয়া খাতুন) তোমার সৃষ্টি যদি এতো সুন্দর হয় নাজানি কতো সুন্দর তুমি আল্লাহ। যে দিকে তাকাই আমি অপরূপ সুন্দর মহিমা তোমার দেখতে পাই। তুমি কত যে বড় শিল্পী তোমার আল্পনা কে আঁকতে পারে? পাখির গায়ে ফুলে পাতায়, আকাশের সূর্য উদয়-অস্ত যাওয়া। কিযে অপরূপ রূপের মেলা রাতের আকাশে তারার মেলা। নীল আকাশে মেঘের

জীবন জিজ্ঞাসা

গানের উৎপত্তি কোত্থেকে? তার হুকুম কি?ফারিহা ছিদ্দিকা, কুমিল্লাহ। জিজ্ঞাসা : গান-বাজনা জায়িয না নাজায়িয? এসবগুলো কুরআন-হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানালে বেশ খুশী হব।জবাব : গান-বাজনা সম্পূর্ণভাবে নাজায়িয, হারাম ও নিষিদ্ধ। কেননা, গান দ্বারা অন্তরে নেফাক বৃদ্ধি পায় যেমন- পানি দ্বারা ফসল বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া গানের দ্বারা অন্তরে যিনার চাহিদা সৃষ্টি হয় এবং মানুষ বিপথগামী হয়। [প্রমাণ

মায়ের সাথে বেয়াদবি: (তামান্না খলিল)

মায়ের সাথে বেয়াদবি (তামান্না খলিল) ছোট্ট ছেলে, নাম আরিফ। ফুট ফুটে চেহারা। লেখা পড়া করে গাঁয়ের স্কুলে। ভাল ছাত্র, মায়ের ভক্ত, এক সময় গ্রাজুয়েট করে সে সৈনিক ডিপার্মেন্টে ভাল একটি চাকুরি পায়। কিছু দিন পর বিয়ে করে আরিফ স্ত্রীর নাম শরীফা। উচ্চ শিক্ষিত ধনীর দুলালী, ফ্যামেলীকে না জানিয়েই বিয়ে করে সে। হঠাৎ বউ নিয়ে বাড়ি

আমাদের একজন পাগলের মতও উপলব্ধি নেই: ফাতেমা বিনতে বুরহান

আমাদের একজন পাগলের মতও উপলব্ধি নেই (ফাতেমা বিনতে বুরহান, ঢাকা) আব্বাসী খলিফা হারুনুর রশীদ [৭৬৩-৮০৯খ্রি.] এর শাসন আমলে [৭৮৬-৮০৯খ্রি.] বাহলুল নামে এক পাগল ছিল। যে অধিকাংশ সময় কবরস্থানে কাটাতো। কবরস্থানে থাকা অবস্থায় একদিন বাদশাহ হারুনুর রশীদ তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। বাদশাহ তাকে ডাক দিলেন:বাহলুল! ওই পাগল! তোর কি আর জ্ঞান ফিরবে না? বাহলুল বাদশাহর এ


Hit Counter provided by Skylight