হালাল উপায়ে ব্যাবসা ও মুনাফা : মমিনুল ইসলাম মোল্লা

ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন’। [সূরা বাকারা: আয়াত ২/২৭৫]
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ’। [সূরা নিসা: আয়াত ৪/২৯]
উল্লিখিত আয়াতে  (তোমরা পরস্পরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভণ করো না) ‘অন্যায়ভাবে’ বলতে এখানে এমন সব পদ্ধতির কথা বুঝানো হয়েছে, যা সত্য ও ন্যায়নীতি বিরোধী এবং নৈতিক ও শরী‘আতের দৃষ্টিতে অবৈধ। (পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য) বাক্যটি সংযুক্ত করে বলে দেয়া হয়েছে যে, যেসব েেত্র ব্যবসার নামে সুদ, জুয়া, ধোঁকা, প্রতারণা ইত্যাদির আশ্রয় নিয়ে অন্যের সম্পদ হ¯তগত করা হয়, সেসব পন্থায় সম্পদ অর্জন বৈধ ব্যবসার অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা হারাম ও বাতিল পন্থা। তেমনি যদি স্বাভাবিক ব্যবসার েেত্রও লেনদেনের মধ্যে উভয় পরে আন্তরিক সন্তুষ্টি না থাকে, তবে সেরূপ ক্রয়-বিক্রয়ও বাতিল এবং হারাম। প্রতারণামূলক সকল ধরণের ব্যবসা হারাম। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষিদ্ধ করেছেন কেনা-বেচায় পাথর নিক্ষেপ প্রথা আর প্রতারণামূলক যাবতীয় ব্যবসা [তিরমিজি]
খাদ্যদ্রব্য বিক্রির সময় ক্রেতার সামনে পরিমাপ করে দেয়া উচিত। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি খাদ্য ক্রয় করবে সে যেন মাপ না করা পর্যন্ত তা বিক্রয় না করে ”। জীবিকা লাভের অনেকগুলো উপায় রয়েছে। এর মধ্যে সততার সাথে ব্যবসা করা একটি উত্তম উপায়। রফিহ বিন রাফি রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, কোন প্রকারের জীবিকা উত্তম? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, নিজ হাতের কামাই এবং সৎ ব্যবসা। [সহীহ বাযযার: ২য় খ.; ৮৩ পৃ. হাকিম: দ্বিতীয় খ. ১০ম পৃ. সহীহ তাওযীহুল আহকাম: ৮ম খ. ২১৮ পৃ.]
বিক্রি করার পর কোন মালে ত্রুটি লক্ষ করা  গেলে বিক্রেতা ফেরত নেবেন। তাই “ বিক্রিত পণ্য ফেরত নেয়া হয় না ” এ ধরণের কোন শর্ত দেয়া উচিত নয়। কোন পণ্যে কত লাভ করা যাবে এরূপ কোন নির্দেশনা কুরআন-হাদীছে পাওয়া যায় না।  তবে এেেত্র ক্রেতা বা ভোক্তা যেন যুলুমের শিকার না হয়, সেদিকে ল্য রাখা জরুরী। শর্ত সাপেক্ষে পণ্য বিক্রি করা ঠিক নয়। আমর ইবনে শুয়াইব রা. বলেন, “রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন সালাফ ও বিক্রয় এক সঙ্গে যায়েজ নেই। একই সওদায় দুটি শর্ত জায়েজ নয়। যাতে কোন জিম্মাদারী নেই তাতে কোন  (বৈধ) লাভ নেই। যে যায়গা থেকে মাল ক্রয় করা হল ঠিক সেখানে বসেই তা বিক্রি করা বৈধ নয়। একবার এক সাহাবী তা করতে গেলে যায়েদ ইবনে সাবিত রা. তাকে বাধা দিয়ে বলেন, রাসুলে  আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রয় করার জায়গাতে সাওদা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তা ক্রেতা তার বাসায় নিয়ে না যায়।  যা তোমার দখলে নেই তা বিক্রয় বৈধ নয় [মুসলিম শরীফ: হাদীছ নং ১৫২৬]
প্রতারণা করে বা কৌশল করে কিংবা মজুদদারী করে দাম বাড়ানো উচিত নয়। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, নাজশ বা ধোঁকা দিয়ে দাম বাড়ানোর কর্মকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন “ আল্লাহ ঐ মহানুভব মানুষের প্রতি দয়া করেন যে ক্রয় বিক্রয়ে এবং নিজের পাওনা আদায়ে ন¤্রতা ও সহনশীলতা প্রদর্শন করে [বুখারি শরীফ: হাদীছ নং ১৯৪৬]
আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন, “আল্লাহর উপাসনা কর, তোমাদের জন্য তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই। আর মাপে ও ওজনে কম করো না ”। [সূরা হুদ: আয়াত ৮৪]
ব্যবসা-বাণিজ্য ও পাওনা আদায়ের েেত্র মানুষের সাথে দয়ার্দ্র, ন¤্র ও সদ্ব্যবহার পূর্বক ন্যায্যমূল্য গ্রহণ করা অত্যন্ত নেক কাজ। আল্লাহ তা‘আলা মদ, মৃত প্রাণী, রক্ত, প্রতিমা এবং শূকরের গোশত প্রভৃতি হারাম করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের প্রতি মৃতপ্রাণী, রক্ত, শূকরের গোশত হারাম করা হয়েছে’ [সূরা মায়েদা: আয়াত ৫/৩]
আল্লাহ তা‘আলা যেসব দ্রব্য হারাম করেছেন, সে সব দ্রব্যের ব্যবসাও হারাম করেছেন। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা বিজয়ের বছর এবং মক্কায় থাকাবস্থায় বলতে শুনেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মদ, মৃত দেহ, শূকর ও প্রতিমা বেচা-কেনাকে হারাম করেছেন। মানুষের জীবন ধারণ এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে জীবনের উপর তিকর প্রভাব ফেলতে পারে এরূপ ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে নিজেদের রা করা মুমিনদের কর্তব্য। এজন্য জুম‘আর ছালাতের সময় ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! জুম‘আর দিনে যখন ছালাতের জন্য আহবান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর। আর ছালাত সমাপ্ত হ’লে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও’ [সূরা জুম‘আ: আয়াত ৬২/৯-১০]
উপরিউক্ত আয়াতগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে। কোন কোন ব্যবসা মৌলিকভাবে হারাম। কুকুর বিক্রি করা সাধারণভাবে হারাম। আবু মাসউদ আনসারী রা. হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন কুকুরের মূল্য, ব্যাভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে [ বুখারী শরীফ]
পানি বিক্রির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্বৃত্ত পানি বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন [ইবনে মাজাহ: হাদীছ নং ২৪৭৬]
অন্য এক বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুকে পাল দেয়া বাবদ বিনিময় নিতে নিষেধ করেছেন।
টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত অর্জনের উপায় হিসাবে হালাল পথে ব্যবসা করা জায়েজ। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অবৈধ উপায়ে সম্পদ উপার্জন করে লাভবান হওয়া গেলেও তা অবৈধ। লাভ হচ্ছে প্রবৃদ্ধি, উদ্বৃত্তি, অবশিষ্টাংশ, বাড়তি অংশ ইত্যাদি। পারিভাষিক অর্থে লাভ হচ্ছে পুঁজির বর্ধিতাংশ আর এর বিপরীতে লোকসান হচ্ছে পুঁজির ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ। সাধারণ অর্থনীতিবিদগণের মতে মুনাফা হচ্ছে উদ্বৃত্ত মূল্য। ইসলামী অর্থনীতিবিদদের মতে লাভ হচ্ছে পুঁজি প্রবৃদ্ধি বা বৃদ্ধি যা ব্যবসার মাধ্যমে হয়ে থাকে। মুনাফা কতটুকু করা যাবে ইসলাম তা নির্দিষ্ট করে দেয় নি। তাই ন্যায় সঙ্গত পরিমাণে মুনাফা করা যাবে। সাধারণ অর্থনীতিতে মুনাফার অনেক কারণ বর্ণণা করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, মুনাফা হচ্ছে উদ্যোগ ও ঝুঁকি গ্রহণের পারিতোষিক ।
কেউ কেউ বলেছেন লাভ হচ্ছে বিনিয়োগ ও পরিশ্রম করার পুরস্কার। একটি দেশে উৎপাদন যত বাড়বে সে দেশটি তত বেশি সম্পদশালী হবে। মুনাফা অর্জনের পথ সহজ না হলে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিতে চাইবে না। প্রকৃতপক্ষে মুনাফা আসে উৎপাদন থেকে। মানুষ উৎপাদন করে, উৎপাদিত সম্পদ বিক্রি করে লাভ পায়। উৎপাদন হচ্ছে সম্পদ বৃদ্ধি ও মুনাফা অর্জনের একমাত্র পথ। শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীগণ বিনিয়োগও বর্ধিত উৎপাদনের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে থাকে। বিনিয়োগ হচ্ছে উৎপাদন করার উদ্দেশ্যে কোন পণ্য-সামগ্রী অর্থ বা সেবা ক্রয় করা অতঃপর উৎপাদিত সম্পদ বিক্রি করে লাভ করে। অন্য কথায় বিনিয়োগ মানে হচ্ছে অর্থ বা পুঁজিকে ভিন্নতর অর্থ বা পণ্য বা সেবায় রুপান্তর করে। ইসলাম অতিরিক্ত মুনাফা সমর্থন করে না। ইসলামী অর্থনীতিতে মুনাফার সীমা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মোফাস্সিরগণ  বলেছেন যে, ইসলাম মুনাফার অনুমোদন দিয়েছে সীমাবদ্ধ অথের্, সুতরাং ইসলামে মুনাফা হবে স্বাভাবিক কখনোই অতিরিক্ত হবে না।
ব্যবসাক্ষেত্রে ইনসাফের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ যেন না ঠকে। কেউ যেন অতিরিক্ত লাভবানও না হয়। এতে ইনসাফ ও সুবিচার বহাল থাকা উচিত। সুষ্ঠুভাবে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হলে ক্রেতা-বিক্রেতা কারও কোন আফসোস থাকে না। ইনসাফপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ে মূল্যের সমতা থাকা চাই। সকল প্রকার ক্রয়-বিক্রয়ে দুটি পক্ষ থাকে, একটি ক্রেতা পক্ষ অপরটি বিক্রেতা পক্ষ। বিক্রেতা সাধ্যমত কোন পণ্য, সেবা অথবা মুদ্রা বিক্রি বা বিনিময় থাকে না। ক্রেতা এগুলো নগদ অর্থ, পণ্য বা সেবার বিনিময়ে তা লাভ করে থাকেন। পণ্য বা সেবা একই জাতের হতে পারে অথবা ভিন্ন জাতের হতে পারে। ইনসাফপূর্ণ ক্রয় বিক্রয় সম্পন্ন হতে পারে। ইনসাফপূর্ণ ভাবে ক্রয় বিক্রয় সম্পন্ন করতে হলে উভয় পক্ষের পণ্য বা সেবমূল্যকে সমান করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে একটি অন্যটির কাউন্টার ভ্যালু। ইনসাফ বা সুবিচারের এটাই দাবী। কাউন্টার ভ্যালু মানে মূল্যের সমতা।
ইসলামী অর্থনীতিতে ইসলামের কোন বিধি বিধান লংঘন না করে সর্বোচ্চ যে মুনাফা অর্জন  করা সম্ভব সেটাই হবে মুনাফার উর্ধ্বতন সীমা। অপরদিকে উৎপাদনকারীর জন্য ভালভাবে জীবন যাপন এবং অতীত লোকসান পূরণের জন্য যথেষ্ট মুনাফাই হচ্ছে লাভের নি¤œসীমা। উর্ধতন ও নি¤œতম সীমার মধ্যবর্তী যে কোন পরিমাণ মুনাফাই হচ্ছে সন্তোষজনক মুনাফা। ব্যবসায়ীরা মুনাফা অর্জনের জন্য বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব, মানবিক বিবেচনার দিকে খেয়াল না করলে ভুল হবে। মুসলমান ব্যবসায়ীগণ শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে মুনাফা অর্জন করতে হবে। উবাদা ইবনে সামিত বর্ণিত হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা যে কোন দামে বিক্রি করতে পার” বলে ক্রেতা-বিক্রেতা কর্তৃক নির্ধারিত যে কোন দামকেই বৈধ করে দিয়েছেন। এ বানী দ্বারা তিনি বাজারের চাহিদা ও যোগানের দ্বারা নির্ধারিত দামের প্রতিই ঈঙ্গিত করেছেন। আর এ পদ্ধতিতে নির্ধারিত দামে যখন যে পরিমাণ মুনাফা আসে সেটি গ্রহণ করা বৈধ।
আল্লাহ আমাদের জন্য ব্যবসাকে বৈধ করেছেন। অন্যদিকে সুদ ও সুদ ভিত্তিক ব্যবসা বা কার্যক্রমকে হারাম করেছেন। অর্থনীতিতে শোষণের অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে সুদ। সুদের মত সমাজ বিধ্বংসী অর্থনৈতিক হাতিয়ার আর দ্বিতীয়টি নেই। আল্লাহ কোন কল্যাণকর বস্তু আমাদের জন্য হারাম করেন নি। আল্লাহ যে সমস্ত বস্তু আমাদের জন্য নিষেধ করেছেন। সুদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কুফলের দিকে খেয়াল করলেই বুঝতে পারবো সুদকে কেন চিরতরে হারাম করা হয়েছে। তাই ব্যবসায়ীরা কোনভাবেই সুদের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারবেন না।  লোভের কারণে ব্যবসায়ীরা অনেক সময় হালাল ব্যবসাকে হারাম করে নেয়। একারণেই অন্যায়, যুলুম, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা, মুনাফাখোরী, কালোবাজারী, মওজুদদারী, ইত্যাদি করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করা নিষেধ। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা কখনো কখনো মিথ্যা বলে থাকেন এটা ঠিক নয়। যে কোন ব্যাপারে মিথ্যা বলা মুনাফেকীর লক্ষণ। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন বলেন, “এরাই সৎ পথের বিনিময়ে ভ্রান্ত পথ ক্রয় করেছে। সুতরাং তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি, তারা সৎপথে পরিচালিতও নয় ”। [সূরা বাকারা: আয়াত ১৬]
ম্পদের লোভ মানুষকে আখিরাত বিমুখী করে। তাই শুধুমাত্র সম্পদের লোভে বা মুনাফার আশায় ব্যবসা করা যাবে না। জাবির রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোন শহরবাসী যেন কোন গ্রামবাসীর পক্ষে কেনাবেচা না করে। লোকদের স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দাও। আল্লাহ তায়ালা তাদের একের দ্বারা অপরের রিযিেিকর ব্যবস্থা করেন [মুসলিম শরীফ] কুরবানির বকরী কিনতে গিয়ে এক সাহাবী (হাকিম বিন হিযাম রা.) শতকরা ১০০ ভাগ মুনাফা করেন। এরপরেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ব্যবসায় বরকত দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন [বুখারী শরীফ: হাদীছ নং ৩৬৪২]
তবে মুনাফা আদায়ের ক্ষেত্রে জুলম করা যাবে না। কেননা ইসলাম সব ধরণের জুলুমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হবে পারস্পরিক সহযোগীতা, পারস্পরিক কল্যাণ, সমষ্টিক স্বার্থ এবং ন্যায়সঙ্গত লেনদেন ও ক্রয়-বিক্রয়।
লেখক: প্রভাষক, সাংবাদিক ও ধর্মীয় গবেষক, কুমিল্লা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight