হাদীসের গল্প : নবীর আদর্শ -মুনতাসির বিল্লাহ যশোরী

মক্কা বিজয় হয়েছে, এখন মক্কার আকাশে ইসলামের পতাকা পত পত করে উড়ছে। সবাই মনের আনন্দে মূর্তিগুলো কাবা ঘর থেকে বাইরে নিক্ষেপ করছে আর ঘোড়ার পায়ের তলে পিষ্ট হচ্ছে মূর্তিগুলো; কিন্তু তখনো নবী কারীম সা. এর রাগ কমেনি। তিনি মক্কার চিহ্নিত কয়েকজনের প্রতি হত্যার ঘোষণা দিলেন যে, যেখানেই পাও সেখানেই হত্যা করবে তাদেরকে। তার মধ্যে একজন হলো ওয়াহসী। এখন তার পালিয়ে বেড়ানো ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আর সে তাই করছে, কিন্তু আল্লাহর লিলা খেলা তো বুঝা বড় দায়। ওয়াহসী হলো সেই ব্যক্তি যে নবীজির চাচাকে এবং ইসলামের বড় সেনাপতি হযরত হামযা রা. কে শহীদ করেছিলো। কোন এক সাহাবীর মাধ্যমে সে নবী কারীম সা. এর দরবারে উপস্থিত হলেন; কিন্তু তখনও রাসূলের হৃদয় থেকে চাচা হত্যা করার ব্যথা শেষ হয়নি। হত্যাকারী এসে ক্ষমা চাইল। তখন আমি আর তুমি হলে হয়ত এটাকে আল্লাহর ওয়াস্তে মোক্ষম সময় মনে করতাম। আর মামলাও খতম করে ফেলতাম। কিন্তু না, রাহমাতুল্লিল আলামীন এমনটা করলেন না। তিনি তাকে ক্ষমা করে দিলেন। তবে খুবই কাতর কন্ঠে এতটুকু বলেছেন, দেখ আমার চাচা আমার খুব প্রিয় ছিল। বাবা ছিল না তো তাই চাচাই যেন আমার বাবা। বাবার কষ্টটা একটু হলেও লাগব করতাম তার চেহারা দেখে। আর তুমি সেইটুকুও করতে দিলে না। হত্যা করলে আমার চাচাকে! সুতরাং তুমি আমার সামনে বেশি বেশি পরোনা। তাহলে চাচার কথা খুব মনে পড়বে! আর আমি কষ্ট পাব। সুবহানাল্লাহ! কত উত্তম চরিত্র ছিল আমার নবীর। এজন্যই তো কবি তার কবিতার ভাষার বলেছেন, ‘
পরোয়া নাহি আপন দোষের,
এলজাম ছোড়ে মানুষে গায়,
ছাড়ালো ইসলাম তলোয়ারের জোরে,
এমন কুৎসা মানুষ রটায়।
মূলত ইসলাম তো মুসলামানদের আখলাক চরিত্র দেখেই ছড়িয়েছে। তাই বলব হে বন্ধুরা! একবার ভেবে দেখো আজ আমি কোথায় আর নবীর আদর্শ কোথায়? কি আমার আখলাক চরিত্র? আজ সামান্য ভুল হলেও আমরা প্রতিশোধ পাগল হয়ে যাই। অথচ আমরা যার উত্তরসূরী তার আদর্শের দিকে ফিরেও তাকাই না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight