হযরত হূদ আ. : সংকলন- আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

হযরত হূদ আ. এর বংশ তালিকা
হূদ ইবন শালিখ ইবন আরফাখশায ইবন সাম ইবন নূহ আ. মতান্তরে হূদ- যার নাম ছিল আবির ইবন রাবাহ ইবনুল জারুদ ইবন আয ইবন আওস ইবন ইরাম ইবন সাম ইবন নূহ আ.। হূদ এর গোত্রের নাম আদ ইবন আওস ইবন সাম ইবন নূহ। তারা ছিল আহকাফ অর্থাৎ বালুুর ঢিবিপূর্ণ এলাকার অধিবাসী, যা ইয়ামানের ওমান ও হাজরা মাওতের টিলা অঞ্চলে অবস্থিত। এটি ছিল শাহর জলাশয়ের তীরবর্তী বসতি এলাকা। তাদের উপত্যাকার নাম ছিল মুগীছ। উঁচু উঁচু খুটির উপর তাবু খাটিয়ে তারা বসবাস করতেন। কুরআন মজীদে আল্লাহ বলেন: তুমি কি দেখনি, তোমার প্রতিপালক কি করছিলেন, আদ বংশের ইরাম গোত্রের প্রতি- যারা অধিকারী ছিল সুউচ্চ প্রাসাদের। [সূরা ফাজর ৬-৭] এই আদ বংশ আদে ইরাম বা আদে উলা বলে পরিচিত। আদে ছানী বা দ্বিতীয় আদ বংশের উদ্ভব হয় পরবর্তীকালে। এ আলোচনা পরে করা হবে ইনশাআল্লাহ।
এখানে ‘এরাম’ শব্দের দুটি অর্থ হতে পারে। এক. ইরাম বংশের মত এমন সম্মানিত বংশ ইতিপূর্বে আর আসেনি। দুই. এদের মত সুউচ্চ প্রাসাদ ইতিপূর্বে কেউ নির্মাণ করেনি। তবে প্রথম অর্থটিই বেশি গ্রহণযোগ্য। এর স্বপক্ষে দলীল হলো, নবী কারীম সা. এক হাদীসে বলেছেন, আরব বংশোদ্ভূত নবী চারজন। হূদ, সালিহ, শুআয়ব এবং তোমার নবী হে আবু যর। কেউ কেউ বলেন, হূদ আ. ই সর্বপ্রথম আরবী ভাষায় কথা বলেন। তবে কেউ আবার হূদের পিতা, কেউ নূহ, আবার কেউ বা বলে আদম আ. এর কথা। তবে এটাই উল্লেখ যোগ্যমত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
হযরত নূহ নবীর মহা প্লাবনের পরে আদে উলা সর্বপ্রথম মূর্তিপূঁজা আরম্ভ করে। তাদের মূর্তি ছিল তিনটি। এক. সাদ্দা, দুই. সামূদা, তিন. হাররা। আল্লাহ তাদের মাঝে হূদ আ. কে নবী রুপে প্রেরণ করেন। তিনি তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন। যেমন সূরা আরাফে আল্লাহ তাআলা নূহ আ. এর কাহিনী শেষে বলেন, ‘আদ জাতির কাছে তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি সাবধান হবে না? তার সম্প্রদায়ের কাফির সর্দারগণ বলেছিল, আমরা তো দেখছি তুমি র্নিবুদ্ধিতায় ডুবে রয়েছে আর তোমাকে তো আমরা মিথ্যাবাদী মনে করি। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় আমার মধ্যে কোন নির্বুদ্বিতা নেই। আমি তো রাব্বুল আলামীনের প্রেরিত রাসূল। আমি আমার প্রতিপালকের বাণী তোমাদের নিকট পৌঁছিয়ে দিচ্ছি এবং আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাক্সক্ষী। তোমরা কি বিস্মিত হচ্ছ যে, তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে তোমাদেরই মধ্য থেকে একজনের মাধ্যমে তোমাদেরকে সতর্ক করার জন্যে উপদেশ বাণী এসেছে? আর স্মরণ কর যে, আল্লাহ তোমাদেরকে নূহের সম্প্রদায়ের পরে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাদের অবয়বে অন্যলোক অপেক্ষা শক্তিতে অধিকতর সমৃদ্ধ করেছেন। অতএব, তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর। হয়ত তোমরা সফলকাম হবে।
তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে এ উদ্দেশ্যে এসেছ যে, আমারা যেন শুধু এক আল্লাহর ইবাদত করি আর আমাদের পূর্বপুরুষগণ যাদের উপাসনা করত তা বর্জন করি? সুতরাং তুমি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যে জিনিসের ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো। সে বলল, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তো তোমাদের জন্যে শাস্তি ও গযব নির্ধারিত হয়েই আছে, তবে কি তোমরা আমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও কতগুলো দেব দেবীর নাম সম্বন্ধে তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষগণ যাদের সৃষ্টি করেছ। আল্লাহ এ সম্বন্ধে কোন সনদ পাঠাননি। সুতরাং ‘তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতিক্ষা করছি। আর আমি তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে আমার অনুগ্রহে উদ্ধার করি, আর যারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং যারা মুমিন ছিল না তাদেরকে নিমূল করেছিলাম’। [সূরা আরাফ ঃ ৬৫-৭২] এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা সূরা হূদ এর ৫০-৬০, সূরা মুমিনুন এর ৩১-৪১,  সূরা শুআরার ১২৩-১৪০, সূরা হা-মীম আস-সাজদা এর ১৫-১৬, সূরা আহকাফ এর ২১-২৫ নম্বর আয়াতসহ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হূদ আ. ও তার সম্প্রদায়ের আলোচনা করেছেন। যেমন সূরা যারিয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, ‘আর নিদর্শন রয়েছে আদ জাতির ঘটনায়। যখন আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম অকল্যাণকর বায়ূ তা যে জিনিসের উপর দিয়েই প্রবাহিত হয়েছিল তাই চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়েছিল তথা  আদ জাতিকে আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত ভয়াবহ প্রচণ্ড ঝঞ্ঝা বায়ু দ্বারা ধ্বংশ করা হয়।  [সূরা যারিয়াত: ৪১-৪২] আবার একথাও প্রমাণিত যে, তাদেরকে বিকট শব্দের মাধ্যমেও আযাব দেয়া হয়েছিলো সুতরাং বলা যেতে পারে যে, আদ জাতির উপর বিকট শব্দ ও প্রচণ্ড বায়ু উভয় প্রকার আযাবই অবতীর্ণ হয়েছিল, যেমন মাদয়ানবাসী তথা আইকার অধিবাসীদের উপর বিভিন্ন প্রকার আযাব পতিত হয়েছিল। আর এ বিষয়ে কোন মতপার্থক্য নেই যে, আদ জাতি ছিল ছামূদ জাতির পূর্বসূরি।
মোটকথা: আদ সম্প্রদায় ছিল একটি অত্যাচারী কাফির, বিদ্বেষী, দাম্ভিক  ও মূর্তিপূজারী আরব গোষ্ঠী। আল্লাহ তাদের মধ্য থেকেই একজনকে তাদের নিকট রাসূলরুপে প্রেরণ করেন। তিনি তাদেরকে নিষ্ঠার সাথে এক আল্লাহর ইবাদত করার প্রতি আহ্বান জানান। কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করে এবং তার বিরুদ্বাচারণ করে এবং তাকে হেয়প্রতিপন্ন করে। ফলে, প্রবল পরাক্রমশালী আল্লাহ তাদেরকে কঠিনভাবে পাকড়াও করেন। নবী যখন তাদেরকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং এক আল্লাহর ইবাদত করতে বলেন এবং উদ্ভুদ্ধ করেন এর দ্বারা ইহকাল ও পরকালে পুরুষ্কার পাওয়ার প্রতিশ্র“তি দেন এবং বিরুদ্ধাচারণে দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তি ভোগের ব্যাপারে সতর্ক করে দেন তখন সম্প্রদায়ের কাফির সর্দাররা বলল, আমরা তো দেখছি তুমি নির্বোধ অর্থাৎ আমরা যে সব মূর্তির পূঁজা করি তার স্থলে তুমি আমাদেরকে যেদিকে আহ্বান করছ তা নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা এদের থেকে সাহায্য ও রুটি রুজির আশা করি। তা ছাড়া তোমার রাসূল হওয়ার দাবিকেও আমরা মিথ্যা বলে মনে করি। জবাবে নবী বললেন: হে আমার সম্প্রদায়! আমি নির্বোধ নই; বরং আমি রাব্বুল আলামীনের প্রেরিত রাসূল অর্থাৎ তোমরা যে ধারণা ও বিশ্বাস নিয়ে বসে আছো ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। আমি প্রতিপালকে বার্তা তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিচ্ছি আর আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাক্সক্ষী। [আরাফ: ৬৬-৬৮] বার্তা পৌঁছানোর মধ্যে মিথ্যা বলার অবকাশ নেই। এক্ষেত্রে মূল বার্তায়  হ্রাস বৃদ্ধি করার কোন সুযোগ নেই। নবী বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের নিকট থেকে আমি কোন বিনিময় চাই না। আমার পুরুষ্কার তো রয়েছে তারই কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা কি তবুও অনুধাবন করবে না? [সূরা হূদ: ৫১] তোমাদের কি এতটুকু বিবেক বুদ্ধি নেই যার দ্বারা ভাল মন্দের পার্থক্য নির্ণয় করতে পার এবং এ কথা বুঝতে সক্ষম হও যে, আমি তোমাদের এমন এক সুস্পষ্ট সত্যের দিকে আহ্বান করছি তোমাদের স্বভাবধর্মই যার সত্যতার সাক্ষ্যবহ। এটাই সেই সত্য দীন যা আল্লাহ ইতিপূর্বে নূহের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন এবং এর বিরোধিতাকারীদের খতম করে দিয়েছিলেন। আর এখন আমি তোমাদেরকে সেদিকেই আহ্বান করছি এবং এর বিনিময়ে তোমাদের থেকে কিছুই চাই না, বরং কল্যাণ অকল্যাণের  মালিক আল্লাহর কাছেই এর পুরুষ্কারের প্রত্যাশা রাখি। এ কারণেই সূরা ইয়াসীনে জনৈক মুমিনের উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, ‘অনুসরণ কর তাদের যারা তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চায় না। আর যারা হিদায়াত প্রাপ্ত। আমি কেন সেই সত্তার ইবাদত করব না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে তার ইবাদত করব না। তখন হূদ নবীর সম্প্রদায় তাকে জবাব দিল, হে হূদ তুমি আমাদের কাছে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসনি, তোমার মুখের কথায়ই আমরা আমাদের উপাস্য দেব দেবীকে পরিত্যগ করতে পারিনা। আমরা তো তোমাকে বিশ্বাসই করি না। আমরা তো এটাই বলি যে, তোমার উপর আমাদের কোন উপাস্যের অশুভ দৃষ্টি পড়েছে। [সূরা হূদ ৫৩] অর্থাৎ তারা হূদ আ. এর কাছ থেকে অলৌকিক কিছু দাবি করত। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি, আর তোমরাও সাক্ষী থাক যে, আল্লাহ ব্যতীত তোমরা আর যা কিছুকে আল্লাহর সাথে শরীক কর, সে সবের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তারপর তোমরা সকলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে কোনরুপ অবকাশ দিও না। আমার পুরো ভরসা আল্লাহর উপর। তিনি ছাড়া আর কারো উপর আমি ভরসা করিনা। তিনি ছাড়া আর কারো ইবাদতও আমি করিনা। এই একটি মাত্র বাক্যই এ ব্যাপারে অকাট্য দলীল যে, হযরত হূদ আ. আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল। আর তার কওমের লোকেরা ভ্রান্তিতে আছে। কারণ তারা নবীর বিন্দুমাত্র ক্ষতিও করতে পারেনি। বরং তারা নিজেরাই ধ্বংশ হয়েছে। বস্তুত তারা একটা বিষয়ে অশ্চর্য হত যে, একজন মানুষকে আল্লাহর রাসূলরুপে পাঠাবেন এটা তাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হত। যেমন সূরা ইউনুস এর দুই নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, মানুষের জন্য এটা কি আশ্চর্যের যে, আমি তাদেরই একজনের কাছে ওহী প্রেরণ করেছি এ মর্মে যে, তুমি মানুষকে সতর্ক কর। এর বিপরিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, মোটেই আশ্চর্যজনক নয়। কেননা আল্লাহই ভাল জানেন যে, তিনি রিসালাতের দায়িত্ব কাকে দিবেন। যিনি তোমাদের আল্লাহর পথে আহ্বান করবে। যেমন তিনি বলেন, ‘এবং যখন তোমরা আঘাত হান আঘাত হেনে থাকো কঠোর ভাবে। তোমরা আল্লাহ কে ভয় করো এবং আমার অনুগত্য কর। ভয় কর তাকে যিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন ঐসব যা তোমরা জ্ঞাত রয়েছ। তোমাদেরকে দিয়েছেন গবাদি পশু এবং সন্তান সন্ততি, উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণসমূহ। আমি তোমাদের জন্য আশংকা করি মহা দিবসের শাস্তি। কিন্তু তার সম্প্রদায় ভিন্ন মত পোষণ করতো। তারা মনে করত যে, মৃত্যুর পরে আবার তারা দুনিয়াতে আসবে। তখন হূদ আ. তার উম্মতকে বুঝাতেন যে, এ জাতীয় কথার কারণে তোমরা আল্লাহর শাস্তি ও ক্রোধের পাত্র হয়ে যাচ্ছো, এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর মোকাবেলায় তোমরা মূর্তিপূজা করছ। যা তোমরা নিজেরাই সৃষ্টি করেছো। আর নিজেরাই এর নামকরণ করেছ। তোমাদের পূর্ববর্তীরাও একি কাজ করে গেছে। যার কোন দলীল বা ভিত্তি নেই। না তোমাদের কাছে না তোমাদের পণ্ডিতদের কাছে। সুতরাং হক কথা শুনতে ও মানতে যখন অস্বীকার করছ এবং বাতিলের উপর অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছ, আর আমার সতর্ক করা না করা যখন সমান হয়ে গেল, তাহলে এখন তোমরা আল্লাহর আযাব ও শাস্তির অপেক্ষায় থাক যা ঠেকানোর শক্তি কারো নেই। যেমন কুরআনে বলা হয়েছে, হে আমার প্রতিপালক। আমাকে সাহায্য কর। কারণ তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে। আল্লাহ বললেন, অচিরেই তারা অবশ্যই অনুতপ্ত হবে। তারপর সত্যি সত্যিই এক বিকট আওয়াজ তাদেরকে আঘাত করল। আর আমি তাদেরকে তরঙ্গ তরিত আবর্জনায় পরিনত করে দিলাম। সুতরাং ধ্বংস হয়ে গেল জালিম সম্প্রদায়। তাদের ধ্বংশের পূর্ণাঙ্গ চিত্র আল্লাহ কোরআনে এভাবে বর্ণনা দিয়েছেন, হূদ আ. এর কওমের লোকেরা যখন ঈমান আনতে অস্কৃতি জানালো তখন আল্লাহ তাআলা তাদের উপর তিন বছর বৃষ্টি বন্ধ রাখল। ফলে তারা প্রবল খড়ার কারণে দুর্ভিক্ষের কবলে পরে গেল। ঐ সময় নিয়ম ছিল দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তারা বায়তুল্লাহ শরীফের কাছে গিয়ে আল্লাহর দরবারে দোআ করত। আর তখন বায়তুল্লাহর কাছে বসবাস করত আমালিক জাতি। আমালিকরা হল আমলীক ইবন লাওজ ইবন সম ইবন নূহ এর বংশধর। সেকালে তাদের সরদার ছিল মুআবিয় ইবন বকর। তার মা ছিল আদ গোত্রের। নাম ছিল জালহাযা বিনতে খায়বরী। তখন আদ সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রায় সত্তরজনের একটি দলকে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে হারাম শরীফে পাঠালো। একমাসের পথ অতিক্রম করে তারা মুআবিয়া ইবন বকরের বাড়িতে গিয়ে উঠে। এবং তাদের দূরাবস্থার কথা তাকে জানাল। মুআবিয়া খুব দুঃখ পেল এ খবর শুনে। তখন সেই সত্তর জন লোক তার বাড়িতেই থাকতে লাগল। তখন মুআবিয় ইবন বকর তাদের দূরাবস্থার কারণে তাদের কে যেতেও বলতে পারছিলো না। তখন সে একটি কবিতা লিখে তার গায়িকদের পড়ে শুনাতে বলল, যাতে তাদের দায়িত্বে অবহেলার কথা এবং কিছু উৎসাহ বণী লেখা ছিল। তখন তারা হেরেম শরীফে গিয়ে উপস্থিত হলো। এবং আল্লাহর দরবারে দোআ করল। দোআ পরিচালনা করল কায়ল।  আল্লাহ তাআলা তখন তাদের কে কালো, লাল, এবং সাদা রঙ্গের তিনটি মেঘ দিল। এবং গায়েবী আসমানি আওয়াজে যেকোন একটি পছন্দ করতে বলল কায়েল কে।  তারা কালোটি পছন্দ করল। কারণ কালো মেঘ বৃষ্টি দেয়।  তখন তাদের কে জানিয়ে দেয়া হলো। তোমরা ছাই ভস্ম পছন্দ করেছ। ধ্বংশটাকে বাছাই করে নিয়েছ। এই মেঘ তোমাদের সবাইকে ধ্বংশ করে দিবে। কাউকে ছাড় দেবেনা। বনু লুদিয়া গোত্র ছাড়া। এরা মক্কায় বসবাস করত। তারা এ আযাবের আওতায় পড়েনি। মুহাম্মদ ইবন ইসহাক বলেন, দ্বিতীয় আদ বা ছামূদ জাতি  এদেরই বংশধর। অতপর কায়ল ইবন আনায যে কালো মেঘটি পছন্দ করেছিলো।  আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঐ মেঘটি কে তাদের দিকে পাঠালেন।  তারপর যখন তারা তাদের উপত্যকার দিকে আগত মেঘমালা দেখল, তখন বলল, এই তো মেঘ, আমাদের বৃষ্টি দান করবে। আল্লাহ বলেন, না! বরং ওটা তো তাই যা তোমরা ত্বরান্বিাত করতে চেয়েছ। এ একটা ঝঞ্ঝা বায়ু, যার মধ্যে রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। [আহকাফ: ২৪] এ জাতীয় আয়াত সূরা আরাফেও আছে। তবে মেঘমালার মধ্যকার আযাবটি ফাহাদ নামে এক মহিলা দেখতে পেয়েছিল। এবং সে তা দেখে বেহুঁস হয়ে পড়ে যায়। হুঁস ফিরলে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো ফাহাদ তুমি কি দেখেছিলে? সে বলল, দেখলাম একটা ঝঞ্ঝা বায়ু, তার মধ্যে যেন অগ্নিশিখা জলছে। তার অগ্রভাগে কয়েকজন লোক তা টেনে নিয়ে আসছে। তারপর আল্লাহ তাদের উপর আযাব অব্যাহত রাখেন একটানা সাত রাত ও আট দিন। চিরদিনের জন্য তাদের সবাই উৎখাত হয়ে যায় একজন লোকও অবশিষ্ট রইল না মুমিনরা ছাড়া। তখন হূদ আ. মুমিনদের সঙ্গে নিয়ে একটি প্রচির বেষ্টিত স্থানে চলে গেলেন। এ ঝড়ের আঘাত তাদের স্পর্শ করেনি। বরং এ বাতাস তাদের গায়ে আরো ,কমোলতা এনে দিলো। তাদের মনে ফূর্তি হতে লাগল। অথচ একি বায়ু কাফের সম্প্রদায়কে আসমান জমীন আঘাত হানছিলো এবং পাথর নিক্ষেপ করে তাদের ধ্বংশ করছিলো। অতপর একসময় আল্লাহ রাব্বুল তার প্রিয় বান্দা হূদ আ. কে তার কাছে নিয়ে গেলেন, হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত যে, হূদ আ. এর কবর ইয়ামেন দেশে অবস্থিত। কিন্তু অন্যরা বলেন, তার কবর দামেশকে। দামেশকের জামে মসজিদের সম্মুখ প্রাচিরের একটি স্থান সম্পর্কে কোন কোন লোকের ধারনা যে, এটা হযরত হূদ আ. এর কবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight