হযরত নূহ আ. এর কাহিনী পর্ব (২) সংকলন : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

সূরা নাহলে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আল্লাহর ইবাদত করার ও তাগূতকে বর্জন করার নির্দেশ দেয়ার জন্য আমি তো প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি।” [সূরা নং ১৬ : আয়াত নং ৩৬]
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমার পূর্বে আমি যেসব রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, তাদেরকে তুমি জিজ্ঞেস কর, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য সাব্যস্ত করেছিলাম, যাদের ইবাদত করা যায়? [সূরা নং ৪৩ : আয়াত নং ৪৫]
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আমি তোমার পূর্বে এমন রাসূল প্রেরণ করিনি তার প্রতি এ ওহী ব্যতীত যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর। [সূরা নং ২১ : আয়াত নং ২৫]
এ কারণেই নূহ আ. তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, “হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ নেই। আমি তোমাদের জন্য এক মহা দিবসের শাস্তির আশংকা করছি। [সূরা নং ৭ : আয়াত নং ৫৯]
সূরা হূদে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত কর না। আমি তোমাদের জন্য এক মর্মান্তিক দিনের শাস্তির আশংকা করছি। [সূরা নং ১১ : আয়াত নং ২৬]
তিনি আরো বলেন, “হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তোমরা কি সাবধান হবে না? [সূরা নং ৭ : আয়াত নং ৬৫]
মোটকথা, আল্লাহ তাআলা একথা জানিয়ে দেন যে, নূহ আ. তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহর প্রতি দাওয়াতের যত পদ্ধতি আছে তার সবই প্রয়োগ করেছেন। রাতে-দিনে, গোপনে-প্রকাশ্যে কখনো উৎসাহ দিয়ে, কখনো বা ভয় দেখিয়ে। কিন্তু এর কোনটিই তাদের মধ্যে কার্যক ফল বয়ে আনতে পারেনি বরং তাদের অধিকাংশই গোমরাহী, সীমালঙ্ঘন এবং মূর্তিপূজায় অটল থাকে এবং সর্বক্ষণ তাঁর বিরুদ্ধে শত্রুতা করতে থাকে। তাঁকে ও তাঁর ঈমানদার সঙ্গীদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে থাকে এবং তাঁদেরকে প্রস্তরাঘাতে মেরে ফেলার ও দেশ থেকে বের করে দেয়ার ভয় দেখাতে থাকে। তারা তাঁদের ক্ষতিসাধন করে এবং এ ব্যাপারে সীমা ছাড়িয়ে যায়।
“তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলেছিল, আমরা তো তোমাকে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে দেখতে পাচ্ছি। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! আমাতে কোন ভ্রান্তি নেই, আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূল। (অর্থাৎ তোমরা যে ধারনা করছ আমি ভ্রান্ত, আমি তা নই। বরং আমি সঠিক পথ ও হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত। আমি জগতসমূহের সে প্রতিপালকের রাসূল, যিনি কোন বস্তুকে ‘হও’ বললেই তা হয়ে যায়।) আমার প্রতিপালকের বাণী আমি তোমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছি ও তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিচ্ছি এবং তোমরা যা জান না, আমি তা আল্লাহর নিকট হতে জানি। [সূরা নং ৭ : আয়াত নং ৬০-৬২]
বলাবাহুল্য যে, একজন রাসূলের শান এমনিই হওয়া দরকার যে, তিনি হবেন বাকপটু। তাঁর ভাষা হবে সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল, লোকদেরকে তিনি হিতোপদেশ দিবেন এবং আল্লাহ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান হবে সর্বাধিক।
নূহ আ. এর বক্তব্যের জবাবে তারা বলল : “আমরা তো তোমাকে আমাদের মতই দেখছি অনুধাবন না করে তোমার অনুসরণ করছে তারাই, যারা আমাদের মধ্যে অধম এবং আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব দেখছি না, বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি। [সূরা নং ১১ : আয়াত নং ২৭]
নূহ আ. মানুষ হয়ে রাসূল হওয়ায় তাঁর সম্প্রদায় বিস্মিত হয় এবং যারা তাঁর অনুসরণ করেছিল তাদেরকে তাচ্ছিল্য করে ও হেয়প্রতিপন্ন করে। কথিত আছে যে, নূহ আ. এর বিরোধী সম্প্রদায় ছিল নেতৃস্থানীয় আর তাঁর অনুসারী ছিল সমাজের দুর্বল শ্রেণীর লোক। যেমন, রোম স¤্রাট হিরাকিয়াস বলেছিলেন, নবী-রাসূলদের অনুসারীরা দুর্বল শ্রেণীরই হয়ে থাকেন। এর কারণ হলো, সত্য অনুসরণের ব্যাপারে তাদের সম্মুখে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকে না।
বিরুদ্ধবাদীদের উক্তি “চিন্তা-ভাবনা ও বিচার-বিবেচনা না করে স্রেফ তোমার দাওয়াত শুনেই তারা সাড়া দিয়েছে।” কিন্তু এ কটাক্ষটি মূলত এমনই একটি গুণ যে কারণে তারা প্রশংসার্হ। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। কারণ, প্রকাশ্য সত্য চাক্ষুস দর্শন ও চিন্তা-ভাবনার অপেক্ষা রাখে না বরং তা প্রকাশ পাওয়া মাত্র তা স্বীকার করে নিয়ে তাঁর অনুসরণ করাই আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর সিদ্দীক রা. এর প্রশংসা করে বলেছিলেন, যাকেই আমি ইসলামের প্রতি আহ্বান করেছি প্রত্যেকেই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিল। কিন্তু আবু বকর এর ব্যতিক্রম। কারণ, তিনি এতটুকু বিলম্বও করেননি। আর এ কারণেই ছাকীফার দিনেও কোনরূপ চিন্তা-বিবেচনা না করেই দ্রুত তাঁর বায়আত সম্পন্ন হয়। কেননা, সাহাবাগণের কাছে অন্যদের উপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ছিল দিবালোকের মত স্পষ্ট। আর এ কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খেলাফত সম্পর্কে কিছু লিখতে গিয়েও তা বাদ দিয়ে বলেছিলেন, “আল্লাহ ও ঈমানদারগণ আবু বকর ছাড়া আর কারো ব্যাপারে রাযী হবেন না।”
নূহ আ. ও তাঁর ঈমানদার অনুসারীদের উদ্দেশে তাঁর সম্প্রদায়ের কাফেরদের উক্তি হলো, “তোমাদের ঈমান আনার পর আমাদের ওপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়নি। আমরা বরং তোমাদেরকে মিথ্যাবাদীই মনে করি। এর জবাবে নূহ আ. বলেন, “সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বল, আমি যদি আমার প্রতিপালক প্রেরিত স্পষ্ট নিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি এবং তিনি যদি আমাকে তাঁর নিজ অনুগ্রহ দান করে থাকেন, অথচ এ বিষয়ে তোমরা জ্ঞানান্ধ হও, আমি কি এ বিষয়ে তোমাদেরকে বাধ্য করতে পারি, যখন তোমরা তা অপছন্দ কর।” [সূরা নং ১৬ : আয়াত নং ২৮]
এই হলো তাদেরকে সম্বোধনে নূহ আ. এর কোমলতা অবলম্বন এবং সত্যের দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাদের সাথে ন¤্রতার অভিব্যক্তি। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন, “তার সঙ্গে তোমরা ন¤্র কথা বলবে, হয়ত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে। [সূরা নং ২০ : আয়াত নং ৪৪]
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন, “তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হেকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা কর সদ্ভাবে। [সূরা নং ২১ : আয়াত নং ১২৫]
ঠিক এ ধারায়ই নূহ আ. বলেছিলেন, “তোমরা আমাকে বল, আমি যদি আমার প্রতিপালকের প্রেরিত স্পষ্ট নিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি এবং যিনি আমাকে তাঁর নিজ অনুগ্রহে (তথা নবুওয়ত ও রিসালাত) দান করে থাকেন, অথচ তোমরা এ বিষয়ে জ্ঞানান্ধ হও, (অর্থাৎ তোমরা তা বুঝতে না পার ও তার দিশা না পাও,) আমি কি এ বিষয়ে তোমাদেরকে বাধ্য করতে পারি (অর্থাৎ আমার কোন জোর চলে না,) যখন তোমরা তা অপছন্দ কর? (অর্থাৎ তোমরা যখন তা অপছন্দ কর তখন তোমাদের ব্যাপারে আমার কোন কৌশল চলে না।) অর্থাৎ, হে আমার প্রম্প্রদায়! এর পরিবর্তে আমি তোমাদের নিকট ধন-সম্পদ চাই না। আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহরই কাছে, অর্থাৎ তোমাদের কাছে তোমাদের দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণকর বাণী পৌঁছানোর বিনিময়ে তোমাদের কাছে আমি কোন পারিশ্রমিক চাই না। তা চাই আমি একমাত্র আল্লাহর কাছে, যার প্রতিদান আমার জন্য তোমরা আমাকে যা দিবে তদপেক্ষা অনেক উত্তম ও স্থায়ী। [সূরা নং ১১ : আয়াত নং ২৯]
এ আয়াত প্রমান করে যে, সম্প্রদায়ের লোকেরা নূহ আ. এর নিকট তাঁর দুর্বল শ্রেণীর অনুসারীদেরকে তাঁর কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছিল এবং এ দাবি পূরণ করা হলে তারা তাঁর দলে ভিড়বে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নূহ আ. তা প্রত্যাখান করে বললেন, “এরা এদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।” অর্থাৎ আমার ভয় হয়, যদি আমি তাদের তাড়িয়ে দিই; তাহলে আল্লাহ তাআলার কাছে আমার বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ আনবে। তাই তিনি বলেন, “আর হে আমার সম্প্রদায়! আমি যদি তাদেরকে তাড়িয়ে দিই, তবে আল্লাহর শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করবে? তবুও কি তোমরা চিন্তা করবে না? [সূরা নং ১১ : আয়াত নং ৩০]
আর এ কারণেই কুরায়শ কাফেররা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিটক আম্মার, সুহায়ব, বিলাল ও খাব্বাব রা. প্রমুখ সমাজের দুর্বল শ্রেণীর মুমিনকে তাঁর সান্নিধ্য থেকে তাড়িয়ে দেয়ার যখন দাবি করেছিল; তখন আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ কাজ করতে নিষেধ করে দেন। সূরা আন‘আম ও সূরা কাহাফে আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। অর্থাৎ“আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধন-ভা-ার আছে আর না অদৃশ্য সম্বন্ধে আমি অবগত এবং আমি এও বলি না যে, আমি ফেরেশতা বরং আমি বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ আমাকে যা অবগত করিয়েছেন তা ব্যতীত তাঁর ইলমের কিছুই আমি জানি না, তিনি আমাকে যে কাজের শক্তি দান করেছেন; তা ব্যতীত কোন শক্তিই আমি রাখি না এবং তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত আমার নিজের কোন উপকার ও অপকারের ক্ষমতা আমার নেই। তোমাদের দৃষ্টিতে (আমার অনুসারীদের মধ্যকার) যারা হেয় তাদের সম্বন্ধে আমি একথা বলি না যে, আল্লাহ তাদেরকে কখনোই মঙ্গল করবেন না। তাদের অন্তরে যা আছে তা আল্লাহ সম্যক অবগত। তাহলে আমি অবশ্যই জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হব। অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে আমি এ সাক্ষ্য দিই না যে, আল্লাহর নিকট কেয়ামতের দিন তাদের জন্য কোন কল্যাণ নেই। তাদের সম্বন্ধে আল্লাহই ভালো জানেন এবং তাদের অন্তরে যা আছে অদূর ভবিষ্যতে আল্লাহ তার প্রতিফল দান করবেন। ভালো হলে ভালো আর মন্দ হলে মন্দ।” [সূরা নং ১১ : আয়াত নং ৩১]
যেমন অন্যত্র তারা বলেছিল, “আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব অথচ ইতরজনেরা তোমার অনুসরণ করছে? নূহ বলল, তারা কী করত তা আমার জানা নেই। তাদের হিসাব গ্রহণ তো আমার প্রতিপালকেরই কাজ; যদি তোমরা বুঝতে! মুমিনদেরকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয় আমি তো কেবল স্পষ্ট সতর্ককারী। [সূরা নং ২৬ : আয়াত নং ১১১-১১৪]
নূহ ও তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে এ বাদানুবাদ চলে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, “সে তাদের মধ্যে অবস্থান করেছিল পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর। তারপর প্লাবন তাদেরকে গ্রাস করে। কারণ তারা ছিল সীমালঙ্ঘনকারী। [সূরা নং ২৯ : আয়াত নং ১৪]
অর্থাৎ এত দীর্ঘকাল ধরে দাওয়াত দেওয়া সত্ত্বেও তাদের অল্প সংখ্যক লোকই তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিল এবং প্রত্যেক প্রজন্ম পরবর্তীদেরকে নূহ আ. এর প্রতি ঈমান না আনার এবং তাঁর সঙ্গে বিবাদ ও বিরুদ্ধাচরণের ওসীয়ত করে যেত। সন্তান বয়োপ্রাপ্ত ও বোধসম্পন্ন হলে পিতা একান্তে তাকে নূহের প্রতি জীবনে কখনো ঈমান না আনার ওসীয়ত করে দিত। তাদের সহজাত প্রকৃতিই ঈমান ও সত্যের বিরোধী ছিল।
এ জন্যই নূহ আ. বলেছিলেন, “তারা কেবল দুষ্কৃতকারী ও কাফের জন্ম দিতে থাকবে।” [সূরা নং ৭১ : আয়াত নং ২৭]
আর এ কারণেই সম্প্রদায়ের লোকেরা বলেছিল, “হে নূহ! তুমি আমাদের সঙ্গে বিত-া করেছ, তুমি বিত-া করেছ আমাদের সঙ্গে অতিমাত্রায়, সুতরাং তুমি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ তা আনয়ন কর। সে বলল, ইচ্ছা করলে আল্লাহই তোমাদের নিকট তা উপস্থিত করবেন এবং তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না। [সূরা নং ১১ : আয়াত নং ৩২-৩৩]
অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছি তা আনয়ন করার শক্তি আল্লাহর আছে। কোন কিছু তাকে ব্যর্থ করতে পারে না এবং কিছুতেই তাঁকে ব্যর্থকাম করতে পারে না বরং তিনি কোন বস্তুকে বলেন ‘হও’ সাথে সাথে তা হয়ে যায়।
“আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিতে চাইলেও আমার উপদেশ তোমাদের উপকারে আসবে না, যদি আল্লাহ তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে চান। তিনিই তোমাদের প্রতিপালক এবং তারই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তন করবে। [সূরা নং ১১ : আয়াত নং ৩৪]
অর্থাৎ, আল্লাহ কাউকে বিপথগামী করতে চাইলে তাকে পথে আনবার ক্ষমতা কারো নেই। তিনিই যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন, তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়; কে হেদায়েতের উপযুক্ত এবং কে বিভ্রান্ত হওয়ার যোগ্য সে সম্পর্কে জ্ঞানবান এবং পরম প্রজ্ঞা ও অকাট্য প্রমাণ তাঁরই।
অর্থাৎ নূহের প্রতি প্রত্যাদেশ হয়েছিল, যারা ঈমান এনেছে তারা ব্যতীত তোমার সম্প্রদায়ের আর কেউ কখনো ঈমান আনবে না। (এটা নূহের প্রতি তাঁর সম্প্রদায়ের শত্রুতা ও দুর্ব্যবহারের সান্ত¦না বাক্য। অর্থাৎ তাদের আচরণ তোমার কোন ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। কারণ সাহায্য নিকটে এবং আশ্চর্যজনক সংবাদ সম্মুখে আসছে।)
আর তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার প্রত্যাদেশ অনুযায়ী নৌকা নির্মাণ কর এবং যারা সীমালঙ্ঘন করেছে তাদের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বলো না। তারা তো নিমজ্জিত হবে। [সূরা নং ১১ : আয়াত নং ৩৬-৩৭]
এর কারণ হলো, নূহ আ. যখন তাদের সংশোধন ও মুক্তির ব্যাপারে নিরাশ হন এবং বুঝতে পারেন যে, তাদের মধ্যে কোন মঙ্গল নেই এবং সর্বপ্রকার আচরণ ও উচ্চারণ তাঁর নির্যাতন, বিরুদ্ধাচরণ ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার শেষ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে, তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদ দু‘আ করেন। ফলে আল্লাহ তাঁর আহ্বানে সাড়া দেন এবং তাঁর দু‘আ কবুল করেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, “নূহ আমাকে আহ্বান করেছিল আর আমি কত উত্তম সাড়া দানকারী। তাকে এবং তার পরিবারবর্গকে আমি উদ্ধার করেছিলাম মহা সংকট থেকে। [সূরা নং ৩৭ : আয়াত নং ৭৫-৭৬]
“স্মরণ কর নূহকে, পূর্বে সে যখন আহ্বান করেছিল তখন আমি তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল এবং তাকে ও তার পরিবারবর্গকে মহা সংকট থেকে উদ্ধার করেছিলাম। [সূরা নং ২১ : আয়াত নং ৭৬]
“নূহ বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার সম্প্রদায় তো আমাকে অস্বীকার করছে। সুতরাং তুমি আমার ও তাদের মধ্যে স্পষ্ট মীমাংসা করে দাও এবং আমাকে ও আমার সঙ্গে যে সব মুমিন আছে তাদেরকে রক্ষা কর। [সূরা নং ২৬ : আয়াত নং ১১৭-১১৮]
“নূহ তখন তাঁর প্রতিপালককে আহ্বান করে বলেছিল, আমি তো অসহায়। অতএব তুমি প্রতিবিধান কর। [সূরা নং ৫৪ : আয়াত নং ১০]
“হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সাহায্য কর, কারণ তারা আমাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করে। [সূরা নং ২৩ : আয়াত নং ৩৯]
“তাদের অপরাধের জন্য তাদেরকে নিমজ্জিত করা হয়েছিল। এবং পরে তাদেরকে দাখিল করা হয়েছিল আগুনে, তারপর তারা কাউকেও আল্লাহর মুকাবিলার সাহায্যকারী পায়নি। নূহ আরো বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! পৃথিবীতে কাফেরদের মধ্য থেকে কোন গৃহবাসীকে অব্যাহতি দিও না।
তুমি তাদেরকে অব্যাহতি দিলে তারা তোমার বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করবে এবং জন্ম দিতে থাকবে কেবল দুষ্কৃতিকারী ও কাফের। [সূরা নং ৭১ : আয়াত নং ২৫-২৭]
মোটকথা, যখন তাদের কুফরী অনাচার-পাপাচারসমূহ ও নবীর দুআ একত্র হয় তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে নৌকা নির্মাণ করার আদেশ করেন। সে এমন এক বিশাল জাহাজ যার কোন নজীর ছিল না। সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা নূহ আ. কে আগাম বলে রাখেন যে, যখন তাঁর আদেশ আসবে এবং অপরাধীদের প্রতি তাঁর অপ্রতিরোধ্য আযাব পতিত হয়ে যাবে; তখন যেন তিনি তাদের ব্যাপারে নমনীয়তা না দেখান। কেননা হতে পারে যে, নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি অবতীর্ণ আযাব স্বচক্ষে দেখে তাদের ব্যাপারে তাঁর মনে দয়ার উদ্্েরক হবে। কারণ সংবাদ কখনো চাক্ষুস দেখার সময় হয় না। আর এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেন, “যারা সীমালঙ্ঘন করেছে তাদের ব্যাপারে তুমি আমাকে কিছু বলো না, তারা তো নিমজ্জিত হবে। সে নৌকা নির্মাণ করতে লাগল এবং যখনই তার সম্প্রদায়ের প্রধানরা তার নিকট দিয়ে যেত তাকে উপহাস করত। (অর্থাৎ নূহ আ. তাদেরকে যে আযাবের ভয় দেখিয়েছিলেন তা সংঘটিত হওয়া সুদূর পরাহত মনে করে তারা তাকে নিয়ে ঠাট্টা করত)। [সূরা নং ১১ : আয়াত নং ৩৭-৩৮]
জবাবে নূহ আ. বললেন, “তোমরা যদি আমাদেরকে উপহাস কর তবে আমরাও তোমাদেরকে উপহাস করব যেমন তোমরা উপহাস করছ। অর্থাৎ তোমাদের কুফরীর উপর অটল থাকা এবং তোমাদের অবাধ্যতার জন্য যা তোমাদের জন্য আযাব ডেকে আনে, আমরাও তোমাদেরকে উপহাস করব। [সূরা নং ১১ : আয়াত নং ৩৮]
“তোমরা অচিরেই জানতে পারবে যে, কার উপর আসবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আর কার উপর আপতিত হবে স্থায়ী শাস্তি। [সূরা নং ১১ : আয়াত নং ৩৯]
বলাবাহুল্য যে, দুনিয়াতে জঘন্যতম কুফরী ও চরম অবাধ্যতা তাদের মজ্জাগত বিষয় হয়ে গিয়েছিল। আখেরাতেও তাদের অবস্থা অনুরূপই হবে। কারণ, কেয়ামতের দিন তারা তাদের কাছে রাসূল আগমন করার বিষয়টিও অস্বীকার করবে।
যেমন ইমাম বুখারী রহ. বর্ণনা করেন যে, আবু সাঈদ রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (কেয়ামতের দিন) নূহ আ. ও তাঁর উম্মত উপস্থিত হবেন। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি কি দীনের বাণী পৌঁছিয়েছিলে? নূহ আ. বলবেন, জী হ্যাঁ, হে আমার রব! তারপর আল্লাহ তাআলা তাঁর উম্মতকে জিজ্ঞাসা করবেন, নূহ কি তোমাদের নিকট দীনের দাওয়াত পৌঁছিয়েছিল? তারা বলবে, না, আমাদের নিকট কোন নবীই আসেনি। তখন আল্লাহ তাআলা নূহ আ. কে বলবেন, তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে কে? তিনি বলবেন, মুহাম্মদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মত। তখন উম্মতে মুহাম্মদী এ সাক্ষ্য দেবে যে, নূহ আ. তাঁর তাবলীগের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, “এভাবে আমি তোমাদেরকে এক মদ্যপন্থ’ী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি; যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষীস্বরূপ এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হবে। [সূরা নং ২ : আয়াত নং ১৪৩]
মোটকথা, এ উম্মত তাঁর সত্যবাদী নবীর সাক্ষ্যের সপক্ষে এ সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ তাআলা নূহ আ. কে সত্যসহ প্রেরণ করেছিলেন, তাঁর উপর সত্য নাযিল করেছিলেন এবং তাঁকে সত্যের অনুসরণ করার আদেশ দিয়েছিলেন আর তিনি তাঁর উম্মতের নিকট পরিপূর্ণরূপে তা পৌঁছে দিয়েছিলেন। দীনের ক্ষেত্রে তাদের জন্য উপকারী এমন কোন বিষয় সম্পর্কে তাদেরকে আদেশ দিতে ছাড়েননি এবং ক্ষতিকর এমন কোন বিষয় ছিল না, যা করতে তিনি নিষেধ করেননি। সকল নবীর শান এমনই হয়ে থাকে। এমনকি তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে দাজ্জাল সম্পর্কে পর্যন্ত সতর্ক করে দিয়েছিলেন, যদিও তাদের আমলে দাজ্জালের আবির্ভাবের কোন আশংকাই ছিল না। কওমের প্রতি দয়া অনুগ্রহবশত তিনি তা করেছিলেন।
ইমাম বুখারী রহ. বর্ণনা করেন যে, ইবন উমর রা. বলেছেন, রাসূল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন জনসাধারণের মধ্যে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তাআলার শানে উপযুক্ত প্রশংসা বর্ণনা করেন। তারপর দাজ্জালের কথা উল্লেখ করে বলেন, “তোমাদেরকে আমি তার ব্যাপারে সাবধনা করছি।” এমন কোন নবী নেই যে, আপন সম্প্রদায়কে তার ব্যাপারে সাবধান করেননি। নূহ আ.ও আপন সম্প্রদায়কে তার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছিলেন। তবে তার ব্যাপারে তোমাদেরকে আমি এমন একটি কথা বলে দেই যা কোন নবী তাঁর সম্প্রদায়কে বলেননি। তোমরা জেনে রেখ, সে এক চক্ষুবিশিষ্ট। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এক চক্ষুবিশিষ্ট নন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে যথাক্রমে আবু হোরায়রা রা. সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, রাসূল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি কি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে এমন একটি কথা বলব যা কোন নবী তাঁর সম্প্রদায়কে বলেননি? সে হলো কানা। আর সে নিজের সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসবে। যাকে সে জান্নাত বলবে, আসলে তাই হবে জাহান্নাম। আর আমি তোমাদেরকে তার সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি, যেমন নূহ আ. তাঁর সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিলেন।”
কোন কোন পূর্বসূরি আলেম বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন নূহ আ. এর দুআ কবূল করেন তখন তাঁকে নৌকা নির্মাণের উদ্দেশ্যে একটি বৃক্ষ রোপণ করার আদেশ দেন। ফলে নূহ আ. একটি বৃক্ষ রোপন করে একশ বছর অপেক্ষা করেন। তারপর পরবর্তী শতাব্দীতে তা কেটে কাঠ করে নেন। কারো কারো মতে, চল্লিশ বছর পরে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক রহ. বর্ণনা করেন যে, সে নৌকাটি শাল কাঠ দ্বারা নির্মাণ করা হয়েছিল। কেউ কেউ বলেন, দেবদারু কাঠ দ্বারা। আর এটি হল তাওরাতের বক্তব্য। ছাওরী বলেন, আল্লাহ তাআলা নূহ আ. কে আরো নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন নৌকাটি দৈর্ঘে আশি হাত, প্রস্থে পঞ্চাশ হাত করে তৈরি করেন। তার ভিতরে ও বাইরে আলকাতরা দ্বারা প্রলেপ দেন এবং তার এমন সরু গলুই নির্মাণ করেন, যা পানি চিরে অগ্রসর হতে পারে। কাতাদা বলেন, তাঁর দৈর্ঘ ছিল তিনশ হাত আর প্রস্থ পঞ্চাশ হাত। আমি তাওরাতে এমনই দেখেছি।
হাসান বসরী রহ. বলেন, দৈর্ঘ ছ’শ হাত আর প্রস্থ তিনশ হাত। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত দৈর্ঘ এক হাজার দু’শ হাত প্রস্থ ছ’শ হাত। কারো কারো মতে, দৈর্ঘ দু’হাজার হাত আর প্রস্থ এক’শ হাত। এরা সকলেই বলেন, তার উচ্চতা ছিল ত্রিশ হাত আর তা ত্রিতল বিশিষ্ট ছিল।
প্রতি তলা দশ হাত করে। নিচের তলা কীট-পতঙ্গ ও জীব-জানোয়ারের জন্য, দ্বিতীয় তলা মানুষের জন্য আর উপর তলা পাখ-পাখালির জন্য। তার দরজা ছিল পাশে এবং উপর দিকে ঢাকনা দ্বারা আবৃত। আল্লাহ তাআলা বলেন, নূহ বলেছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সাহায্য কর, কারণ তারা আমাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করছে। তারপর আমি তার প্রতি ওহী নাযিল করলাম যে, তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওহী অনুযায়ী নৌযান নির্মাণ কর। অর্থাৎ তোমাকে দেয়া আমার আদেশ অনুযায়ী এবং তোমার নির্মাণ কার্য আমার সরাসরি তত্ত্বাবধানে তুমি নৌযান নির্মাণ কর যাতে তা নির্মাণে আমি তোমাকে সঠিক নির্দেশনা দিতে পারি।
“তারপর যখন আমার আদেশ আসবে ও উনুন উথলে উঠবে; তখন তাতে তুলে নিও প্রতিটি জীবের এক এক জোড়া এবং তোমার পরিবার-পরিজনকে, তাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়ে আছে তারা ব্যতীত। আর জালিমদের সম্বন্ধে তুমি আমাকে কিছু বলো না, তারা তো নিমজ্জিত হবে। [সূরা নং ২৩ : আয়াত নং ২৭]
এখানে আল্লাহ তাআলা নূহ আ. কে আগাম নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন যে, যখন তাঁর আদেশ আসবে এবং তাঁর শাস্তি আপতিত হবে, তখন যেন তিনি বংশ ধারা রক্ষার জন্য সে নৌকায় প্রত্যেক জীব, সকল প্রাণী ও খাদ্য-দ্রব্য প্রভৃতির এক এক জোড়া উঠিয়ে নেয় এবং নিজের সাথে কাফেরদের ব্যতীত নিজের পরিবার-পরিজনকে তুলে নেন। তাঁর পরিবারে যারা কাফের তাদেরকে এজন্য বাদ দেয়া হয়েছে যে, তাদের ব্যাপারে অপ্রতিরোধ্য বদ দুআ কার্যকর হয়ে গেছে এবং তারা আযাবে নিপতিত হওয়া অবধারিত হয়ে গেছে। আর আল্লাহ তাআলা তাঁকে এ আদেশও দিয়ে রাখেন যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের মদ্যে আযাব এসে পড়লে যেন তিনি আল্লাহর নিকট কোন সুপারিশ না করেন। জমহুর উলামার কাছে “আত-তান্নুর” দ্বারা ভূপৃষ্ঠকে বুঝানো হয়েছে। এ হিসেবে আয়াতের অর্থ হলো, যখন ভূমি সর্বদিক থেকে উৎসারিত হবে এমনকি আগুনের আধার উনুন থেকে পর্যন্ত পানির ফোয়ারা নির্গত হবে। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, “আত-তান্নুর” হলো ভারতের একটি কূয়া। শা‘বাী কূয়াটি কুফার এবং কাতাদা রহ. আরব উপত্যকায় অবস্থিত ছিল বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আলী ইবনে আবূ তালিব রা. বলেন, “আত-তান্নুর” দ্বারা প্রভাতের আলো বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে তুমি প্রতি জীবের এক এক জোড়া এবং তোমার পরিবার-পরিজনকে নৌযানে তুলে নিও। তবে এ অভিমতটি ‘গারীব’ পর্যায়ের। [আল্লামা ইবনে কাসীর আদ-দামেশকী রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া থেকে গৃহীত]
লেখিকা : গ্রন্থ প্রণেতা, সম্পাদক ও প্রকাশক ‘মাসিক আল জান্নাত’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight