হযরত আদম আ.-এর সৃষ্টির ইতিহাস : সংকলন : আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জোবায়ের

 পূর্ব প্রকাশিতের পর..
আর হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী জান্নাতে বসবাস কর এবং যথা ও যেথা ইচ্ছা আহার কর; কিন্তু এ বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না, হলে তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সূরা আরাফ : ১৮-১৯]
অন্যত্র আল্লাহ তা’আলা বলেন- “স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, আদমের প্রতি সিজদাবনত হও; তখন ইবলীস ব্যতীত সকলেই সিজদা করল, সে অমান্য করল। তারপর আমি বললাম, হে আদম! এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্র“। সুতরাং সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, দিলে তোমরা দুঃখ পাবে। তোমার জন্য এ-ই রইল যে, তুমি জান্নাতে ক্ষুধার্ত হবে না এবং নগ্নও হবে না; এবং সেথায় পিপাসার্ত হবে না এবং রৌদ্র-ক্লিষ্টও হবে না। [সূরা ত্ব-হা : ১১৬-১১৯]
এ আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, হাওয়া আ.-এর সৃষ্টি আদম আ.-এর জান্নাতে প্রবেশের আগেই হয়েছিল। কারণ আল্লাহ তা’আলা বলেন, “হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর।” ইসহাক ইবনে বাশশার রহ. স্পষ্টরূপেই এ অভিতমত ব্যক্ত করেছেন।
কিন্তু সুদ্দী আবূ সালিহ ও আবু মালিকের সূত্রে ইবনে আব্বাস রা. থেকে এবং মুররা-এর সূত্রে ইবনে মাসউদ রা. ও কতিপয় সাহাবা থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা বলেন : আল্লাহ তাআলা ইবলীসকে জান্নাত থেকে বের করে দেন। আদম আ.-কে জান্নাতে বসবাস করতে দেন। আদম আ. তথায় নিঃসঙ্গ একাকী ঘুরে বেড়াতে থাকেন। সেখানে তাঁর স্ত্রী নেই, যার কাছে গিয়ে একটু শান্তি লাভ করা যায়। এক সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। জাগ্রত হয়ে দেখতে পেলেন যে, তাঁর শিয়রে একজন নারী উপবিষ্ট রয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা তাঁকে আদম আ.-এর পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করেন। দেখে আদম আ. তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কে হে? তিনি বললেন, যাতে আপনি আমার কাছে শান্তি পান। তখন ফেরেশতাগণ আদম আ.-এর জ্ঞানবত্ত যাচাই করার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আদম! উনার নাম কি বলুনতো! আদম আ. বললেন, হাওয়া। আবার তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা হাওয়া নাম হলো কেন? আদম আ. বললেন, কারণ তাঁকে ‘হাই’ (জীবন্ত সত্তা) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
মুহ্ম্মাদ ইবনে ইসহাক রহ. ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, হাওয়াকে আদম আ.-এর বাম পাঁজরের সবচাইতে ছোট হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তখন আদম আ. ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। পরে সে স্থানটি আবার গোশত দ্বারা পূরণ করে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন- “হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও যিনি তা হতে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন এবং তাদের দু’জন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দেন। [সুরা নিসা : ১]
অর্থাৎ- তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেন, যাতে সে তার নিকট শান্তি পায়। তারপর যখন সে তার সঙ্গে সংগত হয়, তখন সে এক লঘু গর্ভধারণ করে এবং তা নিয়ে সে অনায়াসে চলাফেরা করে। [সূরা আ‘রাফ : ১৮৯]
সহীহ বুখারি ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে যে, আবূ হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- “মহিলাদের ব্যাপারে তোমরা আমার সদুপদেশ গ্রহণ কর। কেননা, নারীদেরকে পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের উপরের অংশটুকুই সর্বাধিক বাঁকা। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও তাহলে ভেঙ্গে ফেলবে এবং আপন অবস্থায় ছেড়ে দিলে তা বাঁকাই থেকে যাবে। অতএব, মহিলাদের ব্যাপারে তোমরা আমার সদুপদেশ গ্রহণ কর।” পাঠটি ইমাম সুখারী রহ.-এর।
(ওলা তাকরাবা হাযিহিশ শাজারাতা) এআয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসিরগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, গাছটি ছিল আঙুরের। ইবনে আব্বাস রা. সাঈদ ইবনে জুবাইর, শাবী ও সুদ্দী রহ. থেকে এরূপ বর্ণিত আছে। ইবনে  আব্বাস, ইবনে মাসউদ রা. এবং আরো কতিপয় সাহাবা থেকে এক বর্ণনায় আছে যে, ইহুদীদের ধারণা হলো গাছটি ছিল গমের। ইবনে আব্বাস রা., হাসান বসরী রহ., ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ, আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লা থেকেও এ কথা বর্ণিত আছে। ওহাব রহ. বলেন, তার দানাগুলো ছিল মাখন অপেক্ষা নরম আর মধু অপেক্ষা মিষ্ট। ইবনে জুরায়জ মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, তাহলো ডুমুর গাছ। কাতাদা এবং ইবনে জুরায়জও এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
তবে এ মতভেদগুলো পরস্পর কাছাকাছি। কিন্তু লক্ষণীয় হলো এই যে, আল্লাহ তা’আলা নির্দিষ্ট করে এর নাম উল্লেখ করেননি। যদি এর উল্লেখ করার মধ্যে আমাদের কোন উপকার নিহিত থাকত; তাহলে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই নির্দিষ্ট করে তার উল্লেখ করে দিতেন। পবিত্র কুরাআনের আরো বহু ক্ষেত্রে এরূপ অস্পষ্ট রাখার নজীর রয়েছে।
তবে আদম আ. যে জান্নাতে প্রবেশ করেছিলেন, তার অবস্থান আসমানে না যমীনে; এ ব্যাপারে যে মতভেদ রয়েছে, তা বিস্তারিত আলোচনা ও নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। জমহুর উলামার মতে তা হচ্ছে আসমানে অবস্থিত জান্নাতুল মাওয়া। কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং বিভিন্ন হাদীসে যার ইঙ্গিত রয়েছে। যেমন এক আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন- “আমি বললাম, হে আদম! তুমি এবং তোমার সঙ্গিনী জান্নাতে বসবাস কর।
এ আয়াতে (আলজান্নাত) ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি বরং তদ্দারা সুনির্দিষ্ট একটি জান্নাতকে বুঝানো হয়েছে। তাহলো জান্নাতুল মাওয়া।
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু হুরায়রা রা. ও হুযায়ফা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- “আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে সমবেত করবেন। ফলে মুমিনগণ এমন সময়ে উঠে দাঁড়াবে, যখন জান্নাত তাঁদের নিকটে এসে যাবে। তারা আদম আ.-এর কাছে এসে বলবেন, হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য আপনি জান্নাত খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করুন! তখন তিনি বলবেন, তোমাদের পিতার অপরাধই তো তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিল!…..
এ হাদীসাংশ শক্তভাবে প্রমাণ করে যে, আদম আ. যে জান্নাতে বসবাস করেছিলেন, তা হলো জান্নাতুল মাওয়া। কিন্তু এ যুক্তিটিও বিতর্কের উর্ধ্বে নয়।
জমহুর উলামার বর্ণনায় প্রথম অভিমতের সমর্থন পাওয়া যায়। কাযী মাওয়ারদী রহ. তাঁর তাফসীরে বলেন, আদম আ. ও হাওয়া আ. যে জান্নাতে বসবাস করেন, তার ব্যাপারে দু’টি অভিমত রয়েছে। প্রথমত, তা জান্নাতুল খুলদ। দ্বিতীয় অভিমত হলো, তা স্বতন্ত্র এক জান্নাত যা আল্লাহ্ তা’আলা তাঁদের জন্য পরীক্ষা স্থল হিসাবে তৈরি করেন। এটা সে জান্নাতুল খুলদ নয়, যা আল্লাহ তা’আলা পুরস্কারের স্থান হিসেবে প্রস্তুত রেখেছেন।
আল্লাহ তা’আলা ইবলীশকে উদ্দেশ্য করে বলেন- “এখান থেকে তুমি ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায় বের হয়ে যাও।” [সূরা আ‘রাফ : ১৮]
“তুমি এখান থেকে বের হয়ে যাও, কারণ তুমি অভিসপ্ত।” [সূরা হিজর : ৩৪]
এ আয়াতগুলো থেকে বুঝাযায়, এটা জানা কথা যে, ইবলীসকে যে স্থান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, সেখানে সামান্যতম সময়ের জন্যেও তার অবস্থান থাকার কথা নয়- স্থায়ীভাবে বসবাস রূপেই হোক, আর কেবল পথ অতিক্রম রূপেই হোক। তাঁরা বলেন যে, কুরআনের বাহ্যিক বর্ণনাভঙ্গী থেকে এটাও প্রমাণিত যে, ইবলীস আদম আ.-কে এই বলে কুমন্ত্রণা দিয়েছিল যে- “হে আদম! আমি কি তোমাকে বলে দেব অনন্ত জীবনপ্রদ বৃক্ষের কথা এবং অক্ষয় রাজ্যের কথা? [সূরা ত্বোয়া-হা : ১২০]
“আর সে বলল, পাছে তোমরা উভয়ে ফেরেশতা হয়ে যাও  কিংবা তোমরা স্থায়ী হও এ জন্যই তোমাদের প্রতিপালক এ বৃক্ষ সম্বন্ধে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন। সে তাদের উভয়ের নিকট শপথ করে বলল, আমি তোমাদের হিতাকাক্সক্ষীদের একজন। এভাবে সে তাদেরকে প্রবঞ্চনা দ্বারা অধঃপতিত করল। [সূরা আ‘রাফ : ২০-২২]
এআয়াতগুলো স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, আদম আ. ও হাওয়ার সঙ্গে তাঁদের জান্নাতে ইবলীস-এর সাক্ষাৎ ঘটেছিল। তাঁদের এ প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে যে, নিয়মিত বসবাসের ভিত্তিতে না হলেও যাতায়াত ও আনাগোনার সুবাদে জান্নাতে আদম আ. ও হাওয়া আ.-এর সঙ্গে ইবলীস-এর একত্রিত হওয়া বিচিত্র নয়। কিংবা এও হতে পারে যে, জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে বা আকাশের নিচে থেকে ইবলীস তাঁদেরকে কুমন্ত্রণা দিয়েছিল। তবে তিনটি জবাবের কোনটিই সন্দেহমুক্ত নয়। আল্লহই সর্বজ্ঞ।
আদম আ. যে জান্নাতের বসবাস করেন, তার অবস্থান পৃথিবীতে হওয়ার সপক্ষে যারা মতপোষণ করেন, তার দলীল নিম্নের হাদীস- তা হলো- উবাই ইবনে কা’ব রা. সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনে ইমাম আহমদ যিরাদাতে বর্ণনা করেন যে, উবাই ইবনে কা’ব রা. বলেছেন, মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে আদম আ.-এর জান্নাতের আঙ্গুর খাওয়ার আকাক্সক্ষা হলে তাঁর সন্তানরা আঙ্গুরের সন্ধানে বের হন। পথে তাঁদের সঙ্গে ফেরেশতাগণের সাক্ষাৎ ঘটে। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আদমের সন্তানরা! তোমরা যাচ্ছ কোথায়? তাঁরা বললেন, আমাদের পিতা জান্নাতের এক ছড়া আঙ্গুর খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ফেরেশতাগণ বললেন, “তোমরা ফিরে যাও, তোমরা তার জন্য যথেষ্ট করেছ, আর দরকার নেই।” অগত্যা তাঁরা আদম আ.-এর নিকট ফিরে গেলেন। ফেরেশতাগণ আদম আ.-এর রূহ কবয করে গোসল দিয়ে সুগন্ধি মাখিয়ে তাঁকে কাফন পরান। তারপর অন্যান্য ফেরেশতাকে নিয়ে জিবরাঈল আ. তাঁর জানাযার নামায আদায় করে তাঁকে দাফন করেন। এরপর তাঁরা বলল, এ হলো তোমাদের মৃতদের ব্যাপারে তোমাদের করণীয় সুন্নত।
এ হাদীসের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অভিমতের সমর্থকগণ বলেন- আদম আ. যে জান্নাতে বসবাস করেছিলেন, তাতে পৌঁছানো যদি সম্ভব না হতো, তাহলে আদম আ.-এর সন্তানরা তাঁর অনুসন্ধানে বেরই হতেন না। অতএব, প্রমাণিত হলো যে, সে জান্নাত ছিল পৃথিবীতে- আসমানে নয়। আল্লাই সর্বজ্ঞ।
তাঁরা আরো বলেন, মহান আল্লাহর ঘোষণা- “হে আদম! তুমি  ও তোমার সঙ্গিনী জান্নাতে বসবাস কর এবং যথা ও যেথা ইচ্ছা আহার কর কিন্তু এ বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না; হলে তোমার জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সূরা বাকারা : ৩৫] এ আয়াতে “জান্নাত” বলতে আসমানের জান্নাত বুঝানো হয়নি বরং আদম আ. আসমানে বক্তব্যের পূর্বাপর দৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে, তা ছিল দুনিয়াতে অবস্থিত। কেননা, আদম আ.-কে সৃষ্টি করা হয়েছে পৃথিবী থেকে। আর কোথাও এ কথার উল্লেখ পাওয়া যায় না যে, তাঁকে আসমানে তুলে নেয়া হয়েছিল। তাছাড়া তাঁকে সৃষ্টিই করা হয়েছে পৃথিবীতে থাকার জন্য।
আর আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাগণকে এ বলে তা জানিয়েও দিয়েছিলেন যে- “পৃথিবীতে আমি প্রতিনিধি বানাচ্ছি।”
তাঁরা আরো বলেন- এটাই বাস্তব যে, আল্লাহ তা’আলা আদম আ.-কে যে জান্নাতে থাকতে দিয়েছিলেন, তা ছিল সমগ্র ভূখণ্ড থেকে উঁচু বৃক্ষরাজি, ফল-ফলাদি, ছায়া ভোগ-সামগ্রী ও সুখ সমৃদ্ধ একটি মনোরম উদ্যান। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন- “সেখানে তোমার অভ্যন্তর ক্ষুধার জ্বালায় এবং বহির্দেহ রৌদ্রের দাহনে ক্লিষ্ট হবে না।” [সূরা ত্বোয়া-হা : ১১৮]
“তথায় তোমার ভেতরাংশ পিপাসার উষ্ণতা এবং বহিরাংশ সূর্যের তাপ স্পর্শ করবে না। [সূরা ত্বোয়া-হা : ১১৯]
পরস্পর সাযুজ্য থাকার কারণে আল্লাহ তা’আলা এ দু’আয়াতে ক্ষুধা ও বিবস্ত্রতাকে একসাথে এবং পিপাসার উষ্ণনা ও সূর্যের দহনকে একসাথে উল্লেখ করেছেন।
তারপর নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ করে ফেললে আল্লাহ তা’আলা আদম আ.-কে দুঃখ-কষ্ট, পংকিলতা, শ্রম-সাধনা, বিপদাপদ, পরীক্ষা, অধিবাসীদের দীন-ধর্ম, স্বভাব-চরিত্র, কার্যকলাপ, কামনা-বাসনা ও উচ্চারণ আচরণগত বৈপরিত্যপূর্ণ পৃথিবীপৃষ্ঠে নামিয়ে দেন। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন- “পৃথিবীতে কিছুকালের জন্য তোমাদের বসবাস ও জীবিকা রয়েছে। [সূরা বাকারা : ৩৬]
এতে একথা প্রমাণিত হয় না যে, তাঁরা আগে আসমানে ছিল। যেমন এক আয়াতে আল্লাহ ত’আলা বলেন- “এরপর আমি বনী ইসরাঈলকে বললাম, তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে বসবাস কর। এবং যখন কিয়ামতের প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়িত হবে, তখন তোমাদের সকলকে আমি একত্র করে উপস্থিত করব। [সূরা বনী ইসরাঈল : ১০৪]
কিন্তু এটা সর্বজনবিদিত যে, বনী ইসরাঈলের বসবাস এ পৃথিবীতেই ছিল- আসমানে নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight