হজ ও কুরবানি সম্পর্কিত নির্বাচিত আয়াত

১. তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরা পূর্ণ কর, কিন্তু তোমরা যদি বাঁধাপ্রাপ্ত হও তবে সহজলভ্য কুরবানী কর। যে পর্যন্ত কুরবানীর পশু উহার স্থানে না পৌঁছে  তোমরা মস্তক মু-ন করো না। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয় কিংবা মাথায় ক্লেশ থাকে তবে সিয়াম কিংবা সদকা কিংবা কুরবানীর দ্বারা তার ফিদয়া দিবে। যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজের প্রাক্কালে উমরা দ্বারা লাভবান হতে চায় সে সহজলভ্য কুরবানী করবে। কিন্তু যদি কেউ তা না পায় তবে তাকে হজের সময় তিন দিন এবং গৃহে প্রত্যাবর্তনের সময় সাত দিন এই পূর্ণ দশ দিন সিয়াম পালন করতে হবে। এটা তাদের জন্য, যাদের পরিজনবর্গ মসজিদুল হারামের বাসিন্দা নয়। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর। [সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৯৬-২০৩]
২. নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে কেউ কাবা গৃহের হজ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে এই দুইটির মধ্যে সাঈ করলে তার কোন পাপ নেই আর কেউ স্বতঃস্ফুর্তভাবে সৎকর্ম করলে আল্লাহ তো পুরস্কারদাতা সর্বজ্ঞ। [সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৫৮]
৩. এবং সেই সময়কে স্মরণ কর, যখন কা‘বাগৃহকে মানবজাতির মিলনকেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল করেছিলাম এবং বলেছিলাম তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর। এবং ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে তাওয়াফকারী ইতিকাফকারী রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য আমার গৃহকে পবিত্র রাখতে আদেশ দিয়েছিলাম। [সূরা বাকারাহ : আয়াত ১২৫]
৪. আকাশের দিকে তোমার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্য লক্ষ্য করি। সুতরাং তোমাকে অবশ্যই এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিতেছি যা তুমি পছন্দ কর। অতএব তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরাও। তোমরা যেখানেই থাক না কেন তার দিকে মুখ ফিরাও এবং যাদেরকে  কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা নিশ্চিতভাবে জানে যে, ইহা তাদের প্রতিপালকের প্রেরিত সত্য। তারা যা করেন সে সম্বন্ধে আল্লাহ অনবহিত নন। [সূরা বাকারাহ : আয়াত ১৪৪]
৫. তোমরা নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনগুলিতে আল্লাহকে স্মরণ কর। যদি কেউ তারাতারি করে দুই দিনে চলে আসে তবে তার কোন পাপ নাই আর যদি কেউ বিলম্ব করে তবে তারও কোন পাপ নাই। ইহা তার জন্য, যে তাকওয়া অবলম্বন করে। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ যে, তোমাদেরকে অবশ্যই তাঁর নিকট একত্র করা হবে। [সূরা বাকারাহ : আয়াত ২০৩]
৬. মহান হজের দিবসে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে মানুষের প্রতি ইহা এক ঘোষণা যে, নিশ্চয়ই মুশরিকদের সম্পর্কে আল্লাহ দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও। তোমরা যদি তওবা কর তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর তোমরা যদি মুখ ফিরাও তবে জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহকে হীনবল করতে পারবে না এবং কাফেরদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও। [সূরা তাওবা: আয়াত ৩]
৭. হে মুমিনগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র; সুতরাং এই বৎসরের পর তারা যেন মসজিদুল হারামের নিকট না আসে। যদি তোমরা দারিদ্রের আশংকা কর তবে আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাঁর নিজ করুণায় তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। [সূরা তাওবা : আয়াত ২৮]
৮. এবং মানুষের নিকট হজ এর ঘোষণা করে দাও, তারা তোমাদের নিকট আসবে পদব্রজে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উষ্ট্রের পিঠে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। [সূরা হাজ্জ : আয়াত ২৭]
৯. অতঃপর তারা যেন তাদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করে এবং তাদের মান্নত পূর্ণ করে এবং তাওয়াফ করে প্রাচীন গৃহের। [সূরা হাজ্জ : আয়াত ২৯]
১০. এবং উষ্ট্রীকে করেছি আল্লাহর নিদর্শনগুলির অন্যতম; তোমাদের জন্য তাতে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দ-ায়মান অবস্থায় তাদের উপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর। যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা তা হতে আহার কর এবং আহার করাও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে ও যাচ্ঞাকারী অভাবগ্রস্তকে; এইভাবে আমি তাদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। [সূরা হাজ্জ : আয়াত ৩৬]
১১. নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা তো বাক্কায়, তা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারী। [সূরা আলে-ইমরান : আয়াত ৯৬]
১২. তাতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, যেমন মাকামে ইবরাহীম। আর যে কেউ সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য। এবং কেউ প্রত্যাখান করলে সে জেনে রাখুক নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন। [সূরা আলে-ইমরান: আয়াত ৯৭]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight