হজ আদায়ে আমরা যে সকল ভুল-ভ্রান্তি করে থাকি / মুফতী পিয়ার মাহমুদ

আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে মুমিন বান্দাকে এমন কিছু ইবাদত দান করেছেন যার দ্বারা সে আত্মার প্রশান্তি এবং দুনিায়া ও আখেরাতের সীমাহীন বরকত ও কল্যাণ লাভ করে থাকে। এ জাতীয় ইবাদতেরই একটি হলো হজ। হজের ফযীলত বর্ণনায় আবু হুরায়রা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি অশ্লীলতা ও কটূক্তি থেকে বিরত থেকে হজ কার্য সম্পন্ন করে সে সদ্যপ্রসূত সন্তানের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে।’ [সহিহ বুখারী : ১৫২১] অন্য বর্ণনায় আছে, আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো, কোন আমলটি সর্বোৎকৃষ্ট ? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা। আবার প্রশ্ন করা হলো, এরপর কোন আমলটি সর্বোৎকৃষ্ট ? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। আবার প্রশ্ন করা হলো, এরপর কোন আমলটি সর্বোৎকৃষ্ট ? তিনি বললেন, হজে মাবরুর (যে হজ আল্লাহর দরবারে কবূল হয়েছে)।’ [সহিহ বুখারী : ১৫১৯] আয়েশা রা. বলেন, ‘আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! জিহাদ অতি উৎকৃষ্ট মানের একটি আমল। অতএব আমরা কি জিহাদ করব না ? তিনি বলেলন, না, তোমরা জিহাদ করবে না। তবে তোমাদের উৎকৃষ্ট জিহাদ হলো, হজে মাবরুর।’ [সহিহ বুখারী : ১৫২০] অন্য এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তির দায়িত্বভার আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করেছেন। ১. যে ব্যক্তি কোন মসজিদের দিকে বের হয়। ২. যে ব্যক্তি আল্লাহ পথে জিহাদে বের হয়। ৩. যে ব্যক্তি হজের উদ্দেশে বের হয়। [হিলয়াতুল আওলিয়া : ৯/২৬২] এছাড়াও বহু হাদীসে হজের বিভিন্ন ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সঠিক মাসআলা জানা না থাকার কারণে সম্মানিত হাজী সাহেবান হজের ফযীলত থেকে মাহরুম হয়ে থকেন এবং অনেক সময় অজান্তেই তা ফসিদ হয়ে যায়। মাসআলা জানা না থাকর ফলে পরবর্তীতে তা আর কাযাও করা হয় না। তাই আমরা বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে হাজীগণ হজ আদায় করতে গিয়ে সাধারণত যে সব ভুল-ভ্রান্তি করে থাকেন, সেসব ভ্রান্তি ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
হজ ফরজ হওয়ার আলোচনা : ১. অনেকে মনে করে থাকেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত নগদ ক্যাশ না থাকলে হজ ফরজ হয় না। ফলে হজ করা থেকে বিরত থাকেন। অথচ নগদ ক্যাশ ছাড়াও তার এ পরিমাণ সম্পদ রয়েছে যার জন্য উপর হজ ফরজ হয়। এমনকি অনেকে এই ভ্রান্তিতে থেকেই মৃত্যুবরণ করেন। তাই এ ব্যাপারে সঠিক মাসআলা জেনে আমল করা উচিত। এ ক্ষেত্রে সহীহ মাসআলা হলো, কারো নিকট নগদ ক্যাশ নেই বটে, তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি, ঘর, প্লট, ফ্যাট, আসবাব-পত্র, ব্যবসার সামগ্রী ইত্যাদি রয়েছে এবং তা বিক্রি করলে হজের খরচ ও হজ থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবার-পরিজনের যাবতীয় খরচের ব্যবস্থা হয়ে যায়, তাহলে তার উপর হজ ফরজ। [রদ্দুল মুহতার : ৩/৪৬০-৪৬১; হিন্দিয়া : ১/২১৭-২১৮; মুআল্লিমুল হুজ্জাজ : ৮১; আহসানুল ফাতওয়া : ৪/৫৪২] ২. অনেক বিত্তশালী মানুষকে দেখা যায় যে, তারা হজ বিলম্বে করে থাকেন। এবং বলেন যে, চুল-দাড়ি পাকেনি; চুল-দাড়ি সাদা হলে হজ করব। অনেকে আবার ¯্রফে অলসতা করে বিলম্ব করে থাকেন। অথচ এরূপ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যে বৎসর হজ ফরজ হবে সে বৎসরই হজ করা ওয়াজিব। শরয়ী ওযর ব্যতিত বিলম্ব করা জায়িয নেই। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত। [রদ্দুল মুহতার : ৩/৪৫৪-৪৫৫; হিন্দিয়া : ১/২১৬; হিদায়া : ১/২৩২; আহসানুল ফাতওয়া ৪/৫৩৮] ৩. অনেকে ধারণা করে, শেষ বয়সে হজ করব। এ ধারণা মারাত্মক ভুল ও অজ্ঞতার পরিচায়ক। কারণ হজের কাজসমূহ কষ্টসাধ্য। বৃদ্ধ বয়সে সঠিকভাবে তা আদায় করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। তাই যৌবনকালেই হজ করা উচিত, যেন হজের কাজসমূহ সহজে সঠিকভাবে আদায় করা সম্ভব হয়।
ইহরামের আলোচনা : ৪. অনেক হাজী সাহেব ইহরাম বাঁধার আগের দই রাকআত নামাযকে জরুরী মনে করে থাকেন। তাই এই দুই রাকআত নামাযের সুযোগ না পাওয়ার কারণে ইহরাম বিলম্বিত করতে থাকেন। এমনকি এ নামায পড়তে না পারার কারণে অনেকে মীকাতের ভিতর পযর্ন্ত চলে যায়। এটা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে সহীহ মাসআলা হলো, ইহরামের আগে দুই রাকআত নামায পড়া মুস্তাহাব; জরুরী কিছু নয়। পক্ষান্তরে ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম নাজায়িয। তাই ইহরামের আগে এ নামযের সুযোগ পেলে আদায় করবেন। সুযোগ না পেলে এ কারণে ইহরাম বাঁধতে কোন প্রকার বিলম্ব করবেন না। [মুসলিম : ১/৩৭৬; মানাসিক :  ৯৯; গুনয়াতুন নাসিক : ৭৩, হিদায়া : ১/২৩৬-২৩৭) ৫. অনেকে মনে করেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি উরীদুল হাজ্জা ফা ইয়াসসিরহু লী ওয়া তাকাব্বাল মিন্নী’ – এই দুআটি পড়লেই ইহরাম বাঁধা পর্ণ হয়ে যায়। এ ধারণা ভুল। কারণ কেবল এ দুআ পড়লেই ইহরাম পূর্ণ হয় না; এটি কেবল নিয়তের বহিঃপ্রকাশ। বরং নিয়তের পর তালবিয়াও পড়তে হবে। তাহলেই ইহরাম পূর্ণ হবে। [তিরমিযী : ১/১০২;হিদায়া : ১/২৩৬-২৩৭] ৬. অনেকেই মনে করেন যে, ইহরাম বাঁধলেই ইহরামের যাবতীয় হুকুম-আহকাম আরোপিত হয়ে যাবে। এই ভয়ে জিদ্দায় ইহরাম বাঁধার ইচ্ছায় ইহরামকে জিদ্দা পর্যন্ত বিলম্বিত করে থাকেন। অথচ সহীহ মাসআলা হলো, মীকাতের বাইরের হাজীদের ইহরাম ব্যতীত মীকাত অতিক্রম করা জায়িয নেই। উপমহাদেশের হাজীগণের মীকাত হলো, কারনুল মানাযিল ও যাতুল ইরক। যা অতিক্রম করেই বিমান জেদ্দায় অবতরণ করে। তাই বিমানে ওঠার আগ মুহূর্তে কিংবা বিমানে উঠে মীকাত অতিক্রমের আগেই ইহরামের নিয়ত করে তালবিয়া পড়ে ইহরাম সম্পন্ন করে নেয়া উচিত। আর যদি ঢাকা থেকে সরাসরি মদীনা মুনাওয়ারা যাওয়া হয়, তাহলে মদীনা থেকে মক্কা যওয়ার সময় কিংবা মদীনাবাসীর মীকাত যুল হুলাইফা (যা বর্তমানে বীরে আলী নামে পরিচিত) থেকে ইহরাম বেঁধে নিবে। যদি কেউ ইহরাম ব্যতীত মীকাত অতিক্রম করে, তাহলে পুনরায় মীকাতে ফিরে এসে ইহরাম বাঁধা জরুরী। যদি না করে তবে দম ওয়াজিব হবে। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা চাই। [হিদায়া : ২/২৩৪; গুনয়াতুন নাসিক : ৫০; আহকমে হজ : ৪১] ৭. অনেক হাজী সাহেবকে দেখা যায় যে, ইহরামের কাপড় না পড়েই বিমানে উঠে যায়। পরে যখন বিমানে থাকা অবস্থায় পরিধানের কাপড় পাল্টিয়ে ইহরমের কাপড় পরিধান কষ্টকর হয় অথবা কাপড় লাগেজে থেকে যায়, তখন তারা সেলাইবিহীন কাপড় না পাওয়ার কারণে ইহরাম বাঁধতে বিলম্ব করেন। এমকি এক পর্যায়ে ইহরাম ছাড়াই মীকাত অতিক্রম করে ফেলেন। ফলে দম ওয়াজিব হয়। এক্ষেত্রে উচিত ছিল, সেলাই করা কাপড় পরিহিত অবস্থায়ই ইহরামের নিয়ত করে তালবিয়া পড়ে ইহরাম সম্পন্ন করে নেয়া এবং বিমান থেকে নেমেই ইহরামের কাপড় পড়ে নেয়া। তাহলে তার অপরাধটা দম ওয়াজিব হওয়ার মতো বড় হত না; বরং তখন একটি পূর্ণ সদকায়ে ফিতর আদায় করে দিলেই চলত। কারণ ইহরাম অবস্থায় সেলাইযক্ত কাপড় পরিধান করে ১২ ঘন্টা বা এর বেশি থাকলে দম ওয়াজিব হয়। এর কম অন্তত ১ ঘণ্টা থাকলে একটি পূর্ণ সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয়। আর এক ঘণ্টার কম থাকলে সামান্য কিছু দিলেই চলবে। [তিরমিযী : ১/১৭১; মানাসিক, মুল্লা আলী কারী : ৩০০-৩০১; রদ্দুল মুহতার : ৩/৫৭৭] ৮. অনেক হাজী সাহেবকে দেখা যায় যে, ইহরামের কাপড়টি ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার আগ পযর্ন্ত পরিবর্তন করেন না। তাদের ধারণা এমনটি করা যাবে না। মূলত এটি একটি ভুল ধারণা। সঠিক মাসআলা হলো, ইহরামের কাপড় নাপাক না হলেও পরিবর্তন করা যাবে। [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা : হাদীস : ১৫০১০-১৫০১১; মানাসিক : ৯৮] ৯. অনেক তামাত্তু হজকারী হজ ও উমরার ইহরাম এক সাথে বেধে থাকেন এরূপ করা ঠিক নয়। এক্ষেত্রে সহীহ মাসআলা হলো, হজের মাসসমূহে মীকাত (মীকতের আলোচনা পূর্বে করা হয়েছে) থেকে শুধু উমরার নিয়তে ইহরাম বেঁেধ উমরা পালন শেষে হালাল হবে। এরপর হজের সময় হজের নিয়তে আবার ইহরাম বেঁধে হজের কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। [তিরমিযী : ১/১০২; রদ্দুল মুহতার : ৩/৫৬১-৫৬৪] ১০. অনেক হাজী সাহেবকে এই ভ্রান্তির শিকার হতে দেখা যায় যে, ইহরামের শুরু থেকেই ইজতিবা করে থাকেন (পুরুষের ইহরামের কাপড়ের ডান দিকের অংশ ডান বগলের নিচ দিয়ে বের করে বাম কাঁধের উপর রাখাকে ইজতিবা বলে) এবং হালাল হওয়া পযর্ন্ত এ অবস্থায় থাকা জরুরী মানে করে। এটি সর্ম্পূণ ভ্রান্ত ধারণা। এভাবে নামায আদায় করলে নামায মাকরুহ হবে। আবার কোন কোন হাজী সাহেব তাওয়াফের সময় ইজতিবা করেন। তওয়াফ পরবর্তী সাঈতেও ইজতিবা করে থাকেন এবং এটাকে তারা জরুরী মনে করে থাকেন। অথচ ইজতিবা কেবল সেই তাওয়াফেই করতে হয়, যেই তওয়াফের পর সাঈ করতে হয়। সুতরাং ইজতিবা কেবল তওয়াফের সময়ের আমল। তাই সাঈতে ইজতিবে করা যাবে না। এবং নফল তাওয়াফেও ইজতিবার কোন বিধান নেই। কারণ নফল তাওয়াফের পর কোন সাঈ নেই। [রদ্দুল মুহতার : ৩/৫০৭; গুনয়াতুন নাসিক : ১০৬; আহকমে হজ : ৫৪] ১১. অনেক পর্দানাশীন মা-বোন মনে করেন যে, ইহরাম অবস্থায় চেহারার পর্দা করা যাবে না। কারণ ইহরাম অবস্থায় নারী-পুরুষ সকলের জন্যই চেহারায় কাপড় স্পর্শ করা নিষেধ। ফলে অনেক পর্দানাশীন নারীকেই পুরো হজের সফরে চেহারা খুলে চলা-ফেরা করতে দেখা যায়। অথচ এ অবস্থায়ও পর্দা করা জরুরী। অন্য সময়ের মাতো ইহরাম অবস্থায়ও পর্দা করা জরুরী। পরপুরুষের সামনে চেহারা খোলা রাখা যাবে না। তবে এ দিকে খেয়াল রাখতে হবে, কাপড় যেন চেহারা স্পর্শ করতে না পারে। এ জন্য বর্তমানে এক ধরনের ক্যাপবিশিষ্ট নেকাব পওয়া যায়; যা পরিধান করে উপর দিয়ে নেকাব ঝুলিয়ে দিলে চেহারার পর্দাও হয়ে যায় আবার নেকাব চেহারার সাথে লেগেও থাকে না। হ্যাঁ, বাতাসে কিংবা চলা-ফেরার সময় মাঝে-মধ্যে চেহারায় নেকাব লেগে গেলে এতে কোন অসুবিধা নেই। [আবু দাউদ : ১/২৫৪; মানাসিক, মুল্লা আলী কারী : ১১৫; রদ্দুল মুহতার : ৩/ ৪৯৭] ১২. অনেক হাজী সাহেব বাইতুল্লাহ শরীফ পৌঁছার পর আবেগের আতিশায্যে ইহরামের কথা ভুলে গিয়ে বাইতুল্লাকে আলিঙ্গন করেন, স্পর্শ করেন। এতে বাইতুল্লাহ শরীফের গিলাফের চারদিকেই প্রায় ৭/৮ ফুট পযর্ন্ত লাগনো সুগন্ধি হাতে বা দেহের যে কোন অংশে লেগে যেতে পারে। যা ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ। যেহেতু ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধির ব্যবহার নিষিদ্ধ, তাই এ সময় আবেগের বশবর্তী না হয়ে হুঁশকে কাজে লাগিয়ে এ ভুল থেকে বেঁচে থাকতে হবে। একটু সতর্ক হলেই এ থেকে বেচে থাকা সম্ভব। [মানাসিক : ১২১; হিদায়া : ১/২৩৯; রদ্দুল মুহতার : ৩/৪৯৬]
তওয়াফের আলোচনা : ১৩. অনেক হাজী সাহেব তওয়াফের প্রতি চক্করে ভিন্ন ভিন্ন নির্দিষ্ট দুআ পড়াকে জরুরী মনে করেন। ফলে নির্দিষ্ট দুআগুলো শেষ হয়ে গেলে অন্য কোন দুআ পড়েন না। অনেকে আবার নির্দিষ্ট দুআগুলো মুখস্থ না থাকলে অন্যের সাহায্য নেন। এমনকি জামাতবদ্ধ হয়ে তওয়াফ করে এবং জামাতের একজন দেখে দেখে বা মুখস্থ উঁচ আওয়াজে দুআগুলো পড়েন। তার সঙ্গে সকলেই সমস্বরে দুআগুলো পড়তে থাকেন। তওয়াফে নির্দিষ্ট দুআ পড়া জরুরী নয়; সুন্নতও নয়। এ সময় কুরআন-হাদীস বা সাহাবয়ে কিরাম রা. থেকে বর্ণিত যে কোন দুআই পড়া যায়। এমনিভাবে অন্য যে কোন ভাল দুআও পড়া যেতে পারে। দুআ আরবী হওয়াও জরুরী নয়। নিজ ভাষায়ও করা যায়। আর দলবদ্ধভাবে দুআ পড়ার নিয়মকেও পরিহার করা উচিত। কারণ এভাবে দুআ পড়ার রেওয়াজ কুরআন-হাদীস সমর্থিত নয় এবং এতে অন্যদের একাগ্রতা বিনষ্ট হয় ও মাতাফে অস্বভাবিক ভিড় সৃষ্টি হয়। ফলে অন্যদের তা কষ্টের কারণ হয়। তাই এ রেওয়াজ পরিত্যাগ করা জরুরী। [আহকমে যিন্দেগী :  ২৫৬; মাসাঈলুল হজ ওয়াল উমরাহ : ৪৫-৪৬,১৩৮] ১৪. কোন কোন সময় মাতাফে অস্বাভাবিক ভিড় হয়। এই অস্বাভাবিক ভিড়েও কোন কোন হাজী সাহেবকে রমল করতে দেখা যায়। অবস্থা দেখে মনে হয় রমল তওয়াফের ফরজ অংশ। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। রমল করা সুন্নত। তাই রমল ছাড়াও তওয়াফ আদায় হয়ে যাবে। সুতরাং এই প্রচ- ভিড়ে অন্যকে কষ্ট দিয়ে রমল করবে না; বরং স্বাভাবিকভাবেই চলবে। চলন্ত অবস্থায় সুযোগ পেলে এবং অন্যদের কষ্ট না হলে স্বাভাবিক গতিতেই সামান্য লাফিয়ে রমল করবে। এতেই রমল আদায় হয়ে যাবে। [হিদায়া ১/২২৬; রদ্দুল মুহতার : ৩/৫১০-৫১১] ১৫. কখনো কখনো মহিলাদেরকেও রমল করতে দেখা যায়। অথচ মহিলাদের রমল করা নিষেধ। তাই তারা রমল করা থেকে বিরত থাকবে। [হিন্দয়া : ১/২৩৫; আলমুগনী : ৫/২৩৬] ১৬.অনেক তওয়াফকারীকেই দেখা যায়, হাজরে আসওয়াদ এবং রুকনে ইয়ামানী ছাড়াও অন্য দুই কোণ ছোঁয়ার চেষ্টা করে থাকেন। তখন সিনা বাইতুল্লাহর দিকে হয়ে যায়। তদ্রƒপ অনেকে আবেগতাড়িত হয়ে ফুরসত পেলেই বাইতুল্লাহর দেয়ালে চুমু দেন বা আলিঙ্গন করেন। এতেও সিনা বাইতুল্লাহর দিকে হয়ে যায়। আবার দলবদ্ধভাবে চলতে গিয়ে জামাতের সাথীদের খবর নিতে গিয়ে বা প্রচ- ভিড়ের কারণেও অনেক সময় বাম পাশ কাবার দিকে থাকে না, তখন ঐ অবস্থাতেই চলতে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সহীহ মাসআলা হলো, তওয়াফকারী পুরো তওয়াফেই কাবা শরীফকে বাম পাশে রেখে তওয়াফ করবে। কারণ কাবা শরীফ বাম পাশে না থাকলে তওয়াফ সহীহ হয় না তাই কখনো কোন কারণে কাবা ঘরের দিকে সীনা ফিরে গেলে কিংবা কাবা শরীফ বাম পাশে না থাকলে যেখান থেকে এরূপ হয়েছে সেখানের তওয়াফ শুদ্ধ হবে না। তাই কাবা শরীফ বাম পাশে রেখে ঐ স্থানটুকু পুনরায় তওয়াফ করতে হবে। [রদ্দুল মুহতার : ৩/৫০৬; মানাসিক : ১৫৩; মুসলিম : ১/৪০০] ১৭. অনেক তওয়াফকারীকেই দেখা যায়, রুকনে ইয়ামানীকে স্পর্শ করতে না পারলে তার বরাবর হাত দ্বারা ইশারা করে থাকেন। অনেকে আবার হাত কিংবা অন্য কোন বস্তু দ্বারা ইশারা করে তাতে চুমু খান। এ কাজগুলো ভুল। তাই এগুলো পরিত্যাজ্য এখানে সঠিক মাসআলা হলো, প্রতি চক্করে রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছে কাবার দিকে সীনা না ফিরিয়ে উভয় হাত বা শুধু ডান হাত দিয়ে তা স্পর্শ করা সুন্নত। হাত দ্বারা স্পর্শ করা সম্ভব না হলে হাত, মাথা, কিংবা অন্য কোন বস্ত দ্বারা ইশারা করে তাতে চুমু দেয়া যাবে না। কারণ এখানে শুধু হাত দ্বারা স্পর্শ করাই প্রমাণিত। ইশারা করার কথা প্রমাণিত নয়। [রদ্দুল মুহতার : ৩/৫১১; মানাসিক মুল্লা আলী কারী : ১৩৭] ১৮. অনেক হাজী সাহেবকে এই ভুলের শিকার হতে দেখা যায় যে, তারা একের পর এক নফল তওয়াফ করতেই থাকেন। একটি তওয়াফ শেষ হলে যে তওয়াফের দুই রাকআত নামায পড়তে হয়, তা পড়েন না। এটি ভুল। ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল সকল তওয়াফের পরেই দুই রাকআত নামায পড়া ওয়াজিব। তাই একটি তওয়াফ শেষ করে দুই রাকআত নামায পড়ে মন চাইলে আবার তওয়াফ শুরু করবেন। [রদ্দুল মুহতার : ৩ /৫১১; আহাকমে যিন্দেগী : ২৬৯] ১৯. অনেক হাজী সাহেবকে দেখা যায় যে, তওয়াফ পরবর্তী দুই রাকআত নামায মাকামে ইবরাহীমকে পিছনে রেখে মাকামে ইবরাহীম ও বাইতুল্লাহর মাঝের ফাঁকা স্থানে আদায় করেন। এই নামায এই স্থানে আদায় করা ভুল। এই দুই রাকআত নামায মাকামে ইবরাহীমের পিছনে আদায় করা সুন্নত। পিছনে যত দূরেই আদায় করা হোক সুন্নত আদায় হয়ে যাবে।তবে ভিড়ের কারণে মাকামে ইবরাহীমের পিছনে আদায় করা সম্ভব না হলে হারামের যে কোন স্থানেই তা আদায় করা যাবে। [বুখারী : ১/২২০; রদ্দুল মুহতার : ৩/৫১২; গুনয়াতুন নাসিক : ১১৬] ২০. অনেকেই আবার মনে করেন যে, তওয়াফ পরবর্তী দুই রাকআত নামযের একমাত্র স্থান হলো মাকামে ইবরাহীম। অন্য কোথাও আদায় করলে তা আদায় হবে না। ফলে জীবন বাজি রেখে প্রয়োজনে পাহাড়াদার দাঁড় করিয়ে সেখানে নামায আদায় করে থাকেন। এটা অজ্ঞতা ও ইবাদতের নামে বাড়াবাড়ি। এতে সওয়াবের পরিবর্তে পাপের বোঝা নিয়ে ফিরে আসতে হয়। এই দুই রাকআত নামায মাকামে ইবরাহীমের পিছনে আদায় করা সুন্নত। মাকামে ইবরাহীমের কাছে পড়লে যেভাবে এ সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। তেমনি মাকমে ইবরাহীমকে সামনে রেখে দূরে দাঁড়িয়ে পড়লেও আদায় হয়ে যাবে। ভিড় থাকলে মসজিদে হারামের যে কোন স্থানে তা আদায় করা যাবে। এমনকি মসজিদে হারামের বাইরেও হারামের যে কোন স্থানে তা আদায় করা যাবে। তাই এ সুন্নত আদায় করতে গিয়ে অন্যকে কষ্ট দিয়ে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া মূর্খতা বৈ কিছু নয়। [বুখারী : ১/২২০; রদ্দুল মুহতার : ৩/৫১২-৫১]
সাঈ-এর আলোচনা : ২১. প্রতি সাঈতে নির্ধারিত কিছু দুআ পড়াকে জরুরী মনে করা হয়। ফলে দলবদ্ধ হয়ে একজন উঁচ আওয়াজে দুআগুলো বলতে থাকেন আর পুরো জামাত তার সাথে সমস্বরে পড়তে থাকেন। এতে তওয়াফের আলোচনায় বর্ণিত খারাবিগুলোর সম্মুখীন হতে হয়। অথচ এখানে নির্ধারিত কোন দুআ নেই। কুরআন-হাদীসে বর্ণিত যে কোন দুআই পড়া যেতে পারে। এমনিভাবে অন্য যে কোন ভাষায় দুআ পড়া যেতে পারে। [রদ্দুল মুহতার : ৩/৫১৪] ২২. অনেক হাজী সাহেব ভিড় কিংবা অতি সামান্য ওযরের কারণে হুইল চেয়ারে বসে তওয়াফ ও সাঈ করে থাকেন। এটি ঠিক নয়। এখানে সঠিক মাসআলা হলো, হাঁটতে অক্ষম বা হেঁটে তওয়াফ ও সাঈ করলে রোগ বেড়ে যওয়ার আশংকা হয়, কেবল মাত্র এ জাতীয় ব্যক্তির জন্যই হুইল চেয়ারে বসে তওয়াফ ও সাঈ করা জায়িয। সামান্য ছুতোয় হুইল চেয়ারে বসে তওয়াফ ও সাঈ করলে তা আদায় হবে না। কারণ পায়ে হেঁটে তওয়াফ ও সাঈ করা ওয়াজিব। তাই যথাযথ ওযর ছড়া হুইল চেয়ারে বসে তওয়াফ ও সাঈ করলে আবার পায়ে হেঁটে আদায় করতে হবে। অন্যথায় দম ওয়াজিব হবে। [মানাসিক : ১৫২, ১৭৪; বাদায়েউস সানায়ে : ২/৩১৯] ২৩. অনেকের ধারণা তাওয়াফের মত সাঈতেও ইজতিবা করা সুন্নত। তাই তারা সাঈতেও ইজতিবা করে থাকেন এটি নিতান্তই ভুল ধারণা। সাঈতে ইজতিবা নেই; বরং সাঈতে চাদর স্বাভাবিকভাবেই পরে থাকতে হয়। [আদ্দুররুল মুখতার : ৩/ ৫১৪-৫১৫; হিন্দিয়া : ১/২২৬-২২৭]
আরাফার আলোচনা : ২৪. হাজী সাহেবগণ মিনা, আরাফা, মুযদালিাফায় অবস্থান করতে থাকেন, দলে দলে চলতে থাকেন। কিন্তু খুব কম হাজী সাহেবই সশব্দে তালবিয়া পড়েন। অথচ ইহরাম বাঁধার পর থেকে ১০ তারিখ পাথর নিক্ষেপের আগ পর্যন্ত সশব্দে তালবিয়া পড়া হজের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এ সময়গুলোতে অন্যান্য যিকর-আযকরের চেয়ে তালবিয়াই অধিক পরিমাণে পড়তে বলা হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত। [মুসলিম : ১/৪১৫; রদ্দুল মুহতার : ৩/৫২৬,৫২৯] ২৫. অনেক হাজী সাহেব আরাফায় অবস্থানের পুরো সময় মসজিদে নামিরার মিহরাব ও সামনের কিছু অংশে অবস্থান করে থাকেন। আবার অনেক হাজী সাহেব আরাফার বাইরে অবস্থান করে থাকেন। এটা নিতান্তই ভুল। আরাফায় অবস্থান করা ফরজ। এটা ছাড়া হজ আদায় হবে না। মসজিদে নামিরার মিহরাব ও সামনের কিছু অংশ উকফে আরাফার স্থান নয়। তাই সেখানে বা আরাফার বাইরে অন্য কোথাও অবস্থান করলে হজ আদায় হবে না। [রদ্দুল মুহতার : ৩/৫১৮; হিন্দিয়া : ১/২২৯] ২৬. বহু হাজী সাহেব সূর্য ডোবার আগেই আরাফা ছেড়ে মুযদালিফার দিকে রওনা হয়ে যান। এটা মারাত্মক ভুল। সূর্য ডোবার আগেই আরাফার ময়দান ত্যাগ করা নাজায়িয। যদি কেউ ত্যাগ করে তাহলে তার উপর দম (কুরবানী) ওয়াজিব হবে। তাই সূর্যাস্তের আগে আরাফা ত্যাগ না করে দুআয় মশগুল থাকা উচিত। কারণ এ সময় দুআ-মুনাজাত, কান্না-কাটি ও যিকর-আযকারের মুল সময়। [রদ্দুল মুহতার : ৩/৫২৪; হিন্দিয়া : ১/২২৯]
মুযদালিফার আলোচনা : ২৭. অনেক সময় ভিড়ের কারণে ইশার ওয়াক্তের মধ্যে মুযদালিফায় পৌঁছা সম্ভব হয় না। তখন অনেকেই মাগরিব ও ইশা মুযদালিফায় একত্রে আদায়ের আশায় এই নামায কাযা করে ফেলেন। এটা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা হলো, মুযদালিফায় পৌঁছতে পৌঁছতে ইশার ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশংকা হলে পথেই মাগরিব ও ইশা আদায় করে নেওয়া জরুরী। অন্যথায় এ দুই নামায কাযা করার গুনাহ হবে। [আল মুহিতুল বুরহানী : ৩/ ৪০৪; আল বাহরুর রায়েক : ২/৩৪১] ২৮. অনেকেই মুযদালিফার বাইরে অবস্থান করে থাকেন। এর সীমানার ভিতরে প্রবেশ করেন না। এটাও ভুল। সুবহে সাদিকের পর মুযদালিফায় অল্প সময় উকূফ(অবস্থান) করা ওয়াজিব। আর রাত্রি যাপন করা এবং চারদিক ফর্সা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা সুন্নত। উকূফে মুযদালিফা যেহেতু ওয়াজিব, তাই নির্ধারিত সময়ে উকূফ না করলে দম ওয়াজিব হবে। তবে ভিড়ের কারণে সূর্যোদয়ের পূর্বে মুযদালিফায় পৌঁছতে না পারলে কিংবা অসুস্থতা, বার্ধক্য, দুর্বলতা ইত্যাদি সমস্যার কারণে মিনায় বা মক্কায় চলে গেলে দম ওয়াজিব হবে না। [মুসান্নিফে ইবনে আবী শায়বা : হাদীস : ১৫৫৬৫ রদ্দুল মুহতার : ৩/৫২৯; হিন্দিয়া : ১/ ২৩১; মানাসিক : ২১৯, ৩৫৬] ২৯.বহু হাজী সাহেব সামান্য ওযরের কারণেই অন্যকে দিয়ে কংকর মারিয়ে থাকেন। এটিও মারত্মক ভুল। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অন্যকে দিয়ে কংকর মারালে তা আদায় হবে না। এ ক্ষেত্রে আবার কংকর মারা ওয়াজিব। না মারলে দম ওয়াজিব হবে। তবে প্রচ- ভিড়ের কারণে কিংবা এমন অসুস্থতা বা দুর্বলতা যার কারণে ফরজ নামায বসে আদায় করা জায়িয হয়ে যায় অথবা যে অসুস্থতার করণে জামারাত পর্যন্ত পৌঁছা খুবই কষ্টকর হয় বা অসুস্থতা অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশংকা হয়, কেবল এরুপ ব্যক্তিই অন্যকে দিয়ে কংকর মারাতে পারবেন। [হিন্দিয়া : ১/২৩৬; আহকামে হজ : ৭৬-৭৭; মাসাঈলুল হজ ওয়াল উমরাহ : ৮৬] ৩০. অনেক হাজী সাহেব মাথার এক অংশ হলক করে বাকী অংশের চুল রেখে দেন। আবার অনেকেই চুল ছোট-বড় করে কেটে থাকেন। এটিও ঠিক নয়। এভাবে মু-ানো বা চুল কাটা জায়িয নেই। তাই এমনটি করা যাবে না। [রদ্দুল মুহতার : ৩/৫৩৪-৫৩৫] ৩১. অনেক হাজী সাহেব জামারাতের স্তম্ভগুলোকেই জুতা-সেন্ডেল ইত্যাদি মেরে থাকেন। তাদের ধারণা এই স্তম্ভগুলোই শয়তান। এটা অজ্ঞতা বৈ নয়। স্তম্ভগুলোতো হলো পাথর নিক্ষের স্থান নির্ধারণের আলামত মাত্র। এখানে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক কংকর নিক্ষেপ করাই জরুরী। জুতা-সেন্ডেল ইত্যাদি নিক্ষেপ জায়িয নেই। [মানাসিক : ২৪৮; রদ্দুল মুহতার : ৩/৫১৪] ৩২. অনেক হাজী সাহেব ইচ্ছাকৃত সাতের অধিক কংকর মেরে থাকেন। ইচ্ছাকৃত সাতের অধিক কংকর মারার অনুমোদন শরীআতে নেই। তাই এ থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। [মানাসিক : ২৫০; রদ্দুল মুহতার : ৩/৫৪১] ৩৩. অনেকেই পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্যের জন্য উমরা করে থাকেন। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্যের জন্য উমরা করা জায়িয নেই। যে আদায় করবে তার উমরা আদায় হবেনা এবং যার পক্ষ হতে আদায় করবে সেও কোন সুওয়াব পাবে না। [রদ্দুল মুহতার : ৪/১০; আল মুগনী : ৫/২৩] ৩৪. অনেক হাজী সাহেবদের মাঝে এ প্রচলন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, তারা সতর্কতামূলক দম দিয়ে থাকেন। তাদের ধারণা হলো, হয়তো মনের অজান্তেই কত ভুল হয়েছে। তাই দম ওয়াজিব হয়েছে। এটা ভুল। মনে রাখতে হবে, শুধুই সন্দেহের ভিত্তিতে সতর্কতামূলক দম দেয়ার কোন বিধান শরীআতে নেই। কোন অপরাধের কথা নিশ্চিতভাবে জানলেই কেবল দম ওয়াজিব হয়। অন্যথায় নয়। এটি নিজ থেকে শরীআতে সংযোজনের শামিল। তাই এ জাতীয় কাজ অবশ্য পরিত্যাজ্য। সবশেষে বলতে চাই, আমাদের ভুলের কোন অন্ত নেই। মাসআলা না জানা কিংবা অসচেতনতার কারণে নিজের অজান্তেই কত শত ভুল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দীন-ধর্ম সর্ম্পকে গাফলত ও উদাসিনতার এ যুগে। তাই শুদ্ধ আমলের জন্য সঠিক মাসআলা সঠিকভাবে জানা জরুরী।আল্লাহ তাআলা আমদের সকলকে সঠিক মাসআলা সঠিকভাবে জেনে সুমহান, কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল এই ইবাদতটি আদায় করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

মুফতী পিয়ার মাহমুদ
মুহাদ্দিস- জামিয়া মিফতাহুল উলুম
সাথী- শিকড় সাহিত্য মাহফিল
০১৯১৮১৫১৫৮৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight