হজ্জ ও ওমরাহ আদায়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য : হাফেজ মু. মিনহাজ উদ্দিন

আমাদের অজানা নয় যে, এ বিশ্বের গোটা রক্ষা ব্যবস্থা মানুষের পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি একজন অন্য জনকে সাহায্য না করে, তবে একাকী মানুষ হিসেবে সে যতই বুদ্ধিমান, শক্তিশালী ও বিত্তশালী হোক, জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় আসবাব-পত্র কিছুতেই সংগ্রহ করতে পারবে না। একাকী মানুষ স্বীয় খাদ্যের জন্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে আহার্য করা পর্যন্ত সব স্তর অতিক্রম করতে পারে না। এমনিভাবে পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তুলা চাষ থেকে শুরু করে দেহের মানানসই পোশাক তৈরি করা পর্যন্ত অসংখ্য সমস্যার সমাধান করতে একাকী কোন মানুষ কিছুতেই সক্ষম নয়। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অসীম জ্ঞান ও পরিপূর্ণ ক্ষমতায় বিশ্ব চরাচরের জন্যে এমন অটুট ব্যবস্থাপনা রচনা করেছেন, যাতে প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অন্য হাজারো লাখো মানুষের মুখাপেক্ষী। দরিদ্র ব্যক্তি পয়সার জন্যে যেমন ধনীর মুখাপেক্ষী, তেমনি শ্রেষ্ঠতম ধনী ব্যক্তিও পরিশ্রম ও মেহনতের জন্যে দিনমজুরের মুখাপেক্ষী। তদ্রুপ ব্যবসায়ী গ্রাহকের মুখাপেক্ষী আর গ্রাহক ব্যবসায়ীর মুখাপেক্ষী। গৃহনির্মাতা রাজমিস্ত্রী ও কর্মকারের মুখাপেক্ষী, আর এরা গৃহনির্মাতার মুখাপেক্ষী। চিন্তা করলে দেখা যায়, এ সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা শুধু পার্থিব জীবনের জন্যে নয় বরং মৃত্যু থেকে নিয়ে কবরে সমাহিত হওয়া পর্যন্ত সকল স্তরে এ সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী। বরং এরপরও মানুষ জীবিতদের ইছালে ছওয়াব ও দুআয়ে-মাগফিরাতের মুখাপেক্ষী থাকে। যদি এহেন সর্বব্যাপী মুখাপেক্ষিতা না থাকতো, তবে কে কার সাহায্যে এগিয়ে আসতো। মোটকথা, সমগ্র বিশ্বের ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার উপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ চিত্রের একটা ভিন্ন পিঠও আছে। তা এই যে, যদি চুরি, ডাকাতি, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদির জন্যে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতা হতে থাকে ও চোর ডাকাতদের বড় বড় দল গঠিত হয়ে যায়, তবে এ সাহায্য ও সহযোগিতাই বিশ্বব্যবস্থাকে বিধ্বস্ত ও তছনছ করে দেয়। এতে বুঝা গেল যে, পারস্পরিক সহযোগিতা একটি দুধারী তরবারী। যা প্রয়োগ ব্যতীত বিশ্বের ব্যবস্থাপনা চলে না। ক্ষুর এর ভুল ব্যবহার গোটা বিশ্বব্যবস্থাকে বানচাল করে দেয়। সেজন্য কুরআন সুন্নাহ পরস্পর সহযোগিতার একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা অবলম্বনে বিশ্বব্যবস্থা অটুট থাকবে আর মানুষের জীবনে নেমে আসবে সুখ-শান্তি, আরাম ও আনন্দের স্রোতধারা। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে একে অন্যের সহযোগিতা করো, গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়েদা : ২] চিন্তা করলে দেখা যায় যে, কুরআনে কারীম এ আয়াত কেবল মুসলমানদেরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে। তাও শুধু সৎকর্ম ও আল্লাহভীতির ক্ষেত্রে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে একথা প্রতীয়মান হয় যে, গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না, যদিও সে মুসলমান হয়। বরং তাকে গুনাহ ও জুলুম থেকে বিরত রাখাই হবে প্রকৃত সহায়তা। বুখারি শরীফে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমার (মুসলিম) ভাইকে সাহায্য কর, চাই সে জালেম হোক কিংবা মাজলুম হোক। সাহাবায়ে কেরাম রা. বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মাজলুমকে সাহায্য করার অর্থ বুঝতে পেরেছি, কিন্তু জালেমকে সাহায্য করার দ্বারা কি উদ্দেশ্য? তখন রাসূল সা. ইরশাদ করেন, তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখ, এটিই তার সাহায্য। [বুখারি : ৩/১৩৮-হাদীস নং ২৪৪৪] কুরআন পাকের এ শিক্ষা, সৎকর্ম ও তাকওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মাপকাঠি বানিয়েছে। এর ভিত্তিতেই পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। আর এর বিপরীতে পাপ ও অত্যাচারকে কঠোর অপরাধ গণ্য করেছে এবং এতে সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি হেদায়েত ও সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানায়, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারী লোকদের ছাওয়াবের সমপরিমাণ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের ছাওয়াব হ্রাস করা হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের প্রতি আহবান করে, কেয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়াদানকারীদের গুনাহের সমপরিমাণ গুনাহ তাকে দেয়া হবে। এতে তাদের গুনাহ হ্রাস করা হবে না। [মুসলিম শরীফ : ৪/২০৬০- হাদীস নং ২৬৭৪] অন্য রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন অত্যাচারীর সাথে তার সাহায্যার্থে বের হয়, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। [মুজামুল কাবীর তাবরানী : ১/২২৭] হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোন ঝগড়া-বিবাদে অন্যায় পথে সহযোগিতা করে, সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকে, যতক্ষণ না তা হতে ফিরে আসে। [মুসতাদরাকে হাকেম : ৪/৯৯- হাদসি নং ৭০৫১, বাইহাকী : ৬/১২৩- হা. ৭৬৭৬] এছাড়াও হাদীসের গ্রন্থাবলীতে এ প্রসঙ্গে আরও অসংখ্য হাদীস বর্ণিত রয়েছে, যেগুলি অধ্যয়ন করলে একথাই পরিস্ফুটিত হয় যে, সৎকাজ ও আল্লাহভীতিতে সহায়তা করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য আর গুনাহ ও জুলুমের ক্ষেত্রে সহায়তা হারাম। গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করার কয়েকটি চিত্র আল্লামা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ আনওয়ারুল বয়ানে উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন, যে চাকরী বা পদের কারণে গুনাহে লিপ্ত হতে হয়, তা গ্রহণ করা হারাম, এভাবে গুনাহের আইন প্রণয়ন করাও হারাম। কেননা, এর দ্বারা গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়। এমনিভাবে মদের কারখানায় চাকুরী করা কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে সহযোগিতা করা অথবা এমন চাকুরী করা যাতে শরীয়ত পরিপন্থী কাজে অন্যকে সহায়তা করা হয় বা সুদ-ঘুষের লেন-দেন করা হয় অথবা সুদ-ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যম হতে হয়, এধরণের চাকুরী করা হারাম এবং তা থেকে অর্জিত বেতন হারাম। এভাবে চোর, ডাকাত, লুটতরাজকারী ও অত্যাচারীর সহায়তা করাও হারাম। [তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান : খ-৩, পৃ. ১২] রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে এ শিক্ষার সুফল রাসূলুল্লাহ সা. কে যখন দুনিয়ায় প্রেরণ করা হলো তখন ত পুরো ‘আরব উপদ্বীপ’ নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতার নরকে পরিণত ছিল। হত্যা ও নাশকতার বাজার গরম ছিল। লুণ্ঠনকে বীরত্ব ও বাহাদূরী মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত দাফন করে বড়াই করা হতো। নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থীরতার সেই পরিবেশে রাসূলুল্লাহ সা. সংবাদ দিয়েছিলেন, একটা সময় আসবে একজন নারী একাকী হীরা থেকে ভ্রমণ করে মক্কায় এসে তাওয়াফ করবে, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করবে না। [বুখারি শরীফ : ৪/৫৩৮ হাদীস নং ৩৫৯৫] জগদ্বাসী প্রত্যক্ষ করেছে, রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পূর্বেই সেই সময় এসেছিল। যে ‘আরব উপদ্বীপ’ হিংসা বিদ্বেষ, শত্র“তা ও অস্থিরতার জলন্ত আঙ্গার ছিল, সেখানে ভালোবাসা, হৃদ্রতা, একতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল ও গড়ে উঠেছিল বেহেশতি নহরের পানিতে বিধৈাত একটি সুশীল আদর্শ সমাজ। আরবের এ চিত্র পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে হয়নি। বরং কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষার ফলে হয়েছিল। কুরআন সুন্নাহর এ শিক্ষাই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিটি ব্যক্তির অন্তরে তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির বীজ রোপণ করে দিয়েছিল। এবং প্রতিটি ব্যক্তিকে অপরাধ উৎপীড়ণ দমনের জন্যে সিপাহী রূপে গড়ে তুলেছিল। আর বানিয়েছিল তাদেরকে তাকওয়া ও সৎকাজের অনন্য সহযোগী। এর ফলে সৎকাজের সহযোগিতায় তারা ছিলেন প্রতিযোগী। আর অসৎকাজ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখতে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়। তদ্রুপ নিজেকে পাপ ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তারা ছিলেন সর্বদা সচেতন। এরই অনিবার্য পরিণতি ছিল যে, তারা অপরাধের প্রতি পা বাড়াতেনই না। ঘটনাক্রমে যদি কখনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে যেত, আল্লাহর ভয় তাদেরকে অস্থির করে তুলত, তখন নিজেই রাসূল সা. এর দরবারে গিয়ে স্বীকার করতো। যতক্ষণ পর্যন্ত এর পূর্ণ প্রতিকার না হতো পরকালের চিন্তায় ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পেতো না। কুরআনের এ শিক্ষা পরিহারের পরিণাম কিন্তু আমাদের অবস্থা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমরা গুনাহের ক্ষেত্রে সহায়তা ও সৎকাজে বাধা প্রদান করতে ব্যতিব্যস্ত। সচরাচর পরিলক্ষিত হয় যে, যদি কোন ব্যক্তি ইসলামী বেশভূষা গ্রহণ করতে চায়, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে চায়, সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপন করতে চায়, তখন তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারবর্গ ও অফিসের লোকজন চেষ্টা করে, সে যেন এই ছাওয়াবের কাজ থেকে বিরত থাকে এবং আমাদের ন্যায় (পাপী) হয়ে যায়। আজকাল সৎকাজে সহায়তা করতে কেউ প্রস্তুত নয়। কিন্তু কেউ যদি গুনাহ করার ইচ্ছা করে তখন সবাই তার সহযোগী হয়। হারাম উপার্জন করলে, সুদ গ্রহণ করলে ও দাড়ি মুন্ডালে স্ত্রীও খুশী, মা-বাবাও খুশি, বন্ধু-বান্ধব ও সমাজের লোকজন খুবই খুশী। যদি সৎপথে চলতে চায়, সুন্নাতের উপর চলতে চায়, তখন সবাই অসন্তুষ্ট। বন্ধু নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা হলে নিয়ে যায়। গান বাদ্য ও মদের আসরে নিয়ে যায়। তারপর ধোঁকা দিয়ে নাপিতের দোকানে নিয়ে যায়, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেয়। আবার অনেকে অন্যের দুনিয়া সাজাতে নিজের আখেরাত ধ্বংস করে। যেমন, নির্বাচনের সময় ভোটার এবং সমর্থকরা একথা ভালোকরেই জানে যে, আমরা যে পার্থীকে পদে বসাতে চাচ্ছি সে একজন ফাসেক ও জালেম। পদ অর্জনের পর তার জুলম আরো বৃদ্ধি পাবে। তবুও তার সহযোগিতায় লিপ্ত থাকে। তাকে সফল করার লক্ষে তার প্রতিপক্ষের দুর্ণাম রটিয়ে বেড়ায়। কখনো কখনো বিপক্ষের লোকদেরকে হত্যাও করা হয়। এটি কতবড় অহমিকা ও নির্বুদ্ধিতা যে, নিজের আখেরাত ধ্বংস হবে আর অন্যের দুনিয়া অর্জন হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম ব্যক্তিদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিও হবে যে, অন্যের দুনিয়ার জন্যে নিজের আখেরাত ধ্বংস করেছে। [ইবনে মাজা : ৪/৩৩৯ হা. ৩৯৬৬] আজ আমাদের গুনাহ ও অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কারণে, সারাবিশ্বে অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, অশ্লীলতা, হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তা দমন করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এহেন দুর্গতি, দুরাবস্থা ও অস্থিরতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে হলে, কুরআনের এই মূলনীতি অনুসরণ হবে এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও অপরাধ দমনের লক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিই সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষার্থী : উচ্চতর তাফসীর গবেষণা বিভাগ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।

মুসলিম জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ববৃহৎ মহাসম্মেলন হলো হজ্জ।  পবিত্র হজ্জ ইসলামের পঞ্চ বেনা বা ভিত্তির অন্যতম। এ পুণ্যময় হজ্জ মুসলিম জাতির সামাজিক, রাজনৈতিক, আধ্যাতিক ঐক্য এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধ সৃষ্টির প্রকৃষ্ট নিদর্শন। যাদের আর্থিক এবং শারীরিক সামর্থ আছে তাদের জন্য জীবনে অন্ততঃ একবার আল্লাহর ঘর বাইতুল্লাহর হজ্জ আদায় করা ফরযে আইন।
হজ্জের আভিধানিক অর্থ
–    হজ্জ অর্থ সংকল্প বা ইচ্ছা করা।
– সাক্ষাৎ করা
– সাধারণভাবে কোন কিছুর প্রতি ইচ্ছা বা দৃষ্টি নিক্ষেপ করা। ইত্যাদি
পারিভাষিক অর্থ
–    শরহে বেকায়া গ্রন্থকারের মতে- নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থান যিয়ারত করার নামই হজ্জ।
–    কামূসুল ফিকহী গ্রন্থপ্রণেতার মতে- মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কার্যাবলীর মাধ্যমে সম্মানিত বায়তুল্লাহ যিয়ারতের সংকল্প করার নামই হজ্জ।
–    ইমাম রাগেব ইস্পাহানী রহ.-এর মতে- সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কাবা ঘরের ইচ্ছা পোষণ করাকে হজ্জ বলা হয়।
–    ঐধুু সবধহং সধশরহম ঃযব ঢ়রষমৎরসধমব ঃড় সধপপধ.
মোটকথা আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের জন্য জিলহজ্জ মাসের ৮ই জিলহজ্জ থেকে ১২ই জিলহজ্জ তারিখ পর্যন্ত পবিত্র কাবা ঘর তাওয়াফ,  সাফা মারাওয়া সাঈ, আরাফাহ, মিনা মোজদালিফায় অবস্থান, শয়তানকে পাথর মারাসহ নির্ধারিত কাজসমুহ সম্পাদন করাকে হজ্জ বলে।
পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য প্রথম যে ঘর নির্মিত হয় তা বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত। কাবা ঘর পবিত্র এবং সারা জাহানের জন্য পথ প্রদর্শক। এতে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমুহ, যার একটি হচ্ছে মাকামে ইবরাহীম। কাবা ঘরে যে প্রবেশ করেছে সে নিরাপদ। [সুরা আল ইমরান -৯৭]  মানবজাতির মধ্যে যাদের সামর্থ আছে তাদের জন্য অবশ্যই কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করা। কিন্তু সামর্থ থাকা সত্বেও যারা তা আদায় করে না, তারা জেনে রাখুক যে, আল্লাহ তামাম জগতের প্রতিপালক, তিনি কারো কাছে মুখাপেক্ষী নন। অন্যত্র এরশাদ হচ্ছে, তোমরা আল্লাহর জন্য হজ্জ ও ওমরাহ পূর্ণ করো। বুখারি শরীফে প্রিয় নবী সা. এরশাদ করেছেন, হজ্জ ফরয হওয়া সত্বেও তা আদায় না করে যে মৃত্যু বরণ করে, সে মুসলমান হয়ে মরল কিনা সে ব্যাপারে আমি সন্ধিহান। অপর এক হাদীসে আছে তার মৃত্যু ইহুদি নাসারাদের মৃত্যুর  মতই হতে পারে।
রাসূল সা. আরো ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হজ্জের ইচ্ছা করবে, সে যেন তাড়াতাড়ি আদায় করে নেয়।
উল্লেখিত আয়াতে কারীমা এবং হাদীস শরীফে হজ্জ সম্পর্কে মহান আল্লাহর রাসূল যা বলেছেন, জ্ঞানীদের জন্য হজ্জের গুরুত্ব অনুধাবনে তা-ই যথেষ্ট নয় কি?
দুঃখজনক যে, আমাদের দেশে অনেক সম্পদশালী মুসলমান আছেন তাদের উপর বহু পূর্বেই হজ্জ ফরজ হয়েছে। তারা বিভিন্ন অজুহাতে যেমন ছেলে-মেয়ের বিয়ে-শাদী, বাড়ি-ঘর সম্পন্ন করা, ব্যবসা-বাণিজ্য গুছিয়ে নেয়া ইত্যাদি দেখিয়ে হজ্জ আদায়ে গড়িমসি করে থাকেন। অনেক আবার বৃদ্ধ বয়সে হজ্জ করার আশায় থাকেন। অনেকেই বলেন হজ্জ ফরজ হয়েছে কিন্তু বয়সতো হয়নি। চুল দাড়ি পাক ধরুক তারপর হজ্জ করতে যাব। অনেকেই বলেন বাবা-মার আগে হজ্জ আদায় হয়না। দুর্ভাগ্য যে, তাদের অনেকেই এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আবার অনেকেই আর্থিক দৈন্যতা ও শারীরিক অক্ষমতা দেখা দেয়। ফলে তারা হজ্জ আদায়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয ইবাদত ও নেয়ামত থেকে মাহরুম হয়ে যায়। তাই সামর্থবান মুসলমান ভাই-বোনদের প্রতি আহ্বান, সকল প্রকার চিন্তাভাবনা ও গড়িমসি পরিহার করে যাদের উপর হজ্জ ফরয হয়েছে তারা বিলম্ব না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হজ্জ আদায় করুন। কারণ কার মৃত্যু কখন এসে যায় বলা যায়না। অনেকেই হয়ত ভাবেন আমি হজ্জে গেলে সংসার কিভাবে চলবে। এটা এক ধরনের গুমরাহী। আপনার অনুপস্থিতিতেও সংসার চলবে, কারণ রিযিকের মালিক আল্লাহ। এক সময় আপনার সংসার সমাজ সবি চলবে আপনিই থাকবেন না। যারা হজ্জ করতে যায় তারা আল্লাহ তাআলার খাস মেহমান আর আল্লাহর মেহমানের সংসার আল্লাহ তাআলা দেখাসোনার দায়িত্ব নিবেন। আর যে ব্যক্তি হজ্জ আদায় করবে তার সম্পদ কখনও কমবে না; বরং আরো বরকতময় হবে।

হজ্জ ও ওমরার ফযীলত
হজ্জ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। কারণ, হজ্জের মধ্যে যেমন সম্পদের প্রয়োজন তেমনি শক্তিরও প্রয়োজন। হজ্জ একটি আর্থিক এবং শারীরিক ইবাদত। মাকবুল হজ্জ আদায়কারীর পুরস্কার জান্নাত।
* তিরমিযি শরীফের হাদীসে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, তোমরা সামর্থ হওয়ার সাথে সাথে হজ্জ ও ওমরাহ আদায় করে নাও। কেননা স্বর্ণকার ও কর্মকার যেমন স্বর্ণ ও রৌপ্য ও লৌহকে পুড়িয়ে-পিটিয়ে ময়লা ও ভেজাল থেকে মুক্ত করেন, ঠিক তেমনি হজ্জ ও ওমরাহ মানুষের দারিদ্রতা ও গুনাহসমুহকে বিদূরিত করে দেয়।
* সুরা হজ্বের ২৭ নং আয়াতে উল্লেখ আছে- লোকদের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা করে দিন, তারা পদব্রজে এবং সর্বপ্রকার দুর্বল উটনীতে চড়ে দূর-দূরান্ত থেকে (হজ্জের উদ্দেশ্যে) আপনার কাছে এসে হাজির হয়।
* আল্লাহর জন্য হজ্জ আদায়কারী সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ। [বুখারি ও মুসলিম শরীফ]
* হজ্জ ওমরাহ আদায়কারীর গুনাহ ও দারিদ্রতা এমনভাবে দুরিভুত হয়, লোহা ও স্বর্ণের ময়লা যেমনভাবে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। হজ্জযাত্রীগণ আল্লাহর মেহমান, তাদের সকল দুআ ও প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করেন। [ইবনে মাজাহ]
* হজ্জ আদায়কারী কখনো গরীব হয়না। [ত্বাবরানী]
* হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সা. এরশাদ করেছেন, “হে মানব সমাজ! আল্লাহ তোমাদের উপর হজ্জ ফরজ করেছেন; সুতরাং তোমরা হজ্জব্রত পালন কর।
পবিত্র কুরআন শরীফের আটটি সূরার মোট পায়ত্রিশখানা আয়াতে হজ্জ ও ওমরা সম্পর্কীয় বর্ণনা এসেছে।
যার উপর হজ্জ ফরজ এবং যার উপর ফরজ নয়
– মুসলমান হওয়া: কেননা অমুসলিমদের উপর হজ্জ ফরজ নয়।
–    স্বাধীন হওয়া: দাস- দাসিদের উপর হজ্জ ফরজ নয়। কেননা তারা স্বীয় ইচ্ছার প্রতি সামর্থবান নয়।
–    বালেগ হওয়া: কেননা নাবালেগ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর হজ্জ ফরয নয়।
–    সুস্থ হওয়া: প্রতিবন্ধী, দুর্বল, যানবাহনে আরোহণে অক্ষম, মস্তিস্ক বিকৃতদের ব্যক্তির ওপর হজ্জ ফরয নয়।
–    দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন হওয়া: কেননা অন্ধ ব্যক্তির উপর হজ্জ ফরয নয়।
–    পাথেয় থাকা: হজ্জকারীর সম্পদের পরিমাণ ততটুকু হতে হবে, যাতে আসা যাওয়ার সমস্ত খরচের পর বাড়ি ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবার, পরিজনের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে পারে।
–    মহিলার সাথে স্বামী বা মাহরাম থাকা: যদি হজকারীনী তার বাড়ি থেকে কাবা ঘরের দূরত্ব ৪৮ মাইল বা এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে তার সাথে স্বামী বা মুহাররম (বিবাহবন্ধন হারাম এমন পুরুষ) থাকতে হবে।
–    যানবাহনের সুবিধা থাকা: কেননা যানবাহনের সুবিধা না থাকলে হজ্জ ফরয নয়।
–    জ্ঞানবান হওয়া: কেননা পাগলের উপর হজ্জ ফরজ নয়
–    কয়েদি না হওয়া: কারাবন্দির ওপর হজ্জ ফরয নয়। এমনকি তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি প্রেরণ করাও জরুরী নয়।
–    যদি কারও নিকট এতটুকু পাথেয় থাকে যার দ্বারা মক্কা শরীফের যাতায়াতের ব্যয় নির্বাহ হতে পারে, কিন্তু মদীনা শরীফ গমনের মত টাকা পয়সা না থাকে তবে তার উপরও হজ্জ ফরজ।

হজ্জ  ফরজ হওয়ার শর্তাবলী
১.    মুসলমান হওয়া
২.    শারীরিকভাবে সুস্থ হওয়া এবং আর্থিক সামর্থ থাকা।
৩.    বুদ্ধিমান ও বালেগ তথা প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়া।

হজ্জের প্রকার
হজ্জ তিন প্রকার যথাঃ (১) তামাত্তো, (২) ক্বিরান, (৩) ইফরাদ।
১. হজ্জে তামাত্তো : আভিধানিক অর্থ-
–    উপভোগ করা, উপস্থিত ফায়দা লাভ করা, উপকার লাভ করা।
–    ঞড় বহলড়ু, ঃড় মবঃ নবহবভরঃ, ঃড় মবঃ ভধাড়ঁৎ, ঃড় নব নবহবভরঃবফ.
পারিভাষিক অর্থ-
* শরহে বেকায়া গ্রন্থকারের মতে- তামাত্তো হলো, হজ্জ পালনেচ্ছুক ব্যক্তি হজ্জের মাসে প্রথমে মীকাত হতে ওমরা পালনের জন্য ইহরাম বাধবে, তারপর তাওয়াফ করবে, সাফা- মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সায়ী করবে, হলক অথবা কসর করবে।
৮ই জিলহজ্জ তারিখে মিনা যাওয়ার প্রাক্কালে হজ্জের নিয়তে পুনরায় ইহরাম বাঁধবে। এই জন্য এই নিয়মে ইহরাম দীর্ঘায়িত হয় না। হাজী সাহেবানদের জন্য এই নিয়ম সহজ ও অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক। তাই বাংলাদেশের অধিকাংশ হাজী সাহেবগণ তামাত্তো হজ্জ করে থাকেন। তামাত্তো হজ্জকারীদের সংখ্যা সর্বাধিক হয়ে থাকে। মহিলাদের জন্য তামাত্তো হজ্জই বেশি সমীচীন। তামাত্তো হজ্জের জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। তামাত্তো হজ্জে প্রথমে ওমরার নিয়ত করতে হবে।
হজ্জের নিয়ত
ইয়া আল্লাহ! আমি তামাত্তু হজ্জের নিয়ত করছি, আমার জন্য তা সহজ করে দিন ও কবুল করুন।
ওমরাহর নিয়ত
ইয়া আল্লাহ! আমি তামাত্তো হজ্জ আদায়ের নিমিত্তে প্রথমে ওমরাহ আদায়ের নিয়ত করছি,  আমার জন্য তা সহজ করে দিন ও কবুল করুন। এরপর ৮ জিলহজ্জ মক্কা মোকাররমা থেকে ইহরাম বেধে হজ্জের নিয়ত করতে হবে।

(২) হজ্জে ক্বিরান : আভিধানিক অর্থ-
– মিলানো, সংযুক্ত করা
–    দুটি বস্তুকে একত্রিত করা, সাথী হওয়া।
–    ঞড় পড়হহবপঃ, ঃড় লড়রহ, ঃড় ষরহশ, ঃড় ধফফ ঃড় নব ঁহরঃবফ. ইত্যাদি

পারিভাষিক অর্থ-
ওমরাহ ও হজ্জ এক সাথে আদায়ের জন্য ইহরাম বেঁধে প্রথমে ওমরাহ পালন করে ইহরাম না খুলে একই ইহরামে হজ্জ সমাপন করাকে “হজ্জে ক্বিরান ” বলে।
এ নিয়মে ওমরার তাওয়াফ এবং সায়ী করে হজ্জের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যারা হজ্জের কাছাকাছি সময়ে মক্কা শরীফে আসবে তাদের জন্য ক্বিরান হজ্জের নিয়ত করা উত্তম এবং সওয়াবও অধিক। ক্বিরান হজ্জকারীদের সংখ্যা কম হয়ে থাকে। ক্বিরান হজ্জের জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। ক্বিরান হজ্জের জন্য ওমরাহ ও হজ্জের নিয়ত এক সাথে করতে হবে।

(৩) হজ্জে ইফরাদ :আভিধানিক অর্থ-
–    একাকি, একক, বিজোড়
–    ঝড়ষরঃধৎু, টহরঃ, ঁহরঃবফ, অষড়হ

পারিভাষিক অর্থ-
শুধুমাত্র ইহরাম বেঁধে হজ্জ সমাপন করাকে “হজ্জে ইফরাদ” বলে। এতে কোন ওমরাহ করতে হয় না। ইফরাদ হজ্জকারীদের সংখ্যা কম হয়ে থাকে। ইফরাদ হজ্জের জন্য কুরবানি ওয়াজিব নয়, তবে করা মুস্তাহাব। ইফরাদ হজ্জের জন্য শুধুমাত্র হজ্জের নিয়ত করতে হবে।
হজ্জের ফরজ তিনটি
১- ইহরাম বাঁধা ,
২- আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।
৩- তাওয়াফে যিয়ারত করা।
(১) ইহরাম বাঁধা: গুনাহ বর্জন, নেক আমলের প্রতিশ্র“তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে হজ্জব্রত পালনের নিয়ত এবং তালবিয়া পাঠের নামই ইহরাম।
(২) আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা: ৯ই জিলহজ্জ দ্বিপ্রহর থেকে ঐদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত যে কোন সময় এক মূহুর্তের জন্য হলেও আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা।
(৩) তাওয়াফে যিয়ারত: ১০ জিলহজ্জের ভোর থেকে ১২ই জিলহজ্জের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাইতুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করা।

হজ্জের ওয়াজিব সমুহ
হজ্জের ওয়াজিব ৬টি যথা-
১- ৯ই জিলহজ্জ দিবাগত রাত্রে আরাফার ময়দান হতে মিনায় ফিরার পথে মুজদালিফায় রাত্রি যাপন এবং সেখানে মাগরিব ও এশার নামায একই সাথে আদায় করা।
২- সাফা-মারওয়া পাহাড় সাঈ করা।
৩-    ১০, ১১, ১২ইং জিলহজ্জ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা।
৪-    ক্বেরান ও তামাত্তো হাজীদের জন্য কুরবানি করা।
৫-    কুরবানির পরে মাথা মুন্ডানো বা চুল ছোট করা।
৬-    মিকাতের বাইরে অবস্থানকারীদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করা।
হজ্জের সুন্নত সমুহ
১- মীকাতের বাইরে থেকে আগমনকারীদের জন্য তাওয়াফে কুদুম করা,
২-    তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদ (কাল পাথর) থেকে শুরু করা।
৩-    যে তাওয়াফের সাঈ আছে সেই তাওয়াফে রমল এবং ইযতিবা করা।
৪-    সাফা-মারাওয়ার মধ্যে যে দুটো সবুজ বাতি আছে তার মধ্যবর্তী স্থান দৌড়ে অতিক্রম করা। তবে মহিলাদের জন্য প্রযোয্য নয়
৫-    মক্কায় ৭ই জিলহজ্জ তারিখে আরাফাতে ৯ই জিলহজ্জ তারিখে এবং মিনায় ১২ই জিলহজ্জ তারিখে ইমামের খুতবাহ শোনা।
৬-    ৮ই জিলহজ্জ তারিখে দিবাগত রাত মিনায় কাটানো।
৭-    সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পূর্বে মুজদালিফা থেকে মিনায় রওয়ানা হওয়া।
৮-    ১০ই জিলহজ্জ এবং ১১ই জিলহজ্জ তারিখের রাত এবং ১২ই জিলহজ্জ তারিখেও মিনায় থাকলে ১৩ই জিলহজ্জ তারিখ দিবাগত রাতও সেখানে কাটানো।

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ
(১) খোশবু ব্যবহার করা (২) সেলাই করা কাপড় পরিধান করা (স্ত্রী লোক সেলাই করা কাপড় পড়তে পারবে) (৩) চুল পশম বা নখ কাটা বা উপড়ে ফেলা। (৪) চুল দাড়িতে খেজাব লাগানো। (৫) বৃক্ষ, ঘাস, গাছপালা কাটা বা ছেঁড়া। (৬) সুগন্ধি টুথপেষ্ট ব্যবহার করা। (৭) মাথা ও মুখ ঢাকা (৮) পশু-পাখি শিকার করা বা সাহায্য করা। (৯) কীটপতঙ্গ, মশা, মাছি, উকুন বা যে কোন প্রাণী হত্যা করা। (১০) সর্বপ্রকার যৌনচারে জড়িয়ে পড়া। (১১) ঝগড়া বিবাদ করা (১২) কোন গুনাহর কাজ করা। (১৩) মোজা পরিধান করা। (১৪) পুরুষের মুখমন্ডল ও মাথা ঢেকে রাখা। (১৫) জাফরান মিশ্রিত কোন কাপড় পরিধান করা। (১৬) পাগড়ী পরিধান করা।
পুরুষদের জন্য ইহরাম অবস্থায় এমন জুতা ব্যবহার করা, যার দ্বারা পায়ের পাতার মাজখানের গিরাটি ঢেকে  যায়। তা পূর্ণ ১ দিন বা রাত্রি পরিধান করলে কুরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে। যারা প্রথমে মদীনা শরীফে যাবেন তাদের মদীনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফে আসার পথে ইহরাম বাধলেই চলবে, কিন্তু মক্কায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাধার পর মদীনায় যাওয়ার ইচ্ছা হলে ইহরাম খুলা যাবেনা। যদি খুলে তবে দম ওয়াজিব হবে।

হজ্জের তালবিয়া
উচ্চারণ : লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হাম্দা ওয়ান্ নিয়ামাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা-শারীকা লাক।
অর্থ : আমি হাযির হে আল্লাহ! আমি হাযির, আমি হাযির। আপনার কোন শরীক নেয়, আমি হাযির। নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও নিয়ামত আপনারই, আর সকল সাম্রাজ্য আপনারই, আপনার কোন শরীক নেই।

দুআ কবুলের স্থানসমুহ
(১) মাতাফ তথা তাওয়াফের জায়গায়, (২) মুলতাজাম বা কাবা ঘরের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থান, (৩) মীযাবে রহমত বা কাবা শরীফের ছাদের পানি যে স্থান দিয়া নিচে পরে সে স্থান (হাতিমের মধ্যে), (৪) যমযম কুয়ার কাছে, (৫) মাকামে ইবরাহীম অর্থাৎ হযরত ইবরাহীম আ. এর পদচিহৃ যেখানে সংরক্ষিত আছে তার পিছনে, (৬) সাফা-মারওয়া পাহাড়ের উপর, (৭) রোকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে, (৮) মিনার ময়দানে (৯) আরাফাতের ময়দানে, (১০) জাবালে রহমতে, (১১) মুজদালিফার ময়দানে, (১২) জাবালে নূর যেখানে পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছিল, (১৩) জাবালে সওর যেখানে প্রিয় নবী সা. হযরত আবু বকর রা.কে নিয়ে অবস্থান করেছিলেন, (১৪) জাবালে ওহুদ যেখানে ওহুদের যুদ্ধ হয়েছিল এবং প্রিয় নবীজি সা. এর দন্ত মোবারক শহীদ হয়েছিল, (১৫) দারে আরকাম যেখানে হযরত ওমর রা. ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, (১৬) জান্নাতুল বাকী ও জান্নাতুল মোয়াল্লা যে কবরস্থানদ্বয়ে প্রিয় নবীজির সাহাবায়ে কেরাম, আওলাদে পাক, আযওয়াজে মুতাহ্হারা , শুহাদায়ে কেরাম শুয়ে আছেন ও অন্যান্য পবিত্র স্থান সমুহ। সবিশেষে দুআ করি আল্লাহ যেন আমাদেরকে হজ্জে মাবরুর দান করেন। আমীন।

লেখক : প্রাবন্ধিক, তরুণ আলেম,

2 মন্তব্য রয়েছেঃ হজ্জ ও ওমরাহ আদায়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য : হাফেজ মু. মিনহাজ উদ্দিন

  1. লুতফুর ফরায়েজী says:

    অনেক সুন্দর লেখা। মোটামুটি সবকিছু এসেগেছে। ভাল লাগল।

  2. AL HAJJ SHAHIN says:

    লেখাটি পড়ে খুব ভাল লাগল.
    আরো লিখতে থাক, সফল একদিন হবেই।
    দুয়া করি.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight