স্বাস্থ্যসমাচার

কমলালেবুর গুণাবলি

 
এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। যা শীতকালীন সর্দি, নাক বন্ধ হওয়া, টনসিল, ফুলে যাওয়া, গলা ব্যথা, জ্বর জ্বর ভাব, হাঁচি, কাশি মাথাব্যথা, ঠান্ডাজনিত দুর্বলতা এই সমস্যাগুলো দূর করে।
* সূর্যের রোদে ভিটামিন ডি থাকে। তবে শীতের রোদের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে। কমলালেবু ত্বককে শক্তিশালী করে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আমাদের বাঁচায়।
* ঠোঁট ফাঁটা, পায়ের তলা ফেটে যাওয়া রোধ করে কমলালেবু। ত্বকের মসৃণ ভাব বজায় রাখতে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এতে কোন চর্বি বা কোলেষ্টেরল নেই। তাই মোটা মানুষ, হাইব্লাড প্রেসার, হৃদরোগীরা ক্ষেতে পারবেন কোন রকম ভয় ছাড়া। তবে এতে পটাশিয়াম রয়েছে। যা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।
* জিহ্বায় ঘা, ঠোঁটের কোনায় ঘাজনিত (জ্বর হওয়ার পর অনেকের ঠোঁটের কোনায় ঘা হয়) সমস্যা দূর করবে এই লেবু। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এর ভূমিকা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ঘা, কাটা, সেলাইজনিত ত্বককে দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে ভিটামিন সি। তাই যেকোনো অপারেশনের পর খান কমলালেবু। দাঁত, চুল, ত্বক, নখের পুষ্টি জোগায় কমলালেবু। গবেষণা করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত এই ফল খায় তাদের দাঁতের ডেন্টাল ক্যারিজ (দাঁতের একধরনের অসুখ) হওয়ার আশঙ্কা থাকে খুবই কম। তবে শুধু কমলালেবু খেলেই চলবে না, দাঁত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে নিয়মিত।
* রক্তে চর্বির পরিমাণ কমায় এই ফল। বয়স্ক ব্যক্তিরা প্রতিদিন একটি কমলালেবু সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত একটি লেবু খান। কারণ, ভিটামিন সি, প্রতিদিন আমাদের প্রয়োজন হয়। আর ভিটামিন সি দেহে জমা থাকে না। তাই নিয়মিত এই ফল খাওয়া ভীষণ জরুরি। কমলালেবু কিনতে সমর্থ না হলে ভাতের সঙ্গে লেবুও আপনাকে দেবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি। ডায়বেটিসের রোগীরা মিষ্টির পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে টক লেবু খাবেন বেশি করে।
* চোখের পাতায় ঘা, চোখ ওঠা ভীষণ ছোঁয়াচে রোগ। এই রোগগুলো দূর করার জন্য দরকার ভিটামিন ‘এ’ এবং সি। যা রয়েছে কমলালেবুতে। বৃদ্ধ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, মাতৃদুগ্ধদানকারী মহিলার জন্য এই ফল অপরিহার্য। তবে হজম করতে না পারলে প্রতিদিন খাবেন না। প্রতিদিন দিনে একটি কমলালেবু খাবেন। আর অ্যাসিডির সমস্যা থাকলে সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে খাওয়াই ভালো। ঘুমাতে যাওয়ার আগে খাবেন না।
 
শীতে শিশুর সুস্থতায়..
 
* নবজাতক শিশুকে নরম সুতি কাপড়ে জড়াতে হবে। তার হাত-পায়ে গরম মোজা দিয়ে রাখতে হবে। তার কাপড়গুলো হতে হবে গরম কিন্তু আরামদায়ক।
* অনেক নবজাতককে ঘন ঘন গোসল করান। শীতের সময় নবজাতককে গোসল না করানোই ভালো। তবে নরম কাপড় হালকা কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে নবজাতকের শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে।
* শীতে নবজাতকের চুল মুড়ানো ঠিক নয়। এতে ঠান্ডা আরও বেশি লাগে। নবজাতকের জন্ডিস থাকলে সরাসরি সূর্যের আলোতে না রেখে জানালার গ্লাসের পাশের রোদে রাখতে হবে। তবে তেল মালিশ করে সরাসরি রোদে রাখার প্রয়োজন নেই।
* নবজাতককে সব সময় মায়ের উষ্ণতায় রাখা ভালো। আর বেশি বেশি মায়ের বুকের দুধ শিশুকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করবে।
* এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও উলের বা মোটা সুতির গরম কাপড়ে রাখতে হবে। তবে বাচ্চার শরীর ঘেমে যায়, এমন কাপড় যেন না হয়।
* এ ধরনের শিশুকে অবশ্য গোসল করাতে হবে, নইলে চর্মরোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে প্রতিদিন না করিয়ে দিনে একবার গোসল করালে মন্দ হয় না। গোসল করালে শরীর ঝরঝরে হবে, শিশুর আরাম লাগবে।
* তবে গোসলের পর ভালো লোশন বা ক্রিম লাগিয়ে দিতে হবে। আর গোসলের সময় চুল টেনে চুলের গোড়ার ময়লা পরিস্কার করে দিতে হবে। এতে মাথার ত্বক সুস্থ থাকবে।
* শীতে শিশুরা অতিরিক্ত ভিটামিন সি পাবে এমন খাবার দিতে হবে। লেবু, কমলা, মাল্টা, আমলকী এসব ফল দেওয়া ভালো। তবে যারা চিবিয়ে খেতে পারে না, তাদের কুসুম গরম পানিতে একটা আমলকি চুবিয়ে এর পানি খাওয়ানো যাবে। এটি বেশ কার্যকর।
* শীতে ঠান্ডা লেগে শিশুর নাক বন্ধ হয়ে গেলে রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সে কারণে রাতে শোবার আগে দুই নাকে দুই ফোঁটা নরসোল ড্রপ দিয়ে দিলে নাক খুলে গিয়ে শিশুর ঘুমের আরাম হবে।
* শীতে ঠান্ডা লেগে কাশি, শ্বাসকষ্ট, কিংবা বুকের ভেতর গড়গড় আওয়াজ অথবা বুকের হাড় শ্বাস নেওয়ার সময় ভেতরের দিকে দেবে গেলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
* প্রয়োজনে হালকা গরম পানির সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight