স্বাস্থ্যসমাচার : শীতে চর্ম রোগ

  1. আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, শীত এলে বেশ কিছু চর্মরোগ দেখা যায়, যা গরমকালে তেমন একটা দেখা যায় না। আরেকটা ব্যাপার আমরা প্রায়ই ল্য করে থাকি, অনেকেই বলে, শীত এলে তার শরীর খুবই চুলকায়। অথচ শরীর পরীা করলে কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না। এেেত্র চুলকানির মূল কারণ হচ্ছে যে শীত এলে তার ত্বক অধিক পরিমাণে শুষ্ক হয়ে যায় আর এই শুষ্কতার কারণ হচ্ছে বাতাসে যেহেতু শীতকালে জলীয় বাষ্প কমে যায় তাই বায়ুমন্ডল ত্বক থেকে পানি শুষে নিয়ে যায় ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং ত্বকের চুলকানি শুরু হয়। সেই চুলকানি আরও বেড়ে যায় যখন নখ বা অন্য কিছু দিয়ে বারংবার ত্বকের গায়ে চুলকাতে থাকে। মনে রাখতে হবে আপনি যতই চুলকাবেন চুলকানির গতি ততই প্রবল হতে থাকবে। তাই নখ দিয়ে কখনই চুলকানো উচিত নয়। যদি একান্তই অসহ্য হয়ে পড়ে, তবে সে েেত্র হালকাভাবে হাতের তালু দিয়ে ত্বক চুলকানো যেতে পারে। যদি শুষ্কতার কারণেই এ রকম চুলকানি দেখা দেয়, তাহলে ভালো কোনো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক ভালো থাকে। ময়েশ্চারাইজার পাওয়া না গেলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলেও ত্বক ভালো থাকে। চুলকানির পরিমাণ মারাত্মক হলে গ্লিসারিনের সাথে পানি মিশিয়ে ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
    এর পরে একটি রোগের কথায় আসা যাক, যা কিনা শীত এলেই বাড়ে। সেটির নাম হচ্ছে ইকথায়োসিস। এ রোগটি আবার অনেক ধরনের আছে। সেদিকে না গিয়ে বরং ইকথায়োসিস ভালগ্যরিস নিয়ে আজ একটু সংপ্তি আকারে আলোচনা করা যাক। এ রোগটি একটি জন্মগত রোগ এ রোগটি শিশুকাল থেকেই ল্য করা যায়। দেখা গেছে, প্রতি হাজারে একজন এ রোগে ভুগে থাকেন। নারী-পুরুষের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যাও সমপরিমাণ। এ রোগে যারা আক্রান্ত হয়, তাদের হাত ও পায়ের দিকে ল্য করলে দেখা যাবে, ত্বক ফাটা ফাটা এবং ছোট ছোট গুঁড়ি গুঁড়ি আঁইশ পায়ের সামনের অংশ ও হাতের চামড়ায় দেখা যাবে। তবে হাত ও পায়ের ভাঁজযুক্ত স্থান থাকবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, তাদের কাছে প্রশ্ন করলে তারাই বলবে, রোগটি তার দেহে ছোটবেলা থেকেই আছে এবং প্রতি বছর শীত এলেই এটা বেড়ে যায়। এদের হাতের ও পায়ের তালুর দিকে তাকালে দেখা যাবে যে, হাতের রেখাগুলো খুবই স্পষ্ট, যা কিনা সাধারণ লোকের েেত্র লণীয় নয়। তাদেরকে এলার্জির বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারাই বলবে, তাদের নাক দিয়ে প্রায়ই পানি পড়তে থাকে অর্থাৎ তাদের সর্দি অবস্থা থাকে। তাদের বাবা-মায়ের ব্যাপারে খবর নিলে আরো পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে, তাদেরও কোনো না কোনো ধরনের এলার্জিজনিত সমস্যা ছিল বা এখনো আছে।
    এ রোগটি কখনোই একেবারে ভালো হয় না। তবে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যদি ত্বকের গায়ে তৈলাক্ত পদার্থ নিয়মিত মাখা যায়। সে েেত্র আলফা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড খুবই কার্যকরী। এটি পাওয়া না গেলে গ্লিসারিনের সাথে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলেও খুবই ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে গ্লিসারিন ব্যবহারের সমস্যা হচ্ছে ত্বক আঠা আঠা হয়ে যায়।
    সে েেত্র একটি টাওয়েল দিয়ে অতিরিক্ত গ্লিসারিনটুকু চেপে তুলে নিলে ত্বকের আঠালো বা চটচটে ভাবটা কেটে যায় এবং ত্বক খুবই ভালো রাখা সম্ভব। একজিমার নাম আমরা সবাই জানি। সেই একজিমাও কিন্তু শীত এলে বাড়তে পারে। তাই একজিমায় আক্রান্ত রোগীদের আমরা সব সময়ই বলে দিই, ভালো হওয়ার পরও যেন সেই স্থানটি শুষ্ক হতে দেয়া না হয়। একটি বিশেষ ধরনের একজিমা আছে, যার নাম একজিমা ক্রাকুয়েলেটাম। এটি সাধারণত চল্লিশ বছরের ঊর্ধ্বের লোকদের হয়। এটি শীত এলেই বাড়ে। কারণ শীতে বাতাসের জলীয় পদার্থ কমে যায়। এ েেত্র শুষ্ক ত্বকের গায়ে ফাটা ফাটা দাগ ও হালকা পরিমাণ আঁইশ ল্য করা যায়। কখনো কখনো ত্বক পুরু হয়ে পড়তেও দেখা যায়। একটা কথা মনে রাখা খুবই প্রয়োজন, ত্বক চুলকালে ত্বক পুরু হতে থাকে এবং একপর্যায়ে তা শক্ত ও অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে থাকে।
    আর একটি রোগ আছে, যার নাম আমরা প্রায় সবাই জানি। রোগটি হচ্ছে স্কেবিস। বাংলায় খুজলি-পাঁচড়াও বলে থাকেন অনেকেই। এটির সাথে যদিও সরাসরি শীতের বা বাতাসের আর্দ্রতার কোনো সম্পর্কের কথা জানা যায় না, তবুও দেখা গেছে এ রোগটি শীত এলেই ব্যাপক আকারে দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুরা এতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হতে থাকে। হতে পারে শীতকালে যেহেতু এক বিছানায় একত্রে অনেকেই চাপাচাপি করে শোয়, সে কারণে রোগটি এ সময় ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে। এ রোগটি আমাদের দেশের গরিব শ্রেণীর মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। বেশির ভাগ েেত্র যেসব শিশু স্কুলে যায় তারাই এতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। যে কীটটি দিয়ে এ রোগটি হয় তার নাম হলো স্কেবিয়াইসারকপটিস স্কেরিবাই। এ েেত্র শরীরে অসম্ভব রকম চুলকানি হতে দেখা যায় এবং রাতের বেলা চুলকানির তীব্রতা আরো বাড়ে।
    রোগটি খুবই সাধারণ হলেও চিকিৎসায় দেরি হলে, রোগী এমন সব অবসস্থা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসে যে ভালো অভিজ্ঞতা না থাকলে অনেকেই ভুল চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ েেত্র সাধারণত ঘরের একাধিক ব্যক্তি এ রোগে ভুগে থাকে। ফলে ঘরের সবাইকে এ রোগের চিকিৎসা একসাথে করাতে হয়, নয়তো ভালো হয়ে এ রোগ আবার তার দেহে দেখা দেবেই।
    এছাড়াও কিছু কিছু রোগ আছে যেমন হাম ও চিকেন পক্স। এগুলোর সাথে আমরা খুবই পরিচিত। এগুলো ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। ল্য করলে দেখতে পারেন, এগুলোও শীতকালেই বেশি হয়ে থাকে।

    হেলথ টিপস ১
    পানি চিকিৎসা নিন। দিনে বিভিন্ন বিরতি দিয়ে আট গ্লাস পানি পান করুন। প্রথম গ্লাসটা নেবেন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর, সবচেয়ে ভালো হয় আপনি যদি কুসুম গরম পানি নেন। দ্বিতীয় গ্লাসটা নেবেন ঠা-া পানির, আর সেটা সকালে নাশতার পর পান করতে পারেন। সকালে, আরো কিছু পরে আপনি আপনার তৃতীয় গ্লাস পানি পান করুন। আর চুতুর্থ গ্লাস পানি পান করুন দুপুরের খাবারের পনেরো মিনিট আগে। পঞ্চম গ্লাসটা নিন খাবারের পরে তবে খাবারের মধ্যে নয়। বিকেলে ষষ্ঠ গ্লাস এবং রাতে খাবারের আগে সপ্তম গ্লাস পান করুন। আর আপনার শেষ গ্লাসটি পান করুন রাতে বিছানায় যাবার আগে।

    হেলথ টিপস ২
    যদি আপনি নিয়মিত প্রচুর পরিমাণ খনিজ পানি বা মিনারেল ওয়াটার পান করেন, তাহলে দেখবেন কয়েক সপ্তাহ পর আপনার ত্বক খুব কোমল ও মসৃণ হয়ে উঠেছে।

  2. হেলথ টিপস ৩
    আপনি কি কাজের মধ্যে কান্ত হয়ে পড়েন? চোখের সামনে দুলতে থাকে পর্দা? ঘুরতে থাকে পৃথিবী? ¯্রফে পেছনে হেলান দিন, কাঁধ দুটো উঁচু করুন এবং একই সময়ে গভীরভাবে শ্বাস নিন। এরপর সোজা শ্বাস ছাড়–ন এবং কাঁধ দুটো নামান। এই ব্যায়াম দুবার করুন। দেখবেন যে সবকিছু আপনার জন্য হঠাৎ করে হয়ে সহজ হয়ে উঠেছে।
  3. হেলথ টিপস ৪
    যদি আপনি কাজে থাকার কারণে দুুপুরে ঘুমানোর সুযোগ না পান, তাহলে এক ফাঁকে দশ মিনিটের জন্য তাজা বাতাসে হেঁটে আসুন, এটা আপনাকে নতুন করে শক্তি যোগাবে এবং আপনার চাপ দূর করবে।

    হেলথ টিপস ৫
    যদি আপনি অধিক ব্যায়াম না করেন এবং বাড়ির বাইরে যেতে ইচ্ছুক না হন তাহলে বাড়িতে ব্যবহার করার জন্য ফিটনেস সরঞ্জামের একটা ক্যাটালগ জোগাড় করুন। এটা অন্তত আপনাকে ব্যায়াম করার জন্য উৎসাহিত করবে। যদি আপনার দৈনন্দিন বরাদ্দকৃত পানির স্বাদ একঘেয়ে মনে হয় তাহলে আপনি ছোট এক টুকরো আদা আপনার দিনের প্রয়োজনীয় পানির সঙ্গে পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে নিতে পারেন। এরপর ঠা-া করে পানিটুকু একটা পাত্রে ঢেলে নিন। এটাই ওই দিনের জন্য আপনার বরাদ্দকৃত পানি। এ সময়ের মধ্যে আপনি পরিবর্তনের জন্য এক গ্লাস মিনারেল ওয়াটার পান করতে পারেন।

    হেলথ টিপস ৬
    যারা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেন, তারা সারাদিন খুব ভালো বোধ করেন। সুতরাং খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। যখন আপনার ঘড়ির অ্যালার্ম বাজবে, আপনি আবার পাশ ফিরে শোবার চেষ্টা করবেন না। বিছানা থেকে উঠুন। ওঠার পরে হাত-পা প্রসারণ করুন। জানালার পর্দাগুলো সরিয়ে দিন, দিনের আলো প্রবেশ করতে দিন ঘরের মধ্যে। আর যদি বাইরে তখনো অন্ধকার থাকে, বেডরোমের সব আলো জ্বেলে দিন। আলো আপনার শরীরের মেলাটোনিন আপনাকে ঘুমোতে সাহায্য করে।

    হেলথ টিপস ৭
    হাসুন। প্রাণ খুলে হাসুন। গাড়ি চালানোর সময়, কেনাকাটা করার সময়, কাজের মধ্যে হাসুন। চেষ্টা করুন সব সময় নিজেকে হাস্যমুখী রাখতে। হাসি আপনাকে সুখী করবে, আর সুখী মানুষ জীবন ও কাজের মধ্যে খুঁজে পায় তার স্বাচ্ছন্দতা। আপনি আপনার মুখ টেনে বিস্তৃত করে হাসতে পারেন। এরপর গাল দুটো শক্ত করুন। এভাবে বেশ কয়েকবার করুন। এতে মুখের পেশি ভালো থাকবে।

    হেলথ টিপস ৮
    মাঝে মধ্যে কিছু চকোলেট খেলে বিবেকের দংশনে ভুগবেন না। এই ‘মিষ্টি বিষ’ ক্ষতিকর নয়, সত্যি কথা বলতে কী, এটা উল্টোও করে। এটা রক্তনালিগুলোর উপকার করে এবং সেইসব হরমোনের মাত্রা বাড়ায় যা সুখকে বৃদ্ধি করে। আপনি তখনই মোটা হবেন যখন আপনি অতিরিক্ত পরিমাণ চকোলেট খাবেন।

    হেলথ টিপস ৯
    নিউজিল্যান্ডের ফলমূল অত্যন্ত সুস্বাদু এবং এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। বর্তমানে আমাদের দেশের ফলের দোকানগুলোতে নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন ফল পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে নাশতা হিসেবে দুই প্রধান খাবারের মাঝখানে একটি নিউজিল্যান্ডের ফল খান, এটা ফুর ঋতুতে আপনাকে সুস্থ রাখবে।

    হেলথ টিপস ১০
    একটা ব্লেন্ডারে দুটো কমলা লেবুর রস, ৬ থেকে ৭ আউন্স টক বাঁধা কপির রস এবং ৩ আউন্স আনারসের রস মিশ্রণ করুন। এটা একটা শক্তিশালী পানীয় যা আপনার শরীরে শক্তি যোগাবে।

    হেলথ টিপস ১১
    একটা কলা, একটা আম ও ৪ আউন্স গাজরের রস দিয়ে একটা নন-অ্যালকোহলিক ড্রিংক তৈরি করুন। এই পানীয়তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি এবং এটা আপনার মানসিক চাপের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকর।

    হেলথ টিপস ১২
    আপনার কি হজমজনিত সমস্যা হচ্ছে? চিন্তা করবেন না। আপনি আপনার খাবারে ভুসি কিংবা তিসির বীজ মিশ্রণ করুন। এতে আপনি সহজেই আপনার হজমের সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন। ¯্রফে খাঁটি দই খান, এতে কোনো ফল মেশাবেন না। এক চামচ ঘন দই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আর এর স্বাদ ফল মিশ্রিত দইয়ের চেয়ে ভালো।

    হেলথ টিপস ১৩
    শোবার আগে এক গ্লাস ঘুম বর্ধক পানীয় খান। কীভাবে সেটা তৈরি করবেন? খুবই সোজা। একটা কলা, একটা অ্যাপ্রিকট বা খুবানি, এক পাইন্ট সয়া দুধ এবং সামান্য মধু নিন। তৈরি করুন পানীয়। আপনি অঘোরে নিদ্রা যাবেন!

  4. হেলথ টিপস ১৪
    সাইকেল চালান। শরীর ফিট রাখতে যে কোনো ব্যায়ামের চেয়ে সাইকেল চালানো অনেক ভালো ব্যায়াম। এটা শরীর ও মনের জন্য ভালো। শরীরকে যেমন ফিট রাখে, মনকেও রাখে চাঙা। আর যদি আপনি অন্য কাউকে নিয়ে সাইকেল চালান, কিন্তু একটা গ্রুপের সঙ্গে সাইকেল চালান, তাহলে তা বেশি উপভোগ্য।
  5. হেলথ টিপস ১৫
    নিয়মিত রীতিতে হজম শরীরে প্রতিটা প্রণালীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটা আপনা আপনি ঘটে না। এর জন্য মৌলিক পূর্বশর্ত হল পুষ্টি ও ব্যায়াম। আপনি নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করবেন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করবেন। সবচেয়ে বড় কথা হল আপনি কখনোই আপনার শরীরের চাহিদাকে উপেক্ষা করবেন না।
    সংগ্রহে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight