স্বাস্থ্যসমাচার : কিশোর বয়সে মদপান ও ধূমপান হৃদস্পন্দনের আশঙ্কা

স্বাস্থ্যসমাচার : কিশোর বয়সে মদপান ও ধূমপান হৃদস্পন্দনের আশঙ্কা

নিয়মিত মদ্যপানে অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের আশঙ্কা :
হৃদরোগীরা নিয়মিত মদ্যপান করলে তাদের অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ঝুঁকি বাড়ে বলে সম্প্রতি এক জরিপে জানা গেছে। এমনকি পরিমিত পরিমাণে পান করলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
মদপানের ফলে হৃদপি-ের সংকোচন প্রসারণের প্রক্রিয়া অনিয়মিত হয়ে পরে বলে এর আগেও জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। নিয়মিত পান করলে এ অবস্থার অবনতি হতে পারে।
সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, হৃদপি-ে কোলেস্টেরল জমে যাওয়া থেকে মুক্ত থাকতে হলে সপ্তাহে এক বা দু’বার মদপান করা যেতে পারে। তবে আগে থেকেই হৃদরোগ থাকলে এই সামান্য পরিমাণ পানাভ্যাসেও অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কানাডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। ৩০ হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কদের উপর এ গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

এতে দেখা যায়, পাঁচ বছর সময়ের মধ্যে মাঝেমধ্যে মদ্যপানকারীদের মধ্যে প্রতি বছর অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ার হার প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ। নিয়মিত পানকারীদের মধ্যে এ হার ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অতি পরিমাণে পানকারীদের মধ্যে এ হার ২ দশমিক ১ শতাংশ।
গবেষকরা জানান, বয়স, শারীরিক ওজন ও ধূমপানের অভ্যাসের ভিন্নতা থাকার পরেও মদ্যপানের ফলে অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রায় ১৪ শতাংশ।
গবেষণা দলের প্রধান ও অন্টারিও’র হ্যামিলটনের ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির ড. ইয়ান লিয়াং বলেন, পরিমিত পরিমাণে মদ্যপানের সুফল নিয়ে যে সুপারিশ করা হয় এ গবেষণার ফলাফলে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
নিয়মিত মদ্যপানের ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন ও থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

কিশোর বয়সে ধূমপান অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায় :

কিশোর বয়সে ধূমপান করলে অল্পবয়সেই হৃদরোগে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায় বলে পাওয়া গেছে এক গবেষণায়। এমনকি পরবর্তীতে ধূমপান সম্পূর্ণ ছেড়ে দিলেও এ আশঙ্কা থেকেই যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
যারা কিশোর বয়সে ধূমপান শুরু করে সারাজীবন তা ধরে রাখে, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি অধূমপায়ীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।
জার্নাল অব দি আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
ইউনিভার্সিটি কলেজ ল-নের গবেষক ডেভিড ব্যাটি বলেন, এ ঝুঁকি সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে, তবে যতো শিগগির ধূমপানের অভ্যাস ছেড়ে দেয়া যায় ততোই মঙ্গল।
এর আগেও কমবয়সে ধূমপানের সঙ্গে ভবিষ্যতে হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। তবে মধ্যবয়সী ব্যক্তিরা কতো বেশি ধূমপান করছেন তার উপর নির্ভর করে করা এসব গবেষণা খুব বেশি নির্ভরযোগ্য নয় বলে মনে করেন গবেষকরা।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণাটিতে তরুণ বয়সীরা কী পরিমাণ ধূমপান করছেন সে উপাত্ত নিয়ে গবেষণা করা হয়।

এতে ১৯১৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ম্যাসাচুসেটসের হাভার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের শিার্থীরা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যপরীায় ধূমপানের পরিমাণ বিষয়ে দেয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়। পরে ’৬০, ’৭০ ও ’৪০’র দশকে ওই শিার্থীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জরিপ চালানো হয়।

এ গবেষণায় ২৪ হাজারের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যতথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার জন স্কুলে থাকতে ধূমপান করতেন। এসব ধূমপায়ীদের মধ্যে অন্তত অর্ধেক গড়ে ৫৩ বছর বয়সের আগেই মারা যান।

হাভার্ডের শিার্থীদের মধ্যে যারা শিাজীবনের পড়েও ধূমপান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে যারা কিশোর বয়সে ধূমপান করতেন, তবে পরবর্তীতে ছেড়ে দেন তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় ২৯ শতাংশ।

মৃত্যুর কারণের মধ্যে ধূমপানজনিত হৃদরোগ ও ক্যান্সারই বেশি বলে জানান গবেষকরা।
বোস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষক মাইকেল সিগেল জানান, এ গবেষণা চলার সময়ের মধ্যে যারা ধূমপান ছেড়ে দেন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে দেখা গেছে। তবে কমলেও তা অধূমপায়ীদের চেয়ে বেশিই থেকে যায়।

সংগ্রহে : সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight