সোনালি ফায়সালা / সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

শ্বাসরুদ্ধকর অন্তিম মুহূর্তে ক্ষমা
তায়েফ থেকে দক্ষিণ দিকে ভ্রমণ করলে আপনার সামনে একের পর এক পাহাড়ের দৃশ্য পড়বে, যেখানে যেখানে ছোট ছোট গ্রাম রয়েছে। এটা সেই স্থান যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের শৈশব কাটিয়েছেন। মা হালিমা এই স্থানের বাসিন্দা ছিলেন। এখান থেকে আরো নিচে গেলে আবহা এবং খামীস মাশিত নামক স্থান যেখানে গ্রীষ্মের সময় নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু বরং কিছু পরিমাণ ঠা-া অনুভূত হয়। নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর জন্যে শহরটি প্রসিদ্ধ। লাইন বেয়ে যাওয়া পাহাড়ের আজো আপনি রাখাল বেদুঈনদের ছাগল চরাতে দেখতে পাবেন।
আবূ মাশহুদ নামক রাখাল নিজের ছাগলের পাল নিয়ে সকালে বের হত। বৃষ্টির পর গজানো ঘাস তার ছাগলের আহার হত। সন্ধ্যাবেলায় সে তার ছাগলগুলোকে ছোট ছোট পানির গর্ত থেকে পানি পান করিয়ে বাড়ি ফিরত। একদিন সন্ধ্যায় তার ছাগল বাড়ি চলে আসল; কিন্তু সে আর ফিরল না। রাতের অন্ধকারে তার বড় ছেলে এবং তার অন্য আত্মীয় তার খোঁজে বের হল; কিন্তু নিস্ফল ফিরে আসল। পরের দিন সকালে আবার গ্রামের যুবকদের একদল আবূ মশহুদকে খুঁজতে খুঁজতে পাহাড়ের এক ঝর্ণার পাশে পৌঁছল। সেখানে তারা আবূ মশহুদের লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পেল। শরীরে বন্দুকের গুলির চিন্থ ছিল। পুলিশকে সংবাদ দেয়া হল। ঘটনা পরিস্থিতি ও অবস্থাসমূহ স্পষ্টত প্রমাণ করছিল যে, তার সাথে অন্য কোন রাখালের ঝগড়া হয়েছে এবং সেই জের ধরে তাকে খুন করা হয়েছে।
প্রায় সময় রাখালরা এই বিসয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয় যে, কার ছাগল প্রথম পানি পান করবে। কিন্তু এই ঝগড়া সাময়িক থাকে আবার পরের দিন তা মিটে যায়। পুলিশ নিহতের আপনজনদের কাছে জিজ্ঞেস করল, তাদের কারো প্রতি সন্দেহ আছে কিনা? তার সাথে কে ঝগড়া করতে পারে?
বাড়ির লোকজন বলল যে, সে সাদাসিধে লোক ছিল। কারো ক্ষতি করতো না। তার সাথে কারো কখনো ঝগড়া হয় নি। তবে সে অমুক অমুক ব্যক্তির সাথে ছাগল চরাত।
সামান্য তদন্তের পর পুলিশ আলী বিন আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করল, যে পরবর্তীতে অপরাধ স্বীকার করে নিল। আদালতে মোকদ্দমা চলল এবং ঘটনার পরিস্থিতি ও অবস্থা এবং অপরাধ স্বীকারের উপর ভিত্তি করে বিচারক ফায়সালা দিল যে, হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে। নিহতের বড় ছেলে মশহুদ সে সময় সতের বছর বয়সের; কিন্তু ছোট সন্তান মায়ের দুধ পান করা শিশু।
বিচারক ফায়সালা দিলেন, যতক্ষণ না এই শিশু সাবালক হবে সে পর্যন্ত এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা যাবে না। সুতরাং হত্যাকারীকে জেলে আটকে রাখা হল। সে সময় হত্যাকারীর বয়স  ৪২ বছর ছিল। তাকে জেলে ১৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে কিসাসের জন্য। কেননা যতক্ষণ তার ছোট সন্তান ১৮ বছরের হবে ততক্ষণ ফায়সালা কার্যকর করা হবে না।
অতঃপর সময় পার হয়ে গেল এতীম শিশু ১৮ বছর বয়সে পা রাখল নিয়মানুযায়ী হত্যাকারীর গোত্রের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ একত্রিত হয়ে নিহতের উত্তরসূরিদের বললেন, হত্যার দিয়ত (জরিমানা) গ্রহণ করে হত্যাকারীকে মেহেরবানি করে ক্ষমা করে দিতে। সাধারণত সৌদী আরবের খুনের মূল্য মোটামোটি একলাখ বিশ হাজার রিয়াল; কিন্তু তা নির্ভর করে নিহতের উত্তরসূরীদের উপর তারা কি পরিমাণ গ্রহণ করবে? এদিকে নিহতের উত্তরসূরিরা রক্তের বিনিময় করতে অস্বীকার করল। আলী আব্দুর রহমানের পক্ষের লোকজন দশ লাখ রিয়াল দেয়ার প্রস্তাব করল। এরপরও তা মেনে নেয়নি।
আলী আব্দুর রহমান নিজ সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন যে, যখন আমি জেলে গেলাম আমার বয়স তখন ছিল ৪২ বছর। আমি তখন যুবক ছিলাম আর এখন আমি ৬০ বছরের। জেলে থাকাও এক শাস্তি। আমি ৮ বছর বিলজারশী নামক শহরের জেলে ছিলাম, আর বাকী সময় আলবাহার জেলে কাটিয়েছি। জেলে কোন নতুন কয়েদী আসলেই আমরা আমাদের ঘটনা এবং অবস্থা বর্ণনা করতাম।
আর এভাবে সেই সব ঘটনা আমরা পরস্পর পরবর্তী হাজারো বন্দীদের কাছে বর্ণনা করতাম। সেই সময়ের ভেতরে আমি কুরআন পাকের দরসের মাধ্যমে পড়া শিখে ফেললাম। লেখা-পড়া শিখার পর কিছু কিতাব আমি পড়তে লাগলাম। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পর সে সময় এসে পৌঁছল যখন আমার ভাগ্যের ফায়সালা হওয়ার ছিল। অন্যদিকে আমার বংশের লোকজন অবিরাম ক্ষমার জন্যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল; কিন্তু তার কোন সুরাহা হল না। আমি আশা ও নিরাশার মাঝে ছিলাম।
একদিন সকাল বেলায় জেল কর্মকর্তাগণ আমাকে ডাকলেন এবং বললেন, সমঝোতার সকল প্রচেষ্টাই বিফল হল। সুতরাং কাল তোমাকে কিসাসে হত্যা করা হবে। আমি তাদের এই নির্দেশনায় শঙ্কিত হইনি। মূলত আমি ১৮ বছর জেলে থাকার পর ভয়ভীতি দূর হয়ে গিয়েছিল। আমি জীবনে এমনিতেই নিরাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কাল আমার শেষ দিন হবে। আমি আমার  চোখ দুটো বন্ধ করে দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে গেলাম। আমি ভাবছিলাম আমার শৈশব, যৌবন, স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুদের এবং আমার বংশের লোকজনের কথা, মনে পড়ল যারা দশ লাখ রিয়াল এবং এক জমিও জরিমানা দিয়ে আমার প্রাণ বাঁচাতে চায়। সারারাত ঘুম আসেনি। আমি যিকির ও নফল নামাযের মাধ্যমে সময় অতিক্রম করলাম। সকালেই জেলার এসে হাজির। আমার দু পায়ে জিঞ্জির দিয়ে বাধা হল, দু হাতে হাতকড়ি। সাথীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিল। জেলের গাড়ীর দরজা খুলে আমাকে ভেতরে ভরা হল। অল্পক্ষণ পর কিসাসের মাঠে আমাকে নামিয়ে দেয়া হল। আমার দু চোখ বাধা; কিন্তু লোক জনের আওয়াজ আমার কানে আসছিল। এটা খামিশ-মশীত শহরের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। অসংখ্য ব্যক্তিরা আমার হত্যার দৃশ্য দেখার জন্যে একত্রিত হয়েছিল। আমাকে বসিয়ে আদালতের এক কর্মকর্তা আমার অপরাধের ঘোষণা দিল। আমার স্বীকারোক্তি এবং বিচারকের ফায়সালা, সুপ্রিম কোর্টের ফায়সালা সব লোক নীরবে শুনছিল। অতঃপর জল্লাদকে নির্দেশ দেয়া হল যে, অপরাধীর শিরোচ্ছেদ করা হোক। সে সামনে বাড়ল এবং তরবারী কোষ থেকে বের করল। আমি কালেমা পড়তে পড়তে ভাবলাম এক্ষুণি তরবারী আমার মাথাকে বিচ্ছিন্ন করবে। আমি সমস্ত শক্তি একত্রিত করলাম আর এমন সময় এক আওয়াজ এল; আমি তোমাকে আল্লাহকে খুশি করার জন্য মাফ করলাম।
এটা নিহতের বড় ছেলের আওয়াজ ছিল। জনগণ যে আবেগ অনুভূতি নিয়ে আমার লাশ দেখছিল, আর তখনই আমার ক্ষমা ঘোষণা শুনছে। সমস্ত চত্বর “আল্লাহু আকবার” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে গেল। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” কালেমা সবার মুখে। আমি সহকারে এমন কারো ভুলে বা স্বপ্নেও ধারণা ছিল না যে, আমার ক্ষমা হতে পারে। এ অবস্থায় আমি বেহুশ হয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে উঠিয়ে পুনরায় গাড়িতে উঠানো হয় ও জেলখানায় নিয়ে আসে। সমস্ত লোকই আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে বটে; কিন্তু আমার মুক্তির জন্য আইনি  লড়াই এখনও বাকী রয়েছে। অতএব আমি সহ আমার আত্মীয়দের কারো জানা ছিল না যে, আমার কবে জেল হতে মুক্তি হবে। শেষে সেদিনই চলে এল যেদিন জেল থেকে বের হলাম। এসময় এতটুকু সময় পাইনি যে, আমি আমার নিজের লোকদের জানাই যে, আমি মুক্তি পেয়েছি, এবং বাড়িতে ফিরছি, আমি জেল হতে বের হলাম। বের হয়ে এক টেক্সি নজরে পড়ল। আমি তাকে ইশারা দিলাম, সে আসা মাত্র আমি তাতে চট করে বসে পড়লাম। আমার নবজীবন শুরু হতে যাচ্ছে। আমার সামনে নিজের বাড়ির সবই ভাসছিল। ভাবছিলাম ঐ মুহূর্তের কথা কখন আমি তাদের মাঝে উপস্থিত হব। হঠাৎ আমার মনে হল, বাড়িতে না গিয়ে প্রথমে আবূ মশহুদের বাড়ি যাওয়া প্রয়োজন, যাতে তার শুকরিয়া আদায় করা যায়, এবং তার লোকজনের কাছেও শুকরিয়া আদায় করা যায়। আমি পূর্বের ইতিহাস স্মরণ করা শুরু করলাম। আঠার বছরে সবকিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমি টেক্সিওয়ালাকে তাদের গ্রামের ঠিকানা বলে দিলাম। অল্পক্ষণের মধ্যে আবূ মশহুদের পরিবারের সাথে মিলিত হলাম। আমার নিকট আপনাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কোন ভাষা নেই, আমি যা বলছি তা যথেষ্ট নয়। বরং নিঃসন্দেহে আপনাদের প্রতিদান আল্লাহর নিকট। আমি তাদেরকে গলায় লাগিয়ে নিলাম, মাথায় চুম্বন করছিলাম।
এবার নিহতের বড় ছেলে মশহুদ বলতে লাগল: বস আমি তোমাকে আমার ঘটনা শুনাচ্ছি। তুমি অবশ্যই জান, তোমার বংশের পক্ষ থেকে আমাকে দশ লাখ রিয়াল ও এক প্লট জমিন দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া আমাকে অনেক লোকজন ক্ষমা করে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে; কিন্তু আমি সবই অগ্রাহ্য করেছি। একদিন আমরা বাড়ির সকলেই একত্রিত হলাম। আমি তাদের বল্লাম, তোমাদের কি খেয়াল? যদি আমরা হত্যাকারীকে আল্লাহর রাজি-খুশি করার জন্য ক্ষমা করে দিই আর তা আমাদের পিতার পক্ষ থেকে সদকা হয়ে যায়। সেদিন আমরা অনেক চিন্তা-ভাবনা করলাম। অনেক আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, হ্যাঁ, আল্লাহর খুশির জন্য আমাদের তাকে মাফ করে দেয়া উচিত। আমরা সবাই একমত হলাম কেউ যেন জানতে না পারে।
অন্যদিকে আদালতের কার্যক্রম নিজ গতিতে চলছিল। আমাকে জিজ্ঞেস করা হল, সমঝোতার কোন পথ আছে? কিন্তু আমি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে দিলাম এমনকি আল-বাহার পুলিশের কাছে নির্দেশ বাস্তবায়নের অর্ডার এসে গিয়েছিল। আমাকে শেষ বারের মতো জিজ্ঞেস করা হল, তুমি কি মাফ করতে চাও নাকি কিসাস নিতে চাও? আমি মাফ করা অস্বীকার করলাম এবং কিসাস নেয়ার উপর অটল থাকলাম। এবং আমি পুলিশদের বললাম আমি এবং আমার ভাই ও আত্মীয়-স্বজনসহ কিসাসের সময় হাজির থাকব।
অতঃপর যখন আমাকে কিসাসের মাঠে হাজির করা হল, তোমার দু চোখ বাঁধা ছিল এবং আদালতের পক্ষ থেকে ফায়সালা ও সাক্ষীর সবকিছু শোনাল এবং জল্লাদ তরবারী বের করল। সে তোমার শিরñেদ করতে যাচ্ছিল এমন সময় আমি তাকে হাতের ইশারায় থামিয়ে দিলাম এবং অগ্রসর হয়ে তার হাত ধরলাম এবং সাথে সাথে ঘোষণা করলাম যে, আমি আল্লাহর জন্যে তোমাকে মাফ করে দিয়েছি।
আমি কোন ব্যক্তির প্রশংসা অর্জনের জন্যে এমনটি করিনি। আমি সবকিছু আল্লাহর জন্যে করেছি। আমি যদি প্রশংসা ও খ্যাতির জন্য করতাম তবে আমি লোকজনের সুপারিশ গ্রহণ করে মাফ করতে পারতাম, দশ লাখ রিয়াল অর্থের দিকেও আমি গুরুত্ব দেইনি। আমি আমার পিতার পক্ষে তা সাদকা করলাম। আল্লাহ কবুল করুন। আমীন!
সম্মানিত পাঠক! এভাবেই মশহুদ এক সোনালী ফায়সালা করে স্বীয় বংশের এক সোনালি অধ্যায় রচনা করে।
ধোঁকাবাজের উচিত সাজা
খলীফা মুতাযিদ বিল্লাহ একবার তার নিজের স্থাপিত ভবন পরিদর্শনে গেলেন। তিনি ভবনের সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণ করেন। কারিগরগণ নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত ছিল। রাজমিস্ত্রী এবং শ্রমিকরা দ্রুত কাজ করে যাচ্ছিল। তিনি হঠাৎ কালো রঙের হাবশীকে দেখেন, যে অন্যান্য শ্রমিকদের সাথে মাথায় টুকরি উঠিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠছিল। অন্য শ্রমিকরা এক এক সিঁড়ি অতিক্রম করছে; কিন্তু সে দুই দুই সিঁড়ি অতিক্রম করছে। এছাড়াও তার মাথার টুকরি বড় এবং অনেকটাই ভারী ছিল। তার অস্বাভাবিক চাল চলনে খলীফা নির্দেশ দিলেন যে, এই হাবশীকে আমার সামনে পেশ করা হোক।
তিনি হাবশীকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি অন্যান্য শ্রমিকদের চেয়ে বেশি মাটি উঠাচ্ছ এবং সিঁড়িও একটার স্থানে দুটি করে অতিক্রম করছ এর কারণ কি? সে এর উত্তর দেয়নি।
খলীফা স্বীয় মন্ত্রীকে বললেন, তার কথায় আমি ধোঁকা ও মিথ্যার গন্ধ পাচ্ছি। এই ব্যক্তি হয়ত চোর যে দিনের বেলায় কাজ করে নিজেকে লুকিয়ে রাখে, আর না হয় কোথাও হতে আশাতীত সম্পদ তার কাছে এসেছে। তিনি দ্বিতীয়বার হাবশীকে ডাকলেন এবং জোরে চড় মারলেন এবং বললেন যে, সত্য সত্য বল তোমার বিষয় টা কি? আমার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দাও না হয় আমি তোমাকে হত্যার নির্দেশ দিব।
প্রথমত: সে এদিক সেদিক কথা বলতে থাকল; কিন্তু যখন আরো বেশি জেরা করা হল তখন সে বলতে লাগল যে, আমীরুর মুমিনীন! যদি আপনি আমার প্রাণ রক্ষার ওয়াদা করেন তবে আমি সত্য সত্য বলছি।
খলীফা বললেন: যদি তুমি এমন কিছু না করে থাক যাতে হত্যার শাস্তি প্রয়োগ না হয়, তবে তুমি নিরাপত্তা পাবে। সে মনে করল যে, তার প্রাণ রক্ষা হবে।
অতএব সে বলতে লাগল, আমি অমুক এলাকায় মাটি উঠানোর কাজ করতাম। কখনো কাজ পেতাম কখনো পেতাম না। একবার অনেক দিন আমি কাজ পাইনি। একদিন আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে, সে হাতে থলে নিয়ে পথ চলছে। আমি তার পিছু করতে লাগলাম। আমি তার কাছে অপরিচিত ছিলাম, এজন্য সে আমার দিকে দৃষ্টি দেয়নি। এক নির্জন স্থানে সুযোগ পেয়ে আমি এক ঝাপটে তার থলে ছিনিয়ে নিলাম আর তা খুলে দেখলাম, তা দীনারে ভরপুর ছিল। সে আমার পিছু করলে আমি তাকে নিচে ফেলে দিয়ে তার গলা চেপে ধরলাম। সে চিৎকার দিতে চাইলে আমি তার মুখে হাত রাখলামা। সে তড়পাতে লাগল; কিন্তু আমি তাকে সেই সময় ছাড়লাম যখন তার নিঃশ্বাস শেষ হল। আমি তাকে কাঁধে উঠিয়ে নিলাম রাত হয়ে গিয়েছিল। আমি সোজা আমার বাড়ি আসলাম এবং মরদেহ চুলায় ফেলে তাতে আগুন লাগিয়ে দিলাম যা জ্বলে কালো হয়ে গেল আমি চুলায় মাটি ঢেলে দিলাম। আমার কাছে অনেক দীনার ছিল যা আমার শক্তিকে অনেকগুণ বৃদ্ধি করে দিয়েছিল। পরদিন আমি হাড়গুলো বের করে দাজলা নদীতে নিক্ষেপ করি।
খলীফা তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিলেন এবং এক ব্যক্তিকে তার ঘর থেকে দীনারের থলে আনতে পাঠালেন। অল্পক্ষণ পর সেই ব্যক্তি থলে নিয়ে আসল। তা দেখা গেল যে, সেটাতে সেই ব্যক্তির নাম লেখা ছিল। শহরে সেই নামের ঘোষণা করা হলে সেই ব্যক্তির স্ত্রী দৌড়ে আসল এবং বলল: সেই আমার স্বামী যে কয়েক সপ্তাহ থেকে গায়েব। আমরা তাকে সকল স্থানে খুঁজলাম কিন্তু পাইনি। সে অমুক তারিখে এক হাজার দীনার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। আমার স্বামীর এক ছোট সন্তান আছে। খলীফা সেই দীনার মহিলাকে দেয়ার এবং হাবশীর গর্দান উড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, তার মরদেহ চুলায় ফেলে দেয়া হোক এবং তার হাড়গুলো দাজলায় ভাসিয়ে দেয়া হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight