সুন্দর ও নিরাপদ জীবনের ভিত্তি সবর : এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান

সবর বা ধৈর্য আল্লাহর পরিপূর্ণ মুমিন বান্দাদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তা‘আলা যাকে এই গুণ দেন; সেই এই গুণে সুসজ্জিত হয়। জীবনের প্রতিটি েেত্র এ গুণটির উপস্থিতি অপরিহার্য। মানুষের উন্নতি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের বড় উপায় হলো এই সবর বা ধৈর্য। মানুষ যত বেশি সবর করতে পারবে, তার গুনাহ তত বেশি মাফ হবে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। মুমিনের সবর প্রয়োজন জীবনের নানান বিপদ-মসিবত, কষ্ট ও জটিলতার সামনে। সে বিশ্বাস করে যত সংকটই আসুক না কেন সব আসে আল্লাহর প থেকে। ফলে সে তা হালকাভাবে মেনে নেয়। বিপদে পড়লেও খুশি থাকে। এ েেত্র ােভ, হতাশা ও অস্থিরতা প্রকাশ করে না। নিজের ভাষা ও আচরণকে সংযত রাখে। কারণ, সে আল্লাহর প্রতি গভীরভাবে বিশ্বাসী। সে তাকদীরকে বিশ্বাস করে। তাকদীরকে বিশ্বাস করা ঈমানের ছয়টি রোকনের একটি। তাকদীরের উপর ঈমান রাখলে তার অনেক সুফল পাওয়া যায়। তন্মধ্যে একটি হল, বিপদে ধৈর্য ধারণ। সুতরাং কোন ব্যক্তি বিপদে সবর না করলে তার অর্থ হল, তার কাছে ঈমানের এই গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিটি অনুপস্থিত। অথবা থাকলেও তা খুব নড়বড়ে। সেই বান্দার কোনো শক্তিই নেই, যার গুণাবলির মধ্যে সবর তথা ধৈর্য নেই। আর সেই বান্দা বিজয়ও ছিনিয়ে আনতে পারে না যে সবরকারী বা ধৈর্যশীল নয়। আল্লাহ তা‘আলা নবী-রাসূল আলাইহিস সালামদের এই বিরল গুণে বিভূষিত করেছিলেন। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা নব্বই জায়গায় সবরের কথা বলেছেন।
সবরের আভিধানিক অর্থ বাধা দেয়া বা বিরত রাখা।
শরীয়তের ভাষায় সবর বলা হয়, অন্তরকে অস্থির হওয়া থেকে, জিহ্বাকে অভিযোগ করা থেকে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গাল চাপড়ানো ও বুকের কাপড় ছেড়া থেকে বিরত রাখা।
কারো কারো মতে, এটি হলো মানুষের ভেতরগত একটি উত্তম স্বভাব, যার মাধ্যমে সে অসুন্দর ও অনুত্তম কাজ থেকে বিরত থাকে। এটি মানুষের এক আত্মিক শক্তি যা দিয়ে সে নিজেকে সুস্থ ও সুরতি রাখতে পারে।
জুনায়েদ বাগদাদী রহ. সবর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “হাসি মুখে তিক্ততার ঢোক গেলা।”
কারও মতে, “সবর হলো সুন্দরভাবে বিপদ মোকাবিলা করা।”
আবার কারও মতে, “বিপদকালে অভিযোগ-অনুযোগ না করে অমুখাপেতিা প্রকাশ করাই সবর।”
সবর তিন প্রকার। যথা :
প্রথম : আল্লাহ তা‘আলার আদেশ-নির্দেশ পালন ও ইবাদাত-বন্দেগী সম্পাদন করতে গিয়ে ধৈর্য ধারণ করা।
দ্বিতীয় : আল্লাহ তা‘আলার নিষেধ এবং তার বিরুদ্ধাচরণ থেকে বিরত থাকার েেত্র অটুট ধৈর্য রাখা। এবং
তৃতীয় : তাকদীর ও ভাগ্যের ভালো-মন্দে অসন্তুষ্ট না হয়ে ধৈর্য ধরা।
এই তিন প্রকার সম্পর্কেই শায়খ আবদুল কাদির জিলানী রহ. তদীয় গ্রন্থ ‘ফুতুহুল গায়ব’ গ্রন্থে বলেন, “একজন বান্দাকে অবশ্যই তিনটি বিষয়ে ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিতে হবে : কিছু আদেশ পালনে, কিছু নিষেধ থেকে বিরত থাকায় এবং তাকদীরের ওপর।”
আদম আ. থেকে শুরু করে শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সব নবীকেই সবরের পরীায় অবতীর্ণ হতে হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে ঈমানের পরীা দিয়েছেন। সবর বা ধৈর্য দ্বারা তিনি সব পরীায় সফল হয়েছেন। তেমনিভাবে দুনিয়ায় যারাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয়েছেন, তারাই ধৈর্যের পরীায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রত্যেক মুমিনের উচিত বিপদ-আপদে বিচলিত না হয়ে সবরের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্যের প্রত্যাশা করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তাঁর শীষ্য ও সাহাবীদের সবর শিা দিয়েছেন। এটি বেশি করা হয়েছে মক্কী জীবনে। খুবাইব বিন আরাত রা. এর হাদীসে আমরা এর চিত্র দেখতে পাই। তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন কা’বার ছায়ায় বালিশে হেলান দিয়েছিলেন। আমরা তাঁর কাছে অভিযোগ করলাম, কেন আপনি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সাহায্য চাইছেন না, আমাদের জন্য তাঁর কাছে দু‘আ করছেন না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে (এমন বিপদও এসেছে যে) কাউকে ধরা হতো। তারপর গর্ত খনন করে তাকে সেই গর্তে ফেলা হতো। এরপর করাত এনে তার মাথার ওপর রাখা হতো। অতঃপর তাকে দুই টুকরো করে লোহার চিরুনী দিয়ে তার শিরা-অস্থিসহ আচড়ানো হতো। তদুপরি তারা তাকে দ্বীন থেকে ফেরাতে পারতো না।
আল্লাহর শপথ! (এখন আমাদের পরীা চলছে) আল্লাহ এ দ্বীনকে পূর্ণতা দেবেন। একদিন এমন আসবে যখন আরোহীরা সানআ থেকে হাযারামাউত পর্যন্ত যাবে। চিতা আর ছাগল নিরাপদে থাকবে। এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করতে হবে না। কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়া করছো। অর্থাৎ মক্কার মুশরিকদের আযাব অচিরেই দূর হয়ে যাবে। সুতরাং অতীতের উম্মতের মতো তোমরাও দ্বীনের বিপদে একটু ধৈর্য ধরো।” [সহীহ বুখারী : হাদীস নং ৩৬১২]
ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন, “বিপদ-মসিবত হল নেয়ামত। কারণ, এতে গুনাহ মাফ হয়। বিপদে ধৈর্য ধারণ করলে তার প্রতিদান পাওয়া যায়। বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে আরও বেশি রোনাজারি করতে হয়। তার নিকট আরও বেশি ধর্না দিতে হয়। আল্লাহর নিকট নিজের অভাব ও অসহায়ত্তের কথা তুলে ধরার প্রয়োজন হয়। সৃষ্টি জীব থেকে বিমুখ হয়ে এক আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হয়। বিপদের মধ্যে এ রকম অনেক বড় বড় কল্যাণ নিহিত রয়েছে। একদা সাহাবী সাদ বিন ওয়াক্কাস রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত কে? উত্তরে তিনি বলেন, “নবীগণ, অতঃপর যারা তাদের সাথে কাজকর্ম-বিশ্বাসে সামঞ্জস্যতা রাখে, অতঃপর যারা তাদের অনুসারীদের সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে। মানুষকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীা করা হয়। দ্বীনি অবস্থান পাকাপোক্ত হলে পরীা কঠিন হয়। দ্বীনি অবস্থান দুর্বল হলে পরীাও শিথিল হয়। মসিবত মুমিন ব্যক্তিকে পাপশূন্য করে দেয়, এক সময়ে দুনিয়াতে সে নিষ্পাপ বিচরণ করতে থাকে।” [তিরমিজি : হাদীস নং ২৩২২]
বিপদে পড়লে যদি গুনাহ মোচন হয়, পাপরাশী ঝরে যায় তবে এটা তো বিশাল এক নেয়ামত। তাই বলে শরীয়তে বিপদ কামনা করার অনুমতি দেয়া হয়নি। কারণ, মুমিন সচেতন ও বুদ্ধিমান। সে কখনো বিপদ প্রত্যাশা করতে পারে না। তবে বিপদ এসে পড়লে তাতে সে বিচলিতও হয় না; বরং ধৈর্য ধরে। বিপদের সময় দৃঢ়তা ও সহনশীলতার পরিচয় দেয়। যেমন বুখারী শরীফে আব্দুল্লাহ বিন আবূ আওফা রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, যুদ্ধের দিনগুলোতে একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপোয় থাকলেন। যখন সূর্য ডুবে গেল তখন তিনি তাঁদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে লোক সকল, তোমরা শত্রুদের সঙ্গে মুখোমুখি হবার প্রত্যাশা করো না এবং আল্লাহ তা‘আলার কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করো। তবে যখন তোমরা তাদের মুখোমুখি হও, তখন ধৈর্য ধর এবং সবর করো। আর জেনে রেখো, জান্নাত তরবারির ছায়া তলে।” [বুখারী : হাদীস নং ২৯৬৫; মুসলিম : হাদীস নং ৪৬৪০]
সবরকারীদের সফলতা :
১. আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন : আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন তিনি ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন, তাদের জন্য হেদায়েত ও সুস্পষ্ট বিজয় নিয়ে। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, “আর তোমরা ধৈর্য ধর, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” [সূরা আনফাল : আয়াত ৪৬]
২. আখেরাতে প্রতিদান জান্নাত : “তাদের অবস্থা হয় এই যে, নিজেদের রবের সন্তুষ্টির জন্য তারা সবর করে, সালাত কায়েম করে, আমার দেয়া রিযিক থেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে খরচ করে এবং ভালো দিয়ে মন্দ দূরীভূত করে। আখেরাতের গৃহ হচ্ছে তাদের জন্যই। অর্থাৎ এমন সব বাগান যা হবে তাদের চিরস্থায়ী আবাস।” [সূরা রাদ : আয়াত ২২]
৩. হিসাব ছাড়া প্রতিদান : আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পবিত্র গ্রন্থে সাবের তথা ধৈর্যশীলদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদেরকে হিসাব ছাড়া প্রতিদান দেবেন বলে উল্লেখ করেছেন। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, “বল, ‘হে আমার মুমিন বান্দারা! যারা ঈমান এনেছ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। যারা এ দুনিয়ায় ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। আর আল্লাহর জমিন প্রশস্ত, কেবল ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।” [সূরা যুমার : আয়াত ১০]
৪. ধৈর্য ধারণ আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশ : আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেছেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও।” [সূরা আলে-ইমরান : আয়াত ২০০]
৫. নেতৃত্ব দান করেন : আল্লাহ তা‘আলা সবর ও ইয়াকিন তথা ধৈর্য ও ঈমানের বদৌলতে মানুষকে নেতৃত্ব দেন। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, “আর আমি তাদের মধ্য থেকে বহু নেতা করেছিলাম, তারা আমার আদেশানুযায়ী সৎপথ প্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত।” [সূরা সাজদাহ : আয়াত ২৪]
৬. সবর কল্যাণ বয়ে আনে : একজন প্রকৃত মুমিন সর্বাবস্থায় দৃঢভাবে এ কথা বিশ্বাস করে যে, সে যে অবস্থায় আছে, তাতে কোনো কল্যাণ নিহিত রয়েছে। মুসলিম শরীফে সুহাইব বিন সিনান রা. থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, “মুমিনের অবস্থা কতইনা চমৎকার! তার সব অবস্থাতেই কল্যাণ থাকে। এটি শুধু মুমিনেরই বৈশিষ্ট্য যে, যখন সে আনন্দের উপল পায়, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। ফলে তা হয় তার জন্য কল্যাণবাহী। আর যখন সে কষ্টের সম্মুখীন হয়, তখন সবর করে এবং ধৈর্যে অটল থাকে। ফলে এটিও তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।” [মুসলিম : হাদীস নং ৭৬৯২]
৭. মহান রবের প থেকে অনুগ্রহ, রহমত ও হেদায়াত লাভ : কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, “আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের প মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।” [সূরা বাকারা : আয়াত ১৫৫-১৫৭]
৮. সবরকারী পরাস্ত হবে না : আল্লাহ তা‘আলা সংবাদ দিয়েছেন যে, কারও সাথে যদি সবর থাকে তাহলে যত বড় শত্রুই হোক তাকে পরাস্ত করতে পারবে না। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, “আর যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কিছু তি করবে না। নিশ্চয় আল্লাহ তারা যা করে, তা পরিবেষ্টনকারী।” [সূরা আলে-ইমরান : আয়াত ১১২০]
৯. সবর হলো উত্তম দান : উমর বিন আবদুল আজীজ রহ. বলেন, ‘‘যাকে আল্লাহ তা‘আলা কোনো নেয়ামত দিয়ে তা ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং তার স্থলে তাকে সবর দান করেছেন, তো এই ব্যক্তি থেকে যা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে তার চেয়ে সেটাই উত্তম যা তাকে দান করা হয়েছে।” [বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান : হাদীস নং ৯৫৬৫; মুসান্নাফ, ইবন আবী শাইবা : হাদীস নং ৩৬২৪২]
১০. সবর উচুঁ ধরনের সাহসীকতার গুণ : “(হে মুসলমানগণ!) তোমাদের অবশ্যই ধন ও প্রাণের পরীার সম্মুখীন হতে হবে এবং তোমরা আহলে কিতাব ও মুশরিকদের থেকে অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। যদি এমন অবস্থায় তোমরা সবর ও তাকওয়ার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো তাহলে তা হবে বিরাট সাহসিকতার পরিচায়ক।” [সূরা আলে-ইমরান : আয়াত ১৮৬]
১১. দৃঢ় সংকল্পের গুণ : আল্লাহ তা‘আলা লুকমান আ. সম্পর্কে বলেন, তিনি তার সন্তানকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, “হে পুত্র! সালাত কায়েম করো, সৎকাজের হুকুম দাও, খারাপ কাজে নিষেধ করো এবং যে বিপদই আসুক সেজন্য সবর করো। নিঃসন্দেহে এটি হচ্ছে অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ।” সূরা লুকমান : আয়াত ১৭]
১২. ধৈর্য হল আলো : আবূ মালিক হারিস ইবনে ‘আসেম আশ‘আরী রা.’ থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘পবিত্রতা অর্ধেক ঈমান। আর ‘আলহামদু লিল্লাহ’ (কেয়ামতে নেকীর) দাঁড়িপাল্লাকে ভরে দেবে এবং ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আলহামদু লিল্লাহ’ আসমান ও জমিনের মধ্যস্থিত শূন্যতা পূর্ণ করে দেয়। সালাত হচ্ছে জ্যোতি। সাদকাহ হচ্ছে প্রমাণ। ধৈর্য হল আলো। আর কুরআন তোমার স্বপে অথবা বিপে দলীল। প্রত্যেক ব্যক্তি সকাল সকাল সব কর্মে বের হয় এবং তার আত্মার ব্যবসা করে। অতঃপর সে তাকে (শাস্তি থেকে) মুক্ত করে অথবা তাকে (আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করে) বিনাশ করে।’’ [বুখারী : হাদীস নং ২২৩; মুসলিম : হাদীস নং ৩৫১৭; ইবনে মাজাহ : হাদীস নং ২৮০; আহমাদ : হাদীস নং ২২৩৯৫, ২২৪০১; দারেমী : হাদীস নং ৬৫৩]
মানবজীবনে বিপদ-আপদ কমবেশি এসেই থাকে। এসব বিপদ-আপদের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে পরীা করেন। বলা যায়, মুমিনের পথচলা কখনো ফুলের গালিচার মতো মসৃণ হবে না, এটাই স্বভাবিক। তাই কঠিন পরীার মধ্য দিয়ে তাকে পথ চলতে হবে। অগণিত তির সম্মুখীন হতে হবে। তবু সবর, দৃঢ়তা, অবিচলতা ও দ্বিধাহীন সংকল্পের মাধ্যমে সব বিপদ-আপদের মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হবে মুমিনকে। মুমিনের কাজ হচ্ছে বিপদে সবর ধৈর্য ধারণ করার শক্তি চেয়ে আল্লাহর কাছে দু‘আ করা। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমে বলেন, “হে ঈমানদাররা! সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য গ্রহণ করো, আল্লাহ সবরকারীদের সঙ্গে আছেন।” [সূরা বাকারা : আয়াত ১৫৩]
লেখক : প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight