সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা একটি আন্তর্জাতিক অভিশাপ : মুফতী মোস্তাকিম আলম

TK copy

“একটি টাকা অন্য একটি টাকার জন্ম দিতে পারে না”Ñ সুদের সমালোচনা করতে গিয়ে আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এ মন্তব্য করেছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি সুদকে ‘নিরেট জালিয়াতি’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছিলেন। সুদ হচ্ছে শোষণের হাতিয়ার। সুদ মানুষের মাঝে সৃষ্টি করে কার্পণ্য, স্বার্থপরতা, নিষ্ঠুরতা, হৃদয়হীনতার মত অসৎ গুণাবলী। সুদভিত্তিক  অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, শুধু দেশীয় কিংবা আঞ্চলিক নয়; বরং একটি আন্তর্জাতিক অভিশাপ। যে অভিশাপে সারা পৃথিবীর মানুষ আজ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। আধুনিক বিশ্বের পাওয়ারফুল ব্যাংকব্যবস্থার ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুদ’ সমাজে আয়ের বৈষম্যকে ত্বরান্বিত করছে। সম্পদ ও আয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টিতে সুদভিত্তিক ব্যাংকব্যবস্থা পালন করছে দক্ষ ও কুশলী ভূমিকা। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সুদের গুরুভার কঠিন দুরবস্থার সৃষ্টি করেছে। সুদের এ সর্বগ্রাসী অভিশাপ মোকাবিলায়  বিশ্বব্যাংক ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো বিকল্প ব্যবস্থা উদ্ভাবনের চেষ্টা চালাচ্ছে। ১৯৮৪ সালে ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর বার্ষিক সাধারণ সভায় স্বীকার করা হয়েছে যে, সুদের উচ্চহারই বিশ্বের সর্বত্র উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
‘সুদ’ অর্থনীতির সবচেয়ে পুরনো ও জটিল একটি বিষয়। সকল ধর্মেই সুদ নিষিদ্ধ ছিল। হযরত ঈসা আ. কর্তৃক প্রচারিত ধর্মে সুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিলো। নিষিদ্ধ ছিল প্রাচীন ইহুদি মতবাদেও। তাওরাত ও ইঞ্জিলে সুদকে একটি মারাত্মক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সক্রেটিস, প্লেটো ও এরিস্টটলসহ প্রাচীন গ্রীক ও রোমান দার্শনিকগণ, হিন্দু ও ইহুদি সংস্কারকগণ সুদী কারবারের নিন্দা করেছেন এবং সুদকে মানুষ খুনের মতো পাপকার্য বলে উল্লেখ করেছেন।
তাছাড়া, আধুনিক অর্থনীতিতে সুদের হার নিয়ে অর্থনীতিবিদদের যে বিতর্ক  রয়েছে অর্থনীতির আর কোন ক্ষেত্রে এমন মতপার্থক্য দেখা যায় না। ফলে অর্থনীতিতে সুদের অস্তিত্বের বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ।
সুদের ভয়াবহতা সব ধর্মেই স্বীকৃত। তবে যুগের পরিবর্তনে মানুষ তাদের ধর্মকে নিজেদের সুবিধা মতো পরিবর্তন করে নিয়েছে। তাই বিভিন্ন ধর্মের অধীনে কৌশলের আড়ালে সুদী কারবারে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। পক্ষান্তরে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যার মৌলিক নীতিমালা শাশ্বত ও চিরন্তন এবং কারো পক্ষে এর পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি এবং কোন দিনও হবে না। সঙ্গত কারণেই ইসলামে সুদের কোন স্থান নেই।
সুদ সম্পর্কে সর্বপ্রথম পবিত্র কুরআনে যে আয়াত নাযিল হয় তা হচ্ছে সূরা রুমের ৩৯ নং আয়াত। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “তোমরা যে সুদ দাও যাতে তা মানুষের সম্পদে যুক্ত হয়ে বৃদ্ধি পায় আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের উদ্দেশ্যে তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাকো, যারা তা দেয় তারাই (নিজেদের সম্পদ) কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে নেয়।” এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিল মক্কা মুকাররমায়, যাতে সুদের নিন্দা করা হয়েছে। তখনও পর্যন্ত সুদ স্পষ্ট ভাষায় হারাম করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে যে কোন সময় এটা হারাম হয়ে যেতে পারে, এ আয়াত তার একটা সূক্ষ্ম ইঙ্গিত বহন করে। তাছাড়া এ আয়াতে সুদ ও যাকাত সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণার উপর আঘাত করা হয়েছে। সেকালে সুদখোর পুঁজিপতিরা মনে করতো, সুদের মাধ্যমে তাদের সম্পদ বাড়ছে এবং যাকাত দিলে বা দান খয়রাত করলে তাদের সম্পদ কমে যাবে। অপরদিকে ঋণগ্রহীতারা মনে করতো, তাদের কাছে সুদ খেয়ে ধনীরা তাদের সম্পদ বাড়াচ্ছে। উপরের আয়াতে সুদ ও যাকাত সম্পর্কে প্রচলিত সাধারণ ধারণার প্রতিবাদ করা হয়েছে।
সুদ সম্পর্কে দ্বিতীয় আয়াত: চতুর্থ হিজরী বা তার কাছাকাছি সময়ে ইহুদিদের অতীত কীর্তিকলাপ বর্ণনা প্রসঙ্গে নিষ্ঠুর অর্থলোভী ইহুদিদের সুদখোরির কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- “আর তারা সুদ খেত, অথচ তাদেরকে তা খেতে নিষেধ করা হয়েছিল এবং তারা মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করতো। তাদের মধ্যে যারা কাফের আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।” [সূরা নিসা. ১৫১] সুদ সম্পর্কে তৃতীয় আয়াত: হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পার। [সুরা আলে ইমরান: ১৩০]
সুদ সম্পর্কে সর্বশেষ আয়াত: সুদ সম্পর্কে সর্বশেষ সূরা বাকারায় (২৭৫-২৭৯) একাধারে পাঁচটি আয়াত নাযিল হয়। সূরা রুমের আয়াতে সুদ হারাম হওয়া সম্পর্কে যে ইঙ্গিত আল্লাহ তাআলা দিয়েছিলেন সূরা বাকারার পাঁচটি আয়াতে তার স্পষ্ট বিবরণ দেন। শুধু তাই নয় (১৭৮-১৭৯) আয়াতে আল্লাহ তাআলা সুদকে এত বড় অপরাধ সাব্যস্ত করেছেন যে, সম্ভবত অন্য কোন গুনাহকে এত বড় সাব্যস্ত করেননি। যেমন মদ পান করা, শুকর  খাওয়া, ব্যভিচার করা ইত্যাদি অপরাধের জন্য সেসব শব্দ ব্যবহার করা হয়নি যে শব্দগুলো সুদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে- “হে মুমিনগণ আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা যদি প্রকৃত মুমিন হয়ে থাকো তবে সুদের যে অংশই (কারো কাছে) অবশিষ্ট রয়ে গেছে তা ছেড়ে দাও। তবুও যদি তোমরা এটা না কর তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শোনে নাও। আর তোমরা যদি (সুদ থেকে) তওবা কর তবে তোমাদের মূল পুঁজি তোমাদের প্রাপ্য, তোমরা কারো প্রতি জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না।” এ আয়াত দ্বারা সুদী মহাজনদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধের এই ঘোষণা অন্য কোন অপরাধের জন্য করা হয়নি।

সুদ সম্পর্কে রাসূল সা. এর কয়েকটি হাদীস
১.    হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা. সুদদাতা, সুদগ্রহীতা উভয়ের উপর অভিসম্পাত করেছেন। [মুসলিম ২/২৭,তিরমিযী ১/২২৯]
২.    হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. সুদদাতা, সুদের চুক্তিপত্রের লেখক ও সাক্ষী সকলকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং বলেছেন তারা সকলে সমান অপরাধী। [মুসলিম ২/২৭]
৩.    হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণনা করেন রাসূল সা. বলেছেন সুদের ৭০টি স্তর রয়েছে, তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিম্নস্তরের অপরাধের পরিমাণ হলো মায়ের সাথে যেনায় লিপ্ত হওয়া। [ইবনে মাজা: ১৬৪]

প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ ও প্রাচীন সভ্যদেশের আইনে সুদের নিষিদ্ধতা
তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল বেদসহ দুনিয়ার সকল ধর্মগ্রন্থে সুদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোমান আইনশাস্ত্রে ও হিন্দু ধর্মে সুদের নিন্দা করা হয়েছে। ইহুদি সংস্কারক, খ্রিস্টান ধর্মগুরু ও পাদ্রীগণ তাদের ধর্মগ্রন্থের বিধান অনুসারে সুদ নিষিদ্ধ করেছেন। রোম, মিসর, গ্রীস, গ্রীক ও ভারতবর্ষেরমতো প্রাচীন সভ্য দেশগুলোতে বহুকাল আগেই সুদ বিষয়ক আইনকানূন প্রণীত হয়। আরবের জাহেলী যুগেও সুদের অর্থকে সাধারণভাবে অপবিত্র মনে করা হতো। ইউরোপীয় দেশগুলোতেও ধর্ম ও আইনের চোখে সুদ নিষিদ্ধ ও নীতিবিরুদ্ধ গণ্য হতো। লণ্ডনের অধিবাসীরা সুদখোর ইহুদিদের শোষণে ক্ষিপ্ত হয়ে মধ্যযুগে বহু ইহুদিকে হত্যা করেছিল। জনগণের চাপে বাধ্য হয়ে প্রথম এডওয়ার্ড ১৯২০ খৃষ্টাব্দে ব্রিটেন থেকে ইহুদিদের বিতাড়িত করেছিলেন, সেই সাথে তাদের সুদী ব্যবসাকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন।
সমাজতন্ত্রের দৃষ্টিতে সুদ শ্রমিক সমাজের উপর একটি অসহনীয় বোঝা, এটি ধনীকে আরো ধনী করে এবং গরীবকে আরো গরীবে পরিণত করে।
সুদ সম্পর্কে আধুনিক অর্থনীতিবিদদের অভিমত
আধুনিক কালের নতুন একটি অর্থনৈতিক দর্শনের স্রষ্টা কার্লমার্কস সুদের ব্যবসায়ীকে ‘বিকট শয়তান’ নামে অভিহিত করেছেন। সুদখোরকে তিনি ডাকাত ও সিঁদেল চোরের সাথে তুলনা করেছেন।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লর্ড কিনস ১৯৩৩ সালের অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলার জন্য সুদের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন। এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা প্রমাণ করে তিনি বলেছিলেন, এভাবেই পুঁজিবাদী সমাজের অনেক দোষত্রুটি দূর করা সম্ভব। সুদভিত্তিক বিনিয়োগের পরিবর্তে উৎপাদনমুখী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের হাল যামানার সেরা অর্থনীতিবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ সম্প্রতি এক নিবন্ধে লেখেন, “এক সময়ে বিশ্বে এমন একটি ধারণা বদ্ধমূল হয়ে দাঁড়ালো যে, সুদ ছাড়া আর্থিক লেনদেন সম্ভবই নয়। কিন্তু কিছু মুসলমানদের উদ্যোগের ফলে আজ তিন যুগ পর বিশ্বের অনেক পণ্ডিত ও গবেষকই স্বীকার করে নিচ্ছেন সুদ ছাড়াও আর্থিক লেনদেন ও আর্থিক ব্যবস্থা চলতে পারে এবং সেই ব্যবস্থা বেশি স্থিতিশীল। অন্য কথায় সুদের বদলে লাভ লোকসানের বা অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে যে ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া হয় না। লাখ-লাখ গ্রাহক ঋণের ভারে হয় না জর্জরিত।
সুদের যে কী নির্যাতন, তা যারা সুদ নিয়েছে তারা হাড়ে হাড়ে টের পান। সুদের নির্যাতন নিয়ে ইউরোপেও অনেক নাটক উপন্যাস লেখা হয়েছে, সুদের উপকারভোগী হলেন বিত্তবানেরা। তারা সুদে অর্থ খাটিয়ে আরো ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। সুদের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আর্থিক ব্যবস্থা গরীবদের স্বার্থ পরিপন্থী। সুদের ক্ষেত্রে বাস্তবতা হলো, ঋণ গ্রহিতার লাভ হোক বা লোকসান হোক চক্রবৃদ্ধি হারে ঋণ বিক্রেতাকে সুদ দিতে গ্রহিতা বাধ্য। এই ব্যবস্থার বদলে অংশিদারিত্বের ব্যবস্থা উত্তম বলে স্বীকৃত হয়েছে। এখন অনেক দেশেই এমনকি পশ্চিমের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এখন সুদের বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা নিয়ে পড়ালেখা করানো হয়। সুদ দিতে পারেননি বলে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ মানুষ মর্টগেজধারীর কাছে তাদের বাড়িগুলো হারিয়েছেন। ঋণ বিক্রেতারা প্রথমে বলে- এই সুদ আসলে তেমন কিছু নয়, আপনি বাড়ির আয় এবং বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি থেকে সুদের আসল ফেরত দিতে পারবেন; কিন্তু বাস্তবতা হলো অন্য। যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বাড়ি কিনতে গিয়ে লাখ লাখ মধ্যবিত্ত নাগরিক তাদের স্বপ্নের বাড়িগুলোকে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এর মূল কারণ হলো অ্যাসেট বা সম্পদের যে মূল্য নয় ঋণ বিক্রেতারা শুধু সুদ পাওয়ার আশায় এর চেয়ে অনেক বেশি ঋণ বাড়ির ক্রেতাদের ধরিয়ে দিয়েছিলেন।”
ব্যাংকার আব্দুল মান্নান তার ‘ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থা’ বইয়ে লিখেন, “বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে সুদকে ঘৃণা করে আসছে। সুদের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের ক্ষোভ ও ঘৃণার পরিচয় এদেশের নানা পুরান ও উপাখ্যানে প্রকাশ পেয়েছে। এদেশের নানা লৌকিক বিশ্বাস ও আচরণে জনগণের সুদ বিরোধী মনোভাব ফুটে উঠেছে। এদেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বিশ্বাস করেন, সাতজন সুদখোরের নাম লিখে গরুর গলায় ঝুলিয়ে দিলে সে গরুর ঘায়ের পোকা পড়ে যায়। সন্দেহ নেই, সুদ সম্পর্কে জনগণের এরূপ মনোভাব তাদের বিশ্বাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। সুদের হিংস্র থাবা তাদেরকে বারবার ক্ষত-বিক্ষত রিক্ত-নিঃস্ব ও বিপন্ন করেছে। এদেশের বহু জননায়ক, মহাজনী সুদের বিরুদ্ধে যুগ যুগ ধরে জনগণের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আধুনিক কালের প্রাতিষ্ঠানিক সুদের বিরুদ্ধে এবং সুদভিত্তিক লেনদেনের ব্যাপারে এদেশের মানুষের নেতিবাচক মনোভাব স্থায়ী ও অবিচল।”
মোটকথা, সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানুষের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, মানুষের আয়ের ক্ষেত্রেও অসমতা সৃষ্টি করেছে। সম্পদ ও দায়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা বাড়িয়ে তুলেছে। জাতিকে বিভক্ত করে তুলেছে। সামগ্রিক অগ্রগতির ধারাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিশৃক্সক্ষলা, অস্থিরতা ও ভারসাম্যহীনতার জন্ম দিয়ে সমাজ অশান্ত করে তুলেছে। জনগণের স্বভাব, প্রকৃতি, চাহিদা, বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের পরিপন্থী সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা মানব জাতির জন্য বহু অকল্যাণের জন্ম দিয়েছে। এসব থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো ইসলামী অর্থব্যবস্থা। ইউরোপ আমেরিকার অনেকেই এখন সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থার ক্ষতিকর দিকগুলো চিন্তা করে ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। এই আন্তর্জাতিক অভিশাপ থেকে মানুষ মুক্তি চায়। ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্য তো অনেক আগেই ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থার অনুমোদন দিয়েছে। এখন হাজার হাজার অমুসলিমও ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক। তাই আমরা আশা করতে পারি, বেশি দূরে নয় অচিরেই সারা বিশ্বের অর্থব্যবস্থা হবে ইসলামী অর্থব্যবস্থা। ইসলামী অর্থব্যবস্থাকেই মানুষ মডেল হিসেবে গ্রহণ করবে। আল্লাহ তাআলা সকল মানুষকে সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থার অভিশাপ থেকে রক্ষা করুন। আমীন।
লেখক : মুফতি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার

2 মন্তব্য রয়েছেঃ সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা একটি আন্তর্জাতিক অভিশাপ : মুফতী মোস্তাকিম আলম

  1. মাসউদুল কাদির says:

    সুদেরমত এই কু খাদ্য হতে আমাদের সবাইকে মুক্তি দিক। লেখাটি অনেক ভাল লেগেছে। সবার কাছে প্রচার কাম্য। সুদই এই মুসলিম উম্মাহকে ধ্বংস করছে। লেখাটির জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

  2. মুকাররম হুসাইন says:

    সুদ একটি গর্হিত কাজ। সকলকে ইহা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight