সুখি দাম্পত্য জীবন গড়তে রাসূল সা. এর আদর্শ / ড. মুফতী আবদুল মুকীত আযহারী

বিবাহে সচ্ছলতা
বিবাহ করা ও করানো মুসলমানের জন্য একটি কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত (পুরুষ হোক বা নারী) তাদেরকে বিবাহ করিয়ে দাও এবং তোমাদের মধ্যে দাসদাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও (বিবাহ করিয়ে দাও)। যদি তারা অভাবী হয় আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী বানিয়ে দেবেন।  অন্য এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল বলেন, যে অভাবের ভয়ে বিবাহ পরিত্যাগ করল, সে আমার উম্মত না।
অনেক মানুষ সচ্ছলতা না থাকার কারণে ও অত্যধিক খরচের ভয়ে বিয়ে করতে সাহস করে না। রাসূল সা. বলেন, ঋণগ্রহীতা মারা গেলে কেয়ামতের দিন তার কাছে তার ঋণ আদায় করে নেয়া হবে। তবে যে-ব্যক্তি আল্লাহ রাস্তায় গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর শত্রু ও তার শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ঋণ করে; যে-ব্যক্তির কাছে কেউ মারা গেলে তার দাফন-কাফনের জন্য ঋণ করে এবং যে-ব্যক্তি বিবাহ করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করছে আর এ কারণে তার নিজের ধর্মের ব্যাপারেও শঙ্কিত হয়ে পড়েছে, ফলে সে বিয়ের জন্য ঋণ করেছে, কেয়ামতের দিন এই তিন প্রকার ঋণী ব্যক্তির পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলা ঋণ পরিশোধ করে দেবেন।  রাসূল সা. বলেন, তোমরা নারীদেরকে বিয়ে কর কারণ নারীরা তোমাদের কাছে সম্পদ নিয়ে আসবে।  অর্থাৎ, তোমরা দরিদ্র থাকলেও বিয়ে করার পর সচ্ছল হয়ে উঠবে।

বিবাহে সাওয়াব
রাসূল সা. বলেন, মুমিন তার সুন্দর ব্যবহার দ্বারা সারাদিন রোজা রাখা এবং সারারাত তাহাজ্জুদ পড়া ব্যক্তির মর্যাদার সমমর্যাদা পেতে পারে।  একজন ব্যক্তি সারা রাত তাহাজ্জুদ পড়ে ও সারাদিন রোজা রেখে যে স্তরে পৌঁছবে সে স্তরে একজন মুমিন পৌঁছতে পারবে তার আচার-ব্যবহার সুন্দর করার মাধ্যমে। রাসূল সা. বলেন, কেয়ামতের দিন আমল পরিমাপের পাল্লায় সুন্দর ব্যবহারের চেয়ে বেশি ভারী আর কোন বস্তু হবে না। কার ব্যবহার সুন্দর?

প্রকৃত ও কৃত্রিম চরিত্রবান
রাসূল সা. বলেন, তোমাদের মধ্যে তার ব্যবহার সবচেয়ে বেশী সুন্দর যার ব্যবহার তার পরিবারের সঙ্গে যত সুন্দর।  যার ব্যবহার তার স্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর হবে সেই হল সুন্দর চরিত্রের অধিকারী। কারণ মানুষ অন্য সবার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে বা সুন্দর চরিত্র উপস্থাপন করে, এটা তার স্বার্থের জন্য। বর্তমান আধুনিক ভাষায় এ সুন্দর ব্যবহারকে বিজনিস বলে। কর্মকর্তা তার বসের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে, দোকানদার তার কাস্টমারের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে, কোম্পানির সেলসম্যান তার কায়েন্টের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে, রাজনীতিবিদ তার ভোটারদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে; এ সকল সুন্দর ব্যবহার শুধু স্বার্থ বা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করে। তবে সুন্দর চরিত্রের ওই কর্মকর্তা, দোকানদার, সেলসম্যান, রাজনীতিবিদ যখন নিজ বাসায় প্রবেশ করে ও তার স্ত্রীর সঙ্গে আচরণ করে তখন তার চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। তার সে হাসি মুখ, অন্যকে সম্মান প্রদর্শন, সুন্দর মার্জিত ভাষা ব্যবহার, কোন দোষকে সহজভাবে গ্রহণ করা এগুলো সব হারিয়ে যায়। এ কারণেই রাসূল সা. বলেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে ভাল আচরণ করতে পারবে তাকেই সুন্দর চরিত্রবান বলে গণ্য করা হবে। সুন্দর চরিত্রের মানদ- হলো স্ত্রীর সঙ্গে ভাল আচরণ করা।
দাম্পত্য জীবনে মেয়েদের মর্যাদা ও করণীয় সম্পর্কে রাসূল সা. স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। হযরত ফাতেমা বিনতে যায়েদ রা. বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার কাছে একটি বিষয় নিয়ে এসেছি। পৃথিবীর প্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যে যত নারী আছে তাদের মধ্যে যারাই আমার বিষয় সম্পর্কে জানবে তাদের মতামতও আমার মত হবে। রাসূল সা. বলেন, বল কী সে বিষয়? তিনি বললেন, আমরা নারী জাতি ঘরবাড়ির দেখাশোনা করি, সন্তানদের দেখাশোনা করি, পুরুষদের চাহিদা আমরা পূরণ করি। পুরুষরা যখন হজে বা যুদ্ধে যায় তখন আমরা তাদের সম্পদ দেখাশোনা করি এবং আমরা নিজেদেরকে রক্ষা করি। পুরুষরা জুমআায় যায়, জিহাদে যায়, আল্লাহর রাস্তায় যায়, মানুষের সেবা করে। এভাবে বাইরের অনেক কাজ করে, যা আমরা করতে পারি না। তারা এভাবে অনেক সাওয়াব অর্জন করে, আমরা সেরকম করতে পারি না। এভাবে আমরা নারী জাতি পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে আছি। পুরুষরা অনেক আমলের সুযোগ পায় আমরা নারী জাতি সেরকম অনেক আমলের সুযোগ পাই না। রাসূল সা. সাহাবাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা কি কখনো নারীদের আপন দ্বীন সম্পর্কে এর চেয়ে সুন্দর প্রশ্ন শুনেছ? রাসূল সা. বললেন, হে নারী! তোমরা জেনে রাখ এবং যারা তোমার পিছনে আছে তাদেরকেও জানিয়ে দেবে যে, স্বামীর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করা, তার পরিবারকে দেখাশোনা এবং স্বামীর খুশি রেখে চলা পুরুষের এরকম সকল সওয়াবের সমতুল্য হবে।  পুরুষরা বাইরে গিয়ে যত সওয়াব অর্জন করে একজন নারী তার স্বামীর সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করে সেরকম সওয়াবের অধিকারী হতে পারবে।

বিবাহের মধ্যস্থতাও এবাদত
শুধু বিবাহ না বরং বিবাহ করানোর ক্ষেত্রে মর্যাদা, সম্মান ও সওয়াবের অন্ত নেই। রাসূল সা. বলেন, যে ব্যক্তি কোন পুরুষকে কোন নারীর সঙ্গে বিবাহ করানোর ক্ষেত্রে হাঁটল বা চেষ্টা করল, সে ব্যক্তি এ লক্ষ্যে যত কথা বলেছে ও যত কদম পথ চলেছে আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি বাক্য ও প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছর এবাদত করার মত সমতুল্য সওয়াব দান করবেন। এরকম এক বছর সারা রাত নামাজ পড়লে ও সারাদিন রোজা রাখলে যেরকম সাওয়াব সে পাবে সেরকম সাওয়াব আল্লাহ তাআলা তাকে দান করবেন এবং আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তাকে এক হাজার চাকরানি দান করবেন আর প্রতিজন চাকরানির নিজস্ব প্রাসাদ থাকবে।  যে ব্যক্তি কোন বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু মধ্যস্থতা করবে আল্লাহ তাআলা তাকে এত বড় প্রতিদান দান করবেন।
রাসূল সা. বলেন, যে ব্যক্তি কোন স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে তাকে আল্লাহ তাআলা এক হাজার শহীদের মত সওয়াব প্রদান করবেন এবং এক বছর এবাদত করার সমতুল্য সাওয়াব দান করবেন।  রাসূল সা. বলেন, সবচেয়ে উত্তম মধ্যস্থতা হল বিবাহ করানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করা।
যিনি বিবাহ করা ও বিবাহ করানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করেন এবং যিনি স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সুসম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা করেন সবাইকে আল্লাহ তাআলা অকল্পনীয় প্রতিদান দান করবেন। কারণ বৈবাহিক সম্পর্ক না হলে বা বৈবাহিক সম্পর্ক অটুট না থাকলে সমাজে ভয়াবহ বিপর্যয় নামবে। এ কারণে ইসলাম বৈবাহিক সম্পর্ক করাকে উৎসাহিত করেছে। বৈবাহিক সম্পর্কে কাজ করাকেও ফজিলতপূর্ণ এবাদত ঘোষণা করেছে।

সেই বৈবাহিক সম্পর্ক কিভাবে অটুট হবে?
দাম্পত্য জীবন কিভাবে সুখী হবে? এ ক্ষেত্রে ইসলাম স্বামী ও স্ত্রীর কিছু কর্তব্য ও করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিয়েছে। স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই যদি তাদের আপন আপন কর্তব্যের ব্যাপারে সচেতন থাকে তবে দাম্পত্য জীবন অবশ্যই সুখী হবে।

স্বামীর কর্তব্য
রাসূল সা. বিদায় হজে বলেন, পুরুষের কাছে নারীদের কিছু অধিকার আছে : ১. তোমরা নারীদের ভরণপোষণ প্রদানে উত্তম উপায় অবলম্বন কর; ২. তোমরা নারীদের যাবতীয় জামা-কাপড় দেয়ার ব্যাপারে উত্তম আচরণ কর। ৩. তোমরা নারীদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার কর, কারণ তারা তোমাদের কাছে বন্দি।
আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ কর। তাফসীর বিশারদগণ বলেন, উত্তম আচরণের অর্থ হল, শুধু নারীকে কষ্ট দেয়া বা তাকে জুলম করা থেকে বিরত থাকা নয়; বরং নারীর কাছ থেকে যে কষ্ট আসবে সেগুলোও সহ্য করা। রাসূল সা. বলেন, তোমরা নারীদেরকে সম্মান কর। আর নারীদেরকে একমাত্র ইতররাই অসম্মান করে। নারীদের সঙ্গে ভদ্র ও সভ্যরা পরাজিত হয় এবং ইতর  ও অসভ্য পুরুষেরা নারীদের সঙ্গে জয়ী হয়। রাসূল সা. বলেন, আমি সভ্য হতে চাই এবং নারীদের কাছে হেরে যেতে চাই; অসভ্য হতে চাই না এবং নারীদের সঙ্গে জিততে চাই না।

অধুনিকতা হল নারী-পুরুষের মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
বর্তমান অধুনিক মতবাদ হল নারী-পুরুষের মাঝে প্রতিদ্বন্দিতা তৈরি করা। পুরুষ বলে আমি বড় আর নারী বলে আমি বড়। এভাবে তাদের মাঝে জয়-পরাজয়ের খেলা শুরু হয়। আর তাই বর্তমানে প্রতিটি ঘরে মারামারি, যুদ্ধ আর দ্বন্দ্ব এবং কেউ কাউকে ছাড় দেয় না। এভাবে প্রায় প্রতিটি ঘর ঝগড়া ও অশান্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যদি কোন ঘরে নারী পরাজিত হয়, তাকে পশ্চাদ্পদ গ্রাম্য, নারী অধিকার সম্পর্কে অসচেতন, নির্যাতিত নারী মনে করা হয়। আর পুরুষ হারলে তাকে কাপুরুষ, পোষা ছাগল, মেনীমুখো মনে করা হয়। অথচ রাসূল সা. আমাদেরকে শিক্ষা দেন, সভ্য পুরুষ তারাই যারা নারীদের কাছে পরাজিত হয়। যারা নারীদের সঙ্গে বিজয় লাভ করে তারা হল ইতর  ও অসভ্য পুরুষ।

ন¤্র ব্যবহার নারীর অধিকার
নারীদের সঙ্গে ভাল ও ন¤্র ব্যবহার করা নারীর প্রাপ্য অধিকার। হযরত আয়েশা রা.-এর সঙ্গে একবার কোনো বিষয় নিয়ে রাসূল সা.-এর বিরোধ হয়। রাসূল সা. হযরত আয়েশাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন; কিন্তু তিনি বোঝেন না এবং রাসূলের কথাও মানেন না। রাসূল সা. তখন বললেন, ঠিক আছে, তাহলে আমাদের সমাধান তৃতীয় কোন মানুষ করুক। আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন তাদের (স্বামী-স্ত্রী) মাঝে বিরোধের অশঙ্কা কর তবে তোমরা স্বামী ও স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন করে বিচারক নির্ধারণ কর। যদি তারা (স্বামী-স্ত্রী) সমাধান চায় তবে আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝে সুসম্পর্কের তাওফীক দান করবেন।
আর তাই রাসূল সা. হযরত আয়েশাকে তৃতীয় বিচারকের কথা বললেন। তিনি বললেন, ঠিক আছে। রাসূল সা.বললেন, তাহলে আমরা বিচারক হিসেবে আবু উবাইদাকে ডাকি। হযরত আয়েশা রা. বললেন, না। কারণ সে আপনার বিরুদ্ধে কোন কথা বলবে না। তাকে আমি চাই না। তবে ওমরকে চাও? তিনি বললেন, না, আমি তাকে ভয় পাই। রাসূল সা. বললেন, শয়তানও তাকে ভয় পায়। তবে কি তুমি আবু বকরকে চাও? হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমি আবু বকরকে চাই। রাসূল সা. বললেন, ঠিক আছে।
হযরত আবু বকর রা. আসার পর রাসূল সা. ও হযরত আয়েশা রা. উভয়ই তাঁর কাছে বসলেন। রাসূল সা. ঘটনা বলা শুরু করলেন। হযরত আয়েশা রা. বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ঠিক করে বলুন। তখন হযরত আবু বকর রা. দাঁড়িয়ে তাঁর মেয়ে আয়েশাকে এক চড় মারলেন যে তার নাক থেকে রক্ত বের হওয়া শুরু হল। বললেন, তুমি আল্লাহর রাসূলকে বলছ, ঠিক করে বলুন? রাসূল সা. তখন হযরত আয়েশা ও আবু বকর রা.-এর মাঝে আড়াল হয়ে দাঁড়ান এবং তাঁর গায়ের জামা দিয়ে হযরত আয়েশার নাকের রক্ত মুছে দেন। আবু বকর রা.-কে বলেন, হে আবু বকর! আপনাকে এজন্য তো ডাকা হয়নি।

স্ত্রীর কর্তব্য
নারীদের কাছে পুরুষের কিছু অধিকার আছে। কোন নারী এমন পুরুষদের তার ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেবে না যাদেরকে তার স্বামী অপছন্দ করে। এটা একটা পুরুষের অধিকার।  অন্য এক হাদিসে আছে, কোন মুমিনকে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি প্রদান করা হলে এটা তার জন্য সবচেয় উপকারী বস্তু। তাকওয়ার পরে সবচেয়ে উপকারী হল একজন ভাল নারী। যখন স্বামী সে নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করে তখন সে তাকে আনন্দিত করে। পরিপাটি থাকে, হাসিখুশি থাকে তাই স্বামী তাকে দেখলে খুশি হয়। স্বামী বাইরে গেলে সে নারী তার সতীত্ব হেফাজতে রাখে ও তার স্বামীর সম্পদ হেফাজত করে। কখনো তার স্বামী কোন ব্যাপরে শপথ করলে সে তার স্বামীর শপথ রক্ষা করে।  অর্থাৎ, স্বামী কোন বিষয়ে জিদ করলে তার সঙ্গে জিদ করে না বরং স্বামীর কথা মেনে নেয়।

আদর্শ পরিবার
কাজী শুরাইহ রহ. কে তার এক বন্ধু জিজ্ঞাসা করে, আপনি কেমন আছেন? আপনি পরিবারে কেমন আছেন? আপনার পরিবার সুখি না অসুখী? হযরত শুরাইহ রহ. বলেন, আমি ভালো আছি। আমি বিশ বছর ধরে সংসার করছি। এই বিশ বছরের মধ্যে এমন কোন কিছু হয়নি বা এমন কোন ঘটনা ঘটে নাই যে, আমি আমার ¯ত্রীর উপর রাগ বা অসন্তুষ্ট হয়েছি। আমি আমার স্ত্রীর উপর খুশি। ওনার বন্ধু বলেন যে, আমরাতো বিশ মিনিটই ঝগড়া ছাড়া থাকতে পারি না আর আপনি বিশ বছর কাটিয়ে দিলেন। আপনি কিভাবে পারলেন? তখন উনি তার পরিবার আদর্শ হওয়ার উপায়গুলোর বিবরণ দেন।

প্রথম উপায় বোঝাপড়া
কাজী শুরাইহ রহ. বললেন, আমি বিয়ে করার সময় ইসলামের প্রতি লক্ষ্য রেখে বিয়ে করেছি। বাসর রাতে আমার স্ত্রী দাঁড়িয়ে একটা বক্তৃতা দিলেন। তিনি বললেন, আমার বংশে অনেক ছেলে আমাকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল; কিন্তু সবার মাঝে বাছাই করে আল্লাহ তাআলা আপনাকে আমার জন্য নির্বাচন করলেন। আপনার বংশেও অনেক মেয়ে ছিল। অনেক মেয়ের সঙ্গে আপনার বিয়ে হতে পারত। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনার জন্য নির্বাচন করেছেন। অতএব আমি চাই, আপনি কী কী বিষয় পছন্দ করেন সেগুলো আমাকে বলেন, যাতে আমি সেগুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে পারি। আর কী কী বিষয় আপনার অপছন্দ তাও বলেন, যাতে আমি সেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারি। আপনি আমার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। আমার ক্ষেত্রে আল্লাহর কথা মানতে বলি। আল্লাহ তাআলা বলেন, হয়ত ভাল ও সুন্দরভাবে সংসার হবে অথবা ছাড়াছাড়ি হলে সুন্দরভাবে হতে হবে। অতএব আপনি যদি আমার সঙ্গে সংসার করেন তবে সুন্দরভাবে করবেন আর আমাকে ত্যাগ করলেও সুন্দরভাবে বিচ্ছেদ করবেন।
হযরত শুরাইহ রহ. বলেন, তাঁর বক্তৃতার পর আমি আর বসে থাকতে পারলাম না। আমিও তার বক্তৃতার উত্তর দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। আমি বললাম, আমি এটা এটা পছন্দ করি আর ওটা ওটা অপছন্দ করি। তুমি যা বললে তা যদি সত্য বলে থাক তবে তোমার জন্য সওয়াব হবে, শুভ সঞ্চয় হবে এবং আমাদেও সংসার সুখী হবে। আর যদি তুমি মিথ্যা বলে থাক বা তোমার কথার সঙ্গে তোমার কাজের মিল না থাকে তবে এ বক্তৃতা তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হবে। তুমি আমার কাছ থেকে যে ভাল গুণগুলো দেখ তা মানুষের কাছে প্রচার করবে আর আমার কাছ থেকে যে দোষ দেখ তা গোপন রাখবে। রাসূল সা. কলেন, ভাল নারী সে যে স্বামীর দোষ গোপন রাখে।
স্ত্রী বললেন, আমি আমার পরিবারের সঙ্গে কীভাবে সাক্ষাৎ করব? হযরত শুরাইহ বললেন, আমরা কিছুদিন পর পর তাদের সঙ্গে দেখা করতে যাব। আমরা তোমার পরিবারের সঙ্গে ও আমার পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন পর পর সাক্ষাৎ করব। কারণ রাসূল সা. বলেন, কিছুদিন পর পর সাক্ষাৎ কর তবে তোমাদের মাঝে ভালোবাসা বাড়বে। বেশি বেশি গেলে তারা বিরক্ত হবে। স্ত্রী বললেন, প্রতিবেশীদের মধ্যে কাদের কাছে আসা-যাওয়া করব আর কাদের কাছে যাব না? আমি বললাম, প্রতিবেশীদের অমুক অমুকের কাছে আসা-যাওয়া করা যাবে না। আর অমুক অমুকের কাছে আসা-যাওয়া করতে পার এবং তাদেরকে ঘরেও প্রবেশ করতে পার।
দ্বিতীয় উপায় : তৃতীয় পক্ষের বোঝাপড়া
হযরত শুরাইহ রহ.বলেন, প্রথম রাতে এভাবে বোঝাপড়া হওয়ার পর এক বছর কেটে গেল। তারপর আমার শাশুড়ি আমার বাড়িতে আসেন। আমি তাঁকে অনেক আদরযতœ করি। তখন আমার শাশুড়ি আমাকে বললেন, তুমি তোমার স্ত্রী কেমন পেলে। আমি বললাম, সে অনেক ভাল। তারপর আমার শাশুড়ি আমাকে বললেন, নারী দু সময়ে খারাপ থাকে না : যখন সে ছেলে জন্ম দেয় বা তার স্বামীর কাছে ভাল থাকে। যদি তোমার কখনো কোন সমস্যা হয় তবে লাঠি ব্যবহার করবে। পুরুষের একটি দোষ আছে। যে পুরুষ তার স্ত্রীকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশী আহাদ করে, তার দ্বারা তাদের মধ্যে দুঃখ আসে। দরকার হলে তাকে ধমক দেবে, দরকার হলে তাকে শাসন করবে। তোমার আত্মীয়রা বেড়াতে আসুক তা কি তুমি চাও? আমি বললাম, যখনই তারা আসতে চায় আসবে। তারপর আমার স্ত্রীর দিকে অর্থাৎ তাঁর মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি তোমার স্বামীর কথা শুনবে ও তাকে মেনে চলবে। এভাবে তিনি প্রতি বছরের শেষে আমাদের বাড়িদে বেড়াতে আসতেন এবং এ উপদেশগুলো দিতেন।  এটা হল একটা আদর্শ পরিবারের মাপকাঠি। হযরত শুরাইহ রহ. বলেন, প্রথম রাতে আমাদের এরকম বোঝাপড়ার পরে বিশ বছর কেটে যায় তবুও আমাদের মধ্যে কখনো ঝগড়া হয়নি। একবার শুধু ঝগড়া হয়েছিল, তখন আমিই দোষী ছিলাম।
অতএব সুখী দাম্পত্য জীবন হওয়ার প্রথম বিষয় হল বোঝাপড়া হওয়া। দ্বিতীয় বিষয় হল, তৃতীয় পক্ষের তরফ থেকে ঝামেলা না হওয়া। অনেক সময় শাশুড়িদের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে সংাসারে ঝামেলা হয়।
আমি একবার এরকম ঝামেলায় পড়েছিলাম। স্বামী বলে একটা আর শাশুড়ি বলে তার উল্টোটা। স্ত্রী তার মা বা শাশুড়িকে মানে, স্বামীকে মানে না। স্বামী অভিযোগ করলে স্ত্রী বলে, আল্লাহর রাসূল সা.-কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ভাল ব্যবহার করতে হবে বা কাকে বেশি মানেতে হবে? তিনি বলেছিলেন, মা। এভাবে তিনবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে এবং তিনবারই রাসূল সা. উত্তর দিয়েছেন, মা।  অতএব মাকে বেশি মানতে হবে আর স্বামীর আদেশ মায়ের উল্টা হলে তা মানতে হবে না। তখন আমি চুপ হয়ে গিয়েছিলাম। অনেক দিন পর আমি এ সহীহ হাদিসটি খুঁজে পেয়েছি। রাসূল সা.-কে জিজ্ঞাসা করা হয়, মহিলার ক্ষেত্রে কার অধিকার সবচেয়ে বেশি বা কাকে বেশি মানতে হবে। রাসূল সা. বলেন, তার স্বামীর অধিকার সবচেয়ে বেশী এবং তার স্বামীকে বেশী মানতে হবে। আর পুরুষকে সবচেয়ে বেশী মানতে হবে তার মাকে।  পুরুষ তার মাকে সবচেয়ে বেশী অগ্রাধিকার দিবে আর নারীকে সবচেয়ে বেশী তার স্বামীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সবাই যদি তার কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং সবাই পরস্পরের অধিকার পূরণ করে তবে সবারই সুখী থাকা সম্ভব। আর কোন ধরনের ঝামেলা হওয়ার কথা নয়।

তৃতীয় উপায় : উভয়ের চোখের হেফাজত
সুখী দাম্পত্য জীবন গড়ার তৃতীয় বিষয় হল, স্বামী-স্ত্রী উভয়কে চোখের হেফাজত করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, আপনি মুমিনগণকে বলুন, তারা যেন চোখ অবনত রাখে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজতে রাখে। এটা তাদের জন্য শান্তির কারণ।  স্বামী-স্ত্রীর চোখ অবনত রাখা দাম্পত্য জীবনে শান্তি আসার একটি কারণ। কারণ দাম্পত্য জীবনে ঝামেলা হওয়ার বড় একটি কারণ হল স্বামী বা স্ত্রী কোন একজনের চোখের হেফাজত না করা। স্বামী যখন তার চোখের হেফাজত করবে না তখন পরকীয়ার মত ঝামেলা হবে। এমনিভাবে নারীকে আল্লাহ তাআলা তিনটি আদেশ করেছেন : চোখ অবনত রাখা, লজ্জাস্থান হেফাজত করা ও আকর্ষক অঙ্গগুলোকে প্রকাশ না করা।  নারীদেরকে আল্লাহ তাআলা আকর্ষণীয় করে সৃষ্টি করেছেন। অতএব এগুলো নারীকে তার অঙ্গগুলোকে ঢেকে রাখতে হবে। এভাবে সবাই যদি তার আপন দায়িত্ব পালন করে তবে নারী-পুরুষ কারো মধ্যে কোন ঝামেলা হওয়ার কথা নয়। বর্তমানে আমাদের সমাজে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করছে।

চতুর্থ উপায় : ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ
বর্তমানে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা, বোঝাপড়ার বড় অভাব। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা, বোঝাপড়া যদি না থাকে তবে সে সংসারে ঝামেলার কোন অন্ত থাকবে না। যত ভালোবাসা সব স্ত্রীর সঙ্গে, স্ত্রীকে কেন্দ্র করে হতে হবে। কিন্তু আমাদের সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, উপন্যাস সব কিছুর মূল উপজীব্য হল অবৈধ নারী, পরনারীর সঙ্গে প্রেম বা পরকীয়া প্রেম। এ সকল অবৈধ ভালোবাসাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে, ভালোবাসা মানেই অবৈধ ভালোবাসা। ভালোবাসা যদি হয় তবে পরনারীর সঙ্গে হয় বা অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে হয়। আর নিজের স্ত্রীর সঙ্গে যে প্রেম-ভালোবাসা হয় এটাকে এ সকল কবি-সাহিত্যিক, মিডিয়া কর্মী ভালোবাসা বা প্রেম বলে স্বীকার করতে চায় না এবং সেটাকে প্রেমরূপে উপস্থাপন করে না।
হযরত আলী রা. একবার তাঁর স্ত্রী হযরত ফাতেমাকে মেসওয়াক দ্বারা দাঁত মাজতে দেখলেন। তিনি তখন তাঁর স্ত্রীর প্রতি প্রেম নিবেদন করে একটি কবিতা আবৃত্তি করলেন। হযরত আলী তাঁর স্ত্রীর মুখে থাকা মেসওয়াককে লক্ষ্য করে আবৃত্তি করলেন, হে আরাক মেসওয়াক! তুমি তো আমার স্ত্রীর দাঁতকে দখল করেছ। তুমি আমাকে একটুও ভয় করলে না যে আমি তোমাকে দেখছি? যদি তুমি যোদ্ধা হতে তবে আমি তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করতাম। হে মেসওয়াক! তুমি ছাড়া কেউ আমার স্ত্রীর কাছে যেতে পারে নি।  অতএব সুখী দাম্পত্য জীবন গড়ার তৃতীয় বিষয় হল, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসার বন্ধন গড়া। স্বামী-স্ত্রী ভালোবাসা তৈরির জন্য রোমান্স করা ও প্রেম নিবেদন করা।
হযরত বারীরা রা. ও তার স্বামী মুগীস রা. উভয়ই দাস শ্রেণিভুক্ত ছিলেন। হযরত বারীরা রা. মুক্ত হয়ে যান। ইসলামের বিধানে দাসী স্ত্রী মুক্ত হয়ে গেলে ইচ্ছা করলে তার স্বামীর কাছ থেকে আলাদা হতে পারেন। তাই হযরত বারীরা রা. তার স্বামী থেকে আলাদা হয়ে যান। তার স্বামী তার স্ত্রীর বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারছিলেন না। বিচ্ছেদের পর হযরত মুগীস রা. তাদের পূর্ব সম্পর্কে ফিরে আসার জন্য আকুতি করছিলেন। এমনকি তিনি বাজারে বাজারে তার কাছে আকুতি করতেন। একবার রাসূল সা. আব্বাস রা.-এর সঙ্গে বাজারে হাঁটছিলেন। তখন মুগীস রা. বারীরা রা.-এর পিছনে পিছনে হাঁটছিলেন এবং কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, হে বারীরা! আমার সম্পর্ক ফিরিয়ে নাও। রাসুল সা. এ করুণ অবস্থা দেখে হযরত বারীরাকে বললেন, হে বারীরা! তুমি মুগীসকে ফিরিয়ে নিলেই তো পার। হযরত বারীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আদেশ করছেন নাকি অনুরোধ করছেন। রাসূল সা. বললেন, না, আদেশ করছি না। হযরত বারীরা রা. বলেন, তবে মুগীসের কোন দরকার আমার নেই। রাসূল সা. বলেন, হে আব্বাস! আপনি মুগীসের ভালোবাসা ও বারীরার ঘৃণা দেখে আশ্চর্যবোধ করছেন?  এ কারণে স্বামী বা স্ত্রীর ভালোবাসার সম্মান করতে হবে। ভালোবাসা থাকলে কখনো বিবাহ বিচ্ছেদ হয় না।

পঞ্চম উপায় : সন্তানদের প্রতি দৃষ্টি রাখা
আপন পরিবারের দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। যদি কখনো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝামেলা হয় বা কোন ঝগড়া হয় তখন আপন সন্তানের দিকে তাকাতে হবে। কারণ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যতই ঝামেলা ও ঝগড়া হোক না কেন তখন তারা যদি তাদের সন্তানদের দিকে তাকায় তবে কখনো তাদের মধ্যে ঝামেলা স্থায়ী রাখতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ তোমাদের স্ত্রীদের থেকে সন্তানসমূহ এবং নাতিদেরকে সৃষ্টি করেছেন।
হযরত আয়েশা রা. বলেন, হযরত খাওলা বিনতে সা’লাবা রা. রাসূল সা.-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন সুন্দরী যুবতী ছিলাম। আমার পরিবার উচ্চবংশ ছিল এবং আমার সম্পদও ছিল। তারপর আমার স্বামী আওস বিন সাবিতের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর তার কারণে বৃদ্ধা হয়ে গিয়েছি। তার সন্তান ধারণ করতে করতে আমার মেদ ঝুলে গেছে। তার সংসারে আমার সম্পদ খরচ করতে করতে আমার সম্পদ শেষ করে ফেলেছি। আমার পরিবার শেষ হয়ে গেছে, (আমার পিতা-মাত মারা গেছে এবং আমার ভাই-বোন আলাদা হয়ে গেছে) আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমি নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার পর আমার স্বামী আমাকে “তুমি আমার মায়ের মত” তালাকের শব্দ বলে বিচ্ছেদ করেছে।
তিনি কেঁদে কেঁদে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কিছু সন্তান আছে। যদি সন্তানদেরকে তার কাছে রাখি তবে তারা অযতেœ, অবহেলায় মারা যাবে। আর যদি আমি তাদেরকে আমার সঙ্গে রাখি, তবে তারা না খেয়ে মারা যাবে (কারণ তাদেরকে খাওয়ানোর মত সম্পদ আমার নেই)।  রাসূল সা. তার কথা শুনে কেঁদে ফেললেন। শুধু তাই না, বরং স্বয়ং আল্লাহ তাআলা হযরত জীবরাইল আ.-কে পাঠিয়ে কুরআনের আয়াত নাজিল করেছেন। “আল্লাহ তাআলা ঐ নারীর কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর ব্যাপারে আপনার সঙ্গে বাদানুবাদ করছে এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করছে। আল্লাহ তাআলা আপনাদের কথোপকোথন শুনছেন।”  এ কারণে স্বামী বা স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা থাকলে কখনো বিবাহ সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয় না। ভালোবাসার অভাব থাকলেও যদি স্বামী বা স্ত্রী সন্তানদের দিকে দৃষ্টি দেয় তবে সে বৈবাহিক সম্পর্ক কখনো নষ্ট হতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Hit Counter provided by Skylight